এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ হাজি দেশে পৌঁছেছেন। এদিকে চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহণ করেছে।

 

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।


সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

 

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

 

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

 

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

 

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

 

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

 

হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়

গত সোমবার শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। এরপর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি।

 

আজ ১০ জিলহজ, বুধবার। ফজরের নামাজ পড়ার পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার দিকে রওনা হন। সেখানে তারা জামারাত আল-আকাবায় বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই (আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন।

 

শয়তানের প্রতীকী তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা পাথরগুলো ব্যবহার করবেন হাজিরা।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালন করতে এসেছেন।

 

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ।

 

এবারের হজ মৌসুমে, পবিত্র নগরী মক্কায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের বেশি বেশি পানি পান এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ

আজ শয়তানকে ‘পাথর’ নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

১৬ লাখেরও বেশি হাজি আজ মঙ্গলবার আরাফার ময়দানে সমবেত হয়েছেন, যা হজযাত্রার সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে এই দৃশ্যকে গভীর ভক্তি ও প্রার্থনার পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকে হাজিরা আরাফাতে প্রবেশ করতে শুরু করেন। তারা সারা দিন সেখানে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর স্মরণ ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটাবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করবেন।

 

ইসলামি ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান (ওকুফে আরাফা) হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা”, যা এই দিনের গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

 

ইসলামি আলেমদের মতে, এই দিনটি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা রহমত, ক্ষমা এবং আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের সঙ্গেও সম্পর্কিত, যেখানে তিনি আরাফার ময়দানে তার শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন এবং ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার শিক্ষা দিয়েছিলেন।

 

দুপুরে আরাফার খুতবা প্রদান করা হবে, যেখানে হাজিদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে এবং এই দিনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তারা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন, যা নবীর সুন্নাহ অনুসরণ।

 

সারা দিন হাজিরা দোয়ার জন্য হাত তুলবেন, তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করবেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবেন—একটি গভীর বিনয় ও আত্মসমীক্ষার পরিবেশে।

 

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত সমতলভূমি, যার কেন্দ্রে রয়েছে জাবালে রহমত (মাউন্ট অব মার্সি)। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে পরিচিত এবং বিশ্ব মুসলিমদের কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ পালন করেন, যেখানে তারা হজের সবচেয়ে কঠিন অংশের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন।

 

সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের নিরাপদ চলাচল ও ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ইউনিট।

 

তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং পরবর্তী রীতিনীতির আগে রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন।

 

সূত্র: আরব নিউজ

আরাফার ময়দানে সমবেত ১৬ লাখেরও বেশি হাজি

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরী।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মুসলমান এখন তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনাতে সমবেত হচ্ছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে সৌদি গেজেট।

 

হজযাত্রীরা ৮ জিলহজ থেকে মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এই দিনটি ‘ইয়াওমুত তারভিয়া’ নামে পরিচিত। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগেই অনেক দেশের হাজি, বিশেষ করে বাংলাদেশি হাজিরা মিনায় পৌঁছে যান।

 

এরপর ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের উদ্দেশে। সেখানে তারা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই অবস্থানকেই হজের মূল রুকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাতযাপন শেষে পরদিন মিনায় ফিরে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালন করবেন।

 

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন।

মিনায় পৌঁছাচ্ছেন লাখো হজযাত্রী, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, নিরাপত্তা চৌকির কাছে এসে ওই ব্যক্তি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। খবর, সিএনএন’র।

 

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের বাইরে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আচমকা কর্মকর্তাদের দিকে গুলি ছোড়েন।

 

পরে সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে ওই ব্যক্তি আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি সন্দেহভাজনের গুলিতে নাকি পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির সময় আহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই পথচারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের কোনো সদস্য আহত হননি। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউস এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংবাদকর্মীদের প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য লকডাউনে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা টানা বহু রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা জানান, সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা ‘শটস ফায়ারড’ বলে চিৎকার করে সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নিতে বলেন। পরে অস্ত্রধারী নিরাপত্তা সদস্যদের হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে টহল দিতে দেখা যায়।

