স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। তবে এতে ভোট বিভাজনের ঝুঁকিও রয়েছে বলেও জানান তারা।

 

আত্মপ্রকাশের এক বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসন পেয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা বলেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তারা।

 

দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশি গতিতে চলছে। আমরা দুইটা বিষয়ে ফোকাস করছি। যেসব এলাকায় কমিটি নেই সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে, আর যেসব কমিটি আগে ছিল সেগুলোর কার্যক্রম ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করে সংস্কার করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু ক্ষেত্রে লাভ হবে, যেমন সাংগঠনিক ভিত্তিটা আরও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যেকটা জায়গা, ওয়ার্ড পর্যন্ত অবশ্যই কমিটি হবে এবং একটা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে। তবে অন্যদিকে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু আসনে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

 

এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো নির্বাচন কবে হবে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। এছাড়া, দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কাউকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, অনেক রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগাযোগ করলেও আমরা সচেতনভাবে তাদের অনেককে গ্রহণ করতে পারিনি। কারণ এমন কেউ দলে এলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা আমরা চাই না।


শনিবার (২০ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের শোকসভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি এসব কথা বলেন।

 

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ভবিষ্যতেও দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও মাথাচাড়া দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান ছিল, যারা দেশ চায়নি এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে বিএনপির শেকড় এই দেশের জনগণের মধ্যে। জনগণের হৃদয়ে বিএনপির অবস্থান রয়েছে, ফলে জনবিচ্ছিন্ন কোনো শক্তির পক্ষে জনগণের দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা সহজ নয়।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধেই সবসময় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হয়, কারণ বিএনপি জনগণের পক্ষে কথা বলে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করার নানা চেষ্টা অতীতেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় হয় এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিরই বিজয় হবে।

 

রাজনৈতিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশে নজিরবিহীন জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার। পাশাপাশি দেশের সব পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

 

শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রক্তের দাগ না শুকাতেই ফ্যাসিবাদী চক্র আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে: টুকু

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জে এক সম্মেলনে বলেছেন, আপনারা ত্বকী হত্যার বিচার পেয়েছেন? শুধু রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ এখানে উপহার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলতেন, ‘খেলা হবে’। এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’। এখন এখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তাড়া করছে। চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। বিএনপির নেতারা বলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজ লেলিয়ে রেখেছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মদের বিপণন ও উৎপাদনকারীর কেবল হাতবদল হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।

 

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না। সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। যারা আজ শহিদ পরিবার ও পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস করে কথা বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন।

 

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইঞ্জিনিয়ারিং সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা নারায়ণগঞ্জে ১১-দলীয় জোটকে একটি আসনে জয়ী করেছেন। ভোট গ্রহণ যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সুষ্ঠু হতো, তাহলে বাকি আসনগুলোতেও জোটের বিজয় হতো। কারণ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে— সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’।

 

জামায়াতে ইসলামীর আমীর উল্লেখ করেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের পক্ষে প্রথমে বিএনপি ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেবেন।’ একবারই তিনি প্রথম এবং শেষবারের মতো একথা বলেছেন। এরপর জনগণ ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট দিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এর কী মূল্য দিলেন? তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, সেজন্য একথা বলেছি।’ এটা লজ্জার। একটি সংগঠনের শীর্ষস্থান থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে? মানুষ কেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আমরা সেই রাজনীতি করিনি, করবও না।

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। জনগণ তা মেনে নেবে না। তরুণদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশ শাসন করলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধেক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়।

এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’: জামায়াত আমীর

যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং আটক হওয়ার পর গোপনে মুক্তি পাওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে (রিমুভ) ফেলেছেন কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রোকনউজ্জামান খান (রোকন)।

 

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতে কচুয়ার জরিনা বাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকন খানকে আটক করেন নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বিশ্বজিৎ। কিন্তু আটকের পর তাকে ফাঁড়িতে বা আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে রহস্যজনক কারণে মাঝপথ থেকেই গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

গোপনে মুক্তি পেয়েই ছাত্রলীগ নেতা ‘Rokon Khan’ নামের নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে ‘ছোট ভাইয়ের’ চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে তিনি ছাড়া পান।

 

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকে আটকের পর পুলিশের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই নেতার পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে পুলিশ ও সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেন ছাত্রলীগ নেতা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় পাঠানোর নাম করে মাঝপথের রাজারহাটে এনে ছেড়ে দেন এই এএসআই বিশ্বজিৎ। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

