বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলি আবদুল্লাহ বলেছেন, জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও জায়নবাদীদের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে ওই দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় তার লাশ সংরক্ষণের পর রোববার ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হচ্ছে। এতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি শহরে জানাজা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও তিনি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় সরাসরি অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইরান।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। বিশেষ করে মাশহাদে দাফনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করছেন।

 

এদিকে শেষকৃত্যের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ, তেহরানে খামেনির জানাজা শুরু হওয়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াশিংটনের সমান্তরালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

 

খামেনির জানাজায় হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজারের একটি লাল পতাকা নিহত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে। শোক ও বিদায় আয়োজনের অংশ হিসেবে এই প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খবর আল-জাজিরার।

 

আগামী ৯ জুলাই আলী খামেনিকে ওই মাজারে সমাহিত করা হবে। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হওয়ার পর এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেন, এই লাল পতাকা শিয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হুসাইন ইবনে আলীর আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি ছিলেন নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর নাতি, যিনি সপ্তম শতকে কারবালার যুদ্ধে নিহত হন।

হাশেমি আরও বলেন, এই ঘটনা শিয়া মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতীক। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এটি ব্যবহার করে খামেনেইয়ের মৃত্যুকে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

ইমাম রেজার মাজারের লাল পতাকা খামেনির কফিন

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো । ৭৪ ঘণ্টার টানা অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

 

৩৮ বছর বয়সী ত্রেহো বুধবার (২৪ জুন) দেশটিতে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে প্লায়া গ্রান্দেতে তাদের অবস্থানরত অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ার পর থেকে স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার খোঁজে মরিয়া হয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।

 

ডিফেন্ডার ত্রেহো তখন নিজের ক্লাবের হয়ে লিগ ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সাহায্যের আবেদন জানান।

 

তিনি লিখেছিলেন, প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ তাদের দেখে থাকলে এই বার্তাটি শেয়ার করুন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা সেখানে ছিল না।

 

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ জুন) গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

ত্রেহোর ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়ারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ক্লাবটি জানায়, লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

 

ত্রেহোর আরেকটি ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়ারাও সমবেদনা জানিয়ে জানায়, ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

 

এদিকে, আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তা করতে ত্রেহোর বাবা ও ভাই ভেনেজুয়েলায় যান।

 

পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগেও ত্রেহো স্ত্রী ও সন্তানদের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। তখনও তাদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছিল। চলতি বছরের শুরুতে স্বামীর জন্মদিনে ইয়ানিনা এক বার্তায় লিখেছিলেন, পরিবার হিসেবে তোমাকে পাওয়া আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তোমাকে পাশে পেলে সবকিছুই সহজ এবং আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

 

এদিকে, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার বিরল জোড়া ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়াজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব মোকাবিলায় কাজ চলছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান হারালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিজের ছোট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন এক মা। নিহত ওই নারীর নাম আন্দ্রেয়া। তিনি দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী ছিলেন।

 

স্ত্রীকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে হেক্টর বেলো জানান, তার স্ত্রী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের ছোট্ট মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন।

 

তিনি লেখেন, ‘একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।’

 

হেক্টর বেলো জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত কারাকাসে যান। সেখানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মা

ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী গৃহকর্তা কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিসিয়া।

 

আহত হলেও এই ভয়াবহ সহিংসতা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন কামাল-আরজু দম্পতির ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে অনিয়ন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনসা (এএনএসএ) এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

নিহত কামাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন।

 

ঘাতককে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘাতক এই পরিবারের পূর্বপরিচিত। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কোনো লক্ষণ না থাকায় পুলিশের এমন ধারণা।

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হত্যা, বড় ছেলের প্রাণ রক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের (বিসিক) অবদান ভবিষ্যতে অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক বর্ষা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের অবদান ৩৪ শতাংশ। তবে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সাথে তুলনায় এই সংখ্যা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পপার্কের রফতানি আয় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে, অনেক শিল্পপার্ক তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু শিল্পপার্ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতাও দেখা গেছে।

 

তিনি জানান, সরকার এ বিষয় নিয়ে জরিপ করছে। দ্রুতই কিভাবে এসব শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন মানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে সংযোগ থাকা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়া।

ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং উদযাপনমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী এলাকা-১৯২, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)-এ ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ-২০২৬ গঠন করা হয়েছে।

 

 

নবগঠিত পরিষদে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন তানভির-কে উপদেষ্টা করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন জহির মোহাম্মদ বাবর, ওয়াসিম আহমেদ অনিক, মাহফুজ ইকবাল, নবীনুল ইসলাম নবীন, সেলিম রেজা, জনি দেওয়ান, রাকিব খন্দকার, মঞ্জুরুল হক সৌরভ, সুজন সিকদার, এহসানুল হক ফেরদৌস, ইয়ালিদ নাঈম, লিংকন মিয়া, মোঃ নির্জন এবং তোফায়েল হোসেন।

 

এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন রকিব দেওয়ান রকি, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সুরুজ্জামান ,

 

সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরমান হোসেন বাবু, ইমু ইমরান, মোঃ সানোয়ার হোসাইন, আহমেদ ফয়সাল, মোশারফ হিমেল খান, মোঃ ইসমাইল হাবিব, কমল চন্দ্র, রহিচ আহমেদ রাফি, রায়হান মাহাবুব, আলহাজ্ব মাদবর, রাসেল তালুকদার স্বাধীন, তাজ খান নাঈম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম শাওন, রয়মান মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম নোমান, মাহমুদুল হাসান শোভন, শাফি ইমাম সহ আরো অনেকেই।

 

সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিষদটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উদযাপন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি তা ত্রিমাত্রিক কিংবা অন্য যে কোনো আঙ্গিকেরই হোক-না কেন, তা আর ব্যবহার করা যাবে না।

রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

 

পরিপত্রটি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

 

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমডিকে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি, আমার ভাই বহু বছর ধরে অর্গানি হাউজিংয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। এর বাইরে তাদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি হাউজিং অফিস কোথায়, সেটাও আমার জানা নেই। বর্তমানে তাদের মধ্যে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে, সেটিও আমি জানি না। যদি আমার ভাই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত, তাহলে হয়তো বলতে পারতাম।’

 

তিনি বলেন, ‘শারীরিক হেনস্তার ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজে সেখানে যাইনি। ভিডিওটিও আমি পুরোটা দেখিনি। তবে কয়েকজন আমাকে ঘটনাটির কিছু অংশ দেখিয়েছে।’

 

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পিন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিচয় শুধু আমরা একই বাবার সন্তান। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার রাজনীতি পরিচ্ছন্নভাবে করার চেষ্টা করি।’

 

ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের বাইরে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়। এরপর আমি তাদের বলি, ছবিগুলো আমাকে পাঠাতে। এর আগে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমার ভাইও এ বিষয়ে কখনো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি।’

 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d