 

এদিকে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং তদন্তে সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে।

 

ঘটনার কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ শুশি উইলস, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে দেখা যায়।

 

উল্লেখ্য, এর এক মাসেরও কম সময় আগে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সময় একই ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত কোল টমাস অ্যালেন ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

অহোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে সন্দেহভাজন নিহত

নেপালের গণঅভ্যুত্থানের পর- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন।।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব এবং ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশ করছে।

 

নেপালের কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের পলিসি ল্যাবের উদ্যোগে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গভর্নেন্সের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বুধবার এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পলিসি ল্যাবের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সহকারী অধ্যাপক ড. লাল বাহাদূর পুন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ড. রাম নারায়ণ শ্রেষ্ঠ।

 

প্রধান আলোচক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

 

আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রগঠনসংক্রান্ত সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে না।

 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচলিত ধারা পুনর্বিবেচনা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

নেপালের গণঅভ্যুত্থানের পর- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের উপপ্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারী রেলস্টেশন পরিদর্শনে নীলফামারী-২ আসনের এমপি

আলফারুক

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামার)

৩১ মে ২০২৬ ইংঃ নীলফামারী রেলস্টেশন

আকস্মিক পরিদর্শন ও ঢাকা গামী নীলসাগর ট্রেনের যাত্রীদের সাথে ট্রেনের সেবার মান নিয়ে কথা বলেছেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতিফ। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে সংসদ সদস্য নীলফামারী রেল স্টেশনে আসেন তিনি স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামগার, প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন মাস্টারের কক্ষ সহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে চিলাহাটি রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে এসে পৌঁছালে তিনি ট্রেনে ওঠে ঢাকাগামী যাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় ও ট্রেনের সেবার মান নিয়ে কথা বলেন। এসময় যাত্রীরা

ঢাকাগামী ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবস্থাপনার কথা সংসদ সদস্যকে অবগত করেন। যাত্রীদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে উদ্ধাতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ট্রেনের সেবার মান বাড়ানো সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করে তিনি। এ সময় সংসদ সদস্যের সাথে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়তের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী রেলস্টেশন পরিদর্শনে নীলফামারী-২ আসনের এমপি

কাশিমপুর তুরাগ নদীতে নিখোঁজ রাসেলের ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ শুরু,২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি ।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুর নগরীর কাশিমপুরে তুরাগ নদীতে নৌকাভ্রমণে গিয়ে যুবকদের আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। নৌকায় ডিজে গান বাজানোর সময় ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাসেল (২২) নামের এক যুবক। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

শনিবার বিকেলে কাশিমপুরের নামাবাজার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়া এলাকার তুরাগ নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রাসেল কাশিমপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দবাড়ী এলাকার ফজল আলীর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির আমেজে কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকায় করে তুরাগ নদীতে ভ্রমণে বের হন। নৌকায় ডিজে গান বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস চলছিল। একপর্যায়ে রাসেল ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

 

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে ঘটনার পর উদ্ধারকারী দলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হলে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি থাকত।

 

স্থানীয় জেলে, নৌকার মাঝি ও এলাকাবাসীও নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে সহায়তা করছেন। এদিকে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। নিখোঁজ রাসেলের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও রাসেলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডুবুরি দল, স্থানীয় জেলে ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে তার সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ যুবকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কাশিমপুর তুরাগ নদীতে নিখোঁজ রাসেলের ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ শুরু,২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি

“জনগণ যা চাইবে, সেটাই হবে আইন-নীলফামারীতে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন”

