
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এদিন দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্টার নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার নিউরো কেন্দ্রিক জটিল রোগ ধরা পড়েছে। তাই পদত্যাগ করে স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধান মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদশূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে আসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপি ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশনের ১২তম সভা শেষে এসব কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অংশ নিতে পারবেন না। এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট থাকে। এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, নাকি অষ্টম শ্রেণি, নাকি প্রাথমিক- যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের পর রাজনীতির মাঠে ঝড় উঠেছে।
সামাজিকমাধ্যমে এখন ট্রেন্ডিং ইস্যু গাজী নজরুল ইসলাম। দল থেকে তাকে কী শাস্তি দেয়া হতে পারে বা এমপি নজরুলের ভবিষ্যত কী – এ নিয়ে সরগরম গোটা দেশ।
এমন আবহে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মোনামি লিখেছেন, ‘দুইদিন আগেই বলেছিলাম, দায়িত্বশীল হতে হবে। দুইদিন পর আজকে ফেসবুকে ঢুকে দেখি জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম… Why!!! Simply why!!’
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রথমদিকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলামও ফেসবুক পোস্ট ও লিখিত বিবৃতিতে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। ওই তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে।

ইয়াছিন মোড়লঃ
সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সোলাইমান কবির, অ্যাডভোকেট আশেক ইলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু।
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট নারীকে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মরিয়ম খাতুন নামের এক তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে তার এই দাবি ও প্রকাশ্যে আসা বিয়ের কাবিননামা নিয়ে ব্যাপক ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। খোদ কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী জানিয়েছেন, এই বিয়ে কবে বা কোথায় সম্পন্ন হয়েছে তা তিনি জানেন না। ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার মগবাজারের একটি শয়নকক্ষ থেকে সিসিটিভি ও মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা গাজী নজরুল ইসলামের কিছু আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে এমপি নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মাসুম বিল্লাহ আলাদা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে, পারিবারিকভাবে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে কাবিননামায় উল্লেখিত শ্যামনগর থানার ১২ নং গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি এ এম বাকী বিল্লাহর বক্তব্য এই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেন, ১৭ জুন বিয়ের কথা বলা হলেও এই বিয়ে কোথায় হয়েছে তিনি জানেন না। সোমবার রাতে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে ঢাকায় বিয়ে হয়েছে এবং তাকে এটি নিবন্ধন করতে হবে।
কাজী বলেন, ‘কনের বাবা ফোনে কথা বলে সম্মতি দিয়েছেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে কনে ও তার অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন।’ বিয়ের তারিখ ১৭ জুন দেখানোর বিষয়টিও তাকে ফোন করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিপদে ফেলা হয়েছে, আমি যাতে বিপদে না পড়ি’—এ কথা বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া কাবিননামায় কনে মরিয়মের জন্ম তারিখ ২০০৮ সালের ২২ মে উল্লেখ থাকলেও একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান মরিয়মের একটি বায়োডাটা (জীবনবৃত্তান্ত) সংগ্রহ করেছে। যেখানে দেখা গেছে, গত ২২ জুন (বিয়ের দাবিকৃত তারিখের ৫ দিন পর) এমপি নজরুল ওই বায়োডাটায় ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় একটি কক্ষে এমপি গাজী নজরুলকে এক তরুণীসহ কয়েকজন লোক অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। ভিডিওতে উপস্থিত লোকজন তাকে জেরা করে বলেন, ‘জামায়াত হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন? অন্যায় করেছেন কি না?’ জবাবে এমপি মাথা নেড়ে অন্যায় স্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।’ এ সময় তরুণীটিকে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি চুপ থেকে পরে নিজের নাম ‘মাহি’ বলে জানান।
জামায়াতের এই প্রবীণ সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধার এমন ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ মহলে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার পর থেকেই নগরীর অধিকাংশ পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায় গ্রাহকদের। তবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি ও জেলা প্রশাসন।
নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মোটরসাইকেল চালক তেল নিতে এসেছেন। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাপের কারণে অনেককেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরই তারা তেল নিতে পাম্পে ছুটে আসেন। তবে পাম্পে এসে দীর্ঘ লাইন দেখে অনেকেই বুঝতে পারেন, আতঙ্ক থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন, কিন্তু গুজবের কারণে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মমিনুল হক বলেন, রাত ৮টার পর হঠাৎ করেই সব পাম্পে গ্রাহকের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে। আজও আমাদের পাম্পে তেলের ট্যাংকার এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জরুরি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এতে জানানো হয়, জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয় করে স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা বজায় রাখতে জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা মজুদদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে প্রশাসন, পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্টরা সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।


Leave a Reply