ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএনপি দলীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে গণনাকারী ও সমন্বয়কারী পদের আবেদন ফরমে বিধি অমান্য করে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন সরাসরি তার দলীয় পরিচয়ের সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুপারিশ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একটি প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় পদের এমন প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ আবেদনকারীরা।

 

হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্প্রতি জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে আবেদনপত্র আহবান করা হয়। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, মেধাভিত্তিক এবং প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুমারির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ঠা আগষ্ট হরিপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে।

 

এদিকে জমা পড়া আবেদনপত্রের একাংশে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি তার স্বাক্ষর ও সিলের উপরে লিখেছেন ‘‘জোড় সুপারিশ করা হলো”।সরকারি কোনো ফরম বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুপারিশ গ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও, এমন সুপারিশে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রায় একাধিক আবেদন ফরমে এমন সুপারিশ করেছেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা মুখী আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রমে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

 

সাধারণ মেধাভিত্তিক আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, দলীয় সুপারিশের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং দলীয় প্রভাবে স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীসহ সচেতনমহল দাবী করেছেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আইন অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার।

 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন গতকাল শনিবার মুঠোফোনে জানালেন, দলীয় চাপে এগুলো সুপারিশ দিতে হয়েছে। সরকারী আবেদন ফরমে এ ধরনের সুপারিশ করতে পারবেন কিনা প্রশ্নে বলেন? আসলে দলীয় চাপে সুপারিশ করতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তাদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ পক্রিয়া সম্পর্ণ করবেন বলে তিনি জানান।

 

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) চন্দন কর জানালেন, এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নই। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সরকারী ফরমে রাজনৈতিক সুপারিশ যে ফরমে হলো সেগুলো এখন কি হবে প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক গতকাল শনিবার মুঠোফোনে বলেছেন, কোন সুপারিশ দিয়ে নিয়োগ হবে না। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 


ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায়

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইলে পর্ণো ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় এ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও পর্ণো ভিডিও তোলা কাজে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের কন্যা মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মামুন অর রশিদ(৩০)।

এ ব্যাপারে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। মামলা সুত্রে জানা গেছে গ্রেফতারকৃতরা সহ পলাতকরা দীর্ঘ দিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই ধরণের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি তৈরীর বিভিন্ন মালামাল ও সামগ্রী উদ্ধার করে এবং আসামীদের গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন,গ্রেফতারকৃতদের আদালতের প্রেরন ও পলাতক থাকা অন্যান্য অন্যান আসামীদের গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায় 

মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা মারা গেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ও শনিবার দুপুরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

 

মৃতরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কিউরেটর ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম এবং নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম শুক্রবার আনুমানিক রাত ২টায় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ সময় তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪২ বছর। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

 

অপরদিকে দুপুর ২টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ইউএইচএফপিও ডা. মোমেনুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪৫ বছর। ডা. মোমেনুল ইসলাম ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

 

বিকেলে পাঠানো এক শোক বার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উভয় চিকিৎসকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

এক দিনে হার্ট অ্যাটাকে না ফেরার দেশে ৩৩ বিসিএসের দুই স্বাস্থ্য ক্যাডার, মন্ত্রীর শোক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর খালা অভিযোগ করেন, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর অপর বোন ও ছোট ভাই সাথে ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরটি ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

 

এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দলটি তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটকৃতরা হলেন, হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

 

ভুক্তভোগীও জানালেন, প্রথমে দরজা খুলতে বললে খোলা না হলে পরে জানালা ভেঙে একটা ছেলেকে ঘরে ডুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই ছেলে দরজা খুলে দেয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কয়েকজন আগে থেকেই স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বিরক্ত করতো বলেও জানিয়েছে সে।

 

এই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে রাতে বাড়ির জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধ/র্ষ/ণের অভিযোগ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার কারণেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় গুম রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

স্বামীকে জঙ্গি বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে জেবুন্নাহারের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই জঘন্যতম হত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বৃহস্পতিবার এ মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সরকারের বাছাই করা সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মেজর জাহিদেরও নাম ছিল। তিনি এতে আগ্রহী ছিলেন না; তাই যোগদান করেননি। তখন পিলখানায় জাহিদের কোর্সমেট শহীদ ক্যাপ্টেন মো. মাজহারুল হায়দারের পোস্টিং ছিল। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার দিন শহীদ ক্যাপ্টেন মাজহারুল জাহিদকে ফোনে বলেছিলেন, আমাদের সব অফিসারকে মেরে ফেলেছে।

 

কারা মেরেছে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহার বলেন, কিছু হিন্দিভাষী ব্যক্তি, যারা বিডিআর-এর পোশাক পরা ছিল। যাদের কখনোই পিলখানায় আগে দেখিনি। মেজর জাহিদ তখন বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। জাহিদ পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তিনি মাজহারুলের কাছ থেকে অনেক কিছুই জেনে গিয়েছিলেন। তাই হাসিনা সরকার তাকে টার্গেট করে নজরদারিতে রাখত।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীতে অযোগ্য অফিসারের পদোন্নতি এবং নানা বিশৃঙ্খলা জাহিদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি দেখলেন, চাটুকার ও অযোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরায় ভাড়া বাসায় উঠেন।

 

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা : চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর গোয়েন্দারা জাহিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ। বাসা বদল করে উত্তরা থেকে রূপনগরে চলে যান। কিন্তু হাসিনা সরকার জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে জাহিদকে হাত বেঁধে বাসার নিচে নিয়ে যায় রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে আসামিরা জেবুন্নাহারকে তার দুই শিশুসন্তানসহ চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তখন জেবুন্নাহার জানতে চান, তার স্বামী কোথায়? পুলিশ তখন বলতে থাকে, তিনি ও তার স্বামী জঙ্গি, এই স্বীকারোক্তি না দিলে তাকেও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশের কোনো একজন জানান, তারাই মেজর জাহিদকে হত্যা করেছে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ: গত বছরের ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পৃথক অভিযোগ করেন জেবুন্নাহার। অভিযোগে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) তৎকালীন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, মিরপুর বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শাহীদ আলম, ডিসি ডিবি কৃষ্ণ পদ রায় ও রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাতনামা সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

 

প্রধান আসামি একেএম শহীদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দিয়েছেন।

 

স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন: জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নেওয়া হয় মিথ্যা জবানবন্দি। একই সঙ্গে নিহত মেজর জাহিদের বিরুদ্ধে একটি এবং জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২টি সাজানো জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানতেন বলেই ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে হত্যা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।

 

কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।

 

কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে ভারত

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

‎শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

‎গাইবান্ধা শহরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মিশরীয় মসলা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ৮৮ বস্তায় থাকা প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি (প্রায় ৫৫ মণ) মসলা উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের ডিসি অফিসের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি থেকে এসব মসলা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ চালান বহনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নাজমুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেলাডাঙ্গা এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে শাহজালাল।

‎তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বগুড়ার শাহীন নামের এক ব্যক্তি এই চালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন ট্রলিচালক এবং অন্যজন সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের বা অবৈধ মসলা সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

‎ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মসলা ও ট্রলিটি তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা অবৈধ মিশরীয় জিরানি মসলা জব্দসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারী পলাশবাড়ী ডিগ্রী কলেজের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর পলাশ বাড়ির ডিগ্রী কলেজ চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও মতবিনিময়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার

(১ আগস্ট) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রথম তলা নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। এক কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় এই ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এরপর কলেজ প্রাঙ্গনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল পারভেজের সভাপতিত্বে ও পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জগদীশচন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, মাধ্যমিক ও

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোঃ গোলাম মাজেদ এবং তুহিন এর সহধর্মিনি তামান্না ইয়াসমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলাশবাড়ী ডিগ্রী কলেজের এই নতুন ভবন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত করবে। ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এলাকার মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করে যেতে চাই।’ এ সময় জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো, মহিলা দলের সহ-সভাপতি রাকু ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী পলাশবাড়ী ডিগ্রী কলেজের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায়

