এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানাল বোর্ড - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানাল বোর্ড

এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানাল বোর্ড

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য নিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি শিক্ষা বোর্ড।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ উপলক্ষেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা জানান, ফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে সব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

 

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।


সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ভূগোল প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভুল প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কেন্দ্রটিতে শুরুতেই প্রথম পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। অথচ ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তারা ওই প্রশ্নেই উত্তর লেখা শুরু করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভুলটি শনাক্ত করে প্রশ্নপত্রগুলো ফিরিয়ে নেন। প্রথম পত্রের সঠিক এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহের পর পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। এ সময় সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র দিতে গিয়েও আরেক দফা বিভ্রাট ঘটে। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে চলতি বছরের সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রশ্নপত্র বাছাই (সোর্টিং) করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের অসাবধানতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। পরে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেন, ঘটনার বিস্তারিত শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নির্ধারিত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রটিতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ ও শহীদ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন বিভ্রাটে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সংশোধিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সাতক্ষীরায় ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ

আশা শিক্ষা কর্মসূচি হতে প্রাথমিকে বৃত্তি পেলেন আব্দুল্লাহ উমার

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

সারাদেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত রোববার। এ বছর মোট ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে মেধাভিত্তিক ট্যালেন্টপুলে ৩২,৯৬৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৬,২৮১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। এর‌ই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ আশা শিক্ষা কর্মসূচি হতে পাঠসহায়তা প্রাপ্ত ৬১১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

 

গত রোববার ফলাফল প্রকাশিত হলে আশা শিক্ষা কর্মসূচি আওতায় আশা ভেলাজান ব্রাঞ্চ শিক্ষা কেন্দ্র থেকে সাধারণ বৃত্তি পায় আব্দুল্লাহ আল উমার। সে সদর উপজেলার মোলানী ছেপড়িকুড়া এলাকার বাসিন্দা ও ছেপড়িকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

 

আব্দুল্লাহ উমার মা লাভলী আক্তার জানান, আশা শিক্ষা কেন্দ্রর পাঠদান অনেক ভালো। এখানকার শিক্ষক শিক্ষিকারা খুব দক্ষতার সহিত যত্নসহকারে বাচ্চাদের পাঠদান দিয়ে থাকে। দূর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন করে পাঠদান করার। আমার ছেলে উমার এ অর্জনের জন্য আমরা আনন্দিত।

শিক্ষা সেবিকা ময়না আক্তার জানান, আমার বেলি শাখায় ৬২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছি। তাদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে হাতে কলমে শেখাচ্ছি। আব্দুল্লাহ উমার সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে একজন শিক্ষা সেবিকা হিসেবে আমি অনেক খুশি।

 

আশা ভেলাজান ব্রাঞ্চের শিক্ষা সুপারভাইজার মোঃ সাফিরুল ইসলাম শাওন জানান, ভেলাজান ব্রাঞ্চে আটটি শিক্ষা কেন্দ্রে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৪৮৮ জন শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করছি। তাদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে উদ্ধতনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। আমাদের বেলি শাখা থেকে একজন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা সকলেই চেষ্টা করছি। সামনে যেন আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সেটা নিয়েও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

 

আশা ভেলাজান ব্রাঞ্চের বি এম মোঃ মাছুম হায়দার জানান, নিয়মিত আমিও প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রে ভিজিট করি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলি তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করি এছাড়াও আমাদের শিক্ষা সুপারভাইজার নিয়মিত প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রে ভিজিট করে। আমরা আশা রাখছি সামনে এই বৃত্তির সংখ্যা আরো বাড়বে।

 

আশা ঠাকুরগাঁও সদর জেলা সিনিয়র শিক্ষা অফিসার মোঃ আজাদুল হক জানান, এটা শিক্ষার্থীদের অর্জন তাদের কঠিন অধ্যবসায়, অভিভাবকদের সহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা এবং আশা শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত নিবেদিত প্রাণ শিক্ষা সেবিকাদের পরিশ্রমের সম্মিলিত ফল।শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ, নিয়মিত অনুশীলন এবং মানসম্মত শিক্ষায় সহায়ক পরিবেশ তৈরির অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সাফল্য কামনা করি।

আশা শিক্ষা কর্মসূচি হতে প্রাথমিকে বৃত্তি পেলেন আব্দুল্লাহ উমার 

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

 

