নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

ব্যারাকপুরে নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন পরিচালক ও সাবেক বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি জানিয়ে দেন, এবার তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না।

 

৪ এপ্রিলের ভোটের ফলে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আসে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে লড়াই করেও এবার জয় পাননি রাজ। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

 

২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও পরিচালনা করেছিলেন রাজ।

 

হারার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, জীবনে তিনি যেমন সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তেমনি বিধায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে জানান তিনি।

 

নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।

 

ভোটের দিন ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্লোগান ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

 

পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও আলোচনায় আসে। যেখানে তিনি স্বামীকে জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং মনোবল ভেঙে না পড়ার বার্তা দেন।


বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টের।

 

বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি একটি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই তেলের দাম কমতে শুরু করে। বুধবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নেমে আসে।

 

তবে, ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি গ্রহণ না করলে আরও বেশি মাত্রার বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর থেকে আবারও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

 

এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিলো।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজ বাড়ির সামনে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার (৬ মে) এই ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ি এবং কার্তুজ উদ্ধার হলেও নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে পুলিশ।

 

পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এর সূত্র অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চন্দ্রনাথ রথ যখন মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন আততায়ীরা তার গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে চন্দ্রনাথের পাশাপাশি তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হন।

 

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি পেটে লাগে। অন্যদিকে, চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নব-নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং এবং বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন।

 

তাদের দাবি, বিজেপিকে ভয় দেখাতেই এই ‘টার্গেট কিলিং’ করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

গাড়ির ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে শুভেন্দু অধিকারীর পিএকে গুলি

 

হাম সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি ইউনূস সরকার। সম্প্রতি একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া।

 

প্রশ্ন: প্রতিবছর ইউনিসেফ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশুকে টিকা দিতে সহায়তা করে, যাতে তারা সুস্থভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও ইউনিসেফ প্রতিবছর লাখো শিশুর জন্য এই কাজ করছে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সহায়তা করছে। বাংলাদেশে গণটিকাদানের এই সাফল্য কতটা?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: ১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ তাদের কাজের কেন্দ্রে টিকাদানকে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি শিশু সে যেখানেই থাকুক, যেন জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে ব্যাপক কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবনরক্ষাকারী টিকা পায়। এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকে একত্র করে। বাংলাদেশে এই অংশীদারত্ব বড় বড় সাফল্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং ধারাবাহিকভাবে টিকাদানের উচ্চ হার। ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে ইউনিসেফ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূল, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং এইচপিভি ও টিসিভি টিকার মতো নতুন টিকা চালু করতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ) কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদান যুক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, তথ্যভিত্তিক কৌশল, কমিউনিটির আস্থা, ইউনিসেফসহ অংশীদারদের সমন্বিত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ গণটিকাদান দ্রুত সম্প্রসারণ করে প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে পেরেছে।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর পেছনে সময়মতো হামের টিকাদানের ব্যর্থতার প্রশ্নটি আসছে বারবারই। সম্প্রতি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকার দেশে টিকা আনতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং তারা টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিও পরিবর্তন করেছিল।’ তাহলে কি অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই টিকাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এনেছিল?

 

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া: বিশ্বব্যাপী টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ শতাধিক দেশে প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়ে আসছে, যার ফলে সময়মতো, সাশ্রয়ী এবং সমতাভিত্তিকভাবে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। দুঃখজনকভাবে, এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে, যাতে তীব্র সংকট মোকাবিলা করা যায়। এর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় রাখা সম্ভব হয়।

 

তবে কিছু টিকার ক্ষেত্রে এর আগেই মজুত শেষ হয়ে যায় এবং কিছু টিকার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।

 

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হামের সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

 

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। শুরুতে ‘বিষাক্ত তরমুজ’ খেয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুক্রবার (১ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই রহস্যজনক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।গত শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ দোখাডিয়া (৪৫) তার পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে মাটন পোলাওয়ের মাধ্যমে নৈশভোজ সম্পন্ন করেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয় আবদুল্লাহ, তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব (১৩) ও আয়েশার (১৬)।

 

মৃতদেহগুলোর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছেন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় যা দেখা যায় না, এখানে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু ঘটেছে। দেখা গেছে, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে।

 

তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। অত্যন্ত শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে এলো, তা নিয়ে গোয়েন্দারা ধন্দে আছেন। এটি কি কোনো চিকিৎসার অংশ ছিল, নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার বা পরিকল্পিত হত্যার ছক সবগুলো দিক খতিয়ে দেখছে পুরাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো পাওয়া যায়নি। ওই রাতে মাটন পোলাও খেলেও তারা সুস্থ ছিলেন।

 

মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

 

পুলিশ পরিবারের মানসিক অবস্থা, কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের প্রয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

 

ইতোমধ্যেই পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মুম্বাইয়ের এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও কৌতূহল—উভয়ই বিরাজ করছে।

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন, ভিডিও কলে পরিবারকে দেখানো হয় মরদেহ

ইতালিতে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দেশটির লেইজ শহরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হত্যার পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন, যা ঘটনায় আরও শোকাবহ মাত্রা যোগ করে।

নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে। তারা দেলু ফকিরের সন্তান। হুমায়ুন ফকির দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। তার ছোট ভাই নয়ন ফকির ২০২৩ সালে বড় ভাইয়ের সহায়তায় ইতালিতে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফকিরের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ছোট ভাই নয়ন এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়ন ফকিরকে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পশ্চিম সোনারং গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খু*ন: ভিডিও কলে পরিবারকে দেখাল নিথর দেহ!

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের পর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, আজ বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছেউল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২ মে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, দুবাই হয়ে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে ৪ মে।

 

প্রসঙ্গত, লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার, দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্যারাকপুরে নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন পরিচালক ও সাবেক বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি জানিয়ে দেন, এবার তিনি আর রাজনীতিতে থাকছেন না।

 

৪ এপ্রিলের ভোটের ফলে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ আসে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে লড়াই করেও এবার জয় পাননি রাজ। এরপরই তিনি নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

 

২০২১ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও পরিচালনা করেছিলেন রাজ।

 

হারার পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, জীবনে তিনি যেমন সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তেমনি বিধায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে জানান তিনি।

 

নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে এবং মানুষের সমস্যার সমাধান হবে।

 

ভোটের দিন ব্যারাকপুরে তার রোড শো ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ফল ঘোষণার দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্লোগান ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

 

পরাজয়ের পর রাজের স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও আলোচনায় আসে। যেখানে তিনি স্বামীকে জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং মনোবল ভেঙে না পড়ার বার্তা দেন।

নির্বাচনে হেরে রাজনীতি ছাড়লেন শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী

জুলাইযোদ্ধা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেছেন, ‘এহসানুল হক মিলনকে দেখলে আমার উগ্র মনে হয়। ওনার আচার ব্যবহার এমন যে উনি একাই সুপেরিয়ার আর সবাই চিটার-বাটপার। মানে উনি একাই পিউর সওল আর সবাই চিটার-বাটপার দিয়ে ভরা। কিন্তু ওনার যেসব আচরণ সেগুলো আসলে খুবই উগ্রবাদী আচরণ। ওনার নিজের ভাষা ঠিক করা এবং ওনার নিজের যে কথাবার্তা, আচার ব্যবহার ডেভেলপ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

 

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জুলাইযোদ্ধা নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন।

 

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে মেহেনাজ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী দুই দিন আগে এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যদি বেশি ফ্রিডম দেওয়া হয় তখন তারা জঙ্গি প্রডিউস করবে। প্রথম কথা হচ্ছে, ১৮ তারিখ যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা না নামত তাহলে আপনারা কোথায় থাকতেন এটা আপনারা চিন্তা করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘যখন এহসানুল মিলন সাহেব এ কথাটা বললেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক বেশি ফ্রিডম দেওয়া হলে জঙ্গি প্রডিউস করা হবে। আসলে শিক্ষাটা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে প্রশ্ন আসে না, শিক্ষাটা হচ্ছে তার নিজের শিক্ষা নিয়ে। আপনার কি শিক্ষা যে আপনি এরকম টাইপের ল্যাংগুয়েজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করেন?’

