শীর্ষখবর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই নানা মাধ্যমে তদবির করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। বিচারের কাঠাগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উলটো তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপনে চলে যান অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন দমনে জড়িত রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাও হয়। আন্দোলন দমন ও হত্যা নির্যাতনে জড়িত কর্মকর্তারা এখন কে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে যুগান্তর।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলায় এসপি দায়িত্ব পালন করেন ১১৬ জন কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে ৪১ জনই বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), রেলওয়ে পুলিশ কিংবা পুলিশ একাডেমি সারদায় ‘সংযুক্ত’ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ট্রেনিং সেন্টার বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত ৩৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক মনে করছেন জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা ৪১ জন ডিআইজি-এডিশনাল ডিআইজি ও এসপি পুর্লিশের ‘বিষফোড়া’। এরাই ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন তারা।

 

এদিকে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় অবসরে পাঠানো হয়েছে মাত্র ১৭ জনকে। গড় হিসাবে এই সংখ্যার হার ১৪ শতাংশ। অন্য ৫৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে, কাউকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় যেসব জেলার এসপিদের সরাসরি নির্দেশ ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। কেউ কেউ বরখাস্ত হয়েছেন, আবার কেউ কারাবন্দি কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামি হিসাবে পলাতক। বিভিন্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও এপিবিএনের ব্যাটালিয়নগুলোতে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন অনেকে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, সিআইডি কিংবা পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত আছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লবিং চালিয়ে ভালো পোস্টিংও পেয়েছেন। কোনো কোনো অতিরিক্ত ডিআইজিও খোলস পালটে বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৭ এসপির মধ্যে ৩৫ জনই এখন বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, এসপি হিসাবে জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

 

শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপি। এই শাস্তির মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত কিংবা সংযুক্ত রাখা। এই পরিসংখ্যানে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

 

এদিকে গত দুই বছরে আট মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কমিশনার ও আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তিন ডিআইজি ও এক কমিশনারকে।

 

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের ২১ অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৩৫ এসপি: আন্দোলনের সময় টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হন। সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া ট্রেনিং সেন্টারে স্বাভাবিক পদায়ন করা হয়েছে। ফরিদপুরের এসপি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম রংপুর মেট্রোপলিটনের ডিসি, রাজবাড়ীর এসপি জিএম আবুল কালাম আজাদ এপিবিএনে, শরীয়তপুরের মাহবুবুল আলম ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে, মাদারীপুরের মোহাম্মদ শফিউর রহমান পিটিসি খুলনায়, নেত্রকোনার ফয়েজ আহমেদ খুলনার আরআরএফ-এ, শেরপুরের দুই এসপির মধ্যে মোনালিসা বেগম সিআইডিতে এবং আকরামুল হোসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে, কক্সবাজারের মাহফুজুল ইসলাম এপিবিএনে, বান্দরবানের সৈকত শাহীন শিল্পাঞ্চল পুলিশে, খাগড়াছড়ির মুক্তা ধর নৌ পুলিশে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন সিআইডিতে কর্মরত আছেন।

 

চাঁদপুরের এসপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, মৌলভীবাজারের মনজুর রহমান নোয়াখালী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, সুনামগঞ্জের এমএন মোর্শেদ পিবিআইয়ে, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান সিদ্দিকী ঢাকার টেলিকমে, চুয়াডাঙ্গার আরএম ফয়জুর রহমান পিবিআইয়ে, কুষ্টিয়ার দুজনের মধ্যে এএইচএম আবদুর রকিব পিটিসি নোয়াখালীর অতিরিক্ত ডিআইজি আর মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন রংপুর রেঞ্জে, নড়াইলের মোহা. মেহেদী হাসান রেলওয়ে পুলিশে, মেহেরপুরের এসএম নাজমুল হক নৌ পুলিশে, পিরোজপুরের মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সিলেট রেঞ্জে, ভোলার মাহিদুজ্জামান হবিগঞ্জের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল রাজশাহী রেঞ্জে, বরগুনার মো. রাফিউল আলম এন্টিটেররিজম ইউনিটে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. ছাইদুল হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশে, পাবনার আকবর আলী মুনসী লালমনিরহাট ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, নওগাঁর মুহাম্মদ রাশিদুল হক সিআইডিতে, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ নূরে আলম আরআরএফ বরিশালে, রংপুরের ফেরদৌস আলী চৌধুরী সিএমপিতে, ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তম প্রসাদ পাঠক ট্যুরিস্ট পুলিশে, পঞ্চগড়ের এসএম সিরাজুল হুদা ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার গাজীপুরে, নীলফামারীর মোকবুল হোসেন ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কুষ্টিয়ায়, লালমনিরহাটের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিআইডিতে এবং কুড়িগ্রামের আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম পিবিআইতে কর্মরত।

