অপরাধ ডেস্ক: দেশের আলোচিত ব্যাংক খাতের দুর্নীতির অন্যতম ঘটনা হিসেবে পরিচিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগে তাঁর নাম বারবার সামনে আসলেও এতদিন তিনি আড়ালেই ছিলেন। সম্প্রতি প্রবাস জীবনে অবস্থানকালে এই পুরো আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং তাঁর ওপর আনীত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দাবি করেছেন যে, বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন সময়ে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না। তাঁর ভাষ্যমতে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিন্তু ঋণ মঞ্জুর বা বিতরণ সংক্রান্ত দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি বা পর্ষদের অন্য সদস্যরা সরাসরি জড়িত ছিলেন না। এই ঘটনার পুরো দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন তিনি।
তবে আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাঁর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেসিক ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় পর্ষদ চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছিল বলেই অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক খাতের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘকাল ধরে জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ আমানতকারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
বিদেশ থেকে দেওয়া শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর এই বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে দেশের ব্যাংক ও আইনি অঙ্গনে। আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে বাইরে থেকে এমন মন্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই মনে করছেন যে, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর এবং মামলাটির আইনি কার্যক্রম বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে এগিয়ে চলেছে।
Leave a Reply