 

তিনি আরো বলেন, ‘টেরোরিস্টের কোনো বাবা-মা নেই, কোনো সোসাইটি নেই, কোনো ইনস্টিটিউশন নেই। একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঘটনা দিয়ে আপনি তো পুরো ইনস্টিটিউশনে জাজ করতে পারেন না।

 

আমাদের পলিটিক্স করার কোনো স্ট্রাকচার নেই, আমাদের তো ডাকসু নেই, আমাদের কোনো ছাত্র সংগঠন নেই, কিন্তু আমরা আপনারা দেখেছেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে রাজপথে ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছিল।’

শিক্ষামন্ত্রীকে ভাষা ঠিক করতে বললেন জুলাইযোদ্ধা মেহনাজ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই তথাকথিত ‘মীমাংসা’ প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শীতের এক সন্ধ্যায় নানিকে পান কিনে দিতে দোকানে যাওয়ার পথে একই এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৬৫) ওই শিশুটিকে জোরপূর্বক একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, সে বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে সালিসের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই বৃদ্ধের সঙ্গে ১২ বছরের শিশুটির বিয়ে পড়ানো হয়। জানা গেছে, একটি সাধারণ খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে বলে, আমি তাকে স্বামী হিসেবে মানি না। আমার মুখ চেপে ধরে সে খারাপ কাজ করেছে। পেটের ভেতর সন্তান নড়াচড়া করে, কিছু খেতে পারি না। আমি ওই লোকের ফাঁসি চাই। শিশুটি জানায়, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে অভিযুক্তকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে চায়।

 

শিশুটির বাবা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি অসুস্থ, ঠিকমতো চলতে পারি না। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং জীবন ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই ওই লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু করার ছিল না। তবে মা জানান, প্রতিশ্রুত টাকা বা জমি এখনো তারা পাননি।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত নূর ইসলাম সপরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

 

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। লোকলজ্জার ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে বেআইনিভাবে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যারা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসা ও বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে, সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এই ঘটনা ঘটেছে।

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু, ধামাচাপা দিতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার পর এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ডা. সায়মা আক্তার।

 

ডা. সায়মা গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।

 

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ এপ্রিল এক কিশোরী শারীরিক জটিলতা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরে কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষক জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।

 

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার কাছে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। সেই বক্তব্য বিভিন্ন টিভি, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

 

এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করে ডা. সায়মা। পরিবারের সদস্যরা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

 

মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আগামী ১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের তথ্য দেওয়ায় নারী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত ও সারজিস কিন্তু সব সময় চেয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হোক সেটা চেয়েছিল কিন্তু গণঅভ্যুত্থান হোক সেটা চায়নি। এর প্রমাণ ১৯ জুলাই, সেই সময় তারা তো মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে আসল। এরপরে আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেই হাসনাত আব্দুল্লাহ পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করল।’

 

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এরকম হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুর্বলতা থাকার কারণে ওই দুর্বলতা ঢাকার জন্য পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এমন একজন ব্যক্তি যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কী ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সে বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বইয়ে উল্লেখ করা আছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বইটি যদি আপনি পড়েন সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে হাসনাত এবং সারজিস আলম তারা দুইজন সেনাবাহিনীর গাড়িতে চড়ে তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছিলেন। সেসময় আমরা তাদেরকে বলি তোমরা যদি গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কাছে না আসো তাহলে তোমাদেরকে জাতীয় বেইমান আখ্যায়িত করা হবে।’

 

রাশেদ খান বলেন, ‘ভেতরের আলোচনা তো আসলে প্রকাশ্যে আনা ঠিক না তার পরও বলি এনসিপির মধ্যে তাদের নিয়ে নানান ধরনের গুঞ্জন ছিল এখন যদিও রাজনীতি করার স্বার্থে সেগুলো নেই।’

আ. লীগকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল হাসনাত-সারজিস: রাশেদ খান

নতুন বই ছাপানোর কাজ সময়মতো ও সুন্দরভাবে করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইয়ের কাগজের নিম্নমান কিংবা মুদ্রণের হেরফের শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহী করে। নোট-গাইড বই থেকে শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার যে অনুশীলন, তা বন্ধ করতে হবে।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বলেন, আগামী বছর থেকে বইমেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিকে যুক্ত করা হবে।

 

সভায় প্রকাশনা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান প্রকাশকরা। নীতি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহয়তা দেয়ারও দাবি তোলেন তারা।