এ বিষয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বিশ্বজিৎ বলেন, ‘একটি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য আমরা জরিনাবাজারে গিয়েছিলাম। রোকনুজ্জামান খানকে হেফাজতে নিয়ে তার ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওয়ারেন্টে থাকা আসামির পিতার নামের সাথে তার পিতার নামের মিল না থাকায় আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ খানের শরণাপন্ন হই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা যাকে খুঁজছি এই রোকন সেই ব্যক্তি নন। ভুল ভাঙার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের সময় আমি জানতাম না যে রোকনুজ্জামান রোকন একজন ছাত্রলীগ নেতা, তাকে আমি আগে থেকে চিনতামও না। পরে শুনেছি তিনি নাকি এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমিও এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’

আটকের পরেই মুক্তি—পুলিশ কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার উপর যুবদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী যুবদল কর্মীরা এই হামলা করেন। এসময় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে তার পড়নে থাকা জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

 

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। আর এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক বিতর্কে ঘটনা ঘটে। আর এই তর্ক বিতর্কের জের ধরে ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যালয় প্রাঙ্গনে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে আসার সাথে সাথেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

 

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে আমরা এ বিষয়ে উভয়পক্ষ মিলে সমাধান করি। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যুবদল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতার ওপর যুবদলের হামলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঐতিহ্যবাহী মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে গত বছর এলজিইডি কর্তৃক দেওয়া বাঁশের পাইলিং ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। ইতিমধ্যেই সড়কটির অন্তত ১০টি পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। আজ রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বাঁধের ৫০ মিটারেরও বেশি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চরম যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় পড়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার বসতভিটা হারানোর হুমকিতে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও এই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং দিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থায়ী কোনো টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার পানির স্রোত সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে বাঁধটি ধসিয়ে দিয়েছে।

 

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে এলজিইডিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তারা শোনেননি। তারা ১৪ লাখ টাকা খরচ করে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা পানি আরও বাড়লে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

 

কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। এলজিইডি শুধু আমাদের আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।

 

ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এই ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। আবারও ভাঙন ধরায় আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিস্তার ঢলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধে ধস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং পাশাপাশি তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছালে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

আজ রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে এসে পৌঁছান তিনি। দুই দিনের এ সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

নারীদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন— নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।

 

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিক নির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।

 

রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এসপি আরো বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

 

এসপি বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটায়, তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।

 

আজ রোববার (২১ জুন) মোহাম্মদপুরে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাউরা সোহেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার দেয়া তথ্যমতে আরও দুই ছিনতাইকারী শফিকুল ইলাম সবুজ ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

 

পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি। গ্রেপ্তার হওয়া মাউরা সোহেলের নামে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ১৪টি মামলা রয়েছে।

 

এসময় আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে র‌্যাবের পদক্ষেপ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে ছাড় দেয়া হবে না।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে ছাড় নয়: র‍্যাব

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট না করে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। তবে এতে ভোট বিভাজনের ঝুঁকিও রয়েছে বলেও জানান তারা।

 

আত্মপ্রকাশের এক বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসন পেয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা বলেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তারা।

 

দলটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশি গতিতে চলছে। আমরা দুইটা বিষয়ে ফোকাস করছি। যেসব এলাকায় কমিটি নেই সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে, আর যেসব কমিটি আগে ছিল সেগুলোর কার্যক্রম ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করে সংস্কার করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু ক্ষেত্রে লাভ হবে, যেমন সাংগঠনিক ভিত্তিটা আরও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যেকটা জায়গা, ওয়ার্ড পর্যন্ত অবশ্যই কমিটি হবে এবং একটা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে। তবে অন্যদিকে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু আসনে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

 

এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো নির্বাচন কবে হবে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। এছাড়া, দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কাউকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, অনেক রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগাযোগ করলেও আমরা সচেতনভাবে তাদের অনেককে গ্রহণ করতে পারিনি। কারণ এমন কেউ দলে এলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা আমরা চাই না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

এছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর পৌঁছে পরদিন, ২২ জুন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে প্রাধান্য পাবে শ্রমবাজার খোলা, আসিয়ান-এর সদস্যপদ প্রাপ্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সই হতে পারে সংস্কৃতি বিনিময়সহ কয়েকটি চুক্তি।

 

এদিকে, ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের দালিয়ানে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সাথে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

 

অন্যদিকে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক ও ৪টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে ২৬ জুন রাতে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

২০১২ সালে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েস। এছাড়া গুম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অভিযানসহ সাতটি ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে হত্যার বর্ণনা উঠে আসে তার সাক্ষ্যে।

 

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।

 

তিনি বলেন, গুমের পর হত্যা করে টঙ্গীতে রেললাইনের ওপর লাশ ফেলে রাখা, জলদস্যুর নাটক সাজিয়ে সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে হত্যা, পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গায় রাতের আঁধারে আসামিদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতেন জিয়াউল আহসান। যার প্রত্যেকটি ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী।