 

৬ অতিরিক্ত ডিআইজি: ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের তিন অতিরিক্ত জিআইজির মধ্যে একজন সংযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমান বর্তমানে টাঙ্গাইলে পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং প্রবীর কুমার রায় নৌ পুলিশে কর্মরত। রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পুলিশ সদর দপ্তরে, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বর্তমানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। একইভাবে সিলেট রেঞ্জে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী লিটন কুমার সাহা খুলনায় পিটিসি (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) ও সিলেট রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হিসাবে কর্মরত।

 

সাময়িক বরখাস্ত ১১ এসপির মধ্যে কারাগারে তিনজন: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৬ এসপির মধ্যে মাত্র ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে তৎকালীন ঢাকা জেলার এসপি মো. আসাদুজ্জামানকে অভ্যুত্থানের পরই রাজশাহীতে সংযুক্ত করা হলেও পরে তাকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় আরও যারা রয়েছেন-নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেল, লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, যশোরের প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিরাজগঞ্জের আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়ার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রংপুরের মো. শাহজাহান। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন কারাগারে। এরা হলেন-নোয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও বাগেরহাটের আবুল হাসনাত খান।

জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই নানা মাধ্যমে তদবির করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। বিচারের কাঠাগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উলটো তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপনে চলে যান অনেক বিস্তারিত

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাই কার্যক্রমেই ব্যয় হতে যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনেই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

সরকার যখন ব্যয় কমানোর কথা বলছে, সে সময় শুধু কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানেই বিপুল পরিমাণ বাজেটকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

 

তিনি বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা তো অনেক, এ টাকা দিয়ে বহু মানুষকে সহায়তা দেওয়া যেত। অনুষ্ঠান আয়োজনে যদি বিপুল খরচ করা হয়, তাহলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।’

 

অবশ্য প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ঠিকই। তবে এর মানে এই নয় যে পুরো টাকাই খরচ হবে।’

 

এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু করেছে সরকার। সেখানে শুরুতেই উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম সামনে এসেছে। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও বাড়ির মালিকসহ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে কয়েকটি খাতে ব্যয় কমিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এজন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব গত ১৮ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে থোক বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৫১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।

 

এর পরদিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেন পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫৫০ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাব এবং পাঁচটি সুপার কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২২১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

 

কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আট বিভাগে সেমিনারের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ডেটা সংগ্রহ, এন্ট্রি ও প্রসেসিং এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী প্রকৃত সুবিধাভোগীর শনাক্ত করা হবে। জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিংয়ের জন্য জনবলের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের এসএসপিআইআরআইটি প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালে ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়। তবে সরকার আলাদা কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হয়। পরে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অংশে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি।

 

প্রকল্প সংশোধনের আওতায় অতিরিক্ত আটটি ডাটা এন্ট্রি সেবা এবং পাঁচটি কম্পিউটিং সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে দুটি জিপ ও আটটি মাইক্রোবাসসহ মোট ১০টি যানবাহন ভাড়ায় ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। গত অর্থবছরে দেশের ৬৫টি ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।

 

প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

 

