পাহাড়ধস: বান্দরবান ও কক্সবাজারে শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পাহাড়ধস: বান্দরবান ও কক্সবাজারে শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু

পাহাড়ধস: বান্দরবান ও কক্সবাজারে শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণের ফলে দেশের পাহাড়ী অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং এক দম্পতি রয়েছেন।

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় ভোরে পাহাড়ধসের এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— মো. ইউনুস (৪০), রানু আক্তার (৩৫) (ইউনুসের স্ত্রী), মো. সোলেমান (৫) (ইউনুস-রানু দম্পতির সন্তান) মো. জুয়েল (৩৪), কুলছুমা আক্তার (২৫) (জুয়েলের স্ত্রী)

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ভারী বৃষ্টির সময় হঠাৎ পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়েন তারা। স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে মাটি খুঁড়ে ৫ জনকে উদ্ধার করলেও কাউকেই বাঁচানো যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় ধসে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে টানা বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের একটি অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়েন তারা।

 

নিহতরা হলেন তৌসিফ (১২), বাবা আব্দুল মজিদ এবং রুমি আক্তার (১৭), বাবা মৃত কাজল।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে পাহাড় ধসের পর আশপাশের লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

রাতের সময় হওয়ায় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি সকালে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বাসভবনে যাননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সরকারি গাড়ি পারসেজ হতে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ হতে শুরু করে বিষয় কৃষক হয়ে, কেউ আর সরকারি খরচে খিচুড়ি রান্না শিখার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না।’

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মিলনায়তনে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৬০ লাখ টাকা দিয়ে উনার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে এসি সেন্ট্রালাইজ করেছিলেন। সে সময় ২০০১ সালে উনি যদি গণভবনে থাকতেন, তাহলে মাসে ২ কোটি টাকা দিত। আর টোটাল সিস্টেমটাকে ৬০ লাখ টাকায় রিনোভেশন করা হয়েছিল। সে জন্য মামলা করেছে উনার বিরুদ্ধে যে, উনি কেন নিজ বাড়িতে ৬০ লাখ টাকা খরচ করল? তার মানে কত শত কোটি টাকা সেভ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।’

 

মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি কোনো ইন্সপেকশন টিম কোনো রকম টাকা চায়, সাথে সাথে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বই মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার কাছে প্রাধান্য হলো বই দেওয়া। আপনাদের প্রাধান্য হলো বই দেওয়া। যদি অসুবিধা করেন, এবার হয়তো ঠ্যাক দিবেন। আগামীতে আর পারবেন না। মানুষ যখন প্যান্ট পরে, তখন জিপার রেখেই পরে, যেন বাথরুমে যাওয়া যায়। আমরা ওভাবে প্যান্ট পরব, ডিজাইন করব, যেন আমাদের জিপার থাকে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একজন আরেকজনকে চোখে আঙুল দিয়ে কথা বলবে ইটস নট দ্যাট। একজন আরেকজনের পরিপূরক হবে না। ইটস নট যে, আমরা সরকার বলে থ্রেড করব। থ্রেড করে জনগণকে কখনো দামানো যায় না, এটা সম্ভব না। এই অ্যাসোসিয়েশন আমরা ভেঙে দিতে পারতাম। আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন আপনারা কাকে দিয়ে করবেন এটা আপনাদের ব্যাপার। আমরা সেখানে অবৈধ হস্তক্ষেপ কখনো করতে যাব না।’

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বই এমনভাবে ছাপতে হবে, ছবিগুলো সুন্দর হতে হবে। শিশুরা দেখে যাতে আনন্দ পায়। এটি আমরা কেন পারব না? এটা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। অনেকে আমার কিছু কথায় আহত হয়েছেন। কিন্তু বই নিয়ে এটি আমাদের করতে হবে।’

কেউ সরকারি খরচে খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না

বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর উন্মাদনা। কথার লড়াই। আর এ যুগে এসে ফেসবুকে মেনশন করে পোস্ট দেওয়া আর কমেন্ট যুদ্ধে নিজের দলকে সবার উঁচুতে রাখার প্রানপণ চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে বাংলাদেশে এখানেই থেমে নেই; উন্মাদনার আড়ালে কথা কাটাকাটি, মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমনকি সংঘর্ষে প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ৮,২০০ থেকে ৮,৬০০ মাইল) দূরত্বের এই খেলা নিয়ে দেশের আহতও হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।

 

নিহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে, একজন স্ট্রোকে, একজন কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে এবং সর্বশেষ একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। তিনি মিশরের সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি তার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ছাড়া গতকাল মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

