কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ।

 

মোঃ সাহাজিদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের মৌচাকে সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাস কাউন্টার

রেন্ট এ কার অফিস নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল সওজের জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান এবং বাস কাউন্টার পরিচালনা করছে। ফলে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 

এলাকাবাসী জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অবৈধ দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি জমি পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তির নোটিশ টানানো হয় এতে বলা আছে সাত দিনের ভিতরে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে বলা হয়, না হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।


 

ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।

 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্রলির ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

 

গোলাম রাসুল

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

 

মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

এক সময় জেলার

ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি ক্রিকেট ফুটবল, ভলিবল কাবাডি ও বিভিন্ন

ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশ গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ , সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান চা, ফাস্টফুড,

পান- সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হত, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়ারদের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাঠ ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে

হওয়ায় সৃষ্টি হয় ভিড় ও ভিড় ও সময় সংকট অনেকেই অনুশীলন না করে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকান গুলোর কারণে প্রতিদিন মাঠে জমছে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের ময়লা ও আবর্জনা। এতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক ক্রিকেট খেলোয়ার আব্দুস সালাম বাবলা বলেন,’এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।” ক্রিকেট খেলোয়ার সোহাগ আলী বলেন, আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোন টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”আরেক খেলোয়াড় নাজমুস সাকিব

জুন বলেন,”বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয় পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।’এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন,”অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুক ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”জেলা ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আবারও খেলাধুলা ও বিনোদনের উন্মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি একটি জেলার সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং:০২/০৭/২০২৬

 

হেডলাইন:নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু।

 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনাতে তিনি মারা যান।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আনোয়ার উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন

নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

 

প্রতিনিধি : রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর আটক হওয়া এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বাংলাদেশি যুবককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল (২২) গত ৩০ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানসিক বিভ্রান্তির কারণে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মন্ডুবস্তি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাকে আটক করে।

 

বিষয়টি জানতে পেরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক যুবককে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়।

 

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফেনী ব্যাটালিয়নের মজুমদারহাট বিওপি এবং বিএসএফের বিলোনিয়া ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান।

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

জামালপুরে জানালার গ্রিল কেটে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি হীরার আংটি, নগদ ১ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল জামালপুর আদালতের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে এবং তার স্ত্রী সিভিল জজ নুসরাত জেরিন জেনি দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত।

 

স্থানীয়রা জানান, পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেনের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় গত সাত মাস ধরে ভাড়া থাকেন বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির সাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনি। মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন আহমাদুল কবির সাকিল। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি হীরার আংটি, নগদ ১ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

 

সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল বলেন, রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি জানালার গ্রিল কাটা, ঘর তছনছ এবং আলমারি-ড্রয়ারের জিনিসপত্র এলোমেলো। তখন বুঝতে পারি, বাসায় চুরি হয়েছে।

 

বাড়ির মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার তিনতলা ভবনে পাঁচটি ইউনিট রয়েছে। এই বাসায় আগে কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে তা অচল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি বিকল করে দুর্বৃত্তরা চুরি করেছে।

 

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিচারক দম্পতির তৃতীয় তলার ভাড়া বাসায় গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরে জানালার গ্রিল কেটে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলি আবদুল্লাহ বলেছেন, জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও জায়নবাদীদের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে ওই দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় তার লাশ সংরক্ষণের পর রোববার ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হচ্ছে। এতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি শহরে জানাজা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও তিনি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় সরাসরি অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইরান।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। বিশেষ করে মাশহাদে দাফনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করছেন।

 

এদিকে শেষকৃত্যের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ, তেহরানে খামেনির জানাজা শুরু হওয়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াশিংটনের সমান্তরালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

 

খামেনির জানাজায় হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের

মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

 

শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

 

এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের

ফিফা বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ।

 

