গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন জবাব - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন জবাব

গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন জবাব

চিত্রনায়িকা পরীমনি ২০২১ সালে নিজের গ্রেপ্তার ও কারাবাসের ঘটনা নিয়ে আবারও কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান ও মানসিক শান্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এ দাবি করেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসের শুরুতে পরীমনি লেখেন, আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিলো। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার পরিবার, আমার কাছের মানুষ এবং আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীকেও সেই কঠিন সময়ের ভার বহন করতে হয়েছে।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে সাবেক র‍্যাব গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পরীমনি তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ওই টকশোতে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা থেকে জানা গেছে যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে তাঁর বাসায় অভিযান চালানোর পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাঁকে অন্যায়ভাবে ও বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

পরীমনি আরও দাবি করেন, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।

 

স্ট্যাটাসে পরীমনি লিখেছেন,গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।

 

 

তিনি আরও বলেন, এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।

 

রাষ্ট্রের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্নও তুলে পরী লেখেন, আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?

 

তবে প্রতিশোধের কথা বলতে চান না বলে উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার প্রভাব আমি আজও বহন করে চলেছি।

 

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। তিনি লেখেন, আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় র‍্যাব অভিযান চালায়। পরে তাঁকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে তিনি ২৮ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলামের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাসিনা বেগমের অবস্থান শনাক্ত করার পর মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের বারান্দার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা। ওই রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করেছিলেন। থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজতখানা না থাকায় পুলিশি হেফাজতে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল তাকে।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

 

এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্ত্রীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন-এমন ধারণা নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এক যুবক।

 

তবে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁর স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদ কাজল (২৮) বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ওই ঘটনার খবর আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজলের স্ত্রী ইভা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ইভার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

অভিযুক্ত কাজল উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইভা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

 

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে কাজল তাঁর কাছে এসে জানান, তিনি স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

ইভার বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন কাজল। টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই ইভাকে মারধর করতেন। ঘটনার আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ইভাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কাজল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আহত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রীর গলা কেটে থানায় আত্মসমর্পণ, ঢামেকে ভর্তি

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মা সীমা আক্তার।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে গত বুধবার রাতে পুলিশ নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনার রক্তাক্ত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

 

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে নির্জনার মা সীমা আক্তার জানিয়েছেন যে ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাদের উভয়কে চুপ করতে বলেন।

 

কিন্তু মেয়ে চুপ না থাকায় তিনি একটি কাঠের চলা (লাকড়ি) দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই মেয়ের মৃত্যু হয়। এরপর নির্জনার বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেঁড়া লুঙ্গি ও একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লাশটি ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আসেন।

 

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সূত্র আরও জানায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকার একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তার পরিবার। গত ২১ এপ্রিল আরফান হোসেন নির্জনা স্বেচ্ছায় তেরখাদা উপজেলার আজগড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেছিলেন। এর ১৭ দিন পর তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার দিন সকালেও মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে তাকে আবারও বুঝিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছিল, কিন্তু বিকেলে এই ঘটনা ঘটে যায়।

 

এদিকে সদর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন এবং তার অবস্থান জানতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

শুক্রবার সকালে নির্জনার মা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। এর আগে সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

 

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার তুলে ধরবেন।

নির্জনা হত্যা: আদালতে মায়ের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত পাঁচ দিনে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামেই পাহাড়ধস, দেয়াল ধসে এবং পানিতে ডুবে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২২ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে আরও দু-এক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া: বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কেবল সাতকানিয়া উপজেলারই ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ জলমগ্ন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়াহ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত। রেলপথে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

 

বান্দরবান (লামা): লামার আজিজনগরে বৃহস্পতিবার ভোরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

 

কক্সবাজার (চকরিয়া): চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি।

 

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি: কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধিতে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল ও সাজেকের সড়ক প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পানি ওঠায় আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় ১৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বাড়ায় দীঘিনালার বেশ কয়েকটি সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

সিলেট ও অন্যান্য জেলা: ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০-৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

খুলনা: ভারি বর্ষণে খুলনা মহানগরীর নিরালা, টুটপাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছেন। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ঢল ও পাহাড়ধসে ৫ দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলটা করতে গিয়েই পকেট থেকে রেফারি বের করেছিলেন হলুদ কার্ড। গনজালো মন্টিয়েলের হয়তো তখন কার্ডের কথা ভাবার সময় ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা। কিন্তু সেই একটি হলুদ কার্ডই এখন আর্জেন্টিনার এই রাইট-ব্যাকের জন্য রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।

 

 

 

কালড় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে মন্টিয়েল প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে লিওনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববেন।

 

 

 

তবে তিনি খেলুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন—একটা অদৃশ্য সতর্কবার্তা তার মাথার ওপর ঝুলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মন্টিয়েলকে। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে চলেও যায়, নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।

 

 

 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শুরু (শেষ ৩২) থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর এই কার্ডের হিসাব মুছে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রেশ কার্ড নিয়ে নামার সুযোগ থাকে।

 

 

 