একই রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ

গতকাল রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গতকাল রাতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জেও গতকাল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে মামুন হোসেন (২২) নামে এক যুবক আহত হন।

 

টানা কয়েকদিনের সংঘর্ষ

গত ৬ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী জয় কুমার ও বিশাল কুমার গুরুতর আহত হন। এর আগে ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় ধূমপানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

এ ছাড়া গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল স্কুলবাড়ি মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গত ২২ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ১৮ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফুটবল খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

 

আগের প্রাণহানির ঘটনাগুলো

বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।

 

আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পতাকা টাঙাতে গিয়ে তিন মৃত্যু

বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।

 

আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা

গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

 

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে খেলা হিসেবেই নেওয়া উচিত। এখানে অতিরঞ্জনের কিছু নেই। সকলের সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুশীল সমাজের এগিয়ে আসতে হবে। যারা বোঝে না, তাদের বোঝানো দরকার।

 

বিশ্বকাপে সংঘটিত হওয়া সহিংসতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এখানে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না। ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবেই নিতে হবে। এ খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। আবেগ ভালো কিছু বয়ে আনে না। যখন আমরা অতি আবেগ দেখিয়ে পারস্পারিক বিতর্কে জড়াব, তখন সমাজে, বন্ধু বন্ধু, এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গে সহিংসতা ঘটছে। সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মাদনার আড়ালে ট্র্যাজেডি: ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের খেলা নিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু ১২

চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরি আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের অন্তত চার বিভাগের অনেক জেলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ বিভাগের কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিশাল অংশ পানির নীচে। এতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতও করেছিল। এসব এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও পানির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা বাড়ি-ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পানিয়ে তলিয়ে গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন সাইক্লোন সেন্টারে। এ অবস্থায় অনেক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এরইমধ্যে পরীক্ষা হলে অনেকে অংশ নিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষা খারাপ হলে ফলাফলেও প্রভাব পড়বে বলে তারা উৎকণ্ঠায় আছেন।

 

যদিও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আকতারুজ্জামান। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শনিবারের পরীক্ষার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাদের ওপরে নির্ভর করছে। তারা স্থানীয় পরিস্থিতির যে তথ্য জানাবেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেব, যাতে তারা সার্বিকভাবে পর্যাপ্ত সময় পায়।’

 

শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) মাদ্রাসার আলিমের ইংরেজি প্রথম পত্র ও কারিগরি বোর্ডের হিসাব বিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ পরীক্ষা। এ বিষয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ) অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ‘আমরা আবহাওয়া অফিসে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, মন্ত্রণালয়সহ সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এর আগে বুধবারের (৮ জুলাই) উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ পরীক্ষার নতুন তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সব পরীক্ষা হওয়ার পর স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

মহেশখালী উপজেলার আলিম পরীক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত হানিফ বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে, পড়াশোনার পরিবেশও নেই। তবে যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামনে যেসব পরীক্ষা আছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা, তা নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত।’

 

আরেক পরীক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বৃষ্টির পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আজ চার দিন থেকে কক্সবাজারের সাথে মহেশখালীর নৌ যোগাযোগ বন্ধ আছে। এমন অবস্থায় একটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো কীভাবে দেব, সেটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা চাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিক।’

 

চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (প্রেষণ) অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘সদ্যই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এখনও নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। সাধারণ সব পরীক্ষা শেষ হলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

 

টানা কয়েক দিনের অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ছয় দিনের ব্যবধানে পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে বা ডুবে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সব সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র)।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পাহাড়ধসে এবং তিনজন পানিতে ভেসে বা ডুবে মারা গেছেন। এর মধ্যে শুধু উখিয়ায় বুধবার পাহাড় ধসে অন্তত ৮ জন মারা গেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা অতিবৃষ্টিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন মিশনপাড়া (পাগলির জিরি) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় টানা বর্ষণে কারণে পাহাড়ধসে দুই কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বর্তমান বন্যা ও বৈরি পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মতামত বা তথ্য চায়নি। কেউ জানতে চাইলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষেই মত দেব।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে যেসব এলাকার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বা প্লাবিত হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তলিয়েছে বাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্ধ পড়াশোনাও—এইচএসসি নিয়ে কী ভাবছে কর্তৃপক্ষ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মনে করেন রেফারিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বিশ্লেষণমূলক সাক্ষাৎকারে তিনি মোহাম্মদ সালাহর বিষয়টিও তুলে ধরেন।

 

গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ফাউলের অভিযোগে মিসরের পেনাল্টির দাবিটি খারিজ করার সিদ্ধান্তও সঠিক।’

 

তার মতে, সালাহর বুটে সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটি ফাউল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ছিল না।

