বাবার দেওয়া মাদক মামলার পর মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বাবার দেওয়া মাদক মামলার পর মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা

বাবার দেওয়া মাদক মামলার পর মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাতানী গ্রামে বাবুল হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল হোসেন উপজেলার সাতানী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও হাসনে আরা দম্পতির ছেলে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাবুল হোসেনকে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

স্বজনদের দাবি, বাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত এবং তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এছাড়া তার বাবা শফিকুল ইসলাম ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

ডিসি

পরিবারের ধারণা, এসব পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরেও সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

জ্বালানি তেল নিতে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাম্পের বাইরে সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে ধীরগতির যান চলাচল এবং কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পাম্পে দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল—সব ধরনের জ্বালানি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ জ্বালানি নিতে পাম্পে ভিড় করছেন।

তিনি বলেন, “রাস্তায় যানজট হওয়ার কারণ তেলের সংকট নয়। গুজবের কারণে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন পাম্পে চলে আসছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে এত চাপ সামাল দিতে সময় লাগছে। ফলে পাম্পের বাইরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সেখান থেকেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”

পাম্পে আসা কয়েকজন চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের খবর দেখে তারা আগেভাগেই জ্বালানি নিতে এসেছেন। তবে অনেকেই পরে জানতে পারেন, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের খবর সঠিক নয়।

এদিকে, পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।সংশ্লিষ্টরা গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মিনি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে চালকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বুধবার(২২ জুলাই) বিকাল ৫ টার পর থেকে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি স্টেশনে সন্ধা ৭টার মধ্যেই সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক জটিলতার সময় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব ছবি দেখে অনেকেই জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা করে নিজ নিজ যানবাহনের জন্য তেল কিনতে ছুটে যান। এতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকটের খবর তাদের কাছে নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গুজবের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় সাময়িকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানায়, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল কেনা কিংবা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।

 

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁওয়ে সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গুজবের কারণে সৃষ্ট সাময়িক চাপ কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন

বাবাকে দাফন করেছেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে। রাতভর দায়িত্ব পালন করেছেন একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরদিন সকালে চোখের জল মুছেই বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকন দাড়িয়া৷

 

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকন দাড়িয়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাটের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে ২ মাস আগে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) প্রায় ১৯ বছর ধরে মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়ে সংসার চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র নির্ভরতা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

 

ইকন জানান, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ তার বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে তিনি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে একবার এবং ভোর ৪টার দিকে আবারও বমি করেন। এরপর ভোর ৫টার দিকে তিনি ছটফট করতে থাকেন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

 

ইকন বলেন, ভোরের দিকে বাবা খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলেন। একসময় হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে আবার শ্বাস নিতে শুরু করলে দ্রুত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা যান।

 

সকাল ৬টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

 

বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েও থেমে থাকেননি ইকন। দাফন শেষে রাতেই তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।

 

তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে আমাকে ছুটি নিতে বলেছিল। কিন্তু আমার সহকর্মীদের কষ্ট হবে ভেবে আমি নিজেই ডিউটিতে যাই। পরদিন সকালে আবার পরীক্ষা দিই। এখন পরিবারে উপার্জনের মতো আমি একাই আছি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। মা আর ভাইকে নিয়েই এখন আমার পুরো সংসার।

 

রাতের ডিউটির সময় ইকনের পড়াশোনার দৃশ্য নিয়মিত দেখেছেন স্থানীয়রা।

 

কৃষি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক শেখ মিরানুজ্জামান বলেন, রাতে যতবার এটিএম বুথে গেছি, ছেলেটিকে বই হাতে পড়তে দেখেছি। কেউ টাকা তুলতে এলে দরজা খুলে দিত, কাজ শেষ হলে আবার বই নিয়ে বসে পড়ত। এমন পরিশ্রমী ছেলে খুব কমই দেখা যায়।

 

স্থানীয় বাদশা শেখ বলেন, বাবাকে দাফন করার কয়েক ঘণ্টা পরও ছেলেটি দায়িত্ব পালন করেছে। সংসারের দায়িত্ব তাকে কতটা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে, সেটা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না।

 

খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসিব উদ্দিন রাখি বলেন, ইকন আমাদের কলেজের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.১১ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। বাবার মৃত্যুর পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা তার দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

 

একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, অসহায় মা, সংসারের দায়িত্ব, রাতের চাকরি ও নিজের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইকন দাড়িয়া। তার এই সংগ্রাম ইতোমধ্যেই বাগেরহাটজুড়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বাবাকে দাফনের পর এটিএমে ডিউটি, সকালে বসলেন এইচএসসি পরীক্ষায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুড়তলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৮), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৬) এবং নাতনি মিম আক্তার (১৪)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিম নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহার একটি মই দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠছিলেন আশা খাতুন। এ সময় মইটি পাশ দিয়ে যাওয়া খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যান তার ফুফু হাসিনা বেগম। এ সময় পাশে থাকা শিশু মিমও তাদের সংস্পর্শে চলে এলে সেও বিদ্যুতায়িত হয়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

 

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

বারোঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। দুর্ঘটনায় এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একজনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনের

গাইবান্ধা জেলা মডেল প্রেসক্লাব এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সাংবাদিক জেগে উঠুক নির্ভয়ে—এই আহ্বানকে সামনে রেখে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জেলা মডেল প্রেসক্লাব গাইবান্ধার প্রথম বর্ষপূর্তি।

 

মঙ্গলবার ২১ জুলাই সকাল ১১টায় গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

জেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি রানা ইস্কান্দার রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক ডাক্তার সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রশিদ এবং নিউজ জনতার প্রধান সম্পাদক মাহবুব হোসেন মাবুদ। এসময় মুক্ত আলোচনায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও জেলা মডেল প্রেসক্লাবের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

অনুষ্ঠানে জেলা মডেল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।

 

বক্তারা বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

গাইবান্ধা জেলা মডেল প্রেসক্লাব এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এদিন দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্টার নিউজ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার নিউরো কেন্দ্রিক জটিল রোগ ধরা পড়েছে। তাই পদত্যাগ করে স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান মো. সাহাবুদ্দিন।

 

সংবিধান মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদশূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে আসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করছেন

সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরেও সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

জ্বালানি তেল নিতে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দুপুর ১টার দিকে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাম্পের বাইরে সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে ধীরগতির যান চলাচল এবং কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পাম্পে দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল—সব ধরনের জ্বালানি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ জ্বালানি নিতে পাম্পে ভিড় করছেন।

তিনি বলেন, “রাস্তায় যানজট হওয়ার কারণ তেলের সংকট নয়। গুজবের কারণে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন পাম্পে চলে আসছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে এত চাপ সামাল দিতে সময় লাগছে। ফলে পাম্পের বাইরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সেখান থেকেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”

পাম্পে আসা কয়েকজন চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের খবর দেখে তারা আগেভাগেই জ্বালানি নিতে এসেছেন। তবে অনেকেই পরে জানতে পারেন, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের খবর সঠিক নয়।

এদিকে, পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।সংশ্লিষ্টরা গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজট

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশি উদ্যোক্তা হোক কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—বাংলাদেশে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে পাশে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি

তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি-যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

 

তিনি আরও বলেন, আজ আমি আপনাদের একটি সহজ ও স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই: নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন। আপনি দেশীয় উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশী বিনিয়োগকারী-আপনি যখন বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তখন আমাদের সরকারও তার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনার পাশে থাকবে। এটি কেবল একটি আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

 

 

 

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, সরকার পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপি ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশনের ১২তম সভা শেষে এসব কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

 

ইসি সচিব বলেন- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না। এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

 

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট থাকে। এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, নাকি অষ্টম শ্রেণি, নাকি প্রাথমিক- যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন ইসি মাছউদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।

 

এ ছাড়াও ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

 

 

নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাতানী গ্রামে বাবুল হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল হোসেন উপজেলার সাতানী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও হাসনে আরা দম্পতির ছেলে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাবুল হোসেনকে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

স্বজনদের দাবি, বাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত এবং তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এছাড়া তার বাবা শফিকুল ইসলাম ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

ডিসি

পরিবারের ধারণা, এসব পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাবার দেওয়া মাদক মামলার পর মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

বেলুচিস্তানের রুক্ষ, ধূসর পাহাড়শ্রেণির পটভূমিতে যখন একটি ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় সামরিক পোশাক পরিহিতা এক নারীকে চারপাশে সারিবদ্ধ সশস্ত্র নারী যোদ্ধা, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, কণ্ঠে অবিচল আত্মবিশ্বাস তখন সে দৃশ্য নিছক একটি প্রচার-ভিডিও থেকে অনেক বেশি কিছু হয়ে ওঠে। তা হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, একটি ঘোষণা, এবং একই সঙ্গে একটি ইতিহাসের নতুন পাতার সূচনা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাঁকে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনের একজন কমান্ডার হিসেবে, যুদ্ধনাম ‘সাদো’ নাম শাইনাজ বালোচ। ধারণা করা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র আন্দোলনে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এতটা প্রকাশ্য ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হয়েছেন।

