ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

 

আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।

 

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

 

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে।

 

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।


প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন প্রবাসী রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে পড়েছেন এক ইতালি প্রবাসীর। খবর পেয়ে দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রফিউদ্দিন।

 

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার করে আবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনরা।

 

রোববার (২ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলির ছেলে রফিউদ্দিন একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত থানায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর কাছে থেকে যান।

 

এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন বাড়ি ফিরে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় রফিউদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে পুনরায় বিয়ে করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

 

এ ঘটনার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেন তারা।

 

এ বিষয়ে নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে অতিভদ্র ও অমায়িক একটা সভ্য মেয়ে। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের কারণে এভাবে বাড়ি না ভেঙে আইনি পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো।

 

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাঈল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ গেলেন স্বামী, ক্ষোভে যে কাণ্ড করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই নানা মাধ্যমে তদবির করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। বিচারের কাঠাগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উলটো তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপনে চলে যান অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন দমনে জড়িত রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাও হয়। আন্দোলন দমন ও হত্যা নির্যাতনে জড়িত কর্মকর্তারা এখন কে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে যুগান্তর।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলায় এসপি দায়িত্ব পালন করেন ১১৬ জন কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে ৪১ জনই বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), রেলওয়ে পুলিশ কিংবা পুলিশ একাডেমি সারদায় ‘সংযুক্ত’ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ট্রেনিং সেন্টার বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত ৩৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক মনে করছেন জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা ৪১ জন ডিআইজি-এডিশনাল ডিআইজি ও এসপি পুর্লিশের ‘বিষফোড়া’। এরাই ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন তারা।

 

এদিকে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় অবসরে পাঠানো হয়েছে মাত্র ১৭ জনকে। গড় হিসাবে এই সংখ্যার হার ১৪ শতাংশ। অন্য ৫৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে, কাউকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় যেসব জেলার এসপিদের সরাসরি নির্দেশ ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। কেউ কেউ বরখাস্ত হয়েছেন, আবার কেউ কারাবন্দি কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামি হিসাবে পলাতক। বিভিন্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও এপিবিএনের ব্যাটালিয়নগুলোতে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন অনেকে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, সিআইডি কিংবা পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত আছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লবিং চালিয়ে ভালো পোস্টিংও পেয়েছেন। কোনো কোনো অতিরিক্ত ডিআইজিও খোলস পালটে বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৭ এসপির মধ্যে ৩৫ জনই এখন বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, এসপি হিসাবে জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

 

শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপি। এই শাস্তির মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত কিংবা সংযুক্ত রাখা। এই পরিসংখ্যানে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

 

এদিকে গত দুই বছরে আট মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কমিশনার ও আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তিন ডিআইজি ও এক কমিশনারকে।

 

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের ২১ অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৩৫ এসপি: আন্দোলনের সময় টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হন। সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া ট্রেনিং সেন্টারে স্বাভাবিক পদায়ন করা হয়েছে। ফরিদপুরের এসপি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম রংপুর মেট্রোপলিটনের ডিসি, রাজবাড়ীর এসপি জিএম আবুল কালাম আজাদ এপিবিএনে, শরীয়তপুরের মাহবুবুল আলম ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে, মাদারীপুরের মোহাম্মদ শফিউর রহমান পিটিসি খুলনায়, নেত্রকোনার ফয়েজ আহমেদ খুলনার আরআরএফ-এ, শেরপুরের দুই এসপির মধ্যে মোনালিসা বেগম সিআইডিতে এবং আকরামুল হোসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে, কক্সবাজারের মাহফুজুল ইসলাম এপিবিএনে, বান্দরবানের সৈকত শাহীন শিল্পাঞ্চল পুলিশে, খাগড়াছড়ির মুক্তা ধর নৌ পুলিশে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন সিআইডিতে কর্মরত আছেