চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজের শাস্তি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজের শাস্তি

চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজের শাস্তি

ভোলার লামোহনে রাজহাঁস চুরির অপরাধে মো. নাজিম (২৫) নামের এক যুবককে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ব্যতিক্রমী এই শাস্তির ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

 

আটক হওয়া যুবক নাজিম লালমোহন পৌরসভা এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথার বুলু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফরাজগঞ্জ এলাকায় চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের অন্ধকার নেমে এলেই বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের বাইরের ঘরে থাকা দুটি শখের রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নাজিম। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

আটকের পর উপস্থিত জনসম্মুখে যুবক নাজিম আর কখনো চুরি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর বা পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, ‘রাজহাঁস দুটি আমার ও পরিবারের অনেক শখের ছিল। ঘর থেকে অত্যন্ত কৌশলে হাঁসগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। পরে আমি ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার হাঁস দুটি শনাক্ত করি। চুরির দায়ে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি; বরং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের জানান, হাঁস চুরির অপরাধে ওই যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ‘থানায় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। রাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতি আমাদের পুলিশের চারটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চাড়ালডাংগা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে।

 

বিষয়টি ১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন থেকে শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৬-বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনে চাড়ালডাংগা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৯/২৪-আর এর কাছ দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের টিলাশন ক্যাম্পের সদস্যরা ৭ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি চাড়ালডাংগা বিওপির বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই চেষ্টা প্রতিহত করে।

 

এ সময় বিজিবি সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করেন। বর্তমানে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে সম্পূর্ণ বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং নিকটবর্তী তারবিহীন অংশ দিয়ে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানায়।

 

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ওই সীমান্ত দিয়ে দুই দফা পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ।

গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিজামীপুত্র জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও সাঁথিয়া আসনের (পাবনা- ১) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চান। তখন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। আজ তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন।

 

এসময় মসজিদের ভেতরেই এমপির সমর্থক ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়।

 

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম বলেন, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পারেননি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিলেন। এসে ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিছু বলেননি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুসি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।’

 

অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমপি সাহেব নিজে ইচ্ছা করে ক্ষমতা দেখাতে আজ জুমার মতো পবিত্র দিনে ঝামেলাটা করলেন।’

 

তবে পাল্টা অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা করবে জেনে যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা শুরু করে।’ ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছেন। গোপীনাথপুর বাসিন্দা বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মী তারা নিয়ে এসে এই ঝামেলা করেন। আমাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। নামাজ পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’

জুমার নামাজে এমপির ইমামতি কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের হাতাহাতি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ (সেতু) কোনো কাজে আসছে না। কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় বাধ্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হয় স্থানীয়দের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসুল্লিসহ কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদার কাজের সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। বর্ধিত ওই মেয়াদের কাজ শেষের সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শেষ করা হয়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ছোট ছোট স্কুলশিক্ষার্থীরাও একইভাবে পারাপার হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু নির্মাণের সময় নিজের এক কাঠারও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

খালের মাঝে একা দাঁড়িয়ে কোটি টাকার সেতু

সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরেও সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

জ্বালানি তেল নিতে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাম্পের বাইরে সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে ধীরগতির যান চলাচল এবং কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পাম্পে দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল—সব ধরনের জ্বালানি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ জ্বালানি নিতে পাম্পে ভিড় করছেন।

তিনি বলেন, “রাস্তায় যানজট হওয়ার কারণ তেলের সংকট নয়। গুজবের কারণে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন পাম্পে চলে আসছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে এত চাপ সামাল দিতে সময় লাগছে। ফলে পাম্পের বাইরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সেখান থেকেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”

পাম্পে আসা কয়েকজন চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের খবর দেখে তারা আগেভাগেই জ্বালানি নিতে এসেছেন। তবে অনেকেই পরে জানতে পারেন, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের খবর সঠিক নয়।

এদিকে, পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।সংশ্লিষ্টরা গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাতানী গ্রামে বাবুল হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল হোসেন উপজেলার সাতানী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও হাসনে আরা দম্পতির ছেলে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাবুল হোসেনকে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

স্বজনদের দাবি, বাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত এবং তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এছাড়া তার বাবা শফিকুল ইসলাম ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

ডিসি

পরিবারের ধারণা, এসব পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাবার দেওয়া মাদক মামলার পর মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে দুটি তাজা বোমা পাওয়া গেছে। যা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

 

শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতাটির বোতামে চাপ দিলেই ডিভাইসটি যেন বিস্ফোরিত হয়, এমন করে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাপলা চত্ত্বরের দিকে একটি রথযাত্রা যাচ্ছিল। তখন রথযাত্রার একজন তাদেরকে রাস্তায় একটি ছাতা পড়ে থাকার তথ্য দেয়। তারা ছাতাটি ধরতেই ভেতরে লাল আলো জ্বলতে দেখেন। ছাতাটি সেখানে রেখে পুলিশকে খবর দেন আনসার সদস্যরা। পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে ৭টা ৫০ মিনিটে একটি বোম এবং অপরটি ৮টা ১০ মিনিটে নিস্ক্রিয় করে।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চাড়ালডাংগা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে।

 

বিষয়টি ১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন থেকে শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৬-বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনে চাড়ালডাংগা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৯/২৪-আর এর কাছ দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের টিলাশন ক্যাম্পের সদস্যরা ৭ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি চাড়ালডাংগা বিওপির বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই চেষ্টা প্রতিহত করে।

 

