রাজীব গান্ধী হত্যা: পারিবারিক শাসনের অবসান ও বিজেপির উত্থান
রাজীব গান্ধী হত্যা: পারিবারিক শাসনের অবসান ও বিজেপির উত্থান

রাজীব গান্ধী হত্যা: পারিবারিক শাসনের অবসান ও বিজেপির উত্থান

Oplus_131072

আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পরদিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনাম ছিল, ‘মর্মান্তিক বাঁকবদল: গান্ধী হত্যাকাণ্ডে ভারতকে গড়ে তোলা রাজনৈতিক পরিবারের নেতৃত্বের ইতি ঘটল’। রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পর গান্ধী পরিবারে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না থাকার বিষয়টি এই নিবন্ধে তুলে ধরা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় বছর পর রাজীবের স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী দলের হাল ধরেন। তাঁর হাত ধরে কংগ্রেস জোটগতভাবে একাধিকবার ক্ষমতায় এলেও গান্ধী পরিবারের কেউ আর সরকারপ্রধান হননি।
রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পর ভারতের ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব কমতে থাকে উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো দল কংগ্রেসের। উত্থান হয় হিন্দুত্ববাদী আদর্শের দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। গত এক দশকে কংগ্রেসের নেতৃত্বসংকট আরও প্রকট হয়েছে। দৃশ্যত রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের ছায়া থেকে দলটি বের হতে পারেনি। ১৯৯১ সালের ২১ মে চেন্নাইয়ে (তৎকালীন মাদ্রাজ) নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তামিল বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন তিনি।
ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী

১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট মুম্বাইয়ে (তৎকালীন বোম্বে) জন্ম নেন রাজীব গান্ধী। নানা জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হলে পরিবার লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লি চলে আসে। স্কুলজীবন শেষে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ এবং কিছুদিন পরে ইম্পেরিয়াল কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি যন্ত্রকৌশলে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও রাজনীতির প্রতি খুব একটা আগ্রহ ছিল না রাজীবের।

পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরেই বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স নেন রাজীব। পরে ভারতের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে চাকরি নেন। কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় রাজীবের পরিচয় হয় ইতালি বংশোদ্ভূত সোনিয়া ম্যাইনোরের সঙ্গে। পরে ১৯৬৮ সালে তাঁরা দিল্লিতে বিয়ে করেন। দুই সন্তান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে নিয়ে রাজীব মা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনে থাকতেন।
ভাই সঞ্জয় গান্ধী বেঁচে থাকতে কখনো রাজনীতির ধারেকাছে ঘেঁষেননি রাজীব। ১৯৮০ সালের ২৩ জুন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ভাই নিহত হলে মা ইন্দিরা গান্ধী এবং নানামুখী চাপে তাঁকে মনোভাব পাল্টাতে হয়। পরের বছরের জুনে উত্তর প্রদেশের আমেথি থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে লোকসভায় আসেন। একই সময়ে তিনি কংগ্রেসের যুব সংগঠন ইন্ডিয়ান যুব কংগ্রেসের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

পাঞ্জাবের খালিস্তানপন্থী আন্দোলন দমনে কঠোর ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনকারীদের নেতা ভিন্দ্রানওয়ালেসহ তাঁর অনুসারীদের ধরতে শিখদের পবিত্র স্থান গোল্ডেন টেম্পলে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা গান্ধী নিহত হন। মায়ের মরদেহ রেখে ওই দিনই রাজীব গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ নিতে হয়েছিল। এ সময় তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। এখন পর্যন্ত তিনি ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী।
উদারতার সুযোগ নিয়ে যেভাবে হত্যা

মা ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর মাত্র সাত বছর পর একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল ছেলে রাজীব গান্ধীকে। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগার বিদ্রোহী ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার তামিল অধ্যুষিত জাফনা অঞ্চলে ১৯৮৭ সালে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইপিকেএফ) পাঠিয়েছিল তাঁর সরকার। কিন্তু তাঁর এই পদক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি তামিলরা। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে তামিলদের আত্মঘাতী বোমায় প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁকে।

