৬ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
৬ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

৬ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস, ওয়ার্ড ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

আজ শনিবার (৬ জুন) কলেজের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিটি হলো— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা।

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন ডাক্তারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।

 

এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি অবিলম্বে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এই ছাত্র ধর্মঘট ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

রামিশা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরে সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হবে এবং রামিসা হত্যার ডেথ রেফারেন্সের সিরিয়াল আইনানুগভাবে এগিয়ে আনার জন্য বলা হবে।  

 

রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসার ঘটনায় আদালতে ন্যায়বিচার হয়েছে। দেশের বিচারিক ইতিহাস এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে রামিসার ঘটনাটি একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা জনগণের প্রত্যাশা অনু্যায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

 

তিনি আরও বলেন, রামিসার ঘটনা, গোয়ালন্দ ঘাটে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন, গজারিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে, তিরস্কারের সময় তিরস্কার। এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর যে অর্জন, সেটি প্রশংসার দাবি রাখে বলেও জানান তিনি।

 

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রামিসা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরে সহায়তা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

রায়কে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

 

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় সোহেল রানাকে। তাঁদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় সোহেলকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁকে দোয়া পড়তে দেখা যায়। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে স্বপ্না খাতুনকে কাঁদতে দেখা যায় বলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান।

 

গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য রোববার দিন ধার্য করেন।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার উত্তর পাশের একটি কক্ষ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পরদিন ২০ মে ভোরে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। একই দিন সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

 

২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল ১ জুন অভিযোগ গঠন করে পরদিন সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন।

 

গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচার শুরুর পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ের আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ছিলেন সোহেল রানা, কাঁদছিলেন স্বপ্না

 

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

 

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে।

 

এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

 

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

শিশু রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।

 

যেভাবে এগিয়েছে মামলা : ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২ টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওইদিনও মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন চার্জশিটভূক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন করেন। এসময় সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান তিনি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি আসামি সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা। অপর আসামি স্বপ্নার শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার আপরাধের শাস্তি চান। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার ধার্য করেন।

 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই শিশুটির সাথে যা হয়েছে এর বর্ণনা শুনে পুরো দেশের মানুষ স্তব্ধ। এ নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা সবার চাওয়া। যারা সাক্ষী দিয়েছে তারা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আপ্লূত হয়েছেন। আদালতে ও এজলাসের বাইরে উপস্থিত সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে অঝোরে কেঁদেছেন।

 

প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি মনে করি সরকার এখানে যথেষ্ট আন্তরিক। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তীতে বিচার শুরু প্রক্রিয়া যৌক্তিকভাবে দ্রুততম সময়ে হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই সমাপ্ত করা গেছে। এখানে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্ব-প্রণোদিত অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: রায় ঘোষণা আজ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আজও শনিবার (৬ জুন) দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ১০০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

 

একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে রুখে দিচ্ছে এমন অপতৎপরতা। শেষ পর্যন্ত নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, হিলি, মেহেরপুর ও লালমনিরহাটে পুশইনকৃত মানুষদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

 

ভোরে মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ির হাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে এপারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবির বাধায় পণ্ড হয় পুশইনের চেষ্টা।

 

আর ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিহত করে বিজিবির সদস্যরা। পরে পতাকা বৈঠকে বিষয়টি অস্বীকার ও সীমান্তে শূন্য রেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

এদিকে, দিনাজপুর হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও চলে বিএসএফের চেষ্টা। ৫ জনকে ভোরে এপারে ঠেলে দিতে গেলে, তা রুখে দেয় বিজিবি। অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

 

একইভাবে লালমনিরহাটের ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

গতকাল শুক্রবার সকালে নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতেই ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন। তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ।

 

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।

 

এছাড়াও গতরাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জন। খবর পেয়ে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে তাদেরকে হেফাজতে নেয় বিজিবি। এরপর তাদেরকে পুশব্যাক করানো হয়।

সীমান্তে থামছে না বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিচ্ছে বিজিবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চাচাতো বোনের মেহেদি অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে আরাকান সড়কের আমতল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বোয়ালখালী হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ( ২৬) এবং ছাত্রলীগের সদস্য মো. রায়হান( ২৩)।

 

এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, শুক্রবার পশ্চিম গোমদনডী আলা মিয়া ট্যান্ডল বাড়িতে কনের মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ এবং সদস্য মহম্মদ রায়হান। তার একটি ভিডিও ফুটেজ আপলোড দেওয়া হয় ফেসবুকে। তার সূত্র ধরে বিয়ের দিন আরাকান সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ সদস্য জুলাই আন্দোলনে হামলার দায়ের হওয়া মামলার সন্দিগগ্ধ আসামি হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৭জুন) দুপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

এ সময় বক্তরা বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের বেতন বৈষম্য দুর করতে হবে, বিসিএসে উত্তীর্ণদের বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন নীতিমালার প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।

 

তারা আরও বলেন, বিএমইউ ও বিসিপিএসের পরীক্ষার ফি হ্রাস করা, বিসিএস এ চিকিৎসকদের বয়সসীমা পুনরায় ৩৪ বছর নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করার দাবিও জানান তারা।

 