টরোন্টোতে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রোনালদো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইওস্কো গাভার্দিওলের শটে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েছে বলে মনে হলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইডের সিদ্ধান্ত আসে এবং গোলটি বাতিল হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দালিচ বলেন, ‘আজকের রেফারিং খুবই বাজে ছিল। আমার মনে হয়েছে আমাদের আরও বেশ কিছু ফ্রি-কিক পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দিনশেষে ক্রোয়েশিয়া হেরে গেছে। আমি কোনো অজুহাত খুঁজব না। এই ম্যাচটি আমরা আগেই জিতে নিতে পারতাম।’

 

ভিএআর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্রোয়েশিয়ার কোচ বলেন, ‘আপনারা নিজেই দেখতে পাচ্ছেন যে কীভাবে ফুটবল থেকে আবেগগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মেরে ফেলা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো খেলাটাকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং ফুটবল খেলার আসল আনন্দটাই কেড়ে নিচ্ছে।’

 

দালিচ আরও বলেন, ‘এটা বলছি না যে ভিএআর কখনো কখনো সাহায্য করে না; কিন্তু এটা আপনার ভেতরের আবেগ, আপনার অনুভূতি—সবকিছুকে পুরোপুরি মেরে ফেলে। মাঠের ওই মুহূর্তে আপনি যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার সবটাই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন।’

 

সোনালী প্রজন্মের বিদায় ঘটলেও ক্রোয়েশীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ২০১৭ সাল থেকে দলটির দায়িত্বে থাকা এই কোচ, ‘আমি ক্রোয়েশিয়া দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও ভীত নই। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে এবং তাদের কয়েকজন আজকেও নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। এবার আমাদের নতুন এক শুরুর অপেক্ষা।’

 

নিজের কোচের দায়িত্বে থাকা না-থাকা নিয়ে দালিচ বলেন, ‘পরবর্তী বিশ্বকাপে কী হবে তা কেবল ঈশ্বরই জানেন, তবে দেশে ফিরে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

 

এটি ছিল ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। বছরের পর বছর ধরে ক্রোয়েশীয় ফুটবলের হৃদস্পন্দন হয়ে থাকা এই মিডফিল্ডারের এমন বিদায় ছুঁয়ে গেছে দালিচকেও, ‘হ্যাঁ, এটাই সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ছিল। আর আমার ভীষণ খারাপ লাগছে যে যাত্রাটা এভাবে শেষ হলো। আমরা আসলে এক চমৎকার ও গৌরবময় অধ্যায়ের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি।’

 

পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে ২০১৮ সালের রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালের তৃতীয় স্থান অধিকারী ক্রোয়েশিয়াকে এবার বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতেই বিদায় নিতে হচ্ছে।

রেফারিং খুবই বাজে ছিল: বিদায়ের পর ক্রোয়েশিয়া কোচ

দেশের সাইবার আইনকে সময়োপযোগী ও আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের কাছ থেকে দ্রুত মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ল রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হলেও আমাদের গণমাধ্যমের সেই আয়না এখনও নিখুঁত নয়। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গণমাধ্যমে বয়ান তৈরির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে বয়ান তৈরি করতে গিয়ে কেউ যদি প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে

 

ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।

 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্রলির ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে উইঙ্গার রাফিনহার খেলা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা।

 

গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ডান উরুতে চোট পান বার্সেলোনার এই তারকা। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে টানা তিন দিন দলের মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি রাফিনহা।

 

বুধবার তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করলেও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে পারেননি। এতে তার সুস্থতার অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনও পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল বিভাগ।

 

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে রাফিনহাকে খেলানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের ঠিক আগে। ফিটনেস নিয়ে সামান্যতম শঙ্কা থাকলেও তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না দল।

 

এদিকে মঙ্গলবারের অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন রায়ান। তবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, এটি চোটজনিত নয়; ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবেই তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার অবস্থাও এখনও অনিশ্চিত। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে উরুতে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন তিনি। কবে নাগাদ তিনি দলে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

নরওয়ের বিপক্ষে রাফিনহা খেলবেন কি না, সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগে

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং মালামাল নিয়ে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও হয়েছেন নিশাত আক্তার (৩০) নামের এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

 

রোববার (২৮ জুন) এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিশাতের মা মোসা. নাজমা আক্তার (৬০)।