স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণে ৫৫০ কোটি টাকা কতজনের জন্য ব্যয় করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম অর্থবছরে ৪১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কার্ড দেওয়া হবে।’

 

তিনি জানান, দ্রুত মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে ইতিমধ্যে জরিপের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই জরিপের কাজ শেষ করা হবে। জরিপ কাজে পরিসংখ্যান ব্যুরোর টেকনিক্যাল সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।

 

শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাইমস-এর অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার কড়াইল বস্তির একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল কিছু পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

কড়াইল বস্তি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অংশ, তার প্রথম নির্বাচনী জনসভাও এখানেই হয়েছিল। সেই জনসভায় ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

এই বস্তির অটোরিকশাচালক মো. শান্ত টাইমসকে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। তার অভিযোগ, ‘আমার বাড়িওয়ালা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু যাদের সত্যিই এই টাকার প্রয়োজন, তারা কার্ড পায়নি।’

 

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ আইনে একটা ওয়ার্ড সভার বিধান আছে। ২০০৭ সালে সেটি যুক্ত করা হয়। ওই বিধানের মূল কথা হলো সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি যত সেবা আছে, সেগুলোর জন্য উপকারভোগী চিহ্নিত করা হবে প্রকাশ্য বৈঠকে, যাতে নেতারা তাদের লোকজনের নাম ঢুকিয়ে দিতে না পারে। কিন্তু সরকারের কার্যক্রমে এসব উপেক্ষা করা হয়। অথচ এটা বাস্তবায়ন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।’

 

সরকারি নীতিমালায় ভূমিহীন, গৃহহীন, নারীপ্রধান ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার উপকারভোগী কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকার। তবে কড়াইলের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

ফ্যামিলি কার্ড: জরিপেই ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাই কার্যক্রমেই ব্যয় হতে যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনেই বিস্তারিত

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

 

এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।

 

আজ রোববার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় মামলা: জামিন পেলেন ১১ ছাত্রদল কর্মী

  হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।   রোববার (২ আগস্ট) বিস্তারিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

 

এদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুকে লেখেন, ‘শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল প্রভোস্ট অফিসে হামলা করছে, সামলাতে না পেরে রিজাইন দিয়েছেন প্রভোস্ট। তিনিও বিএনপিপন্থি এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক। ক্যাম্পাসের নতুন ত্রাস, ছাত্রদলের সন্ত্রাস!’

 

এর প্রতিবাদে আজ বিকাল সাড়ে ৬টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছে দলটি।’

 

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি।

ঢাবিতে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।   রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বিস্তারিত

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

 

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

 

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

 

সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

 

ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।

 

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বিস্তারিত

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জিনের আসরের দাবিতে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর হালিমা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তবে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

গতকাল শনিবার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত হালিমা বেগম (৬৫) উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয়, মৃত নারীর ছেলে ও মেয়ের ওপর জিনের আসর হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জিনের নির্দেশ এসেছে যে, ওই নারী জীবিত আছেন এবং তাকে কবর থেকে উত্তোলন করতে হবে।

 

এ দাবির পর রাতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রথমে তাকে মেলান্দহে নেওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান। এই ঘটনায় কথা বলেননি পরিবারের সদস্যরা ও চিকিৎসকেরা।

জামালপুরে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন, এলাকায় চাঞ্চল্য

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জিনের আসরের দাবিতে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর হালিমা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তবে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক ওই নারীকে বিস্তারিত

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায়

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইলে পর্ণো ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় এ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও পর্ণো ভিডিও তোলা কাজে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের কন্যা মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মামুন অর রশিদ(৩০)।

এ ব্যাপারে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। মামলা সুত্রে জানা গেছে গ্রেফতারকৃতরা সহ পলাতকরা দীর্ঘ দিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই ধরণের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি তৈরীর বিভিন্ন মালামাল ও সামগ্রী উদ্ধার করে এবং আসামীদের গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন,গ্রেফতারকৃতদের আদালতের প্রেরন ও পলাতক থাকা অন্যান্য অন্যান আসামীদের গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায় 

