ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪০, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪০, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪০, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।


পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনাটি বিএনপির পুর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

 

তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা হয়েছে। সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় দায়ী করে থানার ওসিকে ফ্যাসিস্টের দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

‎শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

 

নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ করে বলেন, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মসজিদ কমিটির অনুমতি ও তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি সেখানে ইমামতি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে মসজিদে ঢুকে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা করেছে।

সময় ‎তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে থানা গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে, গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার খুতবার ঠিক আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। তিনি দ্বিতীয় খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এঘটনায় সাঁথিয়াজুড়ে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই মসজিদে হামলা হয়েছে: এমপি মোমেন

রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে কৃষকের আয় বাড়াতে হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া-তে ‘৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এর আগে তিনি আরডিএ উদ্ভাবিত সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং একটি লটকন গাছের চারা রোপণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অথচ গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গণমাধ্যমকে এসব সাফল্য আরও বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন নয়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

 

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থায় যুক্ত হলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকরাও লাভবান হবেন।

 

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এবং জনপ্রশাসন সচিব মোঃ এহছানুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: মির্জা ফখরুল

রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুল আলম আশরাফকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (১৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ পারভেজ প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

নোটিশে বলা হয়, রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে না নিয়ে জেলা ছাত্রদলকে অসহযোগিতা করার অভিযোগে ডোমার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে কেন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

 

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা ছাত্রদল নেতৃত্ব বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও নোটিশে জানানো হয়।

সমাবেশে নেতাকর্মী না নেওয়ায় ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং ‘ভালো মানুষকে’ দলে যুক্ত করার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম দফায় দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে শহরের এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় মহানগর এনসিপি।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। সভাপতিত্ব করেন মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, দলকে বড় করার জন্য যাকে-তাকে সদস্য করা হবে না। এনসিপির সদস্য সংগ্রহে এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যুক্ত হয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বাদ দিতে চাই না, আবার যাকে-তাকে দলে নিতে চাই না। আমরা চাই, এমন মানুষ যুক্ত হোক, যাদের কারণে দলের বদনাম হবে না। সাধারণ মানুষ যেন কখনো মনে না করে ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষের সংখ্যা আমাদের দলে বেশি।”

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখিয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনেকের অনাগ্রহ রয়েছে। সেই শূন্যতা থেকেই নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির যাত্রা।

 

সংসদ সদস্য বলেন, রাজনীতি কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে। “মুখে মাদকের বিরুদ্ধে বললাম, কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চললাম, তাহলে মানুষ সেই কথার মূল্য দেবে না। তরুণ প্রজন্ম এখন কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখতে চায়।”

 

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবসময় মানুষের পাশে থাকতে হবে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নিতে হবে, যাতে মানুষ মনে করে এনসিপির কর্মীরাই তাঁদের আপনজন।

 

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের হারানোর কিছু নেই। যারা জীবন দিয়ে এই পথ তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে হলে ইতিবাচক চিন্তা ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। আমরা একটি সুন্দর, ইতিবাচক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল একটি সুন্দর বাংলাদেশ ও সুন্দর নারায়ণগঞ্জ। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রাজনীতিই করতে চায় এনসিপি।

 

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম বলেন, নতুন সদস্যদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিল। আবার কেউ কেউ নিজেরাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন রেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দলগুলোর কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, “দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা এনসিপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে তাঁরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁরা এখানে আশাহত হবেন না।”

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার, মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয় সারজিস আলম বলেছেন, যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে চাঁদাবাজির ভয়াবহতা তুলে ধরে দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্যে করে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন গাইবান্ধায় আসি, যখন এই সাদুল্লাপুরে আসি। তখন ভ্যান চালক ভাইয়ের কাছে, অটোচালক চাচার সঙ্গে কথা বললে আমাদের শুনতে হয় একটা ভ্যান-একটা অটো চালানোর জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তখন সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারেনা।’

 

তিনি বলেন, ‘তুমি যদি চাঁদাবাজি না করো, তাহলে যে চাঁদাবাজি করে তার চাঁদাবাজি বন্ধ করো-তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। সেটা যদি তুমি না নিতে পারো, সেই সক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দাও। আর যদি তুমি ক্ষমতাও না ছাড়ো, ব্যবস্থাও না নাও। তাহলে বুঝবো, তুমি দিনের বেলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গল্প করো আর রাতে বেলা অটোর টাকা, ভ্যানের চাঁদাবাজির টাকার তুমি ভাগ নাও।’

 

এনসিপির সাদুল্লপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শফিজল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন– এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি।

