এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

 

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমডিকে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি, আমার ভাই বহু বছর ধরে অর্গানি হাউজিংয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। এর বাইরে তাদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি হাউজিং অফিস কোথায়, সেটাও আমার জানা নেই। বর্তমানে তাদের মধ্যে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে, সেটিও আমি জানি না। যদি আমার ভাই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত, তাহলে হয়তো বলতে পারতাম।’

 

তিনি বলেন, ‘শারীরিক হেনস্তার ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজে সেখানে যাইনি। ভিডিওটিও আমি পুরোটা দেখিনি। তবে কয়েকজন আমাকে ঘটনাটির কিছু অংশ দেখিয়েছে।’

 

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পিন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিচয় শুধু আমরা একই বাবার সন্তান। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার রাজনীতি পরিচ্ছন্নভাবে করার চেষ্টা করি।’

 

ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের বাইরে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়। এরপর আমি তাদের বলি, ছবিগুলো আমাকে পাঠাতে। এর আগে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমার ভাইও এ বিষয়ে কখনো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি।’

 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।

 

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সংগঠনটির তিন নেতা এ অভিযোগ জমা দেন। বিষয়টি জানা গেছে আজ শনিবার।

 

এ নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত এবং আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

 

ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।

 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্রলির ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ।

 

মোঃ সাহাজিদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের মৌচাকে সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাস কাউন্টার

রেন্ট এ কার অফিস নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল সওজের জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান এবং বাস কাউন্টার পরিচালনা করছে। ফলে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 

এলাকাবাসী জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অবৈধ দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি জমি পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তির নোটিশ টানানো হয় এতে বলা আছে সাত দিনের ভিতরে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে বলা হয়, না হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

 

গোলাম রাসুল

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

 

মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

আধুনিক সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক কমান্ড কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ (The Octagon) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে মিশর। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এ অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশর সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

 

মিশরীয় সরকারি সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। এর লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করা।

 

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল স্থাপনাটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো। মিশরের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন-এর চেয়েও বড়।

 

‘অক্টাগন’ নামকরণের পেছনে রয়েছে এর ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী। অষ্টভুজ আকৃতির একাধিক ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এটি মিশরের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

নতুন এই সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা অবকাঠামো।

 

শুধু সামরিক কমান্ড নয়, এই বিশাল কমপ্লেক্সকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নগরীর রূপও দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, শপিং সেন্টার, বিনোদন ও বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা। ফলে এটি একাধারে সামরিক, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

মিশর সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

ইতোমধ্যে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে মিশর। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য অক্টাগন’ এর উদ্বোধনকে কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিশরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় এই প্রকল্প মিশরের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

 

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’ উদ্বোধন করল মিশর

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের (বিসিক) অবদান ভবিষ্যতে অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক বর্ষা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে সামগ্রিক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের অবদান ৩৪ শতাংশ। তবে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সাথে তুলনায় এই সংখ্যা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পপার্কের রফতানি আয় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো। তবে, অনেক শিল্পপার্ক তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু শিল্পপার্ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতাও দেখা গেছে।

 

তিনি জানান, সরকার এ বিষয় নিয়ে জরিপ করছে। দ্রুতই কিভাবে এসব শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন মানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে সংযোগ থাকা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়া।

ভবিষ্যতে জিডিপিতে বিসিক খাতের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং উদযাপনমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী এলাকা-১৯২, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)-এ ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ-২০২৬ গঠন করা হয়েছে।

 

 

নবগঠিত পরিষদে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন তানভির-কে উপদেষ্টা করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন জহির মোহাম্মদ বাবর, ওয়াসিম আহমেদ অনিক, মাহফুজ ইকবাল, নবীনুল ইসলাম নবীন, সেলিম রেজা, জনি দেওয়ান, রাকিব খন্দকার, মঞ্জুরুল হক সৌরভ, সুজন সিকদার, এহসানুল হক ফেরদৌস, ইয়ালিদ নাঈম, লিংকন মিয়া, মোঃ নির্জন এবং তোফায়েল হোসেন।

 

এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন রকিব দেওয়ান রকি, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সুরুজ্জামান ,

 

সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরমান হোসেন বাবু, ইমু ইমরান, মোঃ সানোয়ার হোসাইন, আহমেদ ফয়সাল, মোশারফ হিমেল খান, মোঃ ইসমাইল হাবিব, কমল চন্দ্র, রহিচ আহমেদ রাফি, রায়হান মাহাবুব, আলহাজ্ব মাদবর, রাসেল তালুকদার স্বাধীন, তাজ খান নাঈম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম শাওন, রয়মান মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম নোমান, মাহমুদুল হাসান শোভন, শাফি ইমাম সহ আরো অনেকেই।

 

সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিষদটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উদযাপন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে শোবিজ দুনিয়ার তিন মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে

শনিবার (৪ জুলাই) শোবিজ জগতের এ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করার পর তা তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজনে এটি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অভিযুক্তরা বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি চান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু। এই আন্দোলনে পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

পিয়া-মারিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

 

পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ এবং রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতও শোনেন।

পরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভার আগে তিনি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি তা ত্রিমাত্রিক কিংবা অন্য যে কোনো আঙ্গিকেরই হোক-না কেন, তা আর ব্যবহার করা যাবে না।

রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

 

পরিপত্রটি এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬–এর লড়াইয়ে ব্রাজিল পাচ্ছে না মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। জাপানের বিপক্ষে ঊরুর চোটে পাকেতার ছিটকে পড়ার আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়াও এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ব্রাজিলের ড্রেসিং রুমে খোলা হাওয়া হয়ে বইতে পারবেন কি নেইমার, নাকি আজও বেঞ্চেই ঠিকানা হবে ৩৪ বছর বয়সী সুপারস্টারের?

 

রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর আগে গতকাল (৪ জুলাই) ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দিয়েছেন সুখবর। ৯০ মিনিটের ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন নেইমার। তবে একই সঙ্গে এই কোচ স্বীকার করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বর্তমানে বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকার কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।

 

 

চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর অবশেষে নেইমার পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে যে সব উদ্বেগ ছিল, কোচ আনচেলত্তি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও শক্তি বেড়েছে।

 

ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

তবে পূর্ণ ফিট হয়ে উঠলেও নেইমারকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি–না সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি আনচেলত্তি। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কি তিনি আবারও নেইমারকে বদলি হিসেবে রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ বলেন নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।

 

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সে খেলার জন্য উপলব্ধ আছে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা কেউ জানে না। ম্যাচের গতি এবং সময় নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা তার আছে। যখন আমি মনে করব দল তার প্রয়োজন, তখনই তাকে নামাব।’

 

এরপর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, নেইমার কি পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে? আনচেলত্তির জবাব ছিল পরিষ্কার, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’

 

বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ তাকে প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, তবে খুব ভালো আচরণ করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুব ভালোভাবে ট্রেনিং করছে। নেইমার অত্যন্ত সম্মানিত, বন্ধুবৎসল এবং সতীর্থদের কাছে প্রিয়। দলের মধ্যে তার বড় গুরুত্ব আছে কারণ তার অসাধারণ দক্ষতা আছে এবং সে খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। আমি তার সঙ্গে খুব সন্তুষ্ট। আর অবশ্যই, সে খেলতে চায়, যেমনটা সবসময়ই চেয়েছে।’

 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল নেইমার কি সরাসরি শুরুর একাদশে থাকার দাবি করেছেন, কোচ পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন, ‘সে সরাসরি বলে না ‘আমি খেলতে চাই’, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা স্পষ্ট। এটা ভালো জিনিস। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।’

 

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, যেখানে প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। সাত ম্যাচের অপরাজিত ধারা নিয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে এবং মূল ভরসা ভিনিসিউস জুনিয়র। নরওয়ের শক্তিশালী শারীরিক ও এরিয়েল আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নেইমারের সৃজনশীলতা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চাবিকাঠি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য।

৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নেইমার, আনচেলত্তি কতক্ষণ খেলাবেন?

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নেতাকে আটকের ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এক স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ জুন থেকে মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

এদিকে মতিন মিয়াকে আটকের ঘটনায় পুলিশের কাছে তার বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগে নূর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তার দোকানে এসে মতিন মিয়ার বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। এরপর পুলিশ মতিন মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন মতিন মিয়ার ভাই আলম তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।

 

নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ দোকানি। পুলিশ আমার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে আমি শুধু বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি, রাতেই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কামরুল হাসান অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

 

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

 

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমডিকে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি, আমার ভাই বহু বছর ধরে অর্গানি হাউজিংয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। এর বাইরে তাদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি হাউজিং অফিস কোথায়, সেটাও আমার জানা নেই। বর্তমানে তাদের মধ্যে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে, সেটিও আমি জানি না। যদি আমার ভাই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত, তাহলে হয়তো বলতে পারতাম।’

 

তিনি বলেন, ‘শারীরিক হেনস্তার ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজে সেখানে যাইনি। ভিডিওটিও আমি পুরোটা দেখিনি। তবে কয়েকজন আমাকে ঘটনাটির কিছু অংশ দেখিয়েছে।’

 

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পিন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিচয় শুধু আমরা একই বাবার সন্তান। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার রাজনীতি পরিচ্ছন্নভাবে করার চেষ্টা করি।’

 

ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের বাইরে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়। এরপর আমি তাদের বলি, ছবিগুলো আমাকে পাঠাতে। এর আগে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমার ভাইও এ বিষয়ে কখনো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি।’

 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d