মেস থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মেস থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

মেস থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকার অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস কক্ষ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

 

সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’

 

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল জানান, ‘লাশের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। আত্মহত্যা কিনা, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এমন দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

5

 

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি সতর্ক বার্তা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

রোববার (১৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। পরে দলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে কেবল ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’-এর কথা উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শাহপরাণ হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসে।

 

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলে।

 

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের জেরে ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের সম্ভাব্য সময় থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে। তবে নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানান জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

 

এ মাসেই ফলাফল প্রকাশ হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সবকিছু প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আমাদের জন্য তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

 

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একাধিকবার জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে, ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী কাজও চলছে। তবে সোমবার ফল প্রকাশ হচ্ছে না।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এসএসসি ও সমমানের ফল প্রস্তুত করতে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুলাইকে লক্ষ্য করেই কাজ চলছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জরুরি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ফল প্রস্তুতের কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ফল প্রকাশে কয়েকদিন দেরি হতে পারে।’

জানা গেছে, সাধারণত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

 

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী অংশ নিতে ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা রাজধানীর সংযুক্ত সরকারি সাতটি কলেজের নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে মোট আসন ১ হাজার ৯৯৭টি। এই ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ১১ হাজার ২৪৪ জন ভর্তিচ্ছু। সে হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন প্রায় ছয়জন পরীক্ষার্থী।

 

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পরীক্ষার্থীকে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। প্রতি চারটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা হবে। এ ছাড়া পছন্দের বিষয়ে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ৫ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক।

 

এর আগে একই দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরও আগে ১১ জুলাই কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলাফল প্রকাশ করা হয় ১২ জুলাই। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

 

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সরকারি সাতটি কলেজ হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

শেষ হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি যুদ্ধ

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য নিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি শিক্ষা বোর্ড।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ উপলক্ষেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা জানান, ফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে সব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

 

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানাল বোর্ড

সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ভূগোল প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভুল প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কেন্দ্রটিতে শুরুতেই প্রথম পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। অথচ ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তারা ওই প্রশ্নেই উত্তর লেখা শুরু করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভুলটি শনাক্ত করে প্রশ্নপত্রগুলো ফিরিয়ে নেন। প্রথম পত্রের সঠিক এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহের পর পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। এ সময় সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র দিতে গিয়েও আরেক দফা বিভ্রাট ঘটে। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে চলতি বছরের সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রশ্নপত্র বাছাই (সোর্টিং) করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের অসাবধানতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। পরে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেন, ঘটনার বিস্তারিত শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নির্ধারিত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রটিতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ ও শহীদ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন বিভ্রাটে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সংশোধিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সাতক্ষীরায় ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

বেলুচিস্তানের রুক্ষ, ধূসর পাহাড়শ্রেণির পটভূমিতে যখন একটি ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় সামরিক পোশাক পরিহিতা এক নারীকে চারপাশে সারিবদ্ধ সশস্ত্র নারী যোদ্ধা, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, কণ্ঠে অবিচল আত্মবিশ্বাস তখন সে দৃশ্য নিছক একটি প্রচার-ভিডিও থেকে অনেক বেশি কিছু হয়ে ওঠে। তা হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, একটি ঘোষণা, এবং একই সঙ্গে একটি ইতিহাসের নতুন পাতার সূচনা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাঁকে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনের একজন কমান্ডার হিসেবে, যুদ্ধনাম ‘সাদো’ নাম শাইনাজ বালোচ। ধারণা করা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র আন্দোলনে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এতটা প্রকাশ্য ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হয়েছেন।

 

তাঁর এই আবির্ভাব নিছক আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বেলুচিস্তানে নাগরিক প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটি ভিন্ন স্রোত ক্রমশ একে অপরের কাছাকাছি এসে মিলিত হচ্ছে। একদিকে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র মতো নাগরিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে আছেন মেহরাং বালোচ ও সাম্মি দীন বালোচের মতো নাম, যাঁরা জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। আর ঠিক এই দুই স্রোতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন শাইনাজ বালোচ একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী, যিনি বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাধারণ কর্মী থেকে সরাসরি এক অস্ত্রধারী কমান্ডারের ভূমিকায় উত্তরিত হয়েছেন।

 

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানের লড়াইকে বাইরের দুনিয়া দেখেছে এক সংকীর্ণ চোখে কখনো গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, কখনো পশ্চাৎপদতা, কখনো-বা বহিঃশক্তির চক্রান্ত হিসেবে। আর নারীদের বেলায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও সংকীর্ণ তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী, কেবল শোকার্ত মা-বোন হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে বারবার। শাইনাজ বালোচের আবির্ভাব সেই বহু পুরনো বয়ানকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেকে কান্নার প্রতিমূর্তি হতে দিতে রাজি নন। বরং নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সংগ্রামের গতিপথ নির্ধারণে সক্রিয় এক কুশীলব হিসেবে।