সরকারের নানা আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন রাজীব গান্ধী। ওই বছর অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল পরাজিত হয়। তিনি হন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা। তবে ভি পি সিংয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বেশি দিন স্থিতিশীল হতে পারেনি। ১৯৯১ সালে সেই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।

চেন্নাইয়ে সেই সমাবেশে সমর্থকদের সঙ্গে রাজীব গান্ধী। এখানেই একটু পর বিস্ফোরণে নিহত হন তিনিছবি: পুলিশের সরবরাহ করা ছবি
এরপর নির্বাচনী প্রচারে নামেন রাজীব। ভারতের ১০ম লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দিন ২১ মে নির্বাচনী প্রচারণায় চেন্নাই থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে শ্রীপেরুমবুদুরে যান তিনি। রাত ১০টার দিকে রাজীব গান্ধী অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় মানুষ তাঁর গলায় মালা দিতে ভিড় শুরু করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে হত্যার মিশনে থাকা তামিল বিদ্রোহীদের আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন। আত্মঘাতী হামলাকারী ধানু ওরফে গায়ত্রী রাজীবের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু রাজীব গান্ধী তাঁকে বলেন, সবাইকে সুযোগ দিন। রাজীব গান্ধীকে মালা পরিয়ে দেওয়ার পরে ধানু ঝুঁকে তাঁর পা স্পর্শ করার ভান করেন। এ সময় রাজীব গান্ধী তাঁকে তুলতে যান। এরই মধ্যে ধানু ডান হাতে থাকা বোমার সুইচে চাপ দেন। এতে রাজীব গান্ধীসহ ১৬ জন নিহত হন।

ভিত নড়ে যায় কংগ্রেসের

রাজীব গান্ধীকে ভারতের রাজনীতির উজ্জ্বল তারকাদের একজন মনে করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি ইন্ডিয়ানের এক নিবন্ধে বলা হয়, রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড কংগ্রেসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর মৃত্যু দলটির ভাগ্য উল্টে দেয় এবং ভারতীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয়। রাজীব গান্ধীকে আজও ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর আকস্মিক ও অকালমৃত্যু কেবল বিশ্বকে হতবাক করেনি, বরং এটি এমন একটি যুগেরও অবসান ঘটিয়েছে, যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে পাঁচ বছর ছাড়া ভারত নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বের অধীনে ছিল।

ভারতের বেশির ভাগ মানুষ রাজীবকে দূরদর্শী নেতা হিসেবে দেখেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করেছিলেন, মুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলেছিলেন এবং নিজের দলকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোহন ধারিয়া। ২০১১ সালে তিনি ডেইলি ইন্ডিয়ানকে বলেছিলেন, ‘রাজীবের প্রতি মানুষ সহানুভূতিশীল ছিল। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সমস্যা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত কর্মচঞ্চল একজন মানুষ।’ রাজীব ভারতের আধুনিকায়নে কাজ করেছেন বলে মনে করেন মোহন ধারিয়া। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করলেও পরে আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে মোহন ধারিয়া পদত্যাগ করেছিলেন।
রাজীব নিহত হলেও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বড় জয় পায় কংগ্রেস। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর কংগ্রেসের হাল ধরার মতো গান্ধী পরিবারে তেমন কেউ ছিলেন না। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের অধীনে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দলটি ক্ষমতায় ছিল। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর সময় ছেলে রাহুল গান্ধীর বয়স ছিল ২১ বছর আর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বয়স ছিল ১৯ বছর। রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী ছিলেন না সোনিয়া গান্ধীও। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৮ কংগ্রেসের হাল ধরেন তিনি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