 

তাঁর এই আবির্ভাব নিছক আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বেলুচিস্তানে নাগরিক প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটি ভিন্ন স্রোত ক্রমশ একে অপরের কাছাকাছি এসে মিলিত হচ্ছে। একদিকে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র মতো নাগরিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে আছেন মেহরাং বালোচ ও সাম্মি দীন বালোচের মতো নাম, যাঁরা জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। আর ঠিক এই দুই স্রোতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন শাইনাজ বালোচ একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী, যিনি বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাধারণ কর্মী থেকে সরাসরি এক অস্ত্রধারী কমান্ডারের ভূমিকায় উত্তরিত হয়েছেন।

 

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানের লড়াইকে বাইরের দুনিয়া দেখেছে এক সংকীর্ণ চোখে কখনো গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, কখনো পশ্চাৎপদতা, কখনো-বা বহিঃশক্তির চক্রান্ত হিসেবে। আর নারীদের বেলায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও সংকীর্ণ তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী, কেবল শোকার্ত মা-বোন হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে বারবার। শাইনাজ বালোচের আবির্ভাব সেই বহু পুরনো বয়ানকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেকে কান্নার প্রতিমূর্তি হতে দিতে রাজি নন। বরং নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সংগ্রামের গতিপথ নির্ধারণে সক্রিয় এক কুশীলব হিসেবে।

 

নিচের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তাঁর সেই বিরল সাক্ষাৎকারের মূল বক্তব্য এক নারীর ভাবনার জগৎ, যিনি নাগরিক সক্রিয়তা থেকে সশস্ত্র নেতৃত্বে পা রেখেছেন, ঠিক এমন এক মুহূর্তে, যখন বেলুচিস্তানের সংঘাত পৌঁছে গেছে নতুন এক তীব্রতায়।

 

★ ‘বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি’, নেতৃত্বের দর্শনগত ভিত্তি

 

শাইনাজ বালোচ তাঁর নেতৃত্বে ওঠার পথকে কোনো একক ঘটনার ফল বলে মানতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, এটি এক দার্শনিক উত্তরণ হেগেলের বিচ্ছিন্নতা-উত্তরণের (Entfremdung) ধারণার প্রতিধ্বনি। তাঁর যুক্তি, মানুষ নিজের প্রকৃত সত্তা খুঁজে পায় না নিঃসঙ্গতায়, বরং ইতিহাসের বৃহৎ প্রবাহে নিজেকে স্থাপন করার মধ্য দিয়েই। দখলদারিত্ব তাঁর কাছে কোনো বাহ্যিক আঘাত নয় এটি জন্ম থেকেই মানুষের ভেতরে বাস করা এক কাঠামোগত বাস্তবতা। তাঁর কথায়, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে টিকে থাকাটাই এক ধরনের আত্ম-বিচ্ছিন্নতা, আর প্রকৃত চেতনার জন্ম হয় সেই সত্য উপলব্ধির মুহূর্তে। তাই তাঁর কাছে অস্ত্র হাতে তোলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গে চূড়ান্ত পুনর্মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বেলুচিস্তানের মুক্তি সম্ভব নয় যদি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ কেবল ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকে। নারীরা এই সংগ্রামে আসছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা পূরণে, বরং নিজেদের হারানো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধারের তাগিদে।

 

★ নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না

 

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন গুম, নির্যাতন, প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেন। তাঁর দাবি, বেলুচ নারীরা কোনোদিনই আন্দোলনের প্রান্তবর্তী চরিত্র ছিলেন না, সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র উভয় পরিসরেই তাঁরা গঠন করেছেন প্রতিরোধের মূল কাঠামো। তিনি এমন এক বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা নারীর অস্ত্র হাতে তোলাকে সবসময় ব্যক্তিগত শোক বা ট্রমার ফল বলে সরলীকরণ করে। তাঁর ভাষায়, তাঁর সিদ্ধান্ত এসেছে সচেতন, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় থেকে, কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়। নাগরিক আন্দোলন যেমন বিওয়াইসি রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আনে, তেমনি তিনি মনে করেন কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে একটি সুসজ্জিত সামরিক কাঠামোর পতন ঘটানো যায় না।

 

★ নারী যোদ্ধার উত্থান, তিনটি মাত্রা

 

