নারায়ণগঞ্জে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নারায়ণগঞ্জে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

নারায়ণগঞ্জে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং ‘ভালো মানুষকে’ দলে যুক্ত করার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম দফায় দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে শহরের এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় মহানগর এনসিপি।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। সভাপতিত্ব করেন মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, দলকে বড় করার জন্য যাকে-তাকে সদস্য করা হবে না। এনসিপির সদস্য সংগ্রহে এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যুক্ত হয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বাদ দিতে চাই না, আবার যাকে-তাকে দলে নিতে চাই না। আমরা চাই, এমন মানুষ যুক্ত হোক, যাদের কারণে দলের বদনাম হবে না। সাধারণ মানুষ যেন কখনো মনে না করে ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষের সংখ্যা আমাদের দলে বেশি।”

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখিয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনেকের অনাগ্রহ রয়েছে। সেই শূন্যতা থেকেই নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির যাত্রা।

 

সংসদ সদস্য বলেন, রাজনীতি কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে। “মুখে মাদকের বিরুদ্ধে বললাম, কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চললাম, তাহলে মানুষ সেই কথার মূল্য দেবে না। তরুণ প্রজন্ম এখন কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখতে চায়।”

 

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবসময় মানুষের পাশে থাকতে হবে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নিতে হবে, যাতে মানুষ মনে করে এনসিপির কর্মীরাই তাঁদের আপনজন।

 

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের হারানোর কিছু নেই। যারা জীবন দিয়ে এই পথ তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে হলে ইতিবাচক চিন্তা ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। আমরা একটি সুন্দর, ইতিবাচক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল একটি সুন্দর বাংলাদেশ ও সুন্দর নারায়ণগঞ্জ। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রাজনীতিই করতে চায় এনসিপি।

 

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম বলেন, নতুন সদস্যদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিল। আবার কেউ কেউ নিজেরাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন রেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দলগুলোর কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, “দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা এনসিপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে তাঁরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁরা এখানে আশাহত হবেন না।”

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার, মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান প্রমুখ।


রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুল আলম আশরাফকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (১৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ পারভেজ প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

নোটিশে বলা হয়, রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে না নিয়ে জেলা ছাত্রদলকে অসহযোগিতা করার অভিযোগে ডোমার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে কেন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

 

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা ছাত্রদল নেতৃত্ব বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও নোটিশে জানানো হয়।

সমাবেশে নেতাকর্মী না নেওয়ায় ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয় সারজিস আলম বলেছেন, যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে চাঁদাবাজির ভয়াবহতা তুলে ধরে দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্যে করে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন গাইবান্ধায় আসি, যখন এই সাদুল্লাপুরে আসি। তখন ভ্যান চালক ভাইয়ের কাছে, অটোচালক চাচার সঙ্গে কথা বললে আমাদের শুনতে হয় একটা ভ্যান-একটা অটো চালানোর জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তখন সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারেনা।’

 

তিনি বলেন, ‘তুমি যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো-তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেটা যদি তুমি না নিতে পারো, সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও। আর যদি তুমি ক্ষমতাও না ছাড়ো, ব্যবস্থাও না নাও। তাহলে বুঝবো, তুমি দিনের বেলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গল্প করো আর রাতে বেলা অটোর টাকা, ভ্যানের চাঁদাবাজির টাকার তুমি ভাগ নাও।’

 

এনসিপির সাদুল্লপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শফিজল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন– এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি।

 

এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, শহীদ পরিবার সোসাইটি ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জেলার সাত উপজেলাতেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সারজিস আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। তার মেয়ে কানাডার নাগরিকত্বধারী। তার বোন ও তাদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। যার জন্য আপনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ এ দেশের নাগরিক নন।’

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা মহাসড়কে আয়োজিত ‘দেশ গড়ায় জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বর্তমান সরকার এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে ৬০০ জনেরও কর্মসংস্থান করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ৫ আগস্টের পর বড় বড় সাইনবোর্ড হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এ তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো ধারা না থাকায় সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই সৃষ্টি হতো না।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুন। তার বিচার হোক। আগামীকালই দেশে ফিরুন, আমরা সেটাই চাই।