অসুস্থতার কারণে ওই বছর ছেলে রাহুলের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেন সোনিয়া। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন রাহুল। আবার অন্তর্বর্তী দায়িত্বে ফেরেন সোনিয়া। কিন্তু গান্ধী পরিবারের কেউ এ দায়িত্ব পালনে আগ্রহী না হওয়ায় প্রায় ২০ বছর পর ভোটাভুটিতে কংগ্রেসের সভাপতি হন মল্লিকার্জুন খাড়গে। দলের নেতৃত্ব আবার চলে যায় গান্ধী পরিবারের বাইরে।

রাজীবের মৃত্যুর পর মূলত কংগ্রেস দুর্বল হতে থাকে। উত্তর প্রদেশের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ হারায় দলটি। আঞ্চলিক দলের উদ্ভব এবং বিজেপির নেতৃত্বে ডানপন্থীদের উত্থান কংগ্রেসের জন্য পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা না থাকায় কংগ্রেসের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।

রাজীবের মৃত্যুতে দৃশ্যত ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে একক দলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটে। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে আঞ্চলিক দলগুলো দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোট ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোট ঘিরে বলয় গড়তে থাকে। সেই জোটের রাজনীতি আজও বিদ্যমান। অবশ্য ইউপিএ জোট বর্তমানে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স–ইন্ডিয়া জোটে রূপ নিয়েছে।

রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পর কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসেন স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী ও ছেলে রাহুল গান্ধী (বাঁয়ে)ছবি: এএফপি
বিজেপির উত্থান

রাজীব গান্ধীকে হত্যার পর রামমন্দির আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপির উত্থান ঘটে। ধর্মের রাজনীতি তখন জোরদার হতে থাকে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ক্ষমতায় আসে এবং অটল বিহারি বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৭ সালে ২৫ মার্চে মুম্বাইভিত্তিক ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলির ৫২তম সংখ্যায় ‘ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের পতন’ শীর্ষক এক নিবন্ধে দেশটির নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ১৯৫৭ লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজনের কারণে দলে ভাঙন ধরে। অবশ্য দলের বেশির ভাগ নেতাই ইন্দিরার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসে (আই) থেকে যান। ১৯৮০ সালে তাঁর শেষ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পায়। অবশ্য ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস। দৃশ্যত এ ক্ষেত্রে তাঁর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কংগ্রেসের প্রতি মানুষের সহানুভূতির প্রকাশ ঘটে।

রাজীব গান্ধী যে নির্বাচন চলাকালে নিহত হন, ওই নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসেন রাজীবের স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট নেমে আসে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশে। এরপর ২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এর কাছাকাছি ভোট পেলেও জোটগতভাবে সরকার গঠন করে। তবে বিরোধীদের ‘বিদেশিনী’ তকমা এড়াতে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেননি সোনিয়া।

কংগ্রেস সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পায় দলটি। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় মাত্র ৪৪টি আসন পায় ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা দলটি। পরের নির্বাচনে পায় ৫২টি আসন। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় দলটি। বিজেপি এই নির্বাচনে ২৪৪টি আসন পায়। আর কংগ্রেস পায় ৯৯টি আসন। মোট ভোটের ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ পায় দলটি। কংগ্রেসের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার কৃতিত্ব অবশ্য রাহুল গান্ধীকে দেওয়া হয়। তবে হিন্দুত্ববাদের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে বিজেপিকে হটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নয়াদিল্লিভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের এক নিবন্ধে বলা হয়েছিল, ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে এখনো ওই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। যথাযথ নেতৃত্বের অভাবে ১৯৯০–এর দশকে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলির ৫২তম সংখ্যার ওই নিবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে কংগ্রেসের কোনো শক্তিশালী নেতা এবং কার্যকর কাঠামো নেই। দরিদ্রদের জন্য বামপন্থী কল্যাণমূলক নীতির আদর্শিক এজেন্ডা ‘ছিনতাই করে’ বিজেপি রাজনীতিতে একক প্রভাবশালী দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চতুরতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করছে। বিজেপির উত্থান মোকাবিলার জন্য কংগ্রেসকে তার আদর্শিক এজেন্ডা পুনর্লিখন করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানো এবং সুদূর ভবিষ্যতের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে দলটি নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