
ভোলার লামোহনে রাজহাঁস চুরির অপরাধে মো. নাজিম (২৫) নামের এক যুবককে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ব্যতিক্রমী এই শাস্তির ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া যুবক নাজিম লালমোহন পৌরসভা এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথার বুলু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফরাজগঞ্জ এলাকায় চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের অন্ধকার নেমে এলেই বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের বাইরের ঘরে থাকা দুটি শখের রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নাজিম। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
আটকের পর উপস্থিত জনসম্মুখে যুবক নাজিম আর কখনো চুরি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর বা পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, ‘রাজহাঁস দুটি আমার ও পরিবারের অনেক শখের ছিল। ঘর থেকে অত্যন্ত কৌশলে হাঁসগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। পরে আমি ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার হাঁস দুটি শনাক্ত করি। চুরির দায়ে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি; বরং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের জানান, হাঁস চুরির অপরাধে ওই যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ‘থানায় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। রাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতি আমাদের পুলিশের চারটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Leave a Reply