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায়   শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইলে পর্ণো ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ বিস্তারিত

মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা মারা গেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ও শনিবার দুপুরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

 

মৃতরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কিউরেটর ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম এবং নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম শুক্রবার আনুমানিক রাত ২টায় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ সময় তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪২ বছর। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

 

অপরদিকে দুপুর ২টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ইউএইচএফপিও ডা. মোমেনুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪৫ বছর। ডা. মোমেনুল ইসলাম ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

 

বিকেলে পাঠানো এক শোক বার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উভয় চিকিৎসকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

এক দিনে হার্ট অ্যাটাকে না ফেরার দেশে ৩৩ বিসিএসের দুই স্বাস্থ্য ক্যাডার, মন্ত্রীর শোক

মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা মারা গেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ও শনিবার দুপুরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার বিস্তারিত

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএনপি দলীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে গণনাকারী ও সমন্বয়কারী পদের আবেদন ফরমে বিধি অমান্য করে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন সরাসরি তার দলীয় পরিচয়ের সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুপারিশ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একটি প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় পদের এমন প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ আবেদনকারীরা।

 

হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্প্রতি জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে আবেদনপত্র আহবান করা হয়। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, মেধাভিত্তিক এবং প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুমারির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ঠা আগষ্ট হরিপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে।

 

এদিকে জমা পড়া আবেদনপত্রের একাংশে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি তার স্বাক্ষর ও সিলের উপরে লিখেছেন ‘‘জোড় সুপারিশ করা হলো”।সরকারি কোনো ফরম বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুপারিশ গ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও, এমন সুপারিশে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রায় একাধিক আবেদন ফরমে এমন সুপারিশ করেছেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা মুখী আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রমে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

 

সাধারণ মেধাভিত্তিক আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, দলীয় সুপারিশের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং দলীয় প্রভাবে স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীসহ সচেতনমহল দাবী করেছেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আইন অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার।

 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন গতকাল শনিবার মুঠোফোনে জানালেন, দলীয় চাপে এগুলো সুপারিশ দিতে হয়েছে। সরকারী আবেদন ফরমে এ ধরনের সুপারিশ করতে পারবেন কিনা প্রশ্নে বলেন? আসলে দলীয় চাপে সুপারিশ করতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তাদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ পক্রিয়া সম্পর্ণ করবেন বলে তিনি জানান।

 

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) চন্দন কর জানালেন, এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নই। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সরকারী ফরমে রাজনৈতিক সুপারিশ যে ফরমে হলো সেগুলো এখন কি হবে প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক গতকাল শনিবার মুঠোফোনে বলেছেন, কোন সুপারিশ দিয়ে নিয়োগ হবে না। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএনপি দলীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে গণনাকারী ও সমন্বয়কারী পদের বিস্তারিত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর খালা অভিযোগ করেন, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর অপর বোন ও ছোট ভাই সাথে ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরটি ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

 

এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দলটি তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটকৃতরা হলেন, হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

 

ভুক্তভোগীও জানালেন, প্রথমে দরজা খুলতে বললে খোলা না হলে পরে জানালা ভেঙে একটা ছেলেকে ঘরে ডুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই ছেলে দরজা খুলে দেয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কয়েকজন আগে থেকেই স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বিরক্ত করতো বলেও জানিয়েছে সে।

 

এই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে রাতে বাড়ির জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধ/র্ষ/ণের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিস্তারিত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে ছেড়ে আসা চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ি মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস গাড়িটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনা গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী সেগুন বাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারীয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (২৮), চকরিয়ার ফুলছড়ি শিয়ালপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭) এবং ঈদগাঁও উপজেলার খুটাখালী নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

 

এদের মধ্যে জসিম উদ্দিন মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং অপর তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন- জিয়াবুল হক (৪০), মো. সরওয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। এছাড়া সৈয়দ করিম (৩০) নামে আহত আরেক যাত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত ৫

