রাজনীতি ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি সীমান্তবর্তী সড়ক একই দিনে দুই দফায় উদ্বোধনের আজব ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত তিন কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প নিয়ে দুই রাজনৈতিক নেতার পাল্টাপাল্টি অবস্থানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। রাজনৈতিক আধিপত্য ও দ্বন্দ্বের প্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখছেন সচেতন মহল।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন আগে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সম্প্রতি নির্ধারিত ছুটির দিনে সকালে প্রথমে সড়কটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল। তাঁর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নামসংবলিত আনুষ্ঠানিক ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এর রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন বিকেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় সড়কটির উদ্বোধন করেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যানার ব্যবহার করা না হলেও তিনি ফিতা কেটে সড়কটির উদ্বোধন করেন। তবে দুটি অনুষ্ঠানেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন।
দুবার উদ্বোধনের পর দুই নেতা তাঁদের বক্তব্যে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেন যে, সরকারি উন্নয়নকাজে তদারকি করার সাংবিধানিক অধিকার তাঁর রয়েছে এবং জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের দাবি, এই প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাজটি তাঁর মাধ্যমেই আনা হয়েছিল, ফলে সাবেক প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরও এটি পরিদর্শনের অধিকার আছে। তাঁদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সরকারি এই উন্নয়ন প্রকল্পটি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, সড়কটির কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও করা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এবং কাজ চলমান অবস্থায় মূলত পরিদর্শনের জন্যই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সুশাসনের জন্য নাগরিকের স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, এই ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ জেলার সামগ্রিক পরিবেশকে নষ্ট করছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
Leave a Reply