মজিদ ব্রিগেডের ফিদায়ী অভিযানে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শাইনাজ তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রথমত, রাজনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ রাষ্ট্র তাঁর ভাষায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে সশস্ত্র প্রতিরোধ আর ঐচ্ছিক নয়, অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ভেতরেই ঘটেছে এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর সমাজের সেকেলে, পিতৃতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলনের চাপে, যা নারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আগেই ঘরের ভেতরে মুক্ত করেছে। তৃতীয়ত, তরুণ নারীদের বাড়তে থাকা শিক্ষার হার ও রাজনৈতিক সচেতনতা। তাঁর মতে, একজন নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে দুটি বার্তা বহন করে রাষ্ট্রের প্রতি, যে তার দমননীতি ব্যর্থ হয়েছে; আর নিজের সমাজের প্রতি, যে জাতীয় মুক্তি অসম্পূর্ণ থাকবে লিঙ্গ মুক্তি ছাড়া।

 

★ আমাকে সবসময় বলা হয় নারী কমান্ডার

 

সবচেয়ে ক্ষুরধার প্রশ্নটি ছিল আত্মঘাতী অভিযানে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে এটি কি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত, নাকি হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বাধ্যবাধকতা? শাইনাজ এই প্রশ্নকেই একধরনের পক্ষপাত বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর যুক্তি, একজন পুরুষ যোদ্ধা যখন উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে যোগ দেয়, তাকে দেখা হয় আদর্শবাদী সৈনিক হিসেবে, কিন্তু একজন নারীর একই সিদ্ধান্তে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় বহিরাগত প্রভাব, মানসিক দুর্বলতা কিংবা জবরদস্তি। তাঁর ভাষায় ‘একজন পুরুষ কমান্ডারকে শুধু কমান্ডার বলা হয়, আমাকে বলা হয় নারী কমান্ডার।’ তিনি দাবি করেন, তাঁদের সংগঠনে যোদ্ধা নির্বাচন হয় দীর্ঘ আদর্শিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে, আবেগ বা প্রতিশোধের তাড়নায় নয়।

 

★ নাগরিক আন্দোলন বনাম অস্ত্র, প্রতিযোগিতা নয়, ধারাবাহিকতা

 

বিওয়াইসি-র মতো অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে শাইনাজের অবস্থান স্পষ্ট তিনি এই দুই পথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই চেতনার দুটি ভিন্ন প্রকাশ বলে বর্ণনা করেন। তবে ফ্রাঁৎস ফানোঁর বরাত দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন ঔপনিবেশিকতা যুক্তির ভাষা বোঝে না, তা কেবল সংগঠিত শক্তির সামনেই নতিস্বীকার করে। নাগরিক মিছিল ও ধরনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও মনে করেন, রাষ্ট্র এই প্রতিবাদগুলোকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা বা দমন করে চলেছে।

বৈধতা, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ এবং ভূরাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেলুচ প্রশ্নকে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রায়শই বৈশ্বিক শোষণ ও দখলদারিত্বের সহযোগী, তাই তাদের সনদের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা জাতীয় মুক্তি আন্দোলনগুলোকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তনের পথ বৈশ্বিক বিবেকের কাছে আবেদন নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করা।

 

★আমি কমান্ডার, এইটুকুই যথেষ্ট

 

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশে শাইনাজ কথা বলেন এক নারী কমান্ডার হিসেবে তাঁর নিজস্ব অবস্থান নিয়ে। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ‘প্রতিনিধিত্বের বোঝা’-র ধারণা তাঁর ভাষায়, পুরুষ সহযোদ্ধাদের কখনো পরিবারের সম্মিলিত শোকের ভার বহন করতে হয় না, অথচ নারীর কাছে সেই প্রত্যাশা থেকেই যায়। তিনি চান এমন এক বেলুচিস্তান, যেখানে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যাশাগুলোর অস্তিত্বই থাকবে না। তাঁর কাছে বিজয়ের অর্থ কেবল একটি নতুন সীমানা বা ক্ষমতার হাতবদল নয় বরং ন্যায়বিচার, লিঙ্গসাম্য ও সম্পদের যৌথ মালিকানার ওপর দাঁড়ানো এক নতুন সমাজব্যবস্থা, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় নির্ধারিত হবে যুদ্ধ বা দারিদ্র্যের ইতিহাস দিয়ে নয়, বরং তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা দিয়ে।

 

★ সম্পাদকীয় নোট

 

বেলুচিস্তানের সংঘাত প্রবেশ করেছে এক নতুন, তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। এতদিন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি মূলত নিবদ্ধ ছিল বিওয়াইসি এবং মেহরাং বালোচ, সাম্মি দীন বালোচের মতো নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর, সশস্ত্র বিদ্রোহের ভেতরকার পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত থেকে গেছে। শাইনাজ বালোচের প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংঘাতের এক লক্ষণীয় বাঁক নির্দেশ করে।

 

এই লেখাটি একটি সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক প্রতিবেদনের ভাবানুবাদ ও সাহিত্যিক উপস্থাপনা মাত্র। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎকারদাতা নিজের তা কোনোভাবেই এই লেখার অনুবাদক বা কোনো প্রকাশনার নীতিগত অবস্থান নয়।

 

একটি সশস্ত্র আন্দোলনকে বোঝার চেষ্টা তার পদ্ধতিকে সমর্থন করা নয়, বরং তা সাংবাদিকতার এক মৌলিক দায়িত্ব, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।

পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, এই বিবরণের পাশাপাশি রাষ্ট্র, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘ ও জটিল সংঘাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা গড়ে তোলার জন্য।

 

অনুবাদ ও উপস্থাপনা, জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মিনি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে চালকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বুধবার(২২ জুলাই) বিকাল ৫ টার পর থেকে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েকটি স্টেশনে সন্ধা ৭টার মধ্যেই সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক জটিলতার সময় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব ছবি দেখে অনেকেই জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা করে নিজ নিজ যানবাহনের জন্য তেল কিনতে ছুটে যান। এতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকটের খবর তাদের কাছে নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গুজবের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল নিতে আসায় সাময়িকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানায়, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল কেনা কিংবা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।

 

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁওয়ে সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গুজবের কারণে সৃষ্ট সাময়িক চাপ কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশন গুলোতে দীর্ঘ লাইন

বাবাকে দাফন করেছেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে। রাতভর দায়িত্ব পালন করেছেন একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরদিন সকালে চোখের জল মুছেই বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকন দাড়িয়া৷

 

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকন দাড়িয়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাটের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে ২ মাস আগে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) প্রায় ১৯ বছর ধরে মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়ে সংসার চালাতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র নির্ভরতা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

 

ইকন জানান, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ তার বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে তিনি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে একবার এবং ভোর ৪টার দিকে আবারও বমি করেন। এরপর ভোর ৫টার দিকে তিনি ছটফট করতে থাকেন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

 

ইকন বলেন, ভোরের দিকে বাবা খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলেন। একসময় হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে আবার শ্বাস নিতে শুরু করলে দ্রুত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা যান।

 

সকাল ৬টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

 

বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েও থেমে থাকেননি ইকন। দাফন শেষে রাতেই তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।

 

তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে আমাকে ছুটি নিতে বলেছিল। কিন্তু আমার সহকর্মীদের কষ্ট হবে ভেবে আমি নিজেই ডিউটিতে যাই। পরদিন সকালে আবার পরীক্ষা দিই। এখন পরিবারে উপার্জনের মতো আমি একাই আছি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। মা আর ভাইকে নিয়েই এখন আমার পুরো সংসার।

 

রাতের ডিউটির সময় ইকনের পড়াশোনার দৃশ্য নিয়মিত দেখেছেন স্থানীয়রা।

 

কৃষি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক শেখ মিরানুজ্জামান বলেন, রাতে যতবার এটিএম বুথে গেছি, ছেলেটিকে বই হাতে পড়তে দেখেছি। কেউ টাকা তুলতে এলে দরজা খুলে দিত, কাজ শেষ হলে আবার বই নিয়ে বসে পড়ত। এমন পরিশ্রমী ছেলে খুব কমই দেখা যায়।

 

স্থানীয় বাদশা শেখ বলেন, বাবাকে দাফন করার কয়েক ঘণ্টা পরও ছেলেটি দায়িত্ব পালন করেছে। সংসারের দায়িত্ব তাকে কতটা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে, সেটা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না।

 

খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসিব উদ্দিন রাখি বলেন, ইকন আমাদের কলেজের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.১১ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। বাবার মৃত্যুর পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা তার দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

 

একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, অসহায় মা, সংসারের দায়িত্ব, রাতের চাকরি ও নিজের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইকন দাড়িয়া। তার এই সংগ্রাম ইতোমধ্যেই বাগেরহাটজুড়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

বাবাকে দাফনের পর এটিএমে ডিউটি, সকালে বসলেন এইচএসসি পরীক্ষায়

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d