
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।
গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিস্তারিত

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী বিস্তারিত

চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম ও সাগর খানসহ অন্তত আটজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদা তোলার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেন। খবর পেয়ে কে. এম. চঞ্চল ৪০-৫০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তারা প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের গালাগালি করেন। পরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হামলার শিকার সুমন সিকদার বলেন, ‘বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নিউমার্কেট এলাকায় কয়েকজনকে দোকানদার ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায়। এতে বাধা দিলে তারা প্রথমে আমাদের সঙ্গে গালাগালি ও বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এর ১০–১৫ মিনিট পর নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন লাঠিসোঁটা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমরা ১০–১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছি। আহতদের মধ্যে ৮–১০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজন পপুলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আত্মরক্ষার সময় আমার ডান হাতে কোপ লাগে।’
হামলার পর ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে তারা কলেজের সামনের মিরপুর সড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, নিউমার্কেট এলাকার প্রায় ৩৫০টির বেশি দোকান থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ জন্য কে. এম. চঞ্চলের একটি বাহিনী রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে বাধা দিলে তার ওপর হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহসিন উদ্দিন আতিক বলেন, ‘ওদের মধ্যে মারামারি হয়েছে সে বিষয়ে অবগত আছি কিন্তু কতজন আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিস্তারিত

সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী অসুস্থতার সুযোগে গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগে আদালত মামলা দায়ের। এমপি নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সৎভাই মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জের দিরাই জোন আদালতে মামলাটি করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি সৎভাই ও বিএনপি নেতা মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, অন্য দুই সৎ ভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, কর্ণগাঁও গ্রামের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ারকাপনের তাজুল, দিরাইয়ের মোহরার মমতাজ বেগম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এমপি নাছির চৌধুরী দীর্ঘদিন শাররিক ও মানসিক রোগে ভোগছেন। তাকে ও তার স্ত্রী সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্টার অফিসের দুজন কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে গলায় রামদা ঠেকিয়ে প্রাণে মারা হুমকি দেয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে বাদী পারভীন আক্তার এমপি নাছির চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন।
দিরাই আদালতের বিচারক মো.জসিম মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।বাদী পক্ষের আইনজীবী কাওছার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ২০২২ সালের ঘটনা কেন এতো দিন পরে আদালতে গড়ালো এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি পত্নী ও মামলার বাদী পারভীন আক্তার জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে বলেছে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বসে এটির সমাধন করবে। লিখে নেয়া সম্পত্তি ফেরত দিবে। কিন্তু আর কত অপেক্ষা? অনেকটা নিরুপায় হয়েই আদালতের দারস্থ হয়েছি।
এবিষয়ে মামলার প্রধান আসামি মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী অসুস্থতার সুযোগে গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগে আদালত মামলা দায়ের। এমপি নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম বিস্তারিত

নীলফামারীর এক স্কুলে এসএসসিতে সবাই অকৃতকার্য
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলাম
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির পাশের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ চিত্র সামনে আসে। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রয়েছে ভবন, শ্রেণিকক্ষ,
শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে নির্মিত একাধিক অবকাঠামো। তবে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত উপস্থিতি নেই। নিয়মিত পাঠদানেও নেই
সন্তুষজনোক পরিবেশ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের খাতায়-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। অথচ প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এক একরেরও বেশি জমির উপর আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক শাখায় পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের দিয়েই মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ দান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে
ছয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষক জিকরুল হক বলেন,’শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয় না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। এর সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।’ তবে স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যালয় এর শিক্ষকদের গাফিলতি এবং সরকারি পর্যায়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ শফিউল ইসলাম বলেন, আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ফলাফলের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নীলফামারীর এক স্কুলে এসএসসিতে সবাই অকৃতকার্য স্টাফ রিপোর্টার মাইদুল ইসলাম নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে বিস্তারিত

প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে দেবহাটার একটি বিদ্যালয়ে ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের বেহাল চিত্রও উঠে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য চারটি প্রতিষ্ঠান হলো আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।
আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের চিত্র আরও নাজুক। প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষকদের অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। একজন শিক্ষিকা ও একজন ধর্মীয় শিক্ষক থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না।
নূর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। তবে এবার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধানে কারণ চিহ্নিত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে বিস্তারিত

