শিক্ষামন্ত্রীকে ভাষা ঠিক করতে বললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শিক্ষামন্ত্রীকে ভাষা ঠিক করতে বললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ

শিক্ষামন্ত্রীকে ভাষা ঠিক করতে বললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ

জুলাইযোদ্ধা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেছেন, ‘এহসানুল হক মিলনকে দেখলে আমার উগ্র মনে হয়। ওনার আচার ব্যবহার এমন যে উনি একাই সুপেরিয়ার আর সবাই চিটার-বাটপার। মানে উনি একাই পিউর সওল আর সবাই চিটার-বাটপার দিয়ে ভরা। কিন্তু ওনার যেসব আচরণ সেগুলো আসলে খুবই উগ্রবাদী আচরণ। ওনার নিজের ভাষা ঠিক করা এবং ওনার নিজের যে কথাবার্তা, আচার ব্যবহার ডেভেলপ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

 

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জুলাইযোদ্ধা নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন।

 

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে মেহেনাজ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী দুই দিন আগে এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি বেশি ফ্রিডম দেওয়া হয় তখন তারা জঙ্গি প্রডিউস করবে। প্রথম কথা হচ্ছে, ১৮ তারিখ যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা না নামত তাহলে আপনারা কোথায় থাকতেন এটা আপনারা চিন্তা করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘যখন এহসানুল মিলন সাহেব এ কথাটা বললেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক বেশি ফ্রিডম দেওয়া হলে জঙ্গি প্রডিউস করা হবে। আসলে শিক্ষাটা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে প্রশ্ন আসে না, শিক্ষাটা হচ্ছে তার নিজের শিক্ষা নিয়ে। আপনার কি শিক্ষা যে আপনি এরকম টাইপের ল্যাংগুয়েজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করেন?’

 

তিনি আরো বলেন, ‘টেরোরিস্টের কোনো বাবা-মা নেই, কোনো সোসাইটি নেই, কোনো ইনস্টিটিউশন নেই। একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঘটনা দিয়ে আপনি তো পুরো ইনস্টিটিউশনে জাজ করতে পারেন না।

 

আমাদের পলিটিক্স করার কোনো স্ট্রাকচার নেই, আমাদের তো ডাকসু নেই, আমাদের কোনো ছাত্র সংগঠন নেই, কিন্তু আমরা আপনারা দেখেছেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে রাজপথে ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছিল।’


হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত ও সারজিস কিন্তু সব সময় চেয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হোক সেটা চেয়েছিল কিন্তু গণঅভ্যুত্থান হোক সেটা চায়নি। এর প্রমাণ ১৯ জুলাই, সেই সময় তারা তো মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে আসল। এরপরে আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেই হাসনাত আব্দুল্লাহ পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করল।’

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এরকম হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুর্বলতা থাকার কারণে ওই দুর্বলতা ঢাকার জন্য পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এমন একজন ব্যক্তি যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কী ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সে বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বইয়ে উল্লেখ করা আছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বইটি যদি আপনি পড়েন সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে হাসনাত এবং সারজিস আলম তারা দুইজন সেনাবাহিনীর গাড়িতে চড়ে তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছিলেন। সেসময় আমরা তাদেরকে বলি তোমরা যদি গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কাছে না আসো তাহলে তোমাদেরকে জাতীয় বেইমান আখ্যায়িত করা হবে।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘ভেতরের আলোচনা তো আসলে প্রকাশ্যে আনা ঠিক না তার পরও বলি এনসিপির মধ্যে তাদের নিয়ে নানান ধরনের গুঞ্জন ছিল এখন যদিও রাজনীতি করার স্বার্থে সেগুলো নেই।’

আ. লীগকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল হাসনাত-সারজিস: রাশেদ খান

নতুন বই ছাপানোর কাজ সময়মতো ও সুন্দরভাবে করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইয়ের কাগজের নিম্নমান কিংবা মুদ্রণের হেরফের শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহী করে। নোট-গাইড বই থেকে শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার যে অনুশীলন, তা বন্ধ করতে হবে।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বলেন, আগামী বছর থেকে বইমেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিকে যুক্ত করা হবে।

