ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব ও বাংলাদেশের পণ্যে ভারতের বিধিনিষেধ: দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে নতুন দেয়াল
ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব ও বাংলাদেশের পণ্যে ভারতের বিধিনিষেধ: দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে নতুন দেয়াল

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব ও বাংলাদেশের পণ্যে ভারতের বিধিনিষেধ: দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যে নতুন দেয়াল

Oplus_131072

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আন্তবাণিজ্য এমনিতেই অনেক কম। তথ্য–উপাত্তে দেখা যায়, বিশ্বের আন্ত–আঞ্চলিক বাণিজ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়া। তার মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের বিধিনিষেধ।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য–উপাত্তে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ৬ শতাংশের মতো হয় আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে, অর্থাৎ পরস্পরের মধ্যে। সীমান্তে উচ্চ শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, দুর্বল অবকাঠামো (বন্দর, রাস্তা, রেল) ও উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়ের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এসবের পেছনে আছে রাজনৈতিক আস্থাহীনতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস।দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যানুসারে, নাফটা অঞ্চলের আন্তবাণিজ্য তাদের মোট বাণিজ্যের ৪০ শতাংশের বেশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৬৮ শতাংশ ও আসিয়ানে ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল যেভাবে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পেরেছে, দক্ষিণ এশিয়া সেভাবে পারেনি।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্ত–আঞ্চলিক বাণিজ্য ২০০৩ সালে ছিল ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার; ২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলার। দুই দশকে বাণিজ্যের এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও সার্ক অঞ্চলের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এই পরিমাণ এখনো অনেক কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্ক দেশগুলোর মোট আমদানির মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ আসছে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো থেকে; অন্যদিকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রপ্তানি হচ্ছে দেশগুলোর মোট রপ্তানির মাত্র ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সার্কের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য–সম্ভাবনা এখনো পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না।
ভারত-পাকিস্তান চিরকালীন উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা, আঞ্চলিক নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব—এসব কারণে দক্ষিণ এশিয়ার আন্তবাণিজ্য এগোচ্ছে না বলে বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা মনে করেন। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, ভারতের কোনো কোম্পানির পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্য করার তুলনায় ব্রাজিলের কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্য করা ২০ শতাংশ সাশ্রয়ী। প্রতিবেশীর সঙ্গে ব্যবসা করা এত কঠিন হলে যা হতে পারে, তা–ই হয়েছে।
বস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার আন্তসংযোগ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে কম। অথচ এই বাংলাদেশের পরেই যে মিয়ানমার, সেই মিয়ানমার যে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থার (আসিয়ান) সদস্য, সেই আসিয়ানের আন্তবাণিজ্য ২৭ শতাংশ। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। তাদের মধ্যে আছে যৌথ শুল্কায়ন। অথচ আসিয়ানের নিকটবর্তী অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার আন্তযোগাযোগে বিস্তর বাধা।
ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির সহজ পথ বন্ধ, বাজার হাতছাড়ার শঙ্কা
১৯ মে ২০২৫
দক্ষিণ এশিয়ার আন্তবাণিজ্য বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন (সড়ক, রেল, বন্দর সংযোগ), একক কাস্টমস ও সনদ প্রত্যয়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক সংলাপ এবং যৌথ শিল্প পার্ক বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরামর্শ দেন বিশ্লেষকেরা।

এ বিষয়ে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য বরাবরই সীমিত ছিল এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার আবহে তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে গোটা অঞ্চলে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানিতে ভারতের বিধিনিষেধ আরোপ আমাদের রপ্তানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতা, যেমন সাফটা বা সার্কের কার্যকারিতা দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম রায়হানের পরামর্শ, আঞ্চলিক সমন্বয়ের পাশাপাশি এখন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা এবং বিকল্প বাজারের সন্ধান করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা—এসব অঞ্চলে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের উৎপাদনসক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যাসনুসারে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে সার্কভুক্ত দেশগুলোয় বাংলাদেশ ১৭৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে এসব দেশ থেকে আমদানি করেছে ৯৭৬ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ এক অর্থবছরে যত পণ্য রপ্তানি করেছে, তার মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ সার্কভুক্ত দেশগুলোয় করেছে। সার্কভুক্ত দেশে যেমন বাংলাদেশের রপ্তানি কম, তেমনি এই দেশগুলো থেকে আমদানিও কম। বাংলাদেশের মোট আমদানি পণ্যের ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আসে সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে।
আঞ্চলিক জোট কাজ করেনি
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ সেভাবে আলোর মুখ দেখেনি। সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক); এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের রেষারেষির প্রভাবে আঞ্চলিক এ জোটের কার্যকারিতা কিংবা সম্ভাবনা নিয়ে এখন আর কেউ আশাবাদী নয়। সংস্থাটির স্থগিত হওয়া সর্বশেষ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোটের নতুন মেরুকরণ আলোচনায় আসে ১৯৯৭ সালে। ওই বছর প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহু খাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো–অপারেশন)।
বিমসটেকের কার্যক্রম নিয়ে বিগত ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আঞ্চলিক অর্থনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জোটও সার্কের মতো পথ হারাবে। তাঁরা বলছেন, বিমসটেক-বিষয়ক নানা পরিকল্পনা ও আলোচনা হয়েছে, কয়েক বছর পরপর সম্মেলনও হয়; এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরিকল্পনাবিষয়ক নীতিগত দিক নিয়ে মতৈক্যও আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে সেই ঐকমত্যের প্রতিফলন হয় না। সেই ২০০৪ সালে স্বাক্ষর হওয়া বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট সই হয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া সাপটা, সাফটা ও বিবিএনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার কোনোটিই তেমন একটা সফল হয়নি।
আরও পড়ুন
ভারতের আমদানি বিধিনিষেধ: বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা
২০ মে ২০২৫
অথচ বিশ্ব ব্যাংক মনে করে, যদি ভারত-পাকিস্তানসহ সব দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য সচল ও সহজ হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য চার গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আন্তদেশীয় অবকাঠামো যেমন রেল, সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের উন্নয়ন হলে উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ কমে যাবে।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিুজর ‍রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে সাফটা কিছুটা কার্যকর। এর আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। দরকার ছিল, এই সুবিধা আরও কয়েক বছর বাড়ানো, যেমন ইইউ ও যুক্তরাজ্য করেছে, কিন্তু এখন তো এ কথা বলার মতো পরিবেশই নেই। আবার এই সুবিধা বহাল থাকলেও অশুল্ক বাধার কারণে তার ফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না, সমস্যা নানাবিধ।
ওদিকে ভারত-পাকিস্তানের বাণিজ্য বন্ধ। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে পর্যায়ে গেছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা বলা মুশকিল। এর সঙ্গে আবার ভারত–বাংলাদেশের সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার এই উত্তেজনা প্রশমনে বৃহত্তর পর্যায়ে আলোচনা শুরু করা উচিত বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করলেও তাদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানে পণ্য পাঠাতে পারছে, অর্থাৎ ওই সব দেশের ক্ষেত্রে ট্রান্সশিপমেন্ট আছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু এখানে ভারত সবচেয়ে বড় দেশ। তার ভূমিকা ও ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তারা পরস্পরের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করেছে। ফলে ব্যবসা–বাণিজ্যের খরচ বাড়বে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও সক্রিয় করতে হবে। আঞ্চলিক জটিলতার ভেতর বাংলাদেশের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও বহুমুখী বাণিজ্য কৌশল গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের পথ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