জিপিএ-৫-এর সাফল্যে দাখিলে এগিয়ে দারুন্নাজাত
জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
দীর্ঘ এক যুগ ধরে মাদরাসা শিক্ষার ফলাফলে দেশের শীর্ষ সারিতে থাকা দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা এবারও সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ২৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যায় এটিই সারাদেশের মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এবার দারুন্নাজাত থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ২৯৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ২৬৮ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩১ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর হিসাবে জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৮ জন সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছে।
দারুন্নাজাতের এবারের ফলাফলের বিশেষত্ব শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা নয়, বরং বড় পরীক্ষার্থীসংখ্যার মধ্যেও এই সাফল্য এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি শাখার মধ্যে তিনটিতে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। দারুন্নাজাত তাখসিসি শাখায় ১২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। দারুন্নাজাত মাদ্রাসা কিতাব বিভাগে ৭১ জনের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৬১ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। দারুননাজাত আইডিয়াল শাখায় ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন।
জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যায় দারুন্নাজাতের অবস্থান বোঝাতে অন্য কয়েকটি বড় মাদরাসার ফলও তাৎপর্যপূর্ণ। তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী ও মহিলা শাখা মিলিয়ে ১ হাজার ৫৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জামিয়া আহমাদিয়া সুন্নীয়া কামিল মাদরাসায় ৩২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন। ঝালকাঠি এন.এস. কামিল মাদরাসায় ২৭৯ জনের মধ্যে ৫০ জন এবং কাদেরীয়া তয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসায় ১০০ জনের মধ্যে ২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এই হিসাবে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যায় দারুন্নাজাতের পর রয়েছে তা’মিরুল মিল্লাতের তিন শাখা ৪৭৯ জন। দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান ১৩৮ জন। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও শাখাভিত্তিক কাঠামোর পার্থক্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের হারেও দারুন্নাজাত এগিয়ে। মোট পরীক্ষার্থীর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ অর্জনের হার ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই হার জামিয়া আহমাদিয়া সুন্নীয়া কামিল মাদরাসায় ৩৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, তা’মিরুল মিল্লাতে ৩১ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং কাদেরীয়া তয়্যেবিয়ায় ২৯ শতাংশ।
দারুন্নাজাতের সাফল্যের আরেকটি দিক দেখা যায় বিভাগভিত্তিক ফলাফলে। ৬১৭ জন জিপিএ-৫ অর্জনকারীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২৯৭ জন এবং সাধারণ বিভাগের ৩২০ জন। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় সাধারণ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ২৩ জন বেশি। মোট জিপিএ-৫ অর্জনকারীর ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ সাধারণ বিভাগের এবং ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ বিজ্ঞান বিভাগের।
প্রতিষ্ঠানটির এই ফলাফলকে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় এক যুগ ধরে দারুন্নাজাত মাদরাসা শিক্ষার ফলাফলে দেশের প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়ে আসছে। এবারের ফলেও জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যা সেই অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
তবে সারাদেশের সব মাদরাসার ফলাফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পরই জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে অবশ্য দারুন্নাজাতের ৬১৭ জিপিএ-৫-ই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে।
বড় পরীক্ষার্থীসংখ্যা, প্রায় ৯৮ শতাংশ পাসের হার এবং ৬১৭ জনের জিপিএ-৫—২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার ফলাফলের মূল চিত্র এ তিনটি সংখ্যাতেই স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা সাফল্যের ধারায় এবারের ফল সেই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর
জিপিএ-৫-এর সাফল্যে দাখিলে এগিয়ে দারুন্নাজাত জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান দীর্ঘ এক যুগ ধরে মাদরাসা শিক্ষার ফলাফলে দেশের শীর্ষ সারিতে থাকা দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা এবারও সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা বিস্তারিত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভাকে অবহিত করেন, ২০০৫ সনের ১ নং আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপন ও এতদ্বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হতে সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ‘২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতো। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যায়নপত্র শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে।’ শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’ শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।’
জানা গেছে, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুষ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করেন অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতেই দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতি’র দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজি’র প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, সকল শ্রেণি পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজি’র এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।
‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর বিস্তারিত

ন্যায়,ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, গাইবান্ধায় ডা.শফিকুর রহমান
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গনভোটের রায় না মানলে, আপনারাও নাই হয়ে যাবেন, সরকারের উদ্দেশ্য এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (১০ আগষ্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত ছাত্র শিবির কর্মী শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের খুনিদের বিচারের দাবী ও সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থির অবনতির প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন ।
জনসমাবেশে তিনি আরো বলেন, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই, সকলের জন্য ন্যায় ইনসাফ, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই এর জন্যই ছিল গণভোট। সরকার যারা ছিল তারাও হ্যা এর পক্ষে রায় দিতে বলেছিল, হ্যা সবাই বল্লাম। এখন আমরা হ্যা হয়েছি সরকার না হয়েছে। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই গণভোট না মানলে আপনারাও নাই হয়ে যাবেন। পাশাপাশি নিহত দুই শহীদের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
ফুলছড়ি- সাঘাটা ৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম সরকার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়া জামায়াত দলীয় সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান, সাদুল্লাপুর- পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (লেবু)সহ জেলা জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন । সমাবেশ শেষে নিহত দুই ছাত্র শিবির কর্মী শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনে রুহের মাগফেরাত কামনা করে কবর জিয়ারত করেন।
ন্যায়,ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, গাইবান্ধায় ডা.শফিকুর রহমান শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি গনভোটের রায় না মানলে, আপনারাও নাই হয়ে যাবেন, সরকারের উদ্দেশ্য এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় বিস্তারিত