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*

*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

 

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া ,ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উৎসবমুখর পরিবেশে ও নানাবিধ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক করতোয়া’-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা) ও দৈনিক করতোয়া জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেল ৫টায় শহরের হযরত শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সভাপতি সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন, সহ-সভাপতি শাহাবুল শাহীন তোতা, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ বাদল, কোষাধ্যক্ষ ফজলে রাব্বি মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রিন্স এবং দপ্তর সম্পাদক ফারহান শেখ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য আবুল কাসেম, মো. তৌহিদুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, এস. এম. শাকির হায়দার, নিয়াম শেখ, মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট কাশেম ইয়াসবীর, তাজরুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

আলোচনা সভা শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। পরবর্তীতে দৈনিক করতোয়ার সার্বিক সমৃদ্ধি এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালুর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি যোবায়ের আহমেদ। মোনাজাতে শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ হন বরগুনার মেয়ে আছিয়া। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে আছিয়ার।

 

বর্তমানে ৭ সন্তানের জননী আছিয়া বাংলাদেশে ফিরতে চান ৯৫ বছর বয়সি বাবার কাছে। অপরদিকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে মৃত্যুর আগে কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন।

 

আছিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তমিজ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বরগুনা ছেড়ে ঢাকা চলে যান। সেখানে গিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের বড়বাগ নামক এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তারা। ওই সময় তমিজ উদ্দিন ঢাকায় দিনমজুরির কাজ করে সংসার পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের কোনো একদিন বিকেলে ঘর থেকে বের হয়ে মেয়ে আছিয়া নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও আছিয়ার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার কোনো সন্ধান না পেয়ে স্ত্রীসহ বাকি ৬ সন্তানদের নিয়ে আবারও বরগুনায় ফিরে আসেন তমিজ উদ্দিন। হারানো মেয়ের শোক নিয়েই তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। এছাড়া গত তিন বছর আগে আছিয়াকে হারানোর শোক নিয়ে মারা যান মা রাহেলা। তবে দীর্ঘ ৩২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার।

 

সন্ধান মেলার পর থেকেই মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবা তমিজ উদ্দিনের। তবে দীর্ঘ বছর পর মোবাইল ফোনে মেয়ের মুখ দেখাসহ কণ্ঠ শুনতে পলেও মেয়েকে কাছে পেতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। পাকিস্তান থেকে আছিয়াও এখন ফিরতে চান বাবার কাছে।

 

হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা হয় পাকিস্তান থাকা আছিয়ার সঙ্গে। তিনি গণমাধ্যমে জানান, একটি চক্র তাকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কিছুদিন রেখে পাকিস্তানের মোজাফফর নগরে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হয় আছিয়ার। বর্তমানে সেখানে তার ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে এক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনদের কথা মনে পড়লে তিনি নিজের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম ও ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে ওই পোস্টটি খোঁজ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে প্রথমে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন খান নামে একজনের নজরে আসলে সন্ধান মেলে আছিয়ার বাবা ও স্বজনদের। এর পর ২০ জুলাই থেকেই বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা শুরু হয় পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ থাকা আছিয়ার।

 

আছিয়া আরও বলেন, পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর এখন তিনি দেশে ফিরতে চান। আর সবার সহযোগিতা বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা পেলে দ্রুতই দেশে ফিরতে পারবেন বলেও জানান আছিয়া।

 

এ বিষয়ে আছিয়ার ভাই মোস্তফা গণমাধ্যমে বলেন, আমার বোনের বয়স যখন ১৬-১৭ বছর তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। না পেয়ে এক সময় ধরেই নিয়েছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু এখন পাকিস্তানে বোনের খোঁজ মিলেছে। বোনকে ফেরত পেতে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