 

নিচের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তাঁর সেই বিরল সাক্ষাৎকারের মূল বক্তব্য এক নারীর ভাবনার জগৎ, যিনি নাগরিক সক্রিয়তা থেকে সশস্ত্র নেতৃত্বে পা রেখেছেন, ঠিক এমন এক মুহূর্তে, যখন বেলুচিস্তানের সংঘাত পৌঁছে গেছে নতুন এক তীব্রতায়।

 

★ ‘বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি’, নেতৃত্বের দর্শনগত ভিত্তি

 

শাইনাজ বালোচ তাঁর নেতৃত্বে ওঠার পথকে কোনো একক ঘটনার ফল বলে মানতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, এটি এক দার্শনিক উত্তরণ হেগেলের বিচ্ছিন্নতা-উত্তরণের (Entfremdung) ধারণার প্রতিধ্বনি। তাঁর যুক্তি, মানুষ নিজের প্রকৃত সত্তা খুঁজে পায় না নিঃসঙ্গতায়, বরং ইতিহাসের বৃহৎ প্রবাহে নিজেকে স্থাপন করার মধ্য দিয়েই। দখলদারিত্ব তাঁর কাছে কোনো বাহ্যিক আঘাত নয় এটি জন্ম থেকেই মানুষের ভেতরে বাস করা এক কাঠামোগত বাস্তবতা। তাঁর কথায়, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে টিকে থাকাটাই এক ধরনের আত্ম-বিচ্ছিন্নতা, আর প্রকৃত চেতনার জন্ম হয় সেই সত্য উপলব্ধির মুহূর্তে। তাই তাঁর কাছে অস্ত্র হাতে তোলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গে চূড়ান্ত পুনর্মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বেলুচিস্তানের মুক্তি সম্ভব নয় যদি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ কেবল ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকে। নারীরা এই সংগ্রামে আসছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা পূরণে, বরং নিজেদের হারানো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধারের তাগিদে।

 

★ নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না

 

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন গুম, নির্যাতন, প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেন। তাঁর দাবি, বেলুচ নারীরা কোনোদিনই আন্দোলনের প্রান্তবর্তী চরিত্র ছিলেন না, সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র উভয় পরিসরেই তাঁরা গঠন করেছেন প্রতিরোধের মূল কাঠামো। তিনি এমন এক বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা নারীর অস্ত্র হাতে তোলাকে সবসময় ব্যক্তিগত শোক বা ট্রমার ফল বলে সরলীকরণ করে। তাঁর ভাষায়, তাঁর সিদ্ধান্ত এসেছে সচেতন, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় থেকে, কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়। নাগরিক আন্দোলন যেমন বিওয়াইসি রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আনে, তেমনি তিনি মনে করেন কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে একটি সুসজ্জিত সামরিক কাঠামোর পতন ঘটানো যায় না।

 

★ নারী যোদ্ধার উত্থান, তিনটি মাত্রা

 

মজিদ ব্রিগেডের ফিদায়ী অভিযানে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শাইনাজ তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রথমত, রাজনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ রাষ্ট্র তাঁর ভাষায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে সশস্ত্র প্রতিরোধ আর ঐচ্ছিক নয়, অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ভেতরেই ঘটেছে এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর সমাজের সেকেলে, পিতৃতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলনের চাপে, যা নারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আগেই ঘরের ভেতরে মুক্ত করেছে। তৃতীয়ত, তরুণ নারীদের বাড়তে থাকা শিক্ষার হার ও রাজনৈতিক সচেতনতা। তাঁর মতে, একজন নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে দুটি বার্তা বহন করে রাষ্ট্রের প্রতি, যে তার দমননীতি ব্যর্থ হয়েছে; আর নিজের সমাজের প্রতি, যে জাতীয় মুক্তি অসম্পূর্ণ থাকবে লিঙ্গ মুক্তি ছাড়া।

 

★ আমাকে সবসময় বলা হয় নারী কমান্ডার

 