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইলে পর্ণো ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় এ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও পর্ণো ভিডিও তোলা কাজে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের কন্যা মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মামুন অর রশিদ(৩০)।

এ ব্যাপারে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। মামলা সুত্রে জানা গেছে গ্রেফতারকৃতরা সহ পলাতকরা দীর্ঘ দিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই ধরণের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি তৈরীর বিভিন্ন মালামাল ও সামগ্রী উদ্ধার করে এবং আসামীদের গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন,গ্রেফতারকৃতদের আদালতের প্রেরন ও পলাতক থাকা অন্যান্য অন্যান আসামীদের গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।

ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অপরাধ, গোবিন্দগঞ্জে নারীসহ ৪ জন পুলিশের খাঁচায় 

দেশের রাজনৈতিক সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

 

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়েছে।

 

এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা সম্পর্কে বিএনপি প্রকাশ্যে কিছু না জানালেও দলটির একাধিক সূত্র ও বিভিন্ন নেতা গণমাধ্যমকে ইতোমধ্যে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করায় ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তার আগে আজকের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গ খুব স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার টেবিলে আসতে যাচ্ছে। দলটি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিএনপি নেতারা।

 

এছাড়া, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপির নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে, আলোচনায় থাকছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

আসন্ন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক যুব নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আসন্ন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সর্বস্তরের ভোটারদের মাঝে উদ্দীপনা ও আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নির্বাচনে জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিনিধি হিসেবে জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা জেলা যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন।

 

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এলাকার সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ ও যুবসমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তরুণদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় প্রকাশ করছেন এই যুব নেতা।

 

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের অভিমত, এলাকার টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচন করা জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে যুব নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওনের রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা স্থানীয়দের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

আসন্ন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক যুব নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন।

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নীলফামারীতে জামায়াতের গণ সমাবেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

০১/ আগস্ট/২৬ইংঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নীলফামারীতে গন সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার

(০১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারী ডিসি মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট

আলফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের

কর্মপরিষদ সদস্য ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবে না, জুলাই সনদের সংস্কার হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে জনগণকে বিরত রাখা যাবে না। ইতিমধ্যে যে কর্মকাণ্ড বর্তমান সরকার শুরু করেছে, বাংলাদেশের জনগণ এখনো প্রস্তুত আছে আবারো রক্ত দিতে। প্রস্তুত আছে নতুন এই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে আবারো মুক্ত করতে। তিনি বলেন বর্তমান সরকার আবারও নতুন ফ্যাসিবাদের দের জন্মের দিকে হাটছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরকে উপেক্ষা করে, তাদেরকে বাদ দিয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামো উন্নয়নের কথা ভাবছেন। বাংলাদেশের জনগণ এটি কখনও মেনে নিবে না। নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। গণ সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান

সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজার ট্রাফিক মোড়ে এসে শেষ হয়।

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নীলফামারীতে জামায়াতের গণ সমাবেশ

মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা মারা গেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ও শনিবার দুপুরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

 

মৃতরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কিউরেটর ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম এবং নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, ডা. আবু ঈসা মো. আরাফাত ইমাম শুক্রবার আনুমানিক রাত ২টায় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ সময় তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪২ বছর। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

 

অপরদিকে দুপুর ২টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ইউএইচএফপিও ডা. মোমেনুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪৫ বছর। ডা. মোমেনুল ইসলাম ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

 

বিকেলে পাঠানো এক শোক বার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উভয় চিকিৎসকদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

এক দিনে হার্ট অ্যাটাকে না ফেরার দেশে ৩৩ বিসিএসের দুই স্বাস্থ্য ক্যাডার, মন্ত্রীর শোক

দেশের বিপুল মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দেশের বিশাল জনশক্তিকে উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত করা সম্ভব নয়। তাই কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দেশে নতুন করে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও জানান, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে বলেন, দেশের জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদই দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।

কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

 

