অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

অপরাধী যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, কোনো ধরনের অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

 

তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে কারো রাজনৈতিক পরিচয় লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র ও সরকার অপরাধ দমনে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হাটহাজারী অঞ্চল ঐতিহ্যগতভাবেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। সম্প্রতি হাটহাজারীর একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে ৪ অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অপরাধীদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা আমার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ ধারণা ও আস্থা রয়েছে। তবে কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় অপব্যবহার করে অন্যায় বা অপরাধে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, দলীয় কিংবা আইনি—কোনোভাবেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ সন্ত্রাস ও অপরাধীর কোনো দল, বর্ণ বা সমাজ নেই। তাদের পরিচয় কেবলই অপরাধী।

 

বিভিন্ন দল ও সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে যারা অপকর্ম ও দুর্বৃত্তায়ন চালানোর অপচেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, রাজনৈতিক দল বা সামাজিক পরিচয় ভাঙিয়ে যারা শান্ত জনপদকে অশান্ত করার চেষ্টা করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তৎপর থাকার আহ্বান জানান।

 

হাটহাজারীবাসীর প্রতি গভীর আবেগ ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ বছর ধরে যেমন হাটহাজারীর মানুষের সুখে-দুঃখে ও বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ, আমৃত্যু আপনাদের একজন সন্তান ও ভাই হিসেবে যে কোনো প্রয়োজনে পাশে পাবেন।

 

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, হাটহাজারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহাম্মদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলম ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি প্রমুখ।


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।

 

কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।

 

কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে ভারত

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুইটি সমঝতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তার প্রত্যাবর্তন হলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে কেউ কীভাবে দেশে আসবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়। তিনি বাংলাদেশের আইনগত আওতায় প্রবেশ করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তাঁর বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

 

তিনি বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজনে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।

 

মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না। তিনি বলেন, তারা যদি কোনো পর্যবেক্ষণ বা অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমাদের দায়িত্ব সেটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখব।

 

এর আগে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) ব্র্যাকের এই সমঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

হাসিনা দেশের সীমানায় পা রাখলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।

 

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।

 

আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি। তাঁকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

তিনি জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

 

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ফোনালাপে আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার কিছু সুযোগ আছে কি না তারা জানাবেন। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। না হলে কোন ফর্মে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সেটা তারা জানাবেন।

 

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করছে তথ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, পরামর্শ কিংবা সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করতে পারে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা’র আদালত এই আদেশ দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মোস্তাকিম হোসেন (৫১), মো. নূর আলম (৩৫), মো. রুহুল আমিন (২৯) এবং মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮)।

 

এর আগে, গতকাল এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ইবনে খালিদ হোসেন তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ো আবেদন করেন। ওইদিন আদালত এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

 

আবেদনের বলা হয়, মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং অর্থ জোগানদাতা ও চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই (রবিবার) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের দিন ধার্য ছিল। ওই শুনানি উপলক্ষে জুনাইদ আহমেদ পলক সহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

এ সময় মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যান্টিন গেট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য ও সমর্থক সমবেত হয়। তারা জুনায়েদ আহমেদ পলককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন হাতেনাতে ওই চারজনকে আটক করা হয় এবং বাকি ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা সদস্য পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

পলককে কারাগারে নেওয়ার পথে বিশৃঙ্খলা, অতঃপর…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন তাঁকে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

এর আগে ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ভিসা জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামিয়ে রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার অদম্য আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে তিনি দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন করেন এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।”

 

অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পর্কে:

‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সাল থেকে এটি স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’ (Aspire Institute)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ৫ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশ নিয়েছেন।

 

সম্পূর্ণ অনলাইনে বিনামূল্যে পরিচালিত ৯ সপ্তাহের এই প্রোগ্রামটি মোট তিনটি মডিউলে বিভক্ত। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

 

প্রোগ্রামের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য:

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঘরে বসেই হার্ভার্ডসহ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং: ৩০/০৭/২৬ শনিবার।

 

 

