
শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন বিচারক
ষ্টাফ রিপোর্টার : রুবেল হোসেন
গোপালগঞ্জে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবির মাথায় ওয়েট পেপার দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সুজন মিয়া।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার পর এজলাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারসহ তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন জেলা আইনজীবি সমিতি

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন।
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মিনি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে চালকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বুধবার(২২ জুলাই) বিকাল ৫ টার পর থেকে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি স্টেশনে সন্ধা ৭টার মধ্যেই সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক জটিলতার সময় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব ছবি দেখে অনেকেই জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা করে নিজ নিজ যানবাহনের জন্য তেল কিনতে ছুটে যান। এতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়।
তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকটের খবর তাদের কাছে নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গুজবের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় সাময়িকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানায়, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল কেনা কিংবা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁওয়ে সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গুজবের কারণে সৃষ্ট সাময়িক চাপ কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।

বাবাকে দাফন করেছেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে। রাতভর দায়িত্ব পালন করেছেন একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরদিন সকালে চোখের জল মুছেই বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকন দাড়িয়া৷
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকন দাড়িয়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাটের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে ২ মাস আগে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) প্রায় ১৯ বছর ধরে মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়ে সংসার চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র নির্ভরতা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।
ইকন জানান, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ তার বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে তিনি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে একবার এবং ভোর ৪টার দিকে আবারও বমি করেন। এরপর ভোর ৫টার দিকে তিনি ছটফট করতে থাকেন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
ইকন বলেন, ভোরের দিকে বাবা খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলেন। একসময় হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে আবার শ্বাস নিতে শুরু করলে দ্রুত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা যান।
সকাল ৬টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েও থেমে থাকেননি ইকন। দাফন শেষে রাতেই তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে আমাকে ছুটি নিতে বলেছিল। কিন্তু আমার সহকর্মীদের কষ্ট হবে ভেবে আমি নিজেই ডিউটিতে যাই। পরদিন সকালে আবার পরীক্ষা দিই। এখন পরিবারে উপার্জনের মতো আমি একাই আছি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। মা আর ভাইকে নিয়েই এখন আমার পুরো সংসার।
রাতের ডিউটির সময় ইকনের পড়াশোনার দৃশ্য নিয়মিত দেখেছেন স্থানীয়রা।
কৃষি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক শেখ মিরানুজ্জামান বলেন, রাতে যতবার এটিএম বুথে গেছি, ছেলেটিকে বই হাতে পড়তে দেখেছি। কেউ টাকা তুলতে এলে দরজা খুলে দিত, কাজ শেষ হলে আবার বই নিয়ে বসে পড়ত। এমন পরিশ্রমী ছেলে খুব কমই দেখা যায়।
স্থানীয় বাদশা শেখ বলেন, বাবাকে দাফন করার কয়েক ঘণ্টা পরও ছেলেটি দায়িত্ব পালন করেছে। সংসারের দায়িত্ব তাকে কতটা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে, সেটা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না।
খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসিব উদ্দিন রাখি বলেন, ইকন আমাদের কলেজের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.১১ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। বাবার মৃত্যুর পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা তার দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, অসহায় মা, সংসারের দায়িত্ব, রাতের চাকরি ও নিজের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইকন দাড়িয়া। তার এই সংগ্রাম ইতোমধ্যেই বাগেরহাটজুড়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুড়তলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৮), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৬) এবং নাতনি মিম আক্তার (১৪)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিম নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহার একটি মই দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠছিলেন আশা খাতুন। এ সময় মইটি পাশ দিয়ে যাওয়া খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যান তার ফুফু হাসিনা বেগম। এ সময় পাশে থাকা শিশু মিমও তাদের সংস্পর্শে চলে এলে সেও বিদ্যুতায়িত হয়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। দুর্ঘটনায় এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা মডেল প্রেসক্লাব এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
সাংবাদিক জেগে উঠুক নির্ভয়ে—এই আহ্বানকে সামনে রেখে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জেলা মডেল প্রেসক্লাব গাইবান্ধার প্রথম বর্ষপূর্তি।
মঙ্গলবার ২১ জুলাই সকাল ১১টায় গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি রানা ইস্কান্দার রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক ডাক্তার সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রশিদ এবং নিউজ জনতার প্রধান সম্পাদক মাহবুব হোসেন মাবুদ। এসময় মুক্ত আলোচনায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও জেলা মডেল প্রেসক্লাবের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জেলা মডেল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।
বক্তারা বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক উম্মে সালমা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিতর্কে এবার প্রশ্ন ছুড়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
উম্মে সালমা ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে এমনভাবে প্রশ্ন সাজিয়েছেন যে, পাঠকদের অনেকেই সেটিকে ‘ওপেন বুক পরীক্ষা’ বলেও মন্তব্য করছেন।
উম্মে সালমার প্রথম প্রশ্ন, যদি ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী সত্যিই এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হন, তবে বিয়ের পরপরই তার চাকরির জন্য সুপারিশের প্রয়োজন পড়ল কেন? আর যদি চাকরির প্রতিশ্রুতি সম্পর্ক তৈরির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর তিনি তরুণীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, যদি ওই তরুণী সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থী হন, তাহলে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি শুধু সামাজিক বিতর্ক নয়, আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু নেত্রী। তার দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুরুতর অভিযোগ উঠলে অন্তত সাংগঠনিক তদন্ত বা সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু এখানে দল যদি শুরু থেকেই নেতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে দলের নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কোনো নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হলে তা নিয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হয়, কারণ বিএনপি নিজেদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্মীয় নৈতিকতার দাবি করে না। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী নৈতিকতা ও চরিত্রকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে তাদের নেতাদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের প্রত্যাশাও বেশি থাকে বলে মত দেন তিনি।
ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে উম্মে সালমা জানান, ইসলামে বিবাহ প্রকাশ্যে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপন বিয়ে বা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও তিনি স্বচ্ছতার আহ্বান জানান।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে চান না। তবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহির মান সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া উচিত।
তার মতে, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নমুক্ত না হলে সমাজকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
ডি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিডার্স -এর উদ্যোগে প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় ICIMOD-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর আর্থিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ মাস্টার নজরুল ইসলাম, সভাপতি, লিডার্স নির্বাহী পরিষদ
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হাসান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য অংশীজন সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিডার্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ. বি. এম. জাকারিয়া। তিনি বলেন, PROAACT প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন, অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (LAPA) প্রণয়ন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই জীবিকা উন্নয়ন এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থানীয় জ্ঞান ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সহযোগিতা কামনা করেন।লিডার্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মুজাহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


Leave a Reply