২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সাভারের আশুলিয়ায় ঘটলো একই রকম আরেক ঘটনা। সাত বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার রাওজাতুল কুরআন আধুনিক নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীকালে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এদিন রাতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ ইলিয়াস ময়মনসিংহ জেলার পূর্বতলা থানার কুকলা গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার ওই মাদরাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগী শিশুর স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, শিশুটি তার চাচার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। গত বুধবার (৬ মে) বিকেলে মাদরাসা থেকে বাসায় ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করছিল। পরে স্বজনরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে। এরপর স্বজনরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানান।

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা একটি মামলা করেছেন। শুক্রবার (আজ) গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হবে।

এবার আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

 

পরশুরামে চাঞ্চল্যকর মোড়: ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

 

একটি অভিযোগই যথেষ্ট ছিল এক নিরপরাধ ইমামের জীবন তছনছ করে দিতে শান্ত এক গ্রাম, যেখানে ভোরের আজানের সুরে দিন শুরু হতো, সেখানেই নেমে আসে হঠাৎ অন্ধকার মুহূর্তে বদলে যায় সবকিছু মানবতা হয়ে পড়ে নীরব সত্য চাপা পড়ে মিথ্যার ভারে।

আমি নির্দোষ বারবার বলা সেই কণ্ঠ হারিয়ে যায় অবিশ্বাসের ভিড়ে কেউ শোনেনি, কেউ যাচাই করেনি। অপবাদ আর লাঞ্ছনার ভারে তাকে যেতে হয় কারাগারের অন্ধকারে।

কিন্তু সত্য থেমে থাকে না। সময়ের সাথে উন্মোচিত হয় এমন এক বাস্তবতা, যা শুধু চমকে দেয় না পুরো ঘটনাকে নতুনভাবে নাড়িয়ে দেয় ভিতর থেকে।

 

ঘটনাটি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরী ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা থেকে অবশেষে অব্যাহতি পেয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)।

 

ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উল্টো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আসল অপরাধী, যিনি খোদ ভুক্তভোগীর নিজের বড় ভাই মোরশেদ (২২)। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং ভাইকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদের নির্দোষ ইমামের ওপর এই অপবাদ চাপিয়েছিল। এই মিথ্যা অপবাদের জেরে মোজাফফরকে ১ মাস ২ দিন বিনাদোষে কারাবাস করতে হয়েছে, হারিয়েছেন সামাজিক মর্যাদা এবং চাকরি। শেষ পর্যন্ত মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।

 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। মক্তব ছাড়ার পাঁচ বছর পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার তার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সে সময় মোজাফফর বারবার নিজের নির্দোষিতার দাবি জানালেও কেউ তার কথা শোনেনি। উল্টো ২৬ নভেম্বর ফেনী কর্মরত প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় মাতব্বর ও ভুক্তভোগীর মা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর দীর্ঘ এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর ২৮ ডিসেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে ৫ শতক মূল্যবান জমিও বিক্রি করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি।

 

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মোজাফফরের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি না পাওয়ায় ল্যাব থেকে ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের সরাসরি ডিএনএ নমুনা চাওয়া হয়। এই সময় পুলিশ গভীরভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী স্বীকার করে যে, তার নিজের সহোদর ভাই মোরশেদ তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তার পরিবার ইমাম মোজাফফরকে এই মামলায় ফাঁসায়। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ মে পুলিশ অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন ২০ মে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 

পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ভুক্তভোগী, তার সন্তান এবং বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়।

 

গত বছরের ৯ আগস্ট প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয় যে, নবজাতকের পিতৃপরিচয়ের সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ-র ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত সত্যতা পাওয়ার পর গত ১৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শরীফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আপন বোনকে ধর্ষণের দায়ে মোরশেদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামি মোরশেদ বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।

 

অব্যাহতি সংক্রান্ত আদালতের নথি হাতে পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। তবে এই মিথ্যা অপবাদের কারণে আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি, হারিয়েছি বসতভিটার জায়গা। আমি এই মানসিক হয়রানি, সামাজিক মর্যাদাহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির সুষ্ঠু ক্ষতিপূরণ চাই।”

 

তার আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বিষয়টিকে একটি বিরল ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একজন নির্দোষ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নস্যাৎ হয়েছে। স্থানীয় আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আমিনুল ইসলামও এই ভুক্তভোগী ইমামের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করে মূল অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সমাজকে কলুষিত করার মতো এমন মিথ্যা অপবাদের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান বজায় রাখবে পুলিশ।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d