 

অভিযুক্ত মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) চাটখিল দক্ষিণ বাজারস্থ নোমান হাসপাতালের পেছনের মিজি বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাটখিলে থাকার সুবাদে নিশাত আক্তারের সঙ্গে গোপনে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

 

নিশাত আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফের মেয়ে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।

 

নিশাতের মা দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।

 

মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

 

ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আটক করতে এবং নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

 

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, তিনি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি জেনেছেন। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি।

৩ সন্তান রেখে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী

শেষ ৩২-এ জাপান বাধা পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোর মহারণে মাঠে নামার অপেক্ষায় ব্রাজিল। রোববার রাতে নরওয়েকে মোকাবিলা করবে সেলেসাওরা। ম্যাচটি কঠিন হবে বলে মনে করেন ব্রাজিলের তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিক।

 

নরওয়ে ম্যাচেও পাওয়া যাবে না দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে। চোটে পড়েছেন তিনি। আলাদা করে রাফিনিয়াকে নিয়েও কথা বলেছেন এন্দ্রিক। বার্সেলোনা তারকা দ্রুত বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন বলে জানান তিনি, ‘রাফিনিয়া একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তাঁর এই ইনজুরিতে আমরা সবাই ভীষণ দুঃখিত। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবে। এই ইনজুরিটা তাঁর জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল। আমরা তাঁকে দ্রুত মাঠে ফিরে পেতে চাই, কারণ সে নিশ্চয়ই মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তবে সে দ্রুত ফেরার জন্য সকাল, দুপুর, রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’

 

গ্রুপ পর্বের পর শেষ ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ে সেলেসাওরা। যদিও পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে চমৎকার জয় তুলে নিয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের বিপক্ষেও ম্যাচটি সহজ হবে না মনে করেন এন্দ্রিক।

 

‘এটি একটি বড় ম্যাচ, তাদের (নরওয়ে) দারুণ সব খেলোয়াড় আছে। কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি চমৎকার ম্যাচ হতে যাচ্ছে। যেখানে দুই দলই জয়ের জন্য লড়বে। আশা করি আমরা দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিতে পারব। জানি, এখন ভুলের কোনো সুযোগ নেই। গত ম্যাচে আমরা প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলাম এবং দ্বিতীয় গোলটি পেতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তাই এবার যদি আমরা প্রথমে পিছিয়েও পড়ি, আমাদের শান্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে এবং জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এখন নকআউট পর্ব, আমাদের জিততেই হবে।’

রাফিনিয়া দ্রুত ফেরার জন্য সকাল-দুপুর-রাত পরিশ্রম করছে’

সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন প্রাইভেট হাসপাতালে। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখা মাত্রই দৌড়ে পালালেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সেই চিকিৎসক। হাতেনাতে ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারন করেন। চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়েই চেয়ার থেকে উঠেই ভৌঁ দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক। বেরিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখতে পায়। তার পেছন পেছন কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকও নিজের মুঠোফোন বের করে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন বলে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন। পরে জানা গেল, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

 

চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করে সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অথচ অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায় প্রাইভেট হাসপাতালে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবেই এসব চিকিৎসককে রুখে দিতে হবে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. ইনজামাম উল হক। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট প্রত্যেক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল এই সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটি নিছকই সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

 

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

 

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালালেন অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হওয়া দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলায়। তিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী উল্লেখ করেন, খাবার খাওয়ার পর তিনি কয়েকজন নারীর গোপনে ছবি তুলেছিলেন। তিনি এ কাজকে ভুল বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে কারও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ছবি আর তুলবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।

 

মুচলেকা গ্রহণের সময় ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

 

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি (দেবাশীষ) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এবং দুজন ছাত্রীর ছবি তুলেছেন। বিষয়টি অন্য ছাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁর ফোনেও সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসার পর তিনি নিঃশর্তভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি ও তাঁর গাড়ি কখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তাই তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে যুবদল নেতা আটক, মুচলেকায় মুক্তি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d