 

জিকোর বাতিল হওয়া গোলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৬৭তম মিনিটের গোলের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে আতিয়ার যে সংঘর্ষ হয়েছিল, সেটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ। এটিকে ফাউল হিসেবে ধরা উচিত হয়নি।’

 

গ্রাহাম স্কট বলেন, ‘জিকোর গোলের আগের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল। এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। তাই ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে গোল বাতিল হওয়ায় মিসরের ক্ষুব্ধ হওয়াটা স্বাভাবিক।’

 

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রিপ্লেতে আতিয়ার পায়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের পায়ের সামান্য সংস্পর্শ এবং ক্ষণিকের জন্য জার্সি ধরে রাখার ঘটনা দেখা গেলেও, সেটি ভিএআরের হস্তক্ষেপের মতো কোনো স্পষ্ট ফাউল ছিল না।

 

গ্রাহাম স্কটের ভাষায়, এটি ছিল ভিএআরের একটি বিস্ময়কর হস্তক্ষেপ এবং ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ সংশোধনের সীমা অতিক্রম করার উদাহরণ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া ভিএআর পর্যালোচনা করে। তবে কোনো গোল বাতিল করতে হলে সেখানে স্পষ্ট ফাউল থাকতে হয়, যা এই ঘটনায় ছিল না।

 

তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ও গোলের মধ্যে সময় ও দূরত্ব যত বেশি থাকে, সেই চ্যালেঞ্জকে ফাউল হিসেবে গণ্য করার মানদণ্ডও তত কঠোর হওয়া উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় এমন কোনো অপরাধই ছিল না, যাতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।’

 

এদিন আর্জেন্টিনা দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচের পর মিসরের কোচ এবং খেলোয়াড়রা রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল

বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর।

 

তবে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বড় আলোচনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের রহস্যজনক ভূমিকা।

 

মিসরের একটি গোল বাতিল এবং পেনাল্টি বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মিসর কোচ হোসাম হাসানের পর এ নিয়ে এবার ফিফা ও রেফারির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন হোসে মরিনহো, অ্যালান শিয়েরার ও গ্যারি ক্যাসপারভের মতো কিংবদন্তিরা।

 

রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির সাবেক কিংবদন্তি কোচ জোসে মরিনিয়ো রেফারি ও ভিএআরের এ ভূমিকাকে সরাসরি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘যখন আপনি এই আর্জেন্টিনা দলটির বিপক্ষে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ আপনি মাঠে শুধু ১১ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলছেন না। আপনি খেলছেন রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, আপনি খেলছেন ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনি খেলছেন এ টুর্নামেন্টের পুরো পাতানো চিত্রনাট্যের বিরুদ্ধে!’

রেফারিং নিয়ে বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি ক্যাসপারভ ফিফাকে ধুয়ে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মিসরের দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল করা হলো অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ কয়েক মিনিট পর ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল করা হলো না!’

 

ক্যাসপারভ সরাসরি ফিফাকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা’ বলে অভিহিত করেন, যারা তাদের বড় তারকাদের সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।

 

ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরারও ভিএআরের এই দ্বিচারিতার সমালোচনা করে ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘হয় দুটোই ফাউল, না হলে একটাও ফাউল নয়। কিন্তু তারা (ফিফা) তো আমাদের বলেছিল যে, তারা ম্যাচের ভেতর নতুন করে রেফারিং করবে না!’

 

সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইটও মিসরের এই ক্ষোভকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি: জোসে মরিনিয়ো

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দেওয়া প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা এবং একই এলাকার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬।

 

তবে দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলাগুলো ছাড়া অন্যান্য জেলায় মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি ধাপে ধাপে চূড়ান্ত হয়। প্রথম দফায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শুধু চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে এই তালিকায় যুক্ত হয় কক্সবাজার জেলার নাম। সবশেষে রাত ১টা ১৫ মিনিটে জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলাতেই পরীক্ষা স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দুই দফা দাবিতে নীলফামারীতে ডাক কর্মচারীদের স্মারকলিপ

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি ও ঐক্য পরিষদের নীলফামারী জেলা শাখার নেতারা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হোসাইন মোঃ সেলিম রেজা, নীলফামারী জেলা শাখার পোস্টমাস্টার আমিনুল হক শাহ, ডিমলা শাখার পোস্টমাস্টার রেজাউল করিম, কিশোরগঞ্জ শাখার পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান এবং সৈয়দপুর শাখার পোস্টমাস্টার ওয়াহেদুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের দুই দফা দাবি হলো শাখার ডাকঘর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তিন গুন বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে কাজ করলেও ডাক বিভাগে কর্মরত শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