বিগত ১ বছরে দুই লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৮-আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। পাশাপাশি ১৬৬ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার, বিপুল সাব মেশিন গান (এসএমজি), ওয়ান শুটারগান, রিভলভার ও গুলি উদ্ধার করেছে।

 

শনিবার ( ১ আগস্ট ) ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উখিয়া, কক্সবাজারের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে হারানো মোবাইলসহ অপহৃত ১৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশের মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি এফডিএমএন কক্সবাজারসহ সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশনায় ৮ এপিবিএন এর ইন্টেলিজেন্স টিম একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ মে ৮ এপিবিএন এর অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে যোগদানের পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত চৌদ্দ মাসে বিভিন্ন অভিযানে ৭১ টি মামলায় ১৬৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার মধ্যে হত্যা মামলায় ২২ জন, অস্ত্র মামলায় ০৮ জন, অপহরণ মামলায় ১২ জন, মাদক মামলায় ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলায় ০২ জন, চুরি মামলায় ০৫ জনসহ অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ ১৬৬ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বিভিন্ন বয়সের অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারে এপিবিএন সফলতা অর্জন করে। অপহরণের ঘটনায় ভিকটিমের জীবননাশের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ৮ এপিবিএন এর কৌশলের কাছে বার বার অপহরণকারীরা পরাজিত হয়েছে এবং নিরাপদে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এই ১৪ মাসে ৮ এপিবিএন উখিয়া, কক্সবাজারের অভিযানে ২ লাখ ৪ হাজার ৩১ পিস ইয়াবা, একটি সাব মেশিন গান (SMG), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি ও ২৩ রাউন্ড গুলির খোসা, ০৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুড়া, দেশি মদ ১৩ লিটার, একটি ওয়াকি-টকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা, মাদক বিক্রি ও অন্যান্য মিলে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৩৭ টি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

 

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপ ভিত্তিক মারামারি ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক নির্যাতন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এক বছরে ২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে এপিবিএন-৮

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএনপি দলীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে গণনাকারী ও সমন্বয়কারী পদের আবেদন ফরমে বিধি অমান্য করে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন সরাসরি তার দলীয় পরিচয়ের সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুপারিশ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একটি প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় পদের এমন প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ আবেদনকারীরা।

 

হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্প্রতি জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে আবেদনপত্র আহবান করা হয়। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, মেধাভিত্তিক এবং প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুমারির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ঠা আগষ্ট হরিপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে।

 

এদিকে জমা পড়া আবেদনপত্রের একাংশে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি তার স্বাক্ষর ও সিলের উপরে লিখেছেন ‘‘জোড় সুপারিশ করা হলো”।সরকারি কোনো ফরম বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুপারিশ গ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও, এমন সুপারিশে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রায় একাধিক আবেদন ফরমে এমন সুপারিশ করেছেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা মুখী আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রমে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

 

সাধারণ মেধাভিত্তিক আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, দলীয় সুপারিশের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং দলীয় প্রভাবে স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীসহ সচেতনমহল দাবী করেছেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আইন অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার।

 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন গতকাল শনিবার মুঠোফোনে জানালেন, দলীয় চাপে এগুলো সুপারিশ দিতে হয়েছে। সরকারী আবেদন ফরমে এ ধরনের সুপারিশ করতে পারবেন কিনা প্রশ্নে বলেন? আসলে দলীয় চাপে সুপারিশ করতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তাদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ পক্রিয়া সম্পর্ণ করবেন বলে তিনি জানান।

 

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) চন্দন কর জানালেন, এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নই। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সরকারী ফরমে রাজনৈতিক সুপারিশ যে ফরমে হলো সেগুলো এখন কি হবে প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক গতকাল শনিবার মুঠোফোনে বলেছেন, কোন সুপারিশ দিয়ে নিয়োগ হবে না। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত হয়।

 

শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে মূলত বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্পখাতের বিদ্যমান সমস্যা, জ্বালানি সংকট, করনীতি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, করব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা, লজিস্টিকস, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

এছাড়া এ বৈঠকে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ, করনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকিং ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

 

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d