বিরাট কোহলির নামে থানায় অভিযোগ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিরাট কোহলির নামে থানায় অভিযোগ

বিরাট কোহলির নামে থানায় অভিযোগ

আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ের উদযাপন চলাকালে পদ দলিত হয়ে ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু এবং আরও অনেকে আহত হন। এবার সেই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ ধরে থানায় অভিযোগ বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এইচ এম ভেঙ্কটেশ কাবন পার্ক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভেঙ্কটেশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘বেঙ্গালুরু দলের জুয়ায় অংশ নেওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে লোক জড়ো হতে উসকানি দিয়ে এ দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম বিরাট কোহলি। অতএব আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে বিরাট কোহলি এবং তার দলের সদস্যদের এই দুর্ঘটনার এফআইআরে অভিযুক্ত করুন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

তবে কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত হলেও নতুন কোনো এফআইআর নথিভুক্ত হবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এরই মধ্যে দায়ের করা একটি মামলার অধীন চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি।’এদিকে আলোড়ন ফেলে দেয়া এই ঘটনা নিয়ে গ্রেফতার কিংবা পদত্যাগের মতো ঘটনাও ঘটছে। শুক্রবার বেঙ্গালুরু পুলিশ আরসিবির বিপণন ও রাজস্ব বিভাগের প্রধান নিখিল সোসালেকে গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের সিনিয়র ইভেন্ট ম্যানেজার কিরণ কুমার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস অ্যাফেয়ার্স) সুনীল ম্যাথিউকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার পর নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ)-এর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সচিব এ শঙ্কর ও কোষাধ্যক্ষ ইএস জয়রাম। সেইসঙ্গে নিজেদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন দুজন।


বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।

 

ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

 

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

 

এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার!

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ইউরো জয়ের দুই বছর পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা আরও শক্ত করলো স্পেন। শুধু পুরুষদেরই নয়, নারী ও বয়সভিত্তিক সব পর্যায় মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন আর শক্তিশালী একাডেমি কাঠামোই স্পেনকে এনে দিয়েছে এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালেও ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন।

পুরুষ ও নারী— উভয় ফুটবলে একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম দেশ এখন স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ দলের বিশ্বকাপ শিরোপা সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

শুধু সিনিয়র পর্যায় নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি ইউরোপীয় ও বিশ্ব শিরোপা।

 

নারী ফুটবলে এই সময়ে স্পেন জিতেছে— ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ও ২০২৫ নেশনস লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০২২, অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো টানা পাঁচবার (২০২২-২০২৬), অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ (২০২২) ও ইউরো (২০২৪)।

 

অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলে জিতেছে— ২০২৬ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো, ২০২৩ নেশনস লিগ, ২০২৪ অলিম্পিক স্বর্ণ এবং ২০২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের ভাষায়, এটি শুধু একটি ভালো দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার মতে, স্পেনে সবাই একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

 

দেশটির নারী ফুটবলেও গত এক দশকে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো জানান, কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত একাডেমি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তা ছিল না। এখন উন্নত অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

এই অর্জনগুলো দিয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছে স্পেন। দলটির হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এই দুই তরুণকে ঘিরে স্পেনের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, স্পেন এমন একটি ফুটবল দর্শন তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও এখন অন্য কোনো দল যেতে পারছে না।

 

আর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই আধিপত্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, তারা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফল এখন প্রতিটি পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য বলছে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানদণ্ড এখন লা রোজাই।

পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ শিরোপা, বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘জনগণের গলার কাঁটা বিএনপি আজ জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা গভীরভাবে বিঁধে যাওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে; নইলে দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে

।’

অনেকে বিএনপিকে আরও সময় ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে, তাদের আরও সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মোটেই একমত নই। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

 

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ভারতনির্ভরতার পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

 

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন। তিনি লেখেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন বাড়ছে—শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ, অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দ্বিগুণ ব্যর্থতা, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত এস আলমের হিসাব-নিকাশে!’