দুই দফা দাবিতে নীলফামারীতে ডাক কর্মচারীদের স্মারকলিপি

 

নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে পচা ডিম পেলেন ইউএনও

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মি- ডে মিলের খাবার পরিদর্শনে গিয়ে একটি পচা ডিম পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ইউএনও। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা মিড-ডে মিলের খাবারের মান পরীক্ষা করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে একটি ডিম পচা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে খাবারটি তখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। জানা যায়, বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম ও কলা সরবরাহ করেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন,

“ইউএনও মহোদয় বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে একটি ডিম পচা পেয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তখনো ডিম বিতরণ করা হয়নি। ডিমগুলো সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন,”শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনের সময় একটি ডিম নষ্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।” নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন,”ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে পচা ডিম পেলেন ইউএনও 

নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী

মাইদুল ইসলাম

এস্টাব: রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুঝাত তাসনীম আওনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ্-আল- মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী

আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন তত্তাবধায়ক সরকার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে৷ তবে কোন ফরমেটে হবে, সেটি বিভিন্ন অংশীজনের সাথে কথা বলে ঠিক করা হবে।

 

এসময় তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে, জুলাই চার্টাডকে যেনো মুখ্য বিবেচনায় রাখা হয় সে কথা মাথায় রেখে পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের আলোকে সংবিধানের সংশোধনী বিল আনা হবে। সেক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচনা থাকবে জুলাই চার্টাড।

আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে একটি লরি। এ ঘটনায় সিএনজি চালক ও ১ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন।

 

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, সিএনজি চালক হানিফ মিয়া (৩৫) ও লাবিব হোসেন (১৫)। আহত সজীব হোসেন (২৪) একই উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিহত লাবিবের মামাতো ভাই।

 

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বৃষ্টির মধ্যে মাধাইয়া থেকে ছেড়ে আসা সিএনজি অটোরিকশাটি নূরীতলা এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রামমুখী একটি লরি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিসহ লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়রা সিএনজিতে আটকে থাকা চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ মিয়া ও লাবিব হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি। ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে লরি, নিহত ২

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জিম্মি এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও এ সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকেও উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।

 

আত্মসমর্পণকারী আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

 

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

সুন্দরবনের ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

 

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ (জ) অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ কমিশন নির্ধারণ করেছে। সে প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডেটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডেটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের নিকট লিংক প্রেরণের শেষ তারিখ আগামি ৪ আগস্ট, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।

 

এতে আরও বলা হয়, এ কার্যক্রম চলাকালীন মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শন ও ভুলত্রুটি সংশোধনের আবেদন দাখিলের আহবান জানিয়ে মসজিদ/মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে ইমাম/পুরোহিতগণের মাধ্যমে নামাজ/প্রার্থনার আগে বা পরে ঘোষণা প্রদান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা এবং তাদের ভাষাগত সমস্যা দূর করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বর্তমান ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান-উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেড কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা সরকারের: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ফেনীতে ৩০ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ ক্যান বিয়ারসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

 

ফেনী প্রতিনিধি :রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া বাজার এলাকার একটি অভিযানে ৩০ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ ক্যান বিদেশি বিয়ারসহ কামরুল ইসলাম (৩৯) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী সদর মডেল থানার পাঁচগাছিয়া বাজার সড়কের গ্যাস কোম্পানি সংলগ্ন আইরিন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে কামরুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ ক্যান বিদেশি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার কামরুল ইসলাম ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে ফেনী সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জেলার মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফেনীতে ৩০ বোতল বিদেশি মদ ও ৬০ ক্যান বিয়ারসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যা

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদুজ্জামান (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পিবিআই মানিকগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সাভারের হেমায়েতপুর মাদ্রাসা গেট এলাকায় বসবাস করতেন এবং সাভারের একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কিশোর সাবিকুল ইসলাম। পরদিন তার মরদেহ একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে গোপন অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান হেমায়েতপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। মিতরা এলাকায় বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সাবিকুলের অটোরিকশায় ওঠেন। পথে ভাঙা সড়কে গাড়ির ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে চালকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে তিনি সাবিকুলকে মারধর করে মুখ কাদায় চেপে ধরেন এবং ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে শ্বাসরোধে সাবিকুলের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।

হত্যার পর আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তার একটি স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের অটোরিকশাটিও সিংগাইর থানা পুলিশ জব্দ করেছে।

পিবিআই জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ৩০ জুন বিকেল থেকে ১ জুলাই রাত আড়াইটার মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d