
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না। তিনি দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের ভাবনা বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসার প্রসারে কাজ চালিয়ে যাবেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।”

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, পদত্যাগ পত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী আমি দায়িত্বে থাকব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পদত্যাগ পত্রে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, তিনি অসুস্থ। হৃদরোগ, কিডনী জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তার কাছে সই করা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি। এদিকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করবেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে বলেন, স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয় স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে। সে কারণেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও সাড়া মেলেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব অবশ্য পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সম্ভাব্য উত্তরসূরির প্রশ্নও। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে, যদিও জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও ঘুরছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব নাম নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।
রয়টার্স আরও বলেছে, গত নভেম্বর যুদ্ধাপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ, আর দলটির বহু নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে পদত্যাগ নয়, গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পদটির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক কর্মকর্তা। সে কারণে তার সম্ভাব্য পদত্যাগকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগপত্র জমা দিলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশি উদ্যোক্তা হোক কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—বাংলাদেশে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে পাশে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি
তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি-যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।
তিনি আরও বলেন, আজ আমি আপনাদের একটি সহজ ও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই: নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। আপনি দেশীয় উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশী বিনিয়োগকারী-আপনি যখন বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তখন আমাদের সরকারও তার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনার পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।
এ ছাড়াও ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না। শেখ হাসিনা কখনোই আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দিল্লির ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে পিরোজপুর শহরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরোয়ার তুষার বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না, তার জানাজা হবে না, তার কবর হবে না। একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না।
এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, গণভোট নাকি তারাই আবিষ্কার করেছেন। এখন গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণের ভোট নিজেদের দিকে নেওয়ার পর তিনি বলছেন, গণভোট অবৈধ।
তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি নামক দলটির গঠনও অবৈধ ছিল। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনারা যে সরকার গঠন করেছেন এবং ক্ষমতায় এসেছেন, সেটিও অবৈধ। সুতরাং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না।
সরোয়ার তুষার আরও বলেন, জুলাই সনদ যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীম হামিদী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্না।

দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে, কর্মসূচির অগ্রগতি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, ধাপে ধাপে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।


Leave a Reply