
পিতা আবুল বাশারের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি পাননি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান শাহরুখ। ফলে বাবার লাশ নিয়ে জেলগেটে যেতে হয়েছে স্বজনদের। বাবা-ছেলের শেষবারের মতো দেখা হয়েছে বরিশাল জেলগেটে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় আহসান শাহরুখের পিতা আবুল বাশার মারা যান। এর আগে চলতি মাসেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন আহসান শাহরুখ।
শাহরুখের স্বজন ও বন্ধু আল আমিন জানান, এ নিয়ে তিনবার আহসান শাহরুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেষবার ওসি সাহেব সালাম দিতে বলেছেন জানিয়ে শাহরুখকে নিয়ে গেছেন। ছেলের চিন্তায় আবুল বাশারের এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে রাজনৈতিক মামলার কথা শোনার পর এক ঘণ্টা পর্যন্ত কেউ কোনো সহযোগিতা করেননি। শাহরুখের ভাই অনেক কাঁদছিলেন, তাতেও কারও মন গলেনি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জোর করে দেখা করলে তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়, জেলগেটে দেখা করতে হবে। এরপর জেলগেটে লাশ নিয়ে যাই। সেখানেও তিনজনের বেশি যেতে দেওয়া হয়নি। একটি লাশের খাট ধরতেও চারজন লাগে, অথচ আমাদের জেলগেটে তিনজন যেতে দেওয়া হয়েছে।
প্যারোলে মুক্তির আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে জেলগেটে দেখা করতে বলেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে জানাই। তিনি অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাই। তিনি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলগেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। পুরো বিষয়টিতে তিনিই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দিই।
Leave a Reply