 

এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, শহীদ পরিবার সোসাইটি ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জেলার সাত উপজেলাতেও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সারজিস আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। তার মেয়ে কানাডার নাগরিকত্বধারী। তার বোন ও তাদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। যার জন্য আপনারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ এ দেশের নাগরিক নন।’

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা মহাসড়কে আয়োজিত ‘দেশ গড়ায় জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকারের কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, বর্তমান সরকার এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে ৬০০ জনেরও কর্মসংস্থান করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় ৫ আগস্টের পর বড় বড় সাইনবোর্ড হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এ তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো ধারা না থাকায় সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই সৃষ্টি হতো না।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুন। তার বিচার হোক। আগামীকালই দেশে ফিরুন, আমরা সেটাই চাই।

যাদের জন্য জয় বাংলা স্লোগান দেন, সেই পরিবারের কেউ বাংলাদেশের নাগরিক নন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিস বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি কোর্ট পুলিশ অফিস পরিদর্শন করে বার্ষিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং কর্মকর্তা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার কোর্ট পুলিশ অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র, মালিকানা, আলামত সংরক্ষণাগার এবং ফোর্সদের ব্যারাক পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কোর্ট কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তাদের সুবিধা- অসুবিধা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পেশাদারিত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) জ্যোতিময় ঘোষ , সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (প্রবি) মোঃ আব্দুল্লাহ। আল মাসুদ খান, নীলফামারী কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ কোর্ট পুলিশ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

নীলফামারী কোর্ট পুলিশ অফিস বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ইউনিট প্রধান হলেন শহিদুল ইসলাম

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, কারাবন্দিত্ব ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ’-এর নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। তিনি মোহনা টেলিভিশন এর নওগাঁ প্রতিনিধি (অনলাইন) , বার্তা২৪.কম এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও বাংলা এডিশনের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন,এছাড়াও তিনি জাতীয় দৈনিক এদিন পত্রিকায় কর্মরত আছেন।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর গত ৫৭ বছরে দেশে সংঘটিত ৪৩ জন পেশাদার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডসহ আহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের একটি প্রাথমিক তালিকা দীর্ঘ ছয় মাসের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেলের প্রধান সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী আবির।

 

সংগঠনটি আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে কার্যক্রম শুরু করবে। সেলের প্রধান মোহাম্মদ আলী আবিরের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, আইনি সহায়তা প্রদান, মামলা সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

এদিকে সংগঠনের চেয়ারম্যান অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত কয়েক মাস ধরে এ কার্যক্রমের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানি ও হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নওগাঁ জেলার সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।”

 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম পূর্বশর্ত। দেশের প্রতিটি জেলায় দায়িত্বশীল ও সাহসী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করব। নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নওগাঁ জেলায় সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।” তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ইউনিট প্রধান হলেন শহিদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

২৫/জুলাই/২০২৬ইং: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও

“জুলাই সনদ”দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে “জুলাই ম্যারাথন ও আদম্য জুলাই-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার

(২৫/জুলাই/২০২৬) সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী শহর শাখার উদ্যোগে শহরের ডালপট্টি এলাকা থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহর শাখার সভাপতি সেলিমুদ্দিনের সভাপতিিত্বে ও সেক্রেটারী সোহাগ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা সভাপতি আহমাদ রায়হান।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ছাত্রশিবিরের “জুলাই ম্যারাথন“অনুষ্ঠিত 

পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ও পরীক্ষার ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারির সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর পর বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ পরীক্ষা কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনসহ দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষা চলাকালে কক্ষের জানালা দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।

 

এ নিয়ে পরীক্ষা শেষে ছাত্রদল নেতা ফাহাদের সঙ্গে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ফাহাদ ও সাবেক এমপির ছেলে আকাশ উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে নিয়োগ পরীক্ষা কক্ষের ভিডিও ধারণ নিয়ে ফাহাদের সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের কথা-কাটাকাটি হয়, একপর্যায়ে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

 

এ ঘটনায় ফাহাদ ও রাকিব উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন। রাকিব বলেন, ফাহাদ একজন বিতর্কিত সভাপতি, যিনি দলীয় পদবি ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাঁর ওপর হামলা চালান বলে দাবি করেন রাকিব। অন্যদিকে ফাহাদের দাবি, রাকিব অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেন।

 

সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কারও অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাবেক এমপির ছেলে কক্ষে অবস্থান করেন এবং তাঁর সহযোগী ছাত্রদল নেতা ফাহাদ বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করেন, যা পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি নামের তালিকা ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন সাবেক এমপির ছেলে রাইয়ান আকাশ। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষার হলে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর আগেই উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, সাবেক এমপির ছেলে আকাশ ও ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষা শুরুর পর এমপিপুত্র আকাশ পরীক্ষার কক্ষে ঢোকেন এবং বাইরে থেকে পরীক্ষার হলের ভিডিও ধারণ করে অন্য পরীক্ষার্থীদের বিরক্ত করেন ফাহাদ।

 

অবৈধভাবে পরীক্ষার হলে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপির ছেলে আকাশ বলেন, পরীক্ষার সময় তিনি হলে উপস্থিত ছিলেন, তবে বেশিক্ষণ ছিলেন না, অল্প সময়ের জন্য ছিলেন।

 

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, তাঁরা কোনো তালিকা ইউএনওকে দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে এবং ইউএনও জানিয়েছেন, পরীক্ষা নিরপেক্ষ হবে—এটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, কোনো সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হবে না; পরীক্ষায় যাঁরা ভালো করবেন, তাঁদেরই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রদলের মারামারি

পটুয়াখালী শহরের নবাবপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাজেদ আল খতিব (৭৩) নামে এক সিরীয় বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ ও সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ছিলেন।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খাবার দিতে আসা ব্যক্তি তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে তিনি পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে জানান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে খাটের ওপর মাজেদ আল খতিবকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি এর আগেই মারা গেছেন।

 

বাড়ির মালিক কে এম শাহাদাত খান বলেন, মাজেদ আল খতিব দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং নিয়মিত তার পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। শুক্রবার দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

 

মাজেদের শালিকা ও সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য তানিয়া আক্তার জানান, মাজেদ আল খতিব তার আপন বড় ভগ্নিপতি ছিলেন। জেলা শহরের নবাবপাড়া এলাকায় আব্দুল্লাহ ক্লিনিকের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি এখানে বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যে তিনি সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। ২০০৬ সালের দিকে মাজেদ আল খতিবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তানিয়াই ভগ্নিপতির দেখাশোনা করতেন বলে জানান তানিয়া।

 

তিনি আরও জানান, শুক্রবার বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনতে বলা হলে তানিয়া রাতে খাবার নিয়ে বাসায় পৌঁছান। এ সময় বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলেন না তানিয়া। পরে বাড়ির মালিকের সহায়তায় সদর থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে মাজেদ আল খতিবের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

 

মৃত মাজেদের ছেলে হাসান আল খতিব (৪৩) জানান, তার বাবা সিরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসেন এবং কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর পটুয়াখালীতে বসবাস শুরু করেন।

 

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে ছিলাম না। তাই প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’

 

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার ছেলে ইতোমধ্যে পটুয়াখালীতে পৌঁছেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাড়া বাসায় মিলল সিরীয় বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়ে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পরপর দুটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. আলমগীর নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে উপজেলার সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত আলমগীর (৫৫) উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে একটি হোটেল পরিচালনা করতেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীরের স্ত্রী সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজ পড়তে মসজিদে যান তিনি। পরে হাসপাতালে ফেরার পথে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়লে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

 

তবে চালককে পাওয়া যায়নি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ও জানান তিনি।

স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে নামাজে গিয়েছিলেন স্বামী, ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন সুধাসদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কের ওই ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত যুবকের নাম মো. শাকিল। তর বয়স ২০ বছর। তিনি মোহাম্মদপুরের ঝিগাতলা শিবপুরটালি অফিস এলাকার বাসিন্দা সেকান্দার আলী মাতুব্বরের ছেলে।

 

ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়াদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা স্থানীয় লোকজনের মুখে জানতে পারি, ধানমন্ডি সুধাসদনে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

 

এসআই ওয়াদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দিলে তারা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪০, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়েরের দোয়া প্রার্থনা ।

 

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়ের।

 

অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকার কোটা পাড়া বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আবুল খায়েরের দোয়া প্রার্থনা ।

পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনাটি বিএনপির পুর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

 

তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা হয়েছে। সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় দায়ী করে থানার ওসিকে ফ্যাসিস্টের দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

‎শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

 

নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ করে বলেন, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মসজিদ কমিটির অনুমতি ও তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি সেখানে ইমামতি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে মসজিদে ঢুকে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা করেছে।

সময় ‎তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে থানা গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে, গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার খুতবার ঠিক আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। তিনি দ্বিতীয় খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এঘটনায় সাঁথিয়াজুড়ে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই মসজিদে হামলা হয়েছে: এমপি মোমেন

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d