বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের
বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের

বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আদালতে মামলা দায়ের

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে (২১) জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবতি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আছেন বলে মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় কবিরহাটের চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোঃ ইউছুফকে (২৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম একজন হতদরিদ্র ও বিধবা নারী। তার এক মেয়ে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাদী মাঝে মাঝে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুপারি বাগানের পাশে ইউছুফ ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীর মুখে গামছা চেপে ধরে টেনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইউছুপ। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে আরও একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।

 

এ দিকে মেয়েটির মা জাহানারা বেগম তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ফার্মেসী ও পরবর্তীতে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ভুক্তভোগী যুবতী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানান।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আসামির বিচারের দাবিতে গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল আসামিকে রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে এ ঘটনায় প্রকৃত আসামীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে জড়িয়ে বিচারকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

ভুক্তভোগীর সঠিক চিকিৎসা সংক্রান্ত ও প্রসূতি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত বাদী পক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী আদালতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

 

নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেয়ার চেষ্টা চালান।


গাজীপুরের কাশিমপুরে ৬ মাসের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১।

‎মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার ‎গাজীপুর।

‎

‎

‎‎গাজীপুরে মহানগরের কাশিমপুরে ছয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

‎

‎দুপুরে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

‎

‎অভিযুক্ত মফিজুল হক মাসুদ (৫৯) গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার মান্ধুরা গ্রামের মৃত জমিরউদ্দীন শেখের ছেলে।

‎

‎পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবার একই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতো। গতকাল দুপুরে অভিযুক্তের তিন বছরের মেয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে তাদের রুমে যায়। রুমে যাওয়ার দশ মিনিট পর থেকেই শিশুটি অস্বাভাবিক চিৎকার করতে থাকে। পরে শিশুটির বাবা গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। কিন্তু কোনভাবেই শিশুটির চিৎকার না থামায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহৃ দেখতে পান। পরে রাতেই জিরানি বাজার এলাকায় অবস্থিত নাসিরউদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায় ওই শিশুকে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে। রাতেও শিশুটি কান্নাকাটি করে এবং শরীরে জ্বর চলে আসে।

‎

‎ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, রাতেই আমরা অভিযুক্তের স্ত্রীকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তিনি প্রথমে বিশ্বাস করেননি। পরে আজ সকাল ৯ টার দিকে অভিযুক্তের স্ত্রীসহ আমরা শিশুটিকে নিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মোজিব মেমোরিয়াল কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে।

‎

‎তিনি বলেন, বাসায় এসে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিলে কাশিমপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যায়।

‎

‎ কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল লিটন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করি। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গাজীপুরের কাশিমপুরে ৬ মাসের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।

 

তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।

 

এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

 

পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্ব শেষ হয়েছে। এখন অভিযোগপত্রের ওপর আদালতের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শেষে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।

১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ ণ মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্ত

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বখাটে কিশোরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোঃ ইফতিয়াক (১৫) ও মোঃ মাৎরুফ (১৬)।

 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় ওই শিশুকন্যাটি পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা মাত্রই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় রানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত অভিযানে নামে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় রানীনগর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১২, তারিখ: ২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারের পর রানীনগর থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৃথক জিজ্ঞাসাসাবাদে অভিযুক্ত দুই কিশোর পুলিশের নিকট শিশুটিকে ধর্ষণের কথা প্রাথমিকভবে স্বীকার করেছে।

 

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করবে এবং অপরাধীদের আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধ/ র্ষ/ণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্তি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সহায়তার কথা বলে এক প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতাররা হলেন—ওই গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)।

 

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার দুপুরে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার টমটমচালক সাকিব, আরমান ও বাদশা দুই সন্তানের জননী ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তাকে সেখানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যান।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশে বসেন। সেখানে অভিযুক্তদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গুরুতর এ অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে মঙ্গলবার ভোরে ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাকিব, ইয়াছিন ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আহাম্মদ মুন্না বলেন, ঘটনাটি তার এলাকার। একটা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সালিশি বৈঠক করেছে এলাকার কিছু লোক। যা আইন বিরোধী। আমিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচাই চাই।

 

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন , আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী। আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। এলাকার সালিশদারদের চাপে সোমবার রাতে বৈঠকে বসি। সেখানে তিনজনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আমাদের সালিশ মানতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর্থিক সহায়তার কথা বলে প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, ভিটেছাড়া করার হুমকি।

 

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী যুবক শরিফুলের বিরুদ্ধে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

 

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী নাপিত পাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম (৩০) ভূল্লী উপজেলার কচুবাড়ী নাপিত পাড়া এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী রুমানা (২২) (ছন্দনাম) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত এবং ছুটির সুবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ গ্রামে বাড়ীর পাশে শরিফুল (৩০) নামে এক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে ওই যুবক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে এবং নিজ বাড়ীতে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

এ সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন রুমানা। পরে প্রেমিক শরিফুলের চাপে বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য হন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই গার্মেন্টস কর্মী বিয়ের জন্য চাপ দিলে যুবকটি অস্বীকৃতি জানায় এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

 

নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিজের পরিবারকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করতে চাইলে তরুণীর পরিবারকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং ভিটেমাটি ছাড়া করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে লোকলজ্জা ও চরম নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটান।

 

পরে ঘটনাটি বাড়া না করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, মেয়ের মামা আব্দুল মালেক, স্থানীয়

মাতব্বর মানিক, কুরবান আলী, গত বুধবার রাতারাতি জোরপূর্বক ৮৩ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ করার চেষ্টা করেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি টাকার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

 

পরবর্তী সময় মেয়ের মামা আব্দুল মালেক স্থানীয় এক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা নেন।

 

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

 

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম এর বাড়ীতে গেলে জানা যায় সে বাড়ীতে নেই।

 

মেয়ের মামা আব্দুল মালেক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

আইনি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:

আইনজীবীদের মতে, বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। তাছাড়া মামলা করতে বাধা দেওয়া বা ভিটেছাড়া করার হুমকি দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

 

মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, কর্মজীবী নারীদের এভাবে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে পরিবারকে সমাজচ্যুত বা ভিটেছাড়া করার হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী  জানান, এই ধরনের কোন ঘটনা আমরা জানি না এবং কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, ভিটেছাড়া করার হুমকি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