এ সময় বিজিবি সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করেন। বর্তমানে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে সম্পূর্ণ বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং নিকটবর্তী তারবিহীন অংশ দিয়ে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানায়।

 

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ওই সীমান্ত দিয়ে দুই দফা পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ।

গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, পদত্যাগ পত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

 

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী আমি দায়িত্বে থাকব।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, পদত্যাগ পত্রে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, তিনি অসুস্থ। হৃদরোগ, কিডনী জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি।

 

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

 

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

 

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার

ভোলার লামোহনে রাজহাঁস চুরির অপরাধে মো. নাজিম (২৫) নামের এক যুবককে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ব্যতিক্রমী এই শাস্তির ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

 

আটক হওয়া যুবক নাজিম লালমোহন পৌরসভা এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথার বুলু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফরাজগঞ্জ এলাকায় চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের অন্ধকার নেমে এলেই বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের বাইরের ঘরে থাকা দুটি শখের রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নাজিম। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

আটকের পর উপস্থিত জনসম্মুখে যুবক নাজিম আর কখনো চুরি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর বা পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, ‘রাজহাঁস দুটি আমার ও পরিবারের অনেক শখের ছিল। ঘর থেকে অত্যন্ত কৌশলে হাঁসগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। পরে আমি ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার হাঁস দুটি শনাক্ত করি। চুরির দায়ে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি; বরং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের জানান, হাঁস চুরির অপরাধে ওই যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ‘থানায় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। রাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতি আমাদের পুলিশের চারটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজের শাস্তি

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিজামীপুত্র জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও সাঁথিয়া আসনের (পাবনা- ১) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চান। তখন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। আজ তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন।

 

এসময় মসজিদের ভেতরেই এমপির সমর্থক ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়।

 

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম বলেন, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পারেননি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিলেন। এসে ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিছু বলেননি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুসি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।’

 

অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমপি সাহেব নিজে ইচ্ছা করে ক্ষমতা দেখাতে আজ জুমার মতো পবিত্র দিনে ঝামেলাটা করলেন।’

 

তবে পাল্টা অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা করবে জেনে যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা শুরু করে।’ ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছেন। গোপীনাথপুর বাসিন্দা বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মী তারা নিয়ে এসে এই ঝামেলা করেন। আমাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। নামাজ পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’

জুমার নামাজে এমপির ইমামতি কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের হাতাহাতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এদিকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এক গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

 

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

 

অন্যদিকে সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত থাকবেন এবং সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়াবাসায় ওঠেন এক তরুণ ও তরুণী। একসঙ্গে থাকার ১২ দিনের মাথায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ওই বাড়িতেই প্রেমিকাকে হত্যা করে পালান তরুণ।

 

গত ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

 

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ১০ দিনের মাথায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের তথ্য জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে। ২৫ বছর বয়সী আরিয়ান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রয়াত আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।

 

তাকে গত ২১ জুলাই বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

 

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী, ঢাকার বিবি বাগিচা রোড এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের ইউসুফ মোল্লার মেয়ে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

মামলার এজাহার ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে মিন্টু কুমার বলেন, নিহত তরুণী তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইব্রাহিম আগে আরও একটি বিয়ে করেছেন এবং ওই সংসারে সন্তানও রয়েছে—এ তথ্য জানতে পারার পর সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাদিয়ারও আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে তিনি আরিয়ানের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং সম্প্রতি ইব্রাহিমকে তালাক দিয়ে আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।

 

পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নেন সাদিয়া ও আরিয়ান। আরিয়ানের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিয়ান গলাটিপে শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।

 

মরদেহ উদ্ধারের পর ১৫ জুলাই সাদিয়ার বড় ভাই রিয়াজ মোল্লা তাঁর সদ্য প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিমকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। তদন্তের শুরুতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তাঁর দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পরে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মিন্টু কুমার।

 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিয়ানের কাছ থেকে সাদিয়ার মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যাও জানিয়েছে, তাঁদের বাসায় আরিয়ানের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। এ ছাড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও আরিয়ানের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে।

 

এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

‘বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে পালান তরুণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তার কাছে সই করা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি। এদিকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

রয়টার্স বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করবেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে বলেন, স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।

 

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয় স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে। সে কারণেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে পারেন।

 

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও সাড়া মেলেনি।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব অবশ্য পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

 

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।

 

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

 

এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সম্ভাব্য উত্তরসূরির প্রশ্নও। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে, যদিও জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

 

এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও ঘুরছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব নাম নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

 

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।

 

রয়টার্স আরও বলেছে, গত নভেম্বর যুদ্ধাপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ, আর দলটির বহু নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে পদত্যাগ নয়, গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পদটির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক কর্মকর্তা। সে কারণে তার সম্ভাব্য পদত্যাগকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগপত্র জমা দিলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটবে।

স্পিকার ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি, জানিয়ে দিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদেরও

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ (সেতু) কোনো কাজে আসছে না। কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় বাধ্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হয় স্থানীয়দের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসুল্লিসহ কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদার কাজের সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। বর্ধিত ওই মেয়াদের কাজ শেষের সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শেষ করা হয়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ছোট ছোট স্কুলশিক্ষার্থীরাও একইভাবে পারাপার হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু নির্মাণের সময় নিজের এক কাঠারও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

খালের মাঝে একা দাঁড়িয়ে কোটি টাকার সেতু

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না। তিনি দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের ভাবনা বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসার প্রসারে কাজ চালিয়ে যাবেন।

 

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

 

পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।”

ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কিনা, জানালেন সাবেক প্রেসসচিব

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d