 

সভায় প্রকাশনা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান প্রকাশকরা। নীতি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহয়তা দেয়ারও দাবি তোলেন তারা।

২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

 

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গেও দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।

 

একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মাহদী আমিন। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও সম্মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা এই পেশাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়।

জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর যাচ্ছেন।

 

বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এই সফরসূচির কথা নিশ্চিত করেছেন।

 

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এই দুই জেলায় বিশেষ খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এর পাশাপাশি সেখানে বেশ কিছু সরকারি কর্মসূচিতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। বর্ষার আগে মে মাস পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে। এরপর বিরতি দিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হবে।’

 

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

 

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পানি সম্পদ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকার খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদপুর ও ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) হিসাব মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের বর্তমান রিজার্ভ ৩০.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

 

কর্মকর্তারা জানান, রিজার্ভের এ অবস্থান চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গতকাল ৫ মে একদিনেই প্রবাসী আয় এসেছে ১৬১ মিলিয়ন ডলার। আর মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৬ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৪৭৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

 

 

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৩৩ বিলিয়ন ডলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্যারাকপুরে নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন পরিচালক ও সাবেক বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি জানিয়ে দেন, এবার তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না।

 

৪ এপ্রিলের ভোটের ফলে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আসে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে লড়াই করেও এবার জয় পাননি রাজ। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

 

২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও পরিচালনা করেছিলেন রাজ।

 

হারার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, জীবনে তিনি যেমন সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তেমনি বিধায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে জানান তিনি।

 

নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।

 

ভোটের দিন ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্লোগান ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

 

পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও আলোচনায় আসে। যেখানে তিনি স্বামীকে জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং মনোবল ভেঙে না পড়ার বার্তা দেন।

নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

জুলাইযোদ্ধা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেছেন, ‘এহসানুল হক মিলনকে দেখলে আমার উগ্র মনে হয়। ওনার আচার ব্যবহার এমন যে উনি একাই সুপেরিয়ার আর সবাই চিটার-বাটপার। মানে উনি একাই পিউর সওল আর সবাই চিটার-বাটপার দিয়ে ভরা। কিন্তু ওনার যেসব আচরণ সেগুলো আসলে খুবই উগ্রবাদী আচরণ। ওনার নিজের ভাষা ঠিক করা এবং ওনার নিজের যে কথাবার্তা, আচার ব্যবহার ডেভেলপ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

 

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জুলাইযোদ্ধা নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন।

 

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে মেহেনাজ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী দুই দিন আগে এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি বেশি ফ্রিডম দেওয়া হয় তখন তারা জঙ্গি প্রডিউস করবে। প্রথম কথা হচ্ছে, ১৮ তারিখ যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা না নামত তাহলে আপনারা কোথায় থাকতেন এটা আপনারা চিন্তা করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘যখন এহসানুল মিলন সাহেব এ কথাটা বললেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক বেশি ফ্রিডম দেওয়া হলে জঙ্গি প্রডিউস করা হবে। আসলে শিক্ষাটা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে প্রশ্ন আসে না, শিক্ষাটা হচ্ছে তার নিজের শিক্ষা নিয়ে। আপনার কি শিক্ষা যে আপনি এরকম টাইপের ল্যাংগুয়েজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করেন?’

 

তিনি আরো বলেন, ‘টেরোরিস্টের কোনো বাবা-মা নেই, কোনো সোসাইটি নেই, কোনো ইনস্টিটিউশন নেই। একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঘটনা দিয়ে আপনি তো পুরো ইনস্টিটিউশনে জাজ করতে পারেন না।

 

আমাদের পলিটিক্স করার কোনো স্ট্রাকচার নেই, আমাদের তো ডাকসু নেই, আমাদের কোনো ছাত্র সংগঠন নেই, কিন্তু আমরা আপনারা দেখেছেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে রাজপথে ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছিল।’

শিক্ষামন্ত্রীকে ভাষা ঠিক করতে বললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই তথাকথিত ‘মীমাংসা’ প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শীতের এক সন্ধ্যায় নানিকে পান কিনে দিতে দোকানে যাওয়ার পথে একই এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৬৫) ওই শিশুটিকে জোরপূর্বক একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, সে বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে সালিসের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই বৃদ্ধের সঙ্গে ১২ বছরের শিশুটির বিয়ে পড়ানো হয়। জানা গেছে, একটি সাধারণ খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে বলে, আমি তাকে স্বামী হিসেবে মানি না। আমার মুখ চেপে ধরে সে খারাপ কাজ করেছে। পেটের ভেতর সন্তান নড়াচড়া করে, কিছু খেতে পারি না। আমি ওই লোকের ফাঁসি চাই। শিশুটি জানায়, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে অভিযুক্তকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে চায়।

 

শিশুটির বাবা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি অসুস্থ, ঠিকমতো চলতে পারি না। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং জীবন ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই ওই লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু করার ছিল না। তবে মা জানান, প্রতিশ্রুত টাকা বা জমি এখনো তারা পাননি।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত নূর ইসলাম সপরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

 

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। লোকলজ্জার ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে বেআইনিভাবে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যারা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসা ও বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে, সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এই ঘটনা ঘটেছে।

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু, ধামাচাপা দিতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার পর এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ডা. সায়মা আক্তার।

 

ডা. সায়মা গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।

 

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ এপ্রিল এক কিশোরী শারীরিক জটিলতা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরে কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষক জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।

 

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার কাছে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। সেই বক্তব্য বিভিন্ন টিভি, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

 

এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করে ডা. সায়মা। পরিবারের সদস্যরা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

 

মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আগামী ১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের তথ্য দেওয়ায় নারী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত ও সারজিস কিন্তু সব সময় চেয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হোক সেটা চেয়েছিল কিন্তু গণঅভ্যুত্থান হোক সেটা চায়নি। এর প্রমাণ ১৯ জুলাই, সেই সময় তারা তো মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে আসল। এরপরে আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেই হাসনাত আব্দুল্লাহ পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করল।’

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এরকম হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুর্বলতা থাকার কারণে ওই দুর্বলতা ঢাকার জন্য পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এমন একজন ব্যক্তি যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কী ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সে বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বইয়ে উল্লেখ করা আছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বইটি যদি আপনি পড়েন সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে হাসনাত এবং সারজিস আলম তারা দুইজন সেনাবাহিনীর গাড়িতে চড়ে তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছিলেন। সেসময় আমরা তাদেরকে বলি তোমরা যদি গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কাছে না আসো তাহলে তোমাদেরকে জাতীয় বেইমান আখ্যায়িত করা হবে।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘ভেতরের আলোচনা তো আসলে প্রকাশ্যে আনা ঠিক না তার পরও বলি এনসিপির মধ্যে তাদের নিয়ে নানান ধরনের গুঞ্জন ছিল এখন যদিও রাজনীতি করার স্বার্থে সেগুলো নেই।’

আ. লীগকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল হাসনাত-সারজিস: রাশেদ খান

নতুন বই ছাপানোর কাজ সময়মতো ও সুন্দরভাবে করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইয়ের কাগজের নিম্নমান কিংবা মুদ্রণের হেরফের শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহী করে। নোট-গাইড বই থেকে শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার যে অনুশীলন, তা বন্ধ করতে হবে।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বলেন, আগামী বছর থেকে বইমেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিকে যুক্ত করা হবে।

 

সভায় প্রকাশনা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান প্রকাশকরা। নীতি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহয়তা দেয়ারও দাবি তোলেন তারা।

২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সাভারের আশুলিয়ায় ঘটলো একই রকম আরেক ঘটনা। সাত বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার রাওজাতুল কুরআন আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীকালে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এদিন রাতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ ইলিয়াস ময়মনসিংহ জেলার পূর্বতলা থানার কুকলা গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার ওই মাদরাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগী শিশুর স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, শিশুটি তার চাচার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। গত বুধবার (৬ মে) বিকেলে মাদরাসা থেকে বাসায় ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করছিল। পরে স্বজনরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে। এরপর স্বজনরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানান।

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা একটি মামলা করেছেন। শুক্রবার (আজ) গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হবে।

এবার আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

 

পরশুরামে চাঞ্চল্যকর মোড়: ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

 

একটি অভিযোগই যথেষ্ট ছিল এক নিরপরাধ ইমামের জীবন তছনছ করে দিতে শান্ত এক গ্রাম, যেখানে ভোরের আজানের সুরে দিন শুরু হতো, সেখানেই নেমে আসে হঠাৎ অন্ধকার মুহূর্তে বদলে যায় সবকিছু মানবতা হয়ে পড়ে নীরব সত্য চাপা পড়ে মিথ্যার ভারে।

আমি নির্দোষ বারবার বলা সেই কণ্ঠ হারিয়ে যায় অবিশ্বাসের ভিড়ে কেউ শোনেনি, কেউ যাচাই করেনি। অপবাদ আর লাঞ্ছনার ভারে তাকে যেতে হয় কারাগারের অন্ধকারে।

কিন্তু সত্য থেমে থাকে না। সময়ের সাথে উন্মোচিত হয় এমন এক বাস্তবতা, যা শুধু চমকে দেয় না পুরো ঘটনাকে নতুনভাবে নাড়িয়ে দেয় ভিতর থেকে।

 

ঘটনাটি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরী ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা থেকে অবশেষে অব্যাহতি পেয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)।

 

ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উল্টো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আসল অপরাধী, যিনি খোদ ভুক্তভোগীর নিজের বড় ভাই মোরশেদ (২২)। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং ভাইকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদের নির্দোষ ইমামের ওপর এই অপবাদ চাপিয়েছিল। এই মিথ্যা অপবাদের জেরে মোজাফফরকে ১ মাস ২ দিন বিনাদোষে কারাবাস করতে হয়েছে, হারিয়েছেন সামাজিক মর্যাদা এবং চাকরি। শেষ পর্যন্ত মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।

 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। মক্তব ছাড়ার পাঁচ বছর পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার তার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সে সময় মোজাফফর বারবার নিজের নির্দোষিতার দাবি জানালেও কেউ তার কথা শোনেনি। উল্টো ২৬ নভেম্বর ফেনী কর্মরত প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় মাতব্বর ও ভুক্তভোগীর মা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর দীর্ঘ এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর ২৮ ডিসেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে ৫ শতক মূল্যবান জমিও বিক্রি করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি।

 

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মোজাফফরের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি না পাওয়ায় ল্যাব থেকে ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের সরাসরি ডিএনএ নমুনা চাওয়া হয়। এই সময় পুলিশ গভীরভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী স্বীকার করে যে, তার নিজের সহোদর ভাই মোরশেদ তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তার পরিবার ইমাম মোজাফফরকে এই মামলায় ফাঁসায়। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ মে পুলিশ অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন ২০ মে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 

পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ভুক্তভোগী, তার সন্তান এবং বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়।

 

গত বছরের ৯ আগস্ট প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয় যে, নবজাতকের পিতৃপরিচয়ের সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ-র ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত সত্যতা পাওয়ার পর গত ১৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শরীফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আপন বোনকে ধর্ষণের দায়ে মোরশেদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামি মোরশেদ বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।

 

অব্যাহতি সংক্রান্ত আদালতের নথি হাতে পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। তবে এই মিথ্যা অপবাদের কারণে আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি, হারিয়েছি বসতভিটার জায়গা। আমি এই মানসিক হয়রানি, সামাজিক মর্যাদাহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির সুষ্ঠু ক্ষতিপূরণ চাই।”

 

তার আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বিষয়টিকে একটি বিরল ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একজন নির্দোষ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নস্যাৎ হয়েছে। স্থানীয় আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আমিনুল ইসলামও এই ভুক্তভোগী ইমামের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করে মূল অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সমাজকে কলুষিত করার মতো এমন মিথ্যা অপবাদের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান বজায় রাখবে পুলিশ।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d