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াম আলীকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশে ইলিয়াস আলীকে জিয়াউল গুম করেছেন, এমন তথ্য উঠে আসে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে।

 

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউল আহসান। তবে এসব অপরাধ অস্বীকার করেন জিয়াউলের আইনজীবী।

ইলিয়াস আলীকে গুমের সাথে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন’

২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

 

এ সময় হামের টিকা ঘাটতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে ২০২৪-২৫ সালের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে টিকা ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রীর ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

 

ব্রিফিংকালে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা ও প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসাব্যবস্থাকে রোগের চিকিৎসানির্ভর ধারা থেকে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাভাবিক প্রসব, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ও পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থায় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ কর্মরত আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সংকট মোকাবিলায় আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি জানান, এই বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

 

তবে দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বাতিল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে বৃহত্তর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় ‘স্বাস্থ্য হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল ব্যবস্থা সহজ করা যায়।

আগের সরকারের গাফিলতিতেই হামের টিকাদান ব্যাহত, তদন্তের প্রয়োজন নেই

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানের ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানোর পর হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। গত শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে এই নির্দেশনা দেওয়ার একদিন পর তাকে বদলি করা হয়েছে।

 

আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুরে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান মাজারে যান ডিসি সারওয়ার। নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।

 

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যেকোনো বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজারকেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।

 

মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানর টাকা স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

 

মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলো পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলোর আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।

 

তিনি বলেন, আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এই মাজারগুলোতে যাতে কোনোভাবে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুক মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন শক্ত অবস্থান নেব। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

 

ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর। তাতে ওলি-আউলিয়া যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে এলেই যেন মনে পবিত্রতা আসে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

মাজারের আয় সরকার এক পয়সাও নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মাজারের দান হাতে কালেকশন করবেন না। বাক্সে নেবেন। স্বচ্ছতা রাখবেন। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়। যদিও এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজার ভক্তরা।

 

প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল (রহ.) মাজারে হাজারও ভক্ত-অনুরাগীরা বিক্ষোভ করেন।

 

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এ দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

সিলেট মাজারে মদ-গাজা বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি

 

যশোর এমএম কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলকে (৫৫) বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

জানা যায়, নিহত মসলেম উদ্দিন মন্ডল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হররা ডাক্তারপাড়ার আবেশ মন্ডলের ছেলে। তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও স্বজনদের একাংশের দাবি, তিনি একাই বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

 

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলের পৈত্রিক ভিটার চার শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার ফুফাতো ভাই রওশন মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম ওই জমি নিজেদের দাবি করে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

 

স্থানীয় আদালত এবং হাইকোর্ট উভয় পর্যায়েই মসলেম উদ্দিন মন্ডলের পক্ষে রায় আসে। গত বছর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ জমি বুঝিয়ে দিতে এলাকায় গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় রওশন মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও মামুন, বিশু মন্ডলের ছেলে আশরাফুল, শাজাহান মন্ডলের ছেলে মিঠুন এবং জয়নাল মন্ডলের ছেলে উজ্জ্বল ও মাহাবুলসহ কয়েকজন অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মন্ডলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

হামলার সময় লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার বাম পা, ডান হাত, গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি স্বজনদের।

 

আরও পড়ুন: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মৃত্যু

 

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘সেপটিক শক’ উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। শনিবার সকাল ৯টায় হররা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে প্রথম জানাজা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

শনিবার সকালে এলাকার তথ্য নিয়ে জানা যায়, মরদেহ ঘিরে স্বজন ও এলাকাবাসীর শোকের মাতম চলছে। নিহত শিক্ষকের বড় ভাইয়ের মেয়ে বুলু খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, লাঠি ও হাতুড়ির আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড়-মাংস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

 

এমএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ (এমএম কলেজ) যশোরের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মসলেম উদ্দিন স্যার ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। যতটুকু জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

 

অধ্যাপককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে যশোর এমএম কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

 

 

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনার দিন ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মসলেম উদ্দিন মন্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মামলা চলমান ছিল।

 

তিনি আরও বলেন, নিহত অধ্যাপকের নিকটাত্মীয়ের অভাবে মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তার এক ভাতিজি থানায় এসে মামলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। মামলা সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

 

অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামের ভাবি শিখা বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার শ্বশুর বিকল্প জমি বিনিময়ের প্রস্তাব দিলেও মসলেম উদ্দিন মন্ডল তা গ্রহণ না করে মামলা করেছিলেন। তবে ঘটনার রাতে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

সম্পত্তির জের: যশোর এমএম কলেজের অধ্যাপককে পিটিয়ে হত্যা

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