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদা বলেন, কর্মবিরতির কোনো প্রভাব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়েনি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জেনেছি শুধু এখানে নয় তাদের কিছু দাবির বিষয়ে সারাদেশেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।

 

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা.সাজিদ সাজাহানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. তাছনিম বিনতে আসাদ, ডা.সৌরভ সরকার, ডা.রানা, ডা.শিফাত, ডা মোরশেদসহ আরও অনেকে। এদিকে, সমাবেশ থেকে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনিদৃষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

রাজশাহীর মতিহার থানার কাজলা এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত। রোববার (৭ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহত শিক্ষার্থী নন্দিনী ঘোষ স্থানীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

 

স্থানীয়রা জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা প্রস্তুতের কাজে নন্দিনী রোববার স্কুলে গিয়েছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কাজলা এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ডেকে নেয়। পরে ওই ব্যক্তি নন্দিনীকে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় নন্দিনীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

 

এ বিষয়ে মতিহার থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

রাজশাহীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

নানা আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক ছাপিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) স্থায়ী সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল। রবিবার (৭ জুন) বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে ক্লাব ক্যাটাগরি (ক্যাটাগরি-২) থেকে পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতিও নির্বাচিত হন তিনি।

 

এর আগে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তামিম। সেই সময় তাকে নিয়ে সমালোচনা নেহাত কম হয়নি। বিশেষত, জাতীয় সংসদে বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম জানালেন, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়ায় ক্রিকেটকে আনতে চান তিনি।

 

বিসিবির নতুন সভাপতি বলেন, অনেকে অনেক রকম ট্যাগ দিচ্ছে, এটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। দেখি, ‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ করতে পারি কি না।

 

পরিচালক হওয়ার পর সভাপতি পদে একক প্রার্থী ছিলেন তামিম। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। পরিচালকদের কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। সবমিলিয়ে বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

দেখি ‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ করতে পারি কি না: তামিম

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম: জামায়াত আমির

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব পরিবারের পাশে বিএনপি, খাদ্য সহায়তা প্রদান

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ১০ নম্বর কুন্দপুকুর ইউনিয়ন বিএনপি। সাবেক সংসদ সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহবায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের দিকনির্দেশনায় ইউনিয়নের মনসাপাড়া

বড়বাড়ি এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি পরিবার তাদের বসতঘরসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামালের বড় অংশ হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ অবস্থায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রী মধ্যে ছিল চাল,ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, সয়াবিন তেল, সাবান, লবণ, চিড়া,মুড়ি, টোস্ট, চিনি,পটল ও মাংসসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সাবেক দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান আক্তার, এটাখোলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, জিকরুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু, আতিকুল ইসলাম, জলিল ইসলাম, আসাদুজ্জামান রুবেল, আলতাব হোসেন, আর হোসেন দুলুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিএনপি নেতারা বলেন, জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকাই তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিএনপি’র এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা সাবেক সংস দ সদস্য ও এ্যাবের আহবায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এবং এমন দুর্যোগময় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব পরিবারের পাশে বিএনপি, খাদ্য সহায়তা প্রদান 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস, নীলফামারী টিআইবি-সনাকের মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

০৭/জুন/২০২৬ঃ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে মানববন্ধন করেছে টিআইবি- সনাক। রবিবার সকাল দশটার দিকে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি মোঃ আখতারুল আলম। বক্তব্য দেন সনাক সদস্য নাসিমা বেগম ও মিজানুর রহমান লিটু, ইয়েস সদস্য ফারজানা আক্তার আরিফা,এসিজি সদস্য নির্মল রায় ও টিআইবির এরিয়াল কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান আসাদ। সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি আক্তারুল আলম বলেন, সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে আমরা সাধুবাদ জানাই একই সাথে পরিবেশ, জলবায়ু ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসূচি থেকে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। টিআইবির এরিয়া কো- অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে “পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের” দাবিতে টিআইবি ও

সনাক কর্তৃক গৃহীত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নীলফামারীতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস, নীলফামারী টিআইবি-সনাকের মানববন্ধন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ঢাকার ক্লাব থেকে পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার পরিচালকদের ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল।

 

এর আগে, নির্বাচনে পরিচালকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পান তামিম।

 

বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পরে ফল গণণা শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম ও সাকেফ আহমেদ সালাম।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সভাপতি হলেন তামিম

রাজধানীর মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকালে এ ঘটনায় লোকমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিল।

 

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার বেলা আনুমানিক ৩টা ১০ থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেলে করে জনতা ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার সামনে আসে। এ সময় তারা লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তাঁর কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

ঘটনার পর আহত লোকমানকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাঁর হাত ও পায়ে দুটি গুলি লেগেছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা। ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের তথ্য আগে থেকেই ছিনতাইকারীদের কাছে ছিল কি না, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত এবং তাদের গতিপথ নির্ধারণে কাজ চলছে।

 

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আহত ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রোববার বিকেলে তিনি মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ব্যাগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিল। পরে পথচারীরা আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

ওসি জানান, ব্যবসায়ীর হাতের কনুইয়ের নিচে একটি এবং পায়ে হাঁটুর নিচে দুটি গুলি লেগেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ব্যাংকের সামনে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d