যাদের জন্য জয় বাংলা স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় বোমা হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির উদ্যোগে রাজধানীতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে রাত ১২টার দিকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

 

শাহবাগে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

 

মশাল মিছিলে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

 

সমাবেশ শেষে নেতারা সাভারের হামলার ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

 

এর আগে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

সাভারে বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিল

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং উদযাপনমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী এলাকা-১৯২, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)-এ ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ-২০২৬ গঠন করা হয়েছে।

 

 

নবগঠিত পরিষদে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন তানভির-কে উপদেষ্টা করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন জহির মোহাম্মদ বাবর, ওয়াসিম আহমেদ অনিক, মাহফুজ ইকবাল, নবীনুল ইসলাম নবীন, সেলিম রেজা, জনি দেওয়ান, রাকিব খন্দকার, মঞ্জুরুল হক সৌরভ, সুজন সিকদার, এহসানুল হক ফেরদৌস, ইয়ালিদ নাঈম, লিংকন মিয়া, মোঃ নির্জন এবং তোফায়েল হোসেন।

 

এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন রকিব দেওয়ান রকি, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সুরুজ্জামান ,

 

সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরমান হোসেন বাবু, ইমু ইমরান, মোঃ সানোয়ার হোসাইন, আহমেদ ফয়সাল, মোশারফ হিমেল খান, মোঃ ইসমাইল হাবিব, কমল চন্দ্র, রহিচ আহমেদ রাফি, রায়হান মাহাবুব, আলহাজ্ব মাদবর, রাসেল তালুকদার স্বাধীন, তাজ খান নাঈম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম শাওন, রয়মান মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম নোমান, মাহমুদুল হাসান শোভন, শাফি ইমাম সহ আরো অনেকেই।

 

সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিষদটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়ায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উদযাপন কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিনকে উপদেষ্টা করে ঢাকা-১৯-আসনের জুলাই-আগস্ট উদযাপন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

নাগরিক সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর শেওরাপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সমস্যা সমাধান অভিযান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির বলেন, পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। নিজের গার্বেজটা ড্রেনে নিয়ে আমরা ফেলে দিই। সরকার তো প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করবে না। সরকার পরিষ্কার করে দেবে, নাগরিকদের সেটা রক্ষা করতে হবে।

 

এসময় বর্জ্য ড্রেনে ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতোপূর্বে উনার (ডা. শফিকুর রহমান) মতো দূরদর্শী নেতা সংসদে ছিল কি না, আমার জানা নেই। নিজ এলাকার দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবেন না: জামায়াত আমির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

 

ডি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিডার্স -এর উদ্যোগে প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় ICIMOD-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর আর্থিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ মাস্টার নজরুল ইসলাম, সভাপতি, লিডার্স নির্বাহী পরিষদ

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হাসান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য অংশীজন সভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিডার্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ. বি. এম. জাকারিয়া। তিনি বলেন, PROAACT প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন, অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (LAPA) প্রণয়ন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই জীবিকা উন্নয়ন এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থানীয় জ্ঞান ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সহযোগিতা কামনা করেন।লিডার্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মুজাহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত 

জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সম্পাদনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুর ভিডিও যুক্ত করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আম জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সমালোচনা করে পৃথক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে এ পোস্ট করেন তারা।

 

মশিউর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের এমপির ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে এনসিপির এমপি ডা. মাহমুদা মিতু আপুর ভিডিও জুড়ে দিয়ে আম জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান যে মহা অন্যায়টা করলো, সেটার কোনো ক্ষমা হবে না। আম তারেকের কী মা-বোন নেই?’

