
ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার (১ মে) ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত টানা অঝোর বৃষ্টিতে নগরীর বহু এলাকা পানির নিচে চলে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন নতুন সড়ক, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি ও কালশিসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়।
অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি নামতে শুরু করায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমেছে। তবে সকাল থেকেই জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করেছে এবং পায়ে হেঁটে মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
ছুটির দিন হওয়ায় সকালে যানবাহনের চাপ কম থাকায় ভোগান্তি কিছুটা সীমিত ছিল। তবুও সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। আশা করছি খুব অল্প সময়ে সব সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।
এ দিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা। এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।
গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অন্তত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহ কমে এসেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বৃষ্টিপাতের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। এর আগের দিন পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।
Leave a Reply