দীর্ঘ ৩২ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন, হারিয়ে যাওয়ার পর আছিয়াকে কোথাও খুঁজে পাইনি। ৩২ বছর পর মোবাইল মেয়েকে দেখতে পেয়েছি। মৃত্যু আগে একবার হলেও মেয়েকে কাছে পেতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন জানাই যাতে আছিয়াকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, আছিয়ার ফিরে আসার জন্য দুটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে তার যদি বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ থাকে তা নিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনে গিয়ে প্রমাণ করতে পারলে একটি ট্রাভেল পাস পেতে পারেন। তবে যেহেতু ৩২ বছর ধরে পাকিস্তানে রয়েছেন তার যদি জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ না থাকে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসককে মাধ্যম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

৩২ বছর আগে ঢাকায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মিলল পাকিস্তানে

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

 

দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

 

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

 

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

 

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

 

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

 

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

 

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

 

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। ৯ আগস্ট হুইপ মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

 

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

 

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ

দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।

 

জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

 

এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

 

সূত্রমতে, সর্বোচ্চ গ্রেডে অর্থাৎ অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। আর একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা আরও কম।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানিয়েছে, মূলত এখন দুই প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা আছে, তা দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ল

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তা নিচ্ছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় রয়েছে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব দেশে বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বহু আগে থেকেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশগুলো আমদানীকৃত উদ্বৃত্ত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। এ দেশগুলোর বেসরকারি উদ্যোক্তারা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি পরিশোধনাগারে পরিশোধন করছে। পরে তা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন, শিল্পকারখানায় বিক্রি করছে।

 

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খুচরা জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক বাজারেও তারা এ জ্বালানি বিক্রি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ভারতজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রিলায়েন্স : ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। গুজরাটের বিশাল জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সে তা পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধনাগারে উৎপাদন হয় পেট্রোল ও ডিজেল। রিলায়েন্স তাদের নিজস্ব খুচরা জ্বালানি স্টেশনের নেটওয়ার্ক ও শিল্প গ্রাহকদের কাছে ভারতজুড়ে এ জ্বালানি বিক্রি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের এ বেসরকারি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে।

 

রিলায়েন্স বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতের জামনগরের নিকটবর্তী বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। সুপার ট্যাংকারগুলো উপকূলের অদূরে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর মাধ্যমে বিশাল সব স্টোরেজ ট্যাংকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে। এরপর অপরিশোধিত তেল জামনগর রিফাইনারিতে পাঠানো হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল তেল শোধন কেন্দ্র। এ রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি যেমন-পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকে রূপান্তর করে।

 

বিশ্বব্যাপী সরকারকে সহায়তা করছে বেসরকারি খাত

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

আজানের ধ্বনিতে প্রতিদিন মুখর হয়ে ওঠে মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে সমবেত হন শতাধিক মুসল্লি। তাঁদের কাছে এটি ইবাদতের স্থান, এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। তবে এর আরেকটি পরিচয়ও আছে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে বদলে দিচ্ছে, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এমন বাস্তবতায় প্রচলিত পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

 

ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক। পুরো স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক।

 

আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সেই হিসাবে মসজিদটিতে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলো ব্লক সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মসজিদটি স্থানীয় মানুষের সামনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

 

নামাজ আদায় করতে আসা আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান,,মাদারগঞ্জ জামে মসজিদটি নির্মাণের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে এলাকার মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য নানা ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। এখন একটি সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী মসজিদে আমরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসেন। শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদটি আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করেছে।

 

তাঁরা আরও বলেন, মসজিদটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। আমরা আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখন মসজিদের দেয়াল ও নির্মাণকাজ দেখে বুঝতে পারছি, প্রচলিত পোড়া ইটের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ দিয়েও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। ইএসডিও শুধু আমাদের একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়নি, একই সঙ্গে আমাদের একটি নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

 

মসজিদটি নির্মাণ করে দেওয়ায় ইএসডিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশেষভাবে আনন্দিত যে মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া বড় একটি সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।

 

এ বিষয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মানুষ এর বাস্তব ব্যবহার দেখুক এবং উপলব্ধি করুক যে প্রচলিত পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও কার্যকর স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