
পটুয়াখালী শহরের নবাবপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাজেদ আল খতিব (৭৩) নামে এক সিরীয় বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ ও সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খাবার দিতে আসা ব্যক্তি তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে তিনি পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে খাটের ওপর মাজেদ আল খতিবকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি এর আগেই মারা গেছেন।
বাড়ির মালিক কে এম শাহাদাত খান বলেন, মাজেদ আল খতিব দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি শান্ত-স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং নিয়মিত তার পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। শুক্রবার দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মাজেদের শালিকা ও সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য তানিয়া আক্তার জানান, মাজেদ আল খতিব তার আপন বড় ভগ্নিপতি ছিলেন। জেলা শহরের নবাবপাড়া এলাকায় আব্দুল্লাহ ক্লিনিকের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি এখানে বসবাস করতেন। তবে মাঝেমধ্যে তিনি সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। ২০০৬ সালের দিকে মাজেদ আল খতিবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তানিয়াই ভগ্নিপতির দেখাশোনা করতেন বলে জানান তানিয়া।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনতে বলা হলে তানিয়া রাতে খাবার নিয়ে বাসায় পৌঁছান। এ সময় বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলেন না তানিয়া। পরে বাড়ির মালিকের সহায়তায় সদর থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে মাজেদ আল খতিবের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
মৃত মাজেদের ছেলে হাসান আল খতিব (৪৩) জানান, তার বাবা সিরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসেন এবং কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর পটুয়াখালীতে বসবাস শুরু করেন।
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে ছিলাম না। তাই প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার ছেলে ইতোমধ্যে পটুয়াখালীতে পৌঁছেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply