স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ, বিতর্কে এনসিপি নেতা কাফি
স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ, বিতর্কে এনসিপি নেতা কাফি

স্কুলের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ, বিতর্কে এনসিপি নেতা কাফি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি।

 

খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই জমির একাংশ দখল করে রাতের আঁধারে রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাফি দাবি করেছেন, তিনি বৈধ মালিকদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমেই জমি কিনেছেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত এই ব্যক্তির রাজনীতিতে যোগদান তখনও ছিল আলোচনার বিষয়।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে কেনা জমিসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট জমির পরিমাণ ৪০ একর ৬৪ শতাংশ। এর মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর ৯–এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা আছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রবেশপথে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সম্প্রতি রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান কাফি। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

এদিকে অভিযোগের জবাবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কলাপাড়া সিক্স লেন মহাসড়ক সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট জমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, সিক্স লেন সড়কের পাশে ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে ওই জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে রাস্তার জন্য কিছু জায়গা চেয়ে অনুরোধ করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের এখতিয়ার তার নেই।

 

পরে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলা মামলায় দাবিকৃত মালিক পক্ষ ৩টি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করে দখল বুঝে নিয়ে সেখানে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

আমি কারও জমি দখল করিনি। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি বায়না করে রাস্তা করেছি। রাস্তা নির্মাণের পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন, যাতে আমার এবং আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। এ নিয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি বিদ্যালয়ের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে। বিদ্যালয়ের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


নওগাঁর নিয়ামতপুরে দাফনের ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কয়েস গ্রামে কবর থেকে সাজ্জাদ আলীর লাশ উত্তোলন করা হয়। নিহত সাজ্জাদ আলী ওই গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি বিদ্যুতের পোলের ওপর কাজ করছিলেন সাজ্জাদ আলী। এ সময় সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে পোল থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শফিকুল ওই সময় নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন ও আশ্বস্ত করে পারিবারিকভাবে সাজ্জাদ আলীর দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন।

পরে এ ঘটনায় নিহত সাজ্জাদ আলীর মা আজিদা বিবি বাদী হয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শফিকুলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছাত্রাজিতপুর গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে এবং তার বয়স ৬৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে রোববার সাজ্জাদ আলীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। লাশ উত্তোলনের সময় নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেল্লাল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের মা ও মামলার বাদী আজিদা বিবি বলেন, আমার ছেলে ঠিকাদারের অবহেলায় মারা গেছে। আমার ছেলের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পোলের ওঠার বেল্টসহ সকল সরঞ্জাম ছিল দুর্বল। এ কারণে বিদ্যুতের পোলের ওপর থেকে বেল্ট ছিঁড়ে নিচে পড়ে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশে নিহত ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে দাফনের ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ২১৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক আটক

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২১৬ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মোঃ জাহাঙ্গীর (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পেরিয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ৪ নম্বর কলনী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পেরিয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধীন চোষপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪ নম্বর কলনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোঃ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২১৬ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

আটক মোঃ জাহাঙ্গীর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪ নম্বর কলনী গ্রামের বইজ উদ্দিনের ছেলে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা।

 

বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

 

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে বিজিবি।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ২১৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক আটক

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ও সহযোগিতায়: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানিকগঞ্জ ইউনিট।

 

 

অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় কলেজের বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও কলেজ রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, দুর্ঘটনা বা আকস্মিক অসুস্থতার সময় তাৎক্ষণিক করণীয় এবং একজন আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত কীভাবে নিরাপদে সহায়তা করা যায়—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মাহফিল খান স্যার। তিনি শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে বলেন, একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, সমাজের বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা দুর্যোগের মুহূর্তে সঠিক সময়ে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারা একজন স্বেচ্ছাসেবীর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানিকগঞ্জ ইউনিটের সেক্রেটারি সহ ইউনিট লেভেল অফিসার, যুব প্রধান, উপ যুব প্রধান-১, রোভার স্কাউট লিডার এবং ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

 

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের মৌলিক বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হয়। আহত ব্যক্তির প্রাথমিক অবস্থার মূল্যায়ন, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিং, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে করণীয়, দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদভাবে রোগী স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার সুযোগ পান। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা হয়।

 

আয়োজকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব আরও বিকশিত হবে। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

 

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা আয়োজনের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা ভবিষ্যতেও প্রাথমিক চিকিৎসা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

প্রাথমিক চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের জালালী সরকারপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের পাঁয়তারা, বাঁশের বেড়া ভেঙে ফেলার হুমকি এবং লাঠিসোঁটা, দা ও কোদাল নিয়ে হামলা করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ (৫০)।

 

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল মজিদ। অভিযোগে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৬০), মোঃ খয়রুল ইসলাম (৩৫), মোঃ কালাম (৪০), মোঃ সালাম (৪৫) ও মোঃ মাসুদ রানা (২৫)-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই জালালী সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগকারী আব্দুল মজিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ খয়রুল ইসলাম ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জালালী মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আব্দুল মজিদের দাবি, তার দাদা ফয়েজ উদ্দিন সরকার ও দাদার ভাই বদিউদ্দিন সরকারের নামে সিএস রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তিসহ বিভিন্ন সময়ে ২৫টি দলিলের মাধ্যমে মোট ৯১ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ শতক জমি তারা ভোগদখলে রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আব্দুল মজিদের অভিযোগ, তার প্রাপ্য ১৭ শতক জমি প্রতিপক্ষ তাকে ভোগদখল করতে দিচ্ছে না। একই সঙ্গে রেকর্ডীয় ও দলিলকৃত সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরদিকে, বিবাদীদের বিক্রি করা ৭ শতক জমির দখলও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আব্দুল মজিদের বাড়ির পশ্চিম পাশে তার চাচাতো ভাই আসাদুজ্জামানকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করেন। এ সময় তারা যেকোনো সময় জমি দখল করে নেওয়া এবং ক্ষতিসাধনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

 

আব্দুল মজিদ বলেন, “আমার বাড়ির পশ্চিম পাশে থাকা টিউবওয়েলের বেড়া ভেঙে বাঁশ-বেরু ফেলে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। লাঠিসোঁটা, দা ও কোদাল নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

 

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় সংঘর্ষ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী ও তার স্বজনরা।

 

অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে আসাদুজ্জামান (৩৫) ও শাহাজাত (৩৬)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ঘটনার আরও সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে, যা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করবেন।

 

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং প্রতিপক্ষ যাতে তার বসতবাড়ি ও জমিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশের আইনগত সহায়তা চেয়েছেন আব্দুল মজিদ।

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভূল্লী থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

গাইবান্ধায় রাস্তা অবরোধ করে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর মানববন্ধন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর গুরুমাতা মৌ হিজড়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি ও জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠী উন্নয়ন সংস্থা, গাইবান্ধা জেলা-এর উদ্যোগে স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক সদস্য ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রংপুর সদর থানার রানা ওরফে রানী হিজড়া গাইবান্ধার তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর গুরুমাতা মৌ হিজড়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

বক্তারা অবিলম্বে মৌ হিজড়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং রানা ওরফে রানীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

পরে বিক্ষোভকারীরা গাইবান্ধা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর গানাসাসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।

এ বিষয়ে রানা ওরফে রানী হিজড়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধায় রাস্তা অবরোধ করে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর মানববন্ধন

*শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু।*

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

দৈনিক আমাদের দেশ।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুঞ্জয় বাছাড় (৩৫) নামে এক মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত মৃত্যুঞ্জয় বাছাড় পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের চিত্তরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি ফল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন।

 

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, সকালে মৃত্যুঞ্জয় তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বুড়িগোয়ালিনী এলাকার একটি বাগানে বেল পাড়তে যান। বেলা ১২টার দিকে তিনি একটি বেলগাছে ওঠেন। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

 

পাশে কাজ করা শ্রমিকরা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ছুটে এসে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে থাকা শ্রমিক শোকর আলী জানান, তারা দুজন সকালে বেল পাড়তে বাগানে যান। মৃত্যুঞ্জয় একটি গাছে এবং তিনি অন্য একটি গাছে উঠে বেল পাড়ছিলেন। হঠাৎ মৃত্যুঞ্জয়ের পড়ে যাওয়ার শব্দ ও চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত নিচে নেমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