রাজনীতিকে ঘিরে ধরছে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা
রাজনীতিকে ঘিরে ধরছে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা

রাজনীতিকে ঘিরে ধরছে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা

Oplus_131072

দেশের রাজনীতি উদ্বেগজনক মাত্রায় ঘোলাটে হয়ে পড়েছে অথবা পরিকল্পিতভাবেই তা করা হয়েছে। এর মানে, কোনো না কোনো পক্ষ এই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।

সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটছে, তাতে মানুষের মনে নানা উদ্বেগ, অজানা আশঙ্কা ও ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির দায়িত্বশীল পক্ষগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে না।

গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে মাত্রায় জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে, তার নজির বাংলাদেশে নেই। পতিত ও পরাজিত পক্ষ ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দল এই সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে সরকারের হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী সরকার—আজ সরকার যখন মেয়াদের ১০ মাসের দিকে এগোচ্ছে, তখন এর উল্টোটাই মনে হচ্ছে।
জনগণ এখন সরকারকে দুর্বল ভাবতে শুরু করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের মনে যে আশা জেগেছে, তার বাস্তবায়ন তারা দেখছে না। সরকার সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সরকারি কাজকর্ম ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য দরকারি সংস্কার এবং গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার কাজেও অগ্রগতি দৃশ্যমান থাকবে—এসবই মানুষ দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ দেখছে, দেশে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মবের কর্তৃত্ব।
আমরা দেখছি, কেউ ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করে মব তৈরি করছে, হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলছে আর সরকার নানাভাবে তাদের চাওয়া পূরণ করছে। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক নানা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে নানা দাবি তুলছে, সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছে এবং তাদের চাপের কাছেও সরকার আত্মসমর্পণ করছে।
এখানে দেশ ও জনগণের স্বার্থ, দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বা পরিণতি কতটা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে শুরু করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যদের কর্মসূচি নিয়ে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। রাষ্ট্র ও সমাজে যেহেতু অশুভ শক্তিও আছে, তারাও এই সুযোগে তৎপর হয়ে উঠেছে, সেই লক্ষণ পরিষ্কার।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে এখন ঘোলাটে হয়ে পড়েছে বা কোনো পক্ষ যদি ইচ্ছা করে ঘোলাটে করে থাকে, তা সরকারের দুর্বলতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া সরকারের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভক্তির কথাও শোনা যায়।
সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত কোথা থেকে এসেছে কিংবা কে বা কারা নেয় তা বোঝা যায় না। এমনকি উপদেষ্টাদের কেউ কেউ নানা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁদের অন্ধকারে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি যেন একটা উদ্বেগজনক সীমায় এসে হাজির হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন কথাও আলোচনায় আছে। সরকারের মধ্যেও কেউ কেউ যে এমনটি চান, তা অনেকটাই স্পষ্ট।

অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন যদি জনগণকে স্বস্তি দিতে পারত, পরিবর্তনের লক্ষণগুলো যদি স্পষ্ট হতে শুরু করত, মানুষ যদি সুশাসনের সুফল ভোগ করতে শুরু করত, সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে যদি আশার সঞ্চার করা যেত, তাহলে মানুষ প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু যেহেতু সরকার তা পারেনি, তাই দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়, তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, এই সরকারের মেয়াদ কত দিন? তখন অনেকেই বলেছিলেন যে এই সরকারের মেয়াদ নির্ভর করবে তার কাজের ওপর। কাজগুলো কী?
জনগণের চাওয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এই কাজগুলো যদি অন্তর্বর্তী সরকার করতে পারত, তাহলে একটি নতুন গণতন্ত্রে যাত্রার পথ তৈরি পর্যন্ত তাদেরকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে জনগণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ‘প্রয়োজনীয় সময়’ কত দিনের? কত মাসের বা কত বছরের?

দায়িত্ব নেওয়ার একেবারে শুরুতে না হলেও যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকারের এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে গণতন্ত্রে উত্তরণ, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের উত্থান রোধ, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য এই সংস্কার প্রয়োজন এবং তা করার জন্য এই সময় (নির্দিষ্ট মাস বা বছর) লাগবে।
গণ-অভ্যুত্থানই যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং এসব চাওয়া যেহেতু গণ-অভ্যুত্থানেরই চাওয়া; তাই সরকারের এই স্বচ্ছ অবস্থানের বিরোধিতা করা তখন কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই কাজ না করে তার মেয়াদ নিয়ে একটি ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে। তবে বিভিন্ন সময়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কথায় এমন মনে হয়েছে যে তিনি আড়াই থেকে তিন বছরের একটি সময়সীমা ধরে নিয়েছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন যদি জনগণকে স্বস্তি দিতে পারত, পরিবর্তনের লক্ষণগুলো যদি স্পষ্ট হতে শুরু করত, মানুষ যদি সুশাসনের সুফল ভোগ করতে শুরু করত, সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে যদি আশার সঞ্চার করা যেত, তাহলে মানুষ প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু যেহেতু সরকার তা পারেনি, তাই দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
এটা পরিষ্কার যে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে চাপ তৈরি হওয়ায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এখন বিএনপি, তারা এই ডিসেম্বর-জুনের বিভ্রান্তিকে মেনে নিতে পারছে না। তারা সময়ের স্পষ্ট ঘোষণা এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবিতে এখন সোচ্চার হয়ে উঠছে।
বিএনপির এই অবস্থানের সঙ্গে কিছু সমমনা দল রয়েছে। জামায়াতের অবস্থান খুব পরিষ্কার নয়। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপির দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে খুব আগ্রহ নেই। তারা নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে অটল। সরকারের দুর্বলতা যেহেতু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তাই বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানকেই সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ সবকিছুকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সরকারের ভেতরে একটি অংশও যেহেতু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পক্ষে, তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল অংশী হিসেবে আমরা যাদের বিবেচনা করতে পারি (সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, বিএনপি, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি), বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই ঘোলাটে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য কোনো না কোনো পক্ষ যে ওত পেতে আছে, সেই শঙ্কার কথা আগেই বলেছি।

এমন একটি বাস্তবতায় সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, বিএনপি ও এনসিপি—কোনো একটি পক্ষের ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতি শোচনীয় করে তুলতে পারে। এতে চূড়ান্ত বিচারে লাভবান হবে গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত ও পতিত শক্তি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের পুনর্বহাল নিয়ে বিএনপি ও সরকারের এক উপদেষ্টা এবং সেই সূত্রে এনসিপির বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। ইস্যুটি বড় না হলেও দুই পক্ষই সম্ভবত একে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি উপলক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেকেই এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।

দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর যৌক্তিক-অযৌক্তিক ও বিচিত্র দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হওয়া, মব সৃষ্টি, কথায় কথায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি বা কর্মসূচির হুমকি, বন্দরের পরিচালনা বিদেশিদের দেওয়া না দেওয়া, রাখাইন রাজ্যের জন্য করিডর ইস্যু, ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি যে জটিল হয়ে পড়েছে, তা দেশের মানুষ টের পাচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি এখন বিএনপি ও এনসিপির বিরোধ বা এ নিয়ে কোনো সংঘাতের ভার গ্রহণ করার মতো অবস্থায় রয়েছে?
গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ক্ষুদ্র বা গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠবে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে, সে আশা কি আমরা করতে পারি না? বর্তমান উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার, সেনাবাহিনী, বিএনপি ও এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি—এই অংশীগুলোর মধ্যে বোঝাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।
দেশের এই ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী যেন সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে গতকাল সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠক সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করুক, সেটাই প্রত্যাশিত


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