শ্যামনগরে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শ্যামনগরে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্যামনগরে সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

স্টাফ রিপোর্টার:
ভূমি দস্যু দখলবাজ, কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মিলন হোসেনের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ।

১ জুন মঙ্গলবার বিকাল তিনটেয় সাংবাদিক মিলন হোসেনের নিজ গ্রাম শ্যামনগর উপজেলার মাহমুদ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধনটি আয়োজন করেন স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ ও এলাকাবাসী। সত্য বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক নুরুজ্জামান ও মিলন হোসেনের নামে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান, মানববন্ধন কর্মসূচির বক্তারা।

ঘটনা প্রবাহে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের শুকর আলি সরদারের পুত্র সাইফুল্লাহ এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, ও ভূমি দস্যু, গরিব অসহায় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে দখলবাজ ও চাঁদাবাজির মত ঘৃণিত অপরাধ করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।

গত একমাস পূর্বে তার বিরুদ্ধে একটা দলবাজি সংবাদ প্রকাশ করলে, সাইফুল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে , তার আপন চাচাতো ভাই নাছিরকে বাদী বানিয়ে গত ৩০ মে শ্যামনগর থানায় সাংবাদিক মিলন হোসেন ও নুরুজ্জামান  সহ আরো কয়েক জন সাংবাদিককের নামে মিথ্যা মামলা রুজু করেন ।

যে এই সাইফুল্লা বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলে, প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় তাকে মিথ্যা মামলা না হয় অতর্কিত হামলা চালিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে চায় এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রটি। এ ঘটনায় সাংবাদিক মিলন হোসেনের নিজ গ্রামের আওয়াল বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ ক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে। তারা রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।


মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

 

এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

 

দলীয় সূত্রে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

 

পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

 

ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে।

 

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও হয়েছে।

সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

 

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

 

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আমাদের অভিযোগ। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।

 

সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।

 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দেওয়া ও অপরিকল্পিত নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’

 

তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’

 

শিক্ষকদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

 

প্রথাগত রাজনীতির বাহিরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

 

চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘জনগণের গলার কাঁটা বিএনপি আজ জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা গভীরভাবে বিঁধে যাওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে; নইলে দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে

।’

অনেকে বিএনপিকে আরও সময় ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে, তাদের আরও সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মোটেই একমত নই। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

 

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ভারতনির্ভরতার পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

 

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন। তিনি লেখেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন বাড়ছে—শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ, অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দ্বিগুণ ব্যর্থতা, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত এস আলমের হিসাব-নিকাশে!’

 

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশে নতুন করে জঙ্গি নাটকের আশঙ্কা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’

 

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

 

 

 

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ক্ষত ছোট থাকতেই চিকিৎসা জরুরি। ক্ষত গভীর হয়ে গেলে তার বোঝা শুধু একটি দল নয়, পুরো জাতিকেই দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।’

 

‘বাংলাদেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগণের ভবিষ্যতের স্বার্থে, সময় থাকতে এই রাজনৈতিক গলার কাঁটা সরানো জরুরি’—বলে মন্তব্য শেষ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

বিএনপি ক্রমেই মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর দলে পরিণত হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস, কাজী আশরাফুল আজীম ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই মো. গোলাম রুহানী বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক।

 

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- মন্তব্য করা মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

ছিলেন।

 

চাকরি হারালেন গোলাম রুহানী-বিপ্লব কুমার, প্রজ্ঞাপন জারি

টিএসপি সার সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলে ‘সিন্ডিকেট’র বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাস ও এর কমেন্টে এসব বলেন তিনি।

 

সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে বলেও দাবি করে পাটওয়ারী বলেন, ‘টিএসপি সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কৃষককে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়!’

তিনি লেখেন, প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কার পকেটে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নও করেন তিনি। পাশাপাশি কারা এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা।

 

 

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লেখেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সিন্ডিকেটের কারও নাম নেই, পরিচয় নেই; তারা যেন অদৃশ্য ভূত! কিন্তু এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যের হোতা হিসেবে বারবার ভাইয়ার নামই সামনে আসছে।’

 

পরে কমেন্ট সেকশনে তিনি লেখেন, ‘সবার আগে সিন্ডিকেট, সবার আগে ভাইয়া। ভাইয়া সিন্ডিকেট রাজ্যে সবাইকে স্বাগত!’

 

তবে পোস্টে ‘ভাইয়া’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

‘ভাইয়া সিন্ডিকেট’ রাজ্যে সবাইকে স্বাগত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে গায়ের জোর ও পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

তিনি বলেন, ‘শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না। আমরা চাই জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হোক। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হোক। যুদ্ধ হলে ইন্টেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত। গায়ের জোর সবাই দেখাতে পারে, কিন্তু ছাত্রশিবির গায়ের জোর দেখাতে চায় না। আমরা চাই মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা হোক।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাত্ররাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় মাইর খেলেও মাইরের কোনো জবাব দিচ্ছি না। তার মানে এই না যে আমাদের শক্তি নেই। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না।’

 

ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতার ধরন ব্যাখ্যা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা নবীনবরণ করলে তুমি আরও ১০টা নবীনবরণ করো। আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে হায়ার এডুকেশনের একটা প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ২০টা করো। আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ভালো প্রোগ্রাম করো। এভাবেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।’

 

তিনি বলেন, ‘গায়ের জোর দিয়ে সবাই কিছু একটা করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কে বেশি কাজ করতে পারে, কে বেশি ভালো উদ্যোগ নিতে পারে, কে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কথা বলতে পারে—সেই প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।’

 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনগুলোর কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হওয়া উচিত। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হওয়া উচিত। যুদ্ধটা হলে ইনটেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, একটা সোসাইটি এমনিই তৈরি হয় না। একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মুখের কথায় তৈরি হয় না। যে সোসাইটি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে, সেই সোসাইটির মানুষগুলোকে আগে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সার্টিফিকেট দেয়, কিন্তু নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কার্যকর—সেটা ভাবতে হবে।

 

দেশের উন্নয়নে মেধাবীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়ন না থাকলে কোনো সোসাইটি এগোতে পারে না। মেধাবীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। যারা যোগ্য, যারা মেধাবী, যারা নৈতিক—তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে। সংগঠনগুলো কে কত বেশি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে, কে কত বেশি শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে এবং কে কত বেশি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে—তার ভিত্তিতেই নিজেদের প্রমাণ করা উচিত।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

গায়ের জোর নয়, মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা চাই: শিবির সভাপতি

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

 

সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

 

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

 

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।

নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d