
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশের নির্মাণকাজ। একই সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে নতুন ৪টি র্যাম্প যুক্ত করার সম্ভাব্যতাও যাচাই করছে সেতু বিভাগ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালে এফডিসি গেট সংলগ্ন কারওয়ান বাজার র্যাম্পও চালু করা হয়। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর যানজট কমিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া।
তবে বাস্তবে কর্মদিবসের পিক আওয়ারে এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজাগুলোতেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক চালক এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার আগেই ভোগান্তিতে পড়ে নিচের সড়ক ব্যবহার করছেন।
এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণেই টোলপ্লাজায় ধীরগতি তৈরি হচ্ছে এবং এতে ব্যবহারকারী কমে যাচ্ছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন (অব.) হাসিব হাসান খান বলেন, যতটুকু যাওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক গাড়ি চলে আসে। এটাকে যদি আরেকটু গতি বাড়াতে পারতাম তাহলে ইউজারদের সংখ্যা আরেকটু বাড়তো।
চলতি বছরের এপ্রিলে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু হলেও এখনও বেশিরভাগ টোল আদায় হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। সেতু বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯ হাজারের কিছু বেশি ইটিসি ডিভাইস বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে চালু থাকা অংশ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করলেও টোলপ্লাজার যানজটের কারণে অনেকে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
চীনা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে নির্মিত এই পিপিপি প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর ২৫ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন প্রথম ৮০ হাজার গাড়ির টোল পাবে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। এর বেশি গাড়ি চলাচল করলে অতিরিক্ত টোল আয়ের ২৫ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার। তবে চালুর পর এখন পর্যন্ত মাত্র তিন দিন ৮০ হাজারের বেশি গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেছে।
সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার গাড়ি চলাচল করছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ পুরো এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে এবং তখন যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে ও সরকারের আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশার বাইরে গিয়ে আরও চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার বিষয়েও ভাবছে সেতু বিভাগ। এ নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
মো. আবদুর রউফ বলেন, ৩০০ ফিটের সাথে কানেকশন থাকলে আরও বেশি ভাইব্রেন্ট হয়। এদিকে মহাখালি বাসস্ট্যান্ড ও মগবাজারের বিষয়টা এখনও এড্রেস করা হয়নি। এগুলো এড্রেস করা হলে দেখ গেলো ভিতরের জ্যামটা আরও কমতে পারে। আমাদের ধারণা এবং এটার দাবিও আছে।
তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মূল নকশায় পরিবর্তন আনলে প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় দুটোই বাড়বে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাইবে সব গাড়ি এক্সপ্রেসওয়েতে তুলতে। তাতে তাদের ইনকাম বেশি হবে। মূল অবকাঠামো, র্যাম্প এবং নিচের সড়কের সক্ষমতা আছে কিনা, যাচাই করতে হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৪ সালে শেয়ারসংক্রান্ত দ্বন্দ্বে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
Like this:
Like Loading...
Related
Leave a Reply