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এ্যাব) আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন,”এক সময় দেশে আওয়ামীলীগ যা বলত, সেটাই ছিল আইন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমান করেছেন-দেশের জনগণ যা বলবে, যা চাইবে, সেটাই হবে আইন।” রবিবার (৩১মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকৌশলী তুহিন বলেন, “বগুড়ার মানুষ, দিনাজপুরের মানুষ যেটা বোঝে, সেটা আমরা বৃহত্তর রংপুরের মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারিনা। আমরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে অবুঝ হয়ে গেছি। তবে ভবিষ্যতে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আশা করি।”তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ” যদি আমরা আমাদের দলের যোগ্য প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারি, তাহলে জনগণের দাবি-দাওয়া আদায়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ আদায় করে নেওয়া যাবে। নীলফামারীর জনগণের সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বরাদ্দ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাইসাইকেল, হুইলচেয়ার, সিলিং ফ্যান, টিউবওয়েল এবং বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীমের সভাপতিিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামান্না ইয়াসমিন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপন করেন। পরে জেলা পরিষদের আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন এবং জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সোহেল পারভেজ, যুগ্ন আহবায়ক রেয়াজুল ইসলাম কালু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আল মাসুদ

চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

“জনগণ যা চাইবে, সেটাই হবে আইন-নীলফামারীতে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন”

নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান: গাজার গাছ সহ গ্রেফতার এক

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁঃ

শনিবার (৩০ মে) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁ এর একটা টীম মান্দা থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। রাত ০৯ টা ৩০ ঘটিকায় অভিযানিক টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে মান্দা থানাধীন রামনগর গ্রামের একজন ব্যাক্তি তার কচু ক্ষেতের মধ্যে গোপনে একটা গাজার গাছ রোপন করে পরিচর্যা করছে।

 

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম আসামী শ্রী নিতাই কুমার মন্ডল (৪৫) পিতা নন্দ কুমার থানা মান্দা জেলা নওগাঁ কে গ্রেফতার করে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে গাজার গাছটি উদ্ধার করে জব্দ করে। গাজা গাছটির ওজন ২.৫০ কেজি। আসামির বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান: গাজার গাছ সহ গ্রেফতার এক

সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কফিল উদ্দিনের মৃত্যুতে থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুউদ্দিন সাইফুলের শোক প্রকাশ।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুউদ্দিন সাইফুল।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জনাব কফিল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

এক শোকবার্তায় সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন:

 

“আলহাজ্ব মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের মৃত্যুতে সাভারবাসী একজন দক্ষ সংগঠক ও সমাজসেবককে হারাল। দলের প্রতি তাঁর অবদান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই অকাল মৃত্যু সাভারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

 

সাইফুদ্দিন সাইফুল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সাথে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মরহুমের জানাজায় শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কফিল উদ্দিনের মৃত্যুতে থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুউদ্দিন সাইফুলের শোক প্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি বিধ্বস্ত অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, এ সময়টা হেসেখেলে চললে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার (৩১ মে) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

সরকারপ্রধান বলেছেন, জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করতো। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।

 

তবে দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বিষয়গুলো কীভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায় তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে চললে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী

নেত্রকোণায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-বাবা ও দুই কন্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কের চল্লিশা ঝাউসি এলাকার বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের আয়নাল হক, তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এবং তাদের দুই কন্যা সন্তান স্মৃতি ও ইতি।

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশা চালক রেহানকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলেও প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

 

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানিতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

সড়কে শেষ হলো পরিবারটির গল্প, নিহত বাবা-মা ও দুই মেয়ে

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ হাজি দেশে পৌঁছেছেন। এদিকে চলতি বছর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহণ করেছে।

 

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

 

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

এবার হজে গিয়ে মারা গেছেন ৩৭ বাংলাদেশি

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সরকার কারাগার স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এখানে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।

 

রোববার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। কিছু ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলি বর্ষণ এবং চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অপরাধীদের অবদমন করতে গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন পাহারা বসিয়ে সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র‍্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

 

জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরকার। জনগণকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত যে কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

 

জঙ্গল সলিমপুরে রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এই অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ চলছে।

 

এছাড়া, বায়েজিদ লিংকের আশপাশে খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।

 

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। রোববার (২১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করবে বলে জানান আসাদুজ্জামান।

 

এর আগে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন, এতটা স্বাধীনতা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পোস্টিং বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও আমরা অতীতে দেখেছি, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে।

 

মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি রামিসা হত্যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন আদালত, আশা আইনমন্ত্রীর

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d