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লিখেছেন, আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশের ২ হাজার ৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

১। সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

 

২। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে, প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি-সহ প্রয়োজনীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

৩। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

 

৪। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়া হবে।

 

৫। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

পোস্টের শেষে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথচলায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।

এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সরকারের ৫ উদ্যোগ

ঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, আজিমপুরসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

এর আগে সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুর ১টা পর্যন্ত, ওই এলাকায় শিক্ষার্থীদের কোনো জমায়েত বা অবস্থান দেখা যায়নি। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন করা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

তবে পুলিশ ও বিজিবি সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই, দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর মুহূর্তেই ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল বন্ধ

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

 

মোঃআশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ সরকারের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখার উদ্যোগে বাংলা কিউআর (Bangla QR) বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার হায়দার আলী মার্কেট প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

উদ্বোধন উপলক্ষে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখার আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি পীরগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হায়দার আলী মার্কেটে এসে শেষ হয়।

 

পরে অতিথিরা ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বাংলা কিউআর বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। র‌্যালিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. ইমদাদুর রহমান, মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও মো. রুহুল আমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি, সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান জীবনসহ পূবালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ বদরুল হুদা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। একটি স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নগদ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—সবাই দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঠাকুরগাঁও শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন—বাংলা কিউআর এই স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেই উদ্যোগকে সফল করতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

 

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পীরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ডিজিটাল লেনদেনের সহজ পদ্ধতি পৌঁছে দেওয়া এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় তাদের উদ্বুদ্ধ করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়ন কর্মসূচিতে পূবালী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো কাগজের নোট ছাপাতে সরকারের বিপুল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে সেই অর্থ দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি জানান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—এমনকি ছোট চায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছেও বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

 

আরও বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি, পীরগঞ্জ শাখা প্রধান পরেশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজে, দ্রুত ও নিরাপদভাবে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং ব্যবসায়ীদের লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে।

 

তিনি আরও বলেন, পূবালী ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করাই এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। তিনি সকল ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে মানুষ নিরাপদ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত আর্থিক সেবা প্রত্যাশা করে। ক্যাশলেস লেনদেন সেই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সহজেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটালভাবে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন এবং আরও বেশি মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসবেন।

 

এ সময় আরেক ব্যবসায়ী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের দাম সহনীয় করার বিষ

নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন।

চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে এরই মধ্যে দেশের সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠেছে।

 

এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, এইচএসসি ও সমমানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।

 

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগকে আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি এবং এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই।

 

‘‘২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখা ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সকল পরীক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে মর্মে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে আজ সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

 

‘‘তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

‘‘অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’’

 

পরীক্ষা স্থগিত হবে না, ৫৯ জেলার এইচএসসি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলের অদূরে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

 

এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় নিজেদের পন্টুনের সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ২৬ বছর বয়সী সাদিক।

 

সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারই ছিল তাঁর দায়িত্ব। গত মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কাজেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

 

সাদিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজার এলাকার কুমরাকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।

 

সহকর্মীরা জানান, গত বছর তিনি ফায়ার সার্ভিসের ‘সেরা ডুবুরি’ হিসেবে পদক পেয়েছিলেন।

 

ঘটনার বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে নিয়মিত কচুরিপানা জমে থাকে। সেগুলো পরিষ্কার করতে নিখোঁজ সদস্যসহ তিনজন স্পিডবোটে কাজ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।

 

তিনি বলেন, “সঙ্গে থাকা অপর দুই সদস্যের বর্ণনা অনুযায়ী সামনের দিকে থাকা সাদিক পড়ার সময় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে ধারণা করছি। কেননা, তিনি প্রশিক্ষিত ডুবুরি, কোনো আঘাত না পেলে তিনি এভাবে নিখোঁজ হতেন না।”

 

নিখোঁজ সহকর্মীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান।

৮ ঘণ্টা পর শীতলক্ষ্যায় উদ্ধার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিকের মরদেহ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের চীন থেকে মেহেরপুরে আসেন এক চীনা নাগরিক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে নিয়ে কয়েক মাস চীনে বসবাসের পর আবার গোপনে মেহেরপুরে ফিরে এসেছেন বলেও দাবি করেন তারা।

 

তবে তাদের উপস্থাপিত বিয়ের কাগজপত্র, আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি এখন রহস্যে ঘেরা। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, আইনজীবী মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

জানা গেছে, চীনের নাগরিক ডং জে যিনি বর্তমানে নিজের নাম মোহাম্মদ আলী বলে পরিচয় দিচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেরপুর পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার বাসিন্দা শরিফ ড্রাইভারের মেয়ে কেয়া খাতুনের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

কেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রেমের টানে ডং জে মেহেরপুরে এসে প্রথমবার শহরের সেভেন সেন্স রেস্টুরেন্টে কেয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর প্রায় ১৭ দিন শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার জাহাঙ্গীর ইন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কেয়াকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর দুজন চীনে চলে যান এবং সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর সম্প্রতি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন।’

 

এদিকে ডং জে এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে কেয়া তাকে পরামর্শ দেন চাইনিজ ভাষায় বলতে। বিষয়টি সেখানে উপস্থিত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে।

 

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, কেয়ার বিয়ে কিংবা চীনে যাওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। বুধবার রাতে চীনা নাগরিককে নিয়ে কেয়া গোপনে বাবার বাড়িতে ওঠেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরদিন সকালেই তারা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যান।

 

খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কেয়ার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

 

পরে কেয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও ঢাকার পথেই যাচ্ছেন বলে জানান। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে জানা যায়, তারা মেহেরপুর শহরের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার একটি পাঁচতলা ভবনে ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে যেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের খুঁজে পান।

 

সাংবাদিকদের সামনে মোহাম্মদ আলী ও কেয়া দাবি করেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা বৈধভাবে বিয়ে করেছেন এবং বিয়ের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি নজরে আসে।

 

এদিকে দম্পতির দেখানো হলফনামা, নিকাহনামা ও ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত এফিডেভিটে নোটারি পাবলিক ও মেহেরপুর জজ আদালতের আইনজীবী রূতসোভা মণ্ডলের নাম, সিলমোহর ও স্বাক্ষর রয়েছে।

ধর্মান্তরের দাবি, প্রেমের টানে মেহেরপুরে চিনা নাগরিক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয় সারজিস আলম বলেছেন, যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে চাঁদাবাজির ভয়াবহতা তুলে ধরে দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্যে করে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন গাইবান্ধায় আসি, যখন এই সাদুল্লাপুরে আসি। তখন ভ্যান চালক ভাইয়ের কাছে, অটোচালক চাচার সঙ্গে কথা বললে আমাদের শুনতে হয় একটা ভ্যান-একটা অটো চালানোর জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তখন সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারেনা।’

 

তিনি বলেন, ‘তুমি যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো-তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেটা যদি তুমি না নিতে পারো, সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও। আর যদি তুমি ক্ষমতাও না ছাড়ো, ব্যবস্থাও না নাও। তাহলে বুঝবো, তুমি দিনের বেলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গল্প করো আর রাতে বেলা অটোর টাকা, ভ্যানের চাঁদাবাজির টাকার তুমি ভাগ নাও।’

 

এনসিপির সাদুল্লপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শফিজল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন– এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি।

 

এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, শহীদ পরিবার সোসাইটি ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জেলার সাত উপজেলাতেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সারজিস আলম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি।

 

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই জমির একাংশ দখল করে রাতের আঁধারে রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাফি দাবি করেছেন, তিনি বৈধ মালিকদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমেই জমি কিনেছেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত এই ব্যক্তির রাজনীতিতে যোগদান তখনও ছিল আলোচনার বিষয়।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে কেনা জমিসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট জমির পরিমাণ ৪০ একর ৬৪ শতাংশ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর ৯–এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রবেশপথে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সম্প্রতি রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

এদিকে অভিযোগের জবাবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কলাপাড়া সিক্স লেন মহাসড়ক সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট জমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, সিক্স লেন সড়কের পাশে ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে ওই জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে রাস্তার জন্য কিছু জায়গা চেয়ে অনুরোধ করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের এখতিয়ার তার নেই।

 

পরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলা মামলায় দাবিকৃত মালিক পক্ষ ৩টি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করে দখল বুঝে নিয়ে সেখানে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

আমি কারও জমি দখল করিনি। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি বায়না করে রাস্তা করেছি। রাস্তা নির্মাণের পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন, যাতে আমার এবং আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। এ নিয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি বিদ্যালয়ের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে। বিদ্যালয়ের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ, বিতর্কে এনসিপি নেতা কাফি

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য নিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি শিক্ষা বোর্ড।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ উপলক্ষেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা জানান, ফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে সব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

 

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানাল বোর্ড

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণের আগে লামিন ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন।

 

স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরইএফইএফ) জানিয়েছে, তরুণ এই ফরোয়ার্ড পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং ফাইনালে খেলতে প্রস্তুত।

 

বৃহস্পতিবার নিউ জার্সিতে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর প্রথম অনুশীলনে মূল দলের সঙ্গে দেখা যায়নি ইয়ামালকে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পেদ্রো পোরোর সঙ্গে মাঠের একপাশে আলাদাভাবে হালকা রিকভারি সেশন করেন তিনি। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তার চোট নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

 

তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরইএফইএফ জানায়, ইয়ামাল ও পোরোর আলাদা অনুশীলন ছিল কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ধকল কাটিয়ে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখতে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইয়ামালের কোনো চোট নেই। বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে শতভাগ ফিট অবস্থায় মাঠে নামানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ রিকভারি সেশন পরিচালনা করা হয়েছে।

 

ফলে রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের আক্রমণভাগে লামিন ইয়ামালকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তার উপস্থিতি স্পেনের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

 

 

ইয়ামালের চোট শঙ্কা নিয়ে যা জানাল স্পেন

পারিবারিক কলহের জেরে বাবার হাতে ৭ মাসের শিশু হ/ত্যা গ্রেপ্তার ১

 

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার হাতে ৭ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ।

 

নিহত শিশু রাফা মনির পরিবারের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে পরিবারটি তুরাগ এলাকার একটি বস্তিতে বসবাস করছিল।

 

শিশুটির মা লিমা আক্তার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী কবির হোসেনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কবির হোসেন তার কোল থেকে শিশু রাফাকে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে শিশুটিকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

 

লিমা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী নিয়মিত কাজ করতেন না এবং প্রায়ই মাদক সেবন করতেন। এসব বিষয় নিয়েই তাদের সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।

 

তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ফয়সাল জানান, ঘটনার পর বুধবার রাতেই অভিযুক্ত কবির হোসেনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে আছড়ে হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মায়ের কোল থেকে ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে আছাড় মেরে হত্যা করলেন বাবা

নীলফামারী তে জুলাই শহীদ দিবস পালন

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী

১৬/জুলাই/২০২৬ : নীলফামারীতে জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে “জুলাই স্মৃতি সব্ম্ভে”শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। পরে দোয়া শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় জেলা শহরের বিডি হল সংলগ্ন জুলাই স্মৃতি সব্ম্ভে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ নায়িরুজামান পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম পুষ্পামাল্য অর্পণ শেষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জুলাই যোদ্ধাগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান।

নীলফামারী তে জুলাই শহীদ দিবস পালন

ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং মানবিক চিকিৎসক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। এ সময় তারা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে তারা কবর জিয়ারত করেন।

 

কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেন সফরসঙ্গীরা।

 

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

 

এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ আবু সাঈদের মায়ের হাতে উপহার তুলে দেন ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। পাশাপাশি শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।

 

ডা. এস এম খালিদুজ্জামান বলেন, শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য প্রেরণা। শহীদ পরিবারের পাশে থাকা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি জাতিরও নৈতিক দায়। তিনি শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

সফর শেষে নেতৃবৃন্দ পুনরায় শহীদ পরিবারের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং শহীদদের আদর্শ ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন শিবির সভাপতি

সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ভূগোল প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভুল প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কেন্দ্রটিতে শুরুতেই প্রথম পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। অথচ ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তারা ওই প্রশ্নেই উত্তর লেখা শুরু করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভুলটি শনাক্ত করে প্রশ্নপত্রগুলো ফিরিয়ে নেন। প্রথম পত্রের সঠিক এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহের পর পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়। এ সময় সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র দিতে গিয়েও আরেক দফা বিভ্রাট ঘটে। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে চলতি বছরের সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রশ্নপত্র বাছাই (সোর্টিং) করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের অসাবধানতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। পরে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেন, ঘটনার বিস্তারিত শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নির্ধারিত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।

 

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রটিতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ ও শহীদ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন বিভ্রাটে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সংশোধিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সাতক্ষীরায় ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d