কিন্তু মন্টিয়েলের সমস্যা হলো, তিনি অলরেডি শেষ ষোলোতেই একটা কার্ড হজম করে বসে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হওয়ার ম্যাচে মন্টিয়েলকে তাই খেলতে হবে ‘পায়ে বরফ আর মাথায় বরফ’ বেঁধে।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপে মন্টিয়েলের ভূমিকা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধের পরই তাঁকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আবার মোলিনার জায়গায় নেমে খানিটা জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন রিভার প্লেটের এই রাইট-ব্যাক; তাঁর পাস থেকেই এসেছিল লিওনেল মেসির সেই সমতাসূচক গোলটি।

 

 

 

স্কালোনির দলের এখন একমাত্র অগ্রাধিকার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড। দলের লক্ষ্য অর্জনে মাঠে কেউ গা বাঁচিয়ে খেলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্টিয়েল ভালো করেই জানেন তার বর্তমান পরিস্থিতি।

 

 

 

আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হবে নিজের আবেগকেও। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় কি মন্টিয়েল পারবেন হলুদ কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে? সে উত্তর মাঠের লড়াইয়ের জন্য তোলা থাকুক।

হাত-পা-মাথায় ‘বরফ বেঁধে’ খেলতে হবে মন্টিয়েলকে

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং -১১/০৭/২০২৬ শনিবার

 

হেডলাইন: নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার—

 

র‌্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রাম থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী খবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান,দুই রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাবের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

 

র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তার খবির মোল্লা কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রামের কাউসার মোল্লার ছেলে।

 

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় খবির মোল্লার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

কালিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয় নাই। তাকে হস্তান্তর করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নড়াইল কালিয়া থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ

নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার

টানা ৪ দিন ধরে সমুদ্র উপকূলবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরোটাই পানির নিচে। বন্যাকবলিত এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। পানিবন্দি শত শত পরিবার। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নে একটি যৌথ পরিবারের মাটির ঘরটি ছিল মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেখানে ৫ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কিন্তু বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে ডুবে আছে ঘরটি। এমনকি ভেসে গেছে আসবাবপত্র।

 

ঠিক এই পরিবারের দুর্দশার মতো বন্যাকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ পরিবারের মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন। খোলা আকাশ এখন তাদের ঠিকানা। কেউবা মাথা গোঁজার জন্য ছুটছেন উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম বাঁশখালী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এখনও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এসব মানুষের দিন কাটছে কষ্টে।

 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ক্ষতির মুখে ধান ও লবণচাষিরা।

 

এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গণ্ডামারা-সহ ৫/৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরো এলাকা পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে স্বর্ণালংকার ও পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি দুই পরীক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন, জান্নাতুল নাঈমা (১৯) ও প্রাহিমা আক্তার শশী (১৯)। তারা নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সোনাপুর কলেজ।

 

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাইজদী শহরের মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাঈমা ও প্রাহিমা একই এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সকালে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সোনাপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের অচেতন করে ফেলে। পরে তাদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার এবং সঙ্গে থাকা পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে সিএনজিচালক দুই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। বর্তমানে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণে তারা নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

 

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বজনরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাসিনা বেগমের অবস্থান শনাক্ত করার পর মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের বারান্দার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা। ওই রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করেছিলেন। থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজতখানা না থাকায় পুলিশি হেফাজতে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল তাকে।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

 

এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

(১১)ই জুলাই শনিবার দিবাগত রাতে ঠা’কুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র বিশেষ অ’ভিযানে ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একজন নারীকে গ্রেফতার করা হ’য়েছে এবং অপর একজন ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পা’লিয়ে যায়।

 

ডিবির ওসি গোলাম রসুল জানান, পলাতক আসামি বিলাতু চন্দ্র (৩৯), পিতা- মৃত কার্তিক চন্দ্র, গ্রাম- মহব্বতপুর (মোড়লপাড়া), সদর উপজেলা, ঠাকুরগাঁও বাসীন্দা।

 

অভিযানে গ্রেফতার হন গহনা বালা (৫৫), স্বামী- মৃত কার্তিক চন্দ্র, একই গ্রামের বাসিন্দা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মোড়লপাড়া এলাকায় পলাতক আসামি বিলাতু চন্দ্রের বসতবাড়িতে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিডিবি গোলাম রসুল জানান এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা সংক্রান্ত সকল আইনগত কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্ত্রীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন-এমন ধারণা নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এক যুবক।

 

তবে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁর স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদ কাজল (২৮) বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ওই ঘটনার খবর আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজলের স্ত্রী ইভা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ইভার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

অভিযুক্ত কাজল উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইভা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

 

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে কাজল তাঁর কাছে এসে জানান, তিনি স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

ইভার বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন কাজল। টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই ইভাকে মারধর করতেন। ঘটনার আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ইভাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কাজল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আহত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রীর গলা কেটে থানায় আত্মসমর্পণ, ঢামেকে ভর্তি

ঝালকাঠির নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া নারী লাকি আক্তার নলছিটি শহরের বাসিন্দা। তিনি আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরিঘাট এলাকায় ৫ বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন লাকি আক্তার। বিষয়টি চোখে পড়তেই আশপাশের লোকজন কোনো বিলম্ব না করে নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে মা ও মেয়েকে নিরাপদে তীরে তুলে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

লাকি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিছুদিন আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা থেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

নলছিটি থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জান বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মা ও শিশু বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশু সন্তানকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে মায়ের ঝাঁপ, অতঃপর..

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

ঢাকা মেডিকেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d