 

 

এ ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন, ‘আসলে তারেককে নিয়ে কথা বলতে আমার ঘৃণা লাগে। তার স্ত্রীকে যখন বডি শেমিং করা হয়েছিল, তখন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের হয়রানি আশা করি না।

 

তিনি আরও লেখেন, ‘আমার বক্তব্যের ভিন্ন বিশ্লেষণ বা সমালোচনা করা যেত। কিন্তু যে নোংরামিটা করা হয়েছে, সেটি সত্যিই ঘৃণ্য। তিনি যা করেছেন, তা আইনগতভাবেও অন্যায়। এখন সেই স্ক্রিনশট নিয়ে অনেকেই নোংরা মন্তব্য করছেন। পুরো বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

 

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মুহুর্তেই দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।’

সেই ভাইরাল ভিডিওতে মিতুকে জুড়ে দেওয়ায় তারেককে নিয়ে এনসিপির ক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একথা জানান।

 

প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

 

ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

 

এবিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে যা বলল জামায়াত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তের স্বার্থে করা পিবিআইয়ের আবেদনের পর এ আদেশ দেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনা সদস্য—জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।

 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হলে আদালত ডিএনএ সংগ্রহের অনুমতি দেন। এর আগে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

এদিকে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে জাহিদুজ্জামান বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

 

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্তের পরও মামলাটির রহস্য এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি।

তনু হত্যা মামলা, আরও দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার জেরে ফেনীর দুই দলীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের একজনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন-এনসিপির ফেনী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব এবং সোনাগাজী উপজেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজাউদ্দিন সজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

 

আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আকবর হোসেনকে অবিলম্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে নোটিশটি জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন বলেন, সেদিন দফায় দফায় যে ঝামেলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এ অভিযোগে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এমন কিছু কখনো আশা করিনি। বিষয়টি আমি কেন্দ্রকে জানাব।

 

জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব বলেন, শোকজের বিষয়টি আমাদের দলীয় ফেসবুক পেইজে দেখেছি। এখনো সরাসরি কোনো চিঠি হাতে পাইনি। তবে ধারণা করছি, আমি যেহেতু সোনাগাজীর ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম এবং সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঞ্চে দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অনুষ্ঠান শেষে সভাস্থল ও মঞ্চের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

জুলাই পদযাত্রায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না। শেখ হাসিনা কখনোই আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দিল্লির ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে।

 

সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে পিরোজপুর শহরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সরোয়ার তুষার বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না, তার জানাজা হবে না, তার কবর হবে না। একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না।

 

এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, গণভোট নাকি তারাই আবিষ্কার করেছেন। এখন গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণের ভোট নিজেদের দিকে নেওয়ার পর তিনি বলছেন, গণভোট অবৈধ।

 

তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি নামক দলটির গঠনও অবৈধ ছিল। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনারা যে সরকার গঠন করেছেন এবং ক্ষমতায় এসেছেন, সেটিও অবৈধ। সুতরাং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না।

 

সরোয়ার তুষার আরও বলেন, জুলাই সনদ যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীম হামিদী।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্না।

শেখ হাসিনার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে : সরোয়ার তুষার

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও পটকা ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

 

সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১০টায় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল সমর্থক। তার সঙ্গে ওই এলাকার আরও অর্ধশত ব্রাজিল সমর্থক রয়েছেন।

 

একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার সঙ্গেও প্রায় অর্ধশত আর্জেন্টিনার সমর্থক রয়েছেন।

ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় তখন হাবিবসহ আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস করেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থক অপূর্ব ও তার লোকজন বিষয়টি মনে রাখেন।

 

সোমবার আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় অপূর্ব ও তার লোকজনও আনন্দ উল্লাস করেন। এতে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দেন।

 

এরপর ব্রাজিল সমর্থকরা দলবল বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালান এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। এরপর যাওয়ার সময় কয়েকটি পটকা ফাটান। এসময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়জন সমর্থককে মারধর করেন।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, তারা সবাই কিশোর বয়সের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন পালিয়েছেন। তাদের ধরার চেষ্টা করছি।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এমন দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

5

 

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি সতর্ক বার্তা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

 

গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছাঃ মাকছুদা বেগম ও মোছাঃ মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।

 

আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে।

 

আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।

 

আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

 

পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

 

যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

 

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন এমপি গাজী নজরুল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d