হেডলাইন: নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

 

নড়াইলের নড়াগাতীতে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনি মিয়া শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই দাবা বাস্তবায়নে নড়াগাতী থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নড়াগাতী থানার সামনের সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নড়াগাতীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।,মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব হোসেন। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বড় ভাই পিরু শেখ, চাচাতো ভাই মনিরুল শেখ, স্ত্রী মনিকা বেগম, কন্যা বৈশাখী, ভাইপো সেকেন্দার শেখ, ভাবি রিলিয়া বেগম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. ইকরাম শেখসহ অনেকে।,বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আনসার জমাদ্দার ও সৈয়দ শেখ গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এই একই চক্রটি মনি মিয়াসহ এ পর্যন্ত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু বারবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে।এমন নৃশংস ও অভ্যাসগত অপরাধীরা কীভাবে বারবার জামিন পায়—মানববন্ধনে সে প্রশ্ন তুলে বিচারব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।,কর্মসূচি থেকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে মনি মিয়া হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়া,রি দেন তারা

 

নড়াগাতি নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ।

নড়াগাতীতে ইউপি সদস্য মনি মিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আবারো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাঙ্গাইলগামী একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা জামালপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে বাস ও ট্রাকের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ৭ জন যাত্রী। পরে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা এগিয়ে এসে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

 

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।

 

কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।

 

কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে ভারত

ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা (৫৫) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী (৬)। এ সময় অভিযুক্ত তিন যুবকের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি করে উত্যক্ত করে। অন্যজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভয়ে শিশুটি প্রথমে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। পরদিন রাতে বাবার কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, উত্যক্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে, বর্তমানে ফেনী সদরের উত্তর সিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (২০), পশ্চিম সিলোনিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং সাত্রাসিদ্ধি গ্রামের মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজকে (১৯)।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার মেয়ের শ্লীলতাহানির উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও উত্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করেন।

 

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ যুগান্তরকে জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে শিশুকে উত্যক্ত, অতঃপর…

নারায়ণগঞ্জে মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই জাগরণ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

আয়োজকদের দাবি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ শহীদ মিনারের পেছনে তেলের পাম্পের দিক থেকে দুই যুবক অনুষ্ঠানের মধ্যে পটকা নিক্ষেপ করেন। পরে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

 

আটক দুজন হলেন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেস এবং ফতুল্লার গাবতলী এলাকার শাহ আলম সরদারের ছেলে লোকমান।

 

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “অনুষ্ঠান চলাকালে দুই ব্যক্তি মিনারের পাশের পাম্পের দিক থেকে দর্শকদের ওপর পটকা ছুড়ে মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমাদের ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা তাদের ধরে পুলিশের কাছে দেয়।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর দাবি, আটক দুজন নিজেদের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়েছি। তারা দুজন পুলিশের হেফাজতে আছে। প্রাথমিকভাবে তারা দুজন স্বীকার করেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোন উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

 

ওসি আরও বলেন, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

‎শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

‎গাইবান্ধা শহরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মিশরীয় মসলা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ৮৮ বস্তায় থাকা প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি (প্রায় ৫৫ মণ) মসলা উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের ডিসি অফিসের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি থেকে এসব মসলা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ চালান বহনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নাজমুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেলাডাঙ্গা এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শাহজালাল।

‎তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বগুড়ার শাহীন নামের এক ব্যক্তি এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন ট্রলিচালক এবং অন্যজন সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের বা অবৈধ মসলা সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

‎ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মসলা ও ট্রলিটি তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ফিরে এসে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছে না। এছাড়া মাছের ঘের থেকে মাছ লুট ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ও তার পরিবার অতীতেও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীদের কারণে স্বাভাবিকভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

 

২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস ধরে বাড়িছাড়া। তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

একই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে তিনি নিজের বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা না তোলায় তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আ’লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতার অত্যাচারে ‘ঘরছাড়া’ বিএনপি নেতারা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।

 

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

 

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

 

এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।

 

তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d