
ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার জেরে ফেনীর দুই দলীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের একজনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন-এনসিপির ফেনী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব এবং সোনাগাজী উপজেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজাউদ্দিন সজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আকবর হোসেনকে অবিলম্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে নোটিশটি জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন বলেন, সেদিন দফায় দফায় যে ঝামেলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এ অভিযোগে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এমন কিছু কখনো আশা করিনি। বিষয়টি আমি কেন্দ্রকে জানাব।
জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব বলেন, শোকজের বিষয়টি আমাদের দলীয় ফেসবুক পেইজে দেখেছি। এখনো সরাসরি কোনো চিঠি হাতে পাইনি। তবে ধারণা করছি, আমি যেহেতু সোনাগাজীর ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম এবং সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঞ্চে দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অনুষ্ঠান শেষে সভাস্থল ও মঞ্চের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
Leave a Reply