খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় ৩৩ বিজিবি সদর দফতরে এ মাদক ধ্বংস করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ছাব্বিশের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ১৬ মাস সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে লিকুইড সীসা, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ আইস, আফিম তৈরীর কেমিক্যাল, ফেন্সিডিল, বিভিন্ন ধরণের বিদেশী মদ ও গাজা।

 

তারা আরও জানায়, দুষ্ট চক্র বাংলাদেশকে মাদকের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালানের যে কোন অপচেষ্টা দমন করা হবে।

 

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্তে পুশ-ইনের সম্ভাবনা প্রতিরোধ করে যাচ্ছে বিজিবি। পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত আছে। আজকের এই কার্যক্রম শুধু আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ নয় বরং একটি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে জাতীয় অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

সাতক্ষীরায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

খুলনায় একটি মসজিদে ঢুকে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে আহত হয়েছেন ২ জন। রোববার (১৪ জুন) ফজরের নামাজ শেষে দৌলতপুরে ওজোপাডিকো জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানায়, নামাজ শেষে কোরআন শরিফ পাঠ করছিলেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম এবং স্থানীয় আলম শেখ। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি মসজিদে ঢোকে। তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হন লোকমান ও আলম।

 

পরে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লোকমানকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের ধরতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি, আহত একজনকে ঢাকায় স্থানান্তর

কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, সেবার মানোন্নয়নে দিলেন নির্দেশনা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি দুটি থানার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার থানার বিভিন্ন শাখার দাপ্তরিক কার্যক্রম, নথিপত্র ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এ সময় তিনি থানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং সেবার মান উন্নয়নে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সুপারের এ ধরনের পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কাজে আরও উৎসাহিত করবে এবং থানার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, সেবার মানোন্নয়নে দিলেন নির্দেশনা

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৭জুন) দুপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

এ সময় বক্তরা বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের বেতন বৈষম্য দুর করতে হবে, বিসিএসে উত্তীর্ণদের বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন নীতিমালার প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।

 

তারা আরও বলেন, বিএমইউ ও বিসিপিএসের পরীক্ষার ফি হ্রাস করা, বিসিএস এ চিকিৎসকদের বয়সসীমা পুনরায় ৩৪ বছর নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করার দাবিও জানান তারা।

 

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই-খোদা বলেন, কর্মবিরতির কোনো প্রভাব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়েনি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জেনেছি শুধু এখানে নয় তাদের কিছু দাবির বিষয়ে সারাদেশেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।

 

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা.সাজিদ সাজাহানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. তাছনিম বিনতে আসাদ, ডা.সৌরভ সরকার, ডা.রানা, ডা.শিফাত, ডা মোরশেদসহ আরও অনেকে। এদিকে, সমাবেশ থেকে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনিদৃষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

 

 

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের অংশ হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

তবে তখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, তার জানা মতে তখনো জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

পরে বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মীদের।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। তবে নির্বাচনের পরও দলীয় কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ২০০২ সালে কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন। পরে ওই মামলায় আদালতের রায়ে তাকে বিভিন্ন ধারায় সাজা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি অধ্যায়ের পর এবার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার নিয়োগে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পু‌লিশ। শ‌নিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহানগরীর সোনডাঙ্গা থানার দারুস আমান মস‌জিদ এলাকার বিলপাড় রোডের বা‌সিন্দা শরীফুল ইসলামের বা‌ড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহত শিশু দুইটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পু‌লিশ। পু‌লিশের পাশাপা‌শি র‌্যাব ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন করেছে।

 

নিহতরা হলেন, বেবী বেগম এবং তার দুই না‌তি মোস্তাকীম ও শামীম।

 

নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরী জানান, তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী রফিকুল তার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতো না। গত শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে আসেন এবং তার সাথেই থাকেন। সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর তার মা ও দুই সন্তানকে না দেখে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিকেলে পাশের রুম থেকে গন্ধ আসলে সবাইকে জানান।পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মেরীর খালা তার বোন বেবী বেগমকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে আসেন। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে জাতীয় জরু‌রি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। এর আগে স্থ‌ানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে চৌ‌কির (খাট) নীচ‌ থেকে নানি বেবী বেগম ও ট্রাংকের ওপর থেকে নাতি শামীমের মরদেহ দেখতে পান। পরে পু‌লিশ ছোট ছেলে মুস্তা‌কিমের মরদেহ খুঁজতে থাকেন। পরে সিআইডির টিম এসে ওয়ারড্রব থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

এদিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআিইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ তিনজনের সুরতাহাল শেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

জানা গেছে, চার বছর পূর্বে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর (৪৫) সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তাদের সন্তান শামীম এবং মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এর ভিতরে আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সাথে বিয়ে হলে সেও প্রায় ফাতেমা বেগম এর মায়ের বাসায় এসে থাকতেন।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু মুস্তাকিম ও শামিম এবং তাদের নানী বেবী বেগমের মরদেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশু সন্তান দুটির মা ফাতেমা বেগম মেরীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

তার দেওয়া তথ্যমতে, তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল এই ঘটনার সাথে জড়িত। এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

খুলনায় একই ঘরের ট্রাংক-খাট-ওয়ারড্রব থেকে নানি ও দুই না‌তির মরদেহ উদ্ধার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলায় সদর ইউনিয়নের

পাকারমাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার দারিকা চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়ন্ত রায় (২৬) ও সদর উপজেলার সুঠিপাড়া এলাকার মেহের উদ্দিনের ছেলে মুমিন (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পাকারমাথা এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই নিহত দুই শ্রমিক সেখানে কাজ শুরু করেন। এ সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন। কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার নুরুজ্জামান জানান ঠিকাদার বিদ্যুৎ লাইন বন্ধের জন্য আমাদের কিছু না জানিয়ে চলন্ত লাইনে শ্রমিক দিয়ে কাজ করছিল। এর কারনে এই ঘটনা ঘটে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নীলফামারীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু 

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের (বিসিক) অবদান ভবিষ্যতে অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক বর্ষা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের অবদান ৩৪ শতাংশ। তবে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সাথে তুলনায় এই সংখ্যা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পপার্কের রফতানি আয় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে, অনেক শিল্পপার্ক তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু শিল্পপার্ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতাও দেখা গেছে।

 

তিনি জানান, সরকার এ বিষয় নিয়ে জরিপ করছে। দ্রুতই কিভাবে এসব শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন মানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে সংযোগ থাকা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়া।

ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং উদযাপনমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী এলাকা-১৯২, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)-এ ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ-২০২৬ গঠন করা হয়েছে।

 

 

নবগঠিত পরিষদে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন তানভির-কে উপদেষ্টা করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন জহির মোহাম্মদ বাবর, ওয়াসিম আহমেদ অনিক, মাহফুজ ইকবাল, নবীনুল ইসলাম নবীন, সেলিম রেজা, জনি দেওয়ান, রাকিব খন্দকার, মঞ্জুরুল হক সৌরভ, সুজন সিকদার, এহসানুল হক ফেরদৌস, ইয়ালিদ নাঈম, লিংকন মিয়া, মোঃ নির্জন এবং তোফায়েল হোসেন।

 

এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন রকিব দেওয়ান রকি, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সুরুজ্জামান ,

 

সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরমান হোসেন বাবু, ইমু ইমরান, মোঃ সানোয়ার হোসাইন, আহমেদ ফয়সাল, মোশারফ হিমেল খান, মোঃ ইসমাইল হাবিব, কমল চন্দ্র, রহিচ আহমেদ রাফি, রায়হান মাহাবুব, আলহাজ্ব মাদবর, রাসেল তালুকদার স্বাধীন, তাজ খান নাঈম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম শাওন, রয়মান মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম নোমান, মাহমুদুল হাসান শোভন, শাফি ইমাম সহ আরো অনেকেই।

 

সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিষদটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উদযাপন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি তা ত্রিমাত্রিক কিংবা অন্য যে কোনো আঙ্গিকেরই হোক-না কেন, তা আর ব্যবহার করা যাবে না।

রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

 

পরিপত্রটি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d