সবচেয়ে ক্ষুরধার প্রশ্নটি ছিল আত্মঘাতী অভিযানে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে এটি কি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত, নাকি হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বাধ্যবাধকতা? শাইনাজ এই প্রশ্নকেই একধরনের পক্ষপাত বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর যুক্তি, একজন পুরুষ যোদ্ধা যখন উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে যোগ দেয়, তাকে দেখা হয় আদর্শবাদী সৈনিক হিসেবে, কিন্তু একজন নারীর একই সিদ্ধান্তে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় বহিরাগত প্রভাব, মানসিক দুর্বলতা কিংবা জবরদস্তি। তাঁর ভাষায় ‘একজন পুরুষ কমান্ডারকে শুধু কমান্ডার বলা হয়, আমাকে বলা হয় নারী কমান্ডার।’ তিনি দাবি করেন, তাঁদের সংগঠনে যোদ্ধা নির্বাচন হয় দীর্ঘ আদর্শিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে, আবেগ বা প্রতিশোধের তাড়নায় নয়।

 

★ নাগরিক আন্দোলন বনাম অস্ত্র, প্রতিযোগিতা নয়, ধারাবাহিকতা

 

বিওয়াইসি-র মতো অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে শাইনাজের অবস্থান স্পষ্ট তিনি এই দুই পথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই চেতনার দুটি ভিন্ন প্রকাশ বলে বর্ণনা করেন। তবে ফ্রাঁৎস ফানোঁর বরাত দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন ঔপনিবেশিকতা যুক্তির ভাষা বোঝে না, তা কেবল সংগঠিত শক্তির সামনেই নতিস্বীকার করে। নাগরিক মিছিল ও ধরনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও মনে করেন, রাষ্ট্র এই প্রতিবাদগুলোকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা বা দমন করে চলেছে।

বৈধতা, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ এবং ভূরাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেলুচ প্রশ্নকে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রায়শই বৈশ্বিক শোষণ ও দখলদারিত্বের সহযোগী, তাই তাদের সনদের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা জাতীয় মুক্তি আন্দোলনগুলোকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তনের পথ বৈশ্বিক বিবেকের কাছে আবেদন নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করা।

 

★আমি কমান্ডার, এইটুকুই যথেষ্ট

 

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশে শাইনাজ কথা বলেন এক নারী কমান্ডার হিসেবে তাঁর নিজস্ব অবস্থান নিয়ে। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ‘প্রতিনিধিত্বের বোঝা’-র ধারণা তাঁর ভাষায়, পুরুষ সহযোদ্ধাদের কখনো পরিবারের সম্মিলিত শোকের ভার বহন করতে হয় না, অথচ নারীর কাছে সেই প্রত্যাশা থেকেই যায়। তিনি চান এমন এক বেলুচিস্তান, যেখানে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যাশাগুলোর অস্তিত্বই থাকবে না। তাঁর কাছে বিজয়ের অর্থ কেবল একটি নতুন সীমানা বা ক্ষমতার হাতবদল নয় বরং ন্যায়বিচার, লিঙ্গসাম্য ও সম্পদের যৌথ মালিকানার ওপর দাঁড়ানো এক নতুন সমাজব্যবস্থা, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় নির্ধারিত হবে যুদ্ধ বা দারিদ্র্যের ইতিহাস দিয়ে নয়, বরং তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা দিয়ে।

 

★ সম্পাদকীয় নোট

 

বেলুচিস্তানের সংঘাত প্রবেশ করেছে এক নতুন, তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। এতদিন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি মূলত নিবদ্ধ ছিল বিওয়াইসি এবং মেহরাং বালোচ, সাম্মি দীন বালোচের মতো নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর, সশস্ত্র বিদ্রোহের ভেতরকার পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত থেকে গেছে। শাইনাজ বালোচের প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংঘাতের এক লক্ষণীয় বাঁক নির্দেশ করে।

 

এই লেখাটি একটি সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক প্রতিবেদনের ভাবানুবাদ ও সাহিত্যিক উপস্থাপনা মাত্র। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎকারদাতা নিজের তা কোনোভাবেই এই লেখার অনুবাদক বা কোনো প্রকাশনার নীতিগত অবস্থান নয়।

 

একটি সশস্ত্র আন্দোলনকে বোঝার চেষ্টা তার পদ্ধতিকে সমর্থন করা নয়, বরং তা সাংবাদিকতার এক মৌলিক দায়িত্ব, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।

পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, এই বিবরণের পাশাপাশি রাষ্ট্র, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘ ও জটিল সংঘাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা গড়ে তোলার জন্য।

 

অনুবাদ ও উপস্থাপনা, জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মিনি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে চালকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বুধবার(২২ জুলাই) বিকাল ৫ টার পর থেকে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি স্টেশনে সন্ধা ৭টার মধ্যেই সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক জটিলতার সময় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব ছবি দেখে অনেকেই জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা করে নিজ নিজ যানবাহনের জন্য তেল কিনতে ছুটে যান। এতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকটের খবর তাদের কাছে নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গুজবের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় সাময়িকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানায়, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল কেনা কিংবা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।