 

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশে নতুন করে জঙ্গি নাটকের আশঙ্কা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’

 

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

 

 

 

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ক্ষত ছোট থাকতেই চিকিৎসা জরুরি। ক্ষত গভীর হয়ে গেলে তার বোঝা শুধু একটি দল নয়, পুরো জাতিকেই দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।’

 

‘বাংলাদেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগণের ভবিষ্যতের স্বার্থে, সময় থাকতে এই রাজনৈতিক গলার কাঁটা সরানো জরুরি’—বলে মন্তব্য শেষ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

বিএনপি ক্রমেই মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর দলে পরিণত হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস, কাজী আশরাফুল আজীম ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই মো. গোলাম রুহানী বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক।

 

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- মন্তব্য করা মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

ছিলেন।

 

চাকরি হারালেন গোলাম রুহানী-বিপ্লব কুমার, প্রজ্ঞাপন জারি

টিএসপি সার সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলে ‘সিন্ডিকেট’র বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাস ও এর কমেন্টে এসব বলেন তিনি।

 

সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে বলেও দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘টিএসপি সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কৃষককে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়!’

তিনি লেখেন, প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কার পকেটে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নও করেন তিনি। পাশাপাশি কারা এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা।

 

 

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লেখেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সিন্ডিকেটের কারও নাম নেই, পরিচয় নেই; তারা যেন অদৃশ্য ভূত! কিন্তু এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যের হোতা হিসেবে বারবার ভাইয়ার নামই সামনে আসছে।’

 

পরে কমেন্ট সেকশনে তিনি লেখেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!’

 

তবে পোস্টে ‘ভাইয়া’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

‘ভাইয়া সিন্ডিকেট’ রাজ্যে সবাইকে স্বাগত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে গায়ের জোর ও পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

তিনি বলেন, ‘শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না। আমরা চাই জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হোক। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হোক। যুদ্ধ হলে ইন্টেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত। গায়ের জোর সবাই দেখাতে পারে, কিন্তু ছাত্রশিবির গায়ের জোর দেখাতে চায় না। আমরা চাই মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা হোক।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাত্ররাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় মাইর খেলেও মাইরের কোনো জবাব দিচ্ছি না। তার মানে এই না যে আমাদের শক্তি নেই। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না।’

 

ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতার ধরন ব্যাখ্যা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা নবীনবরণ করলে তুমি আরও ১০টা নবীনবরণ করো। আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে হায়ার এডুকেশনের একটা প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ২০টা করো। আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ভালো প্রোগ্রাম করো। এভাবেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।’

 

তিনি বলেন, ‘গায়ের জোর দিয়ে সবাই কিছু একটা করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কে বেশি কাজ করতে পারে, কে বেশি ভালো উদ্যোগ নিতে পারে, কে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কথা বলতে পারে—সেই প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।’

 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনগুলোর কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হওয়া উচিত। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হওয়া উচিত। যুদ্ধটা হলে ইনটেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, একটা সোসাইটি এমনিই তৈরি হয় না। একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মুখের কথায় তৈরি হয় না। যে সোসাইটি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে, সেই সোসাইটির মানুষগুলোকে আগে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সার্টিফিকেট দেয়, কিন্তু নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কার্যকর—সেটা ভাবতে হবে।

 

দেশের উন্নয়নে মেধাবীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়ন না থাকলে কোনো সোসাইটি এগোতে পারে না। মেধাবীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। যারা যোগ্য, যারা মেধাবী, যারা নৈতিক—তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে। সংগঠনগুলো কে কত বেশি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে, কে কত বেশি শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে এবং কে কত বেশি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে—তার ভিত্তিতেই নিজেদের প্রমাণ করা উচিত।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

গায়ের জোর নয়, মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা চাই: শিবির সভাপতি

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

 

সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

 

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

 

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।

নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d