 

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁওয়ে সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গুজবের কারণে সৃষ্ট সাময়িক চাপ কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন

বাবাকে দাফন করেছেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে। রাতভর দায়িত্ব পালন করেছেন একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরদিন সকালে চোখের জল মুছেই বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকন দাড়িয়া৷

 

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকন দাড়িয়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাটের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে ২ মাস আগে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) প্রায় ১৯ বছর ধরে মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়ে সংসার চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র নির্ভরতা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

 

ইকন জানান, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ তার বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে তিনি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে একবার এবং ভোর ৪টার দিকে আবারও বমি করেন। এরপর ভোর ৫টার দিকে তিনি ছটফট করতে থাকেন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

 

ইকন বলেন, ভোরের দিকে বাবা খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলেন। একসময় হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে আবার শ্বাস নিতে শুরু করলে দ্রুত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা যান।

 

সকাল ৬টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

 

বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েও থেমে থাকেননি ইকন। দাফন শেষে রাতেই তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।

 

তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে আমাকে ছুটি নিতে বলেছিল। কিন্তু আমার সহকর্মীদের কষ্ট হবে ভেবে আমি নিজেই ডিউটিতে যাই। পরদিন সকালে আবার পরীক্ষা দিই। এখন পরিবারে উপার্জনের মতো আমি একাই আছি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। মা আর ভাইকে নিয়েই এখন আমার পুরো সংসার।

 

রাতের ডিউটির সময় ইকনের পড়াশোনার দৃশ্য নিয়মিত দেখেছেন স্থানীয়রা।

 

কৃষি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক শেখ মিরানুজ্জামান বলেন, রাতে যতবার এটিএম বুথে গেছি, ছেলেটিকে বই হাতে পড়তে দেখেছি। কেউ টাকা তুলতে এলে দরজা খুলে দিত, কাজ শেষ হলে আবার বই নিয়ে বসে পড়ত। এমন পরিশ্রমী ছেলে খুব কমই দেখা যায়।

 

স্থানীয় বাদশা শেখ বলেন, বাবাকে দাফন করার কয়েক ঘণ্টা পরও ছেলেটি দায়িত্ব পালন করেছে। সংসারের দায়িত্ব তাকে কতটা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে, সেটা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না।

 

খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসিব উদ্দিন রাখি বলেন, ইকন আমাদের কলেজের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.১১ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। বাবার মৃত্যুর পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা তার দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

 

একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, অসহায় মা, সংসারের দায়িত্ব, রাতের চাকরি ও নিজের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইকন দাড়িয়া। তার এই সংগ্রাম ইতোমধ্যেই বাগেরহাটজুড়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বাবাকে দাফনের পর এটিএমে ডিউটি, সকালে বসলেন এইচএসসি পরীক্ষায়

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের পর রাজনীতির মাঠে ঝড় উঠেছে।

 

সামাজিকমাধ্যমে এখন ট্রেন্ডিং ইস্যু গাজী নজরুল ইসলাম। দল থেকে তাকে কী শাস্তি দেয়া হতে পারে বা এমপি নজরুলের ভবিষ্যত কী – এ নিয়ে সরগরম গোটা দেশ।

 

এমন আবহে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।

 

বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মোনামি লিখেছেন, ‘দুইদিন আগেই বলেছিলাম, দায়িত্বশীল হতে হবে। দুইদিন পর আজকে ফেসবুকে ঢুকে দেখি জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম… Why!!! Simply why!!’

 

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

প্রথমদিকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলামও ফেসবুক পোস্ট ও লিখিত বিবৃতিতে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াত নেতার ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

 

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। ওই তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

এছাড়া গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে।

গাজী নজরুল জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ইয়াছিন মোড়লঃ

সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

 

সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সোলাইমান কবির, অ্যাডভোকেট আশেক ইলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু।

 

 

বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট নারীকে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

 

সমাবেশ থেকে বক্তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুড়তলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৮), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৬) এবং নাতনি মিম আক্তার (১৪)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিম নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহার একটি মই দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠছিলেন আশা খাতুন। এ সময় মইটি পাশ দিয়ে যাওয়া খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যান তার ফুফু হাসিনা বেগম। এ সময় পাশে থাকা শিশু মিমও তাদের সংস্পর্শে চলে এলে সেও বিদ্যুতায়িত হয়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

 

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। দুর্ঘটনায় এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একজনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনের

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকার অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস কক্ষ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

 

সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’

 

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল জানান, ‘লাশের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। আত্মহত্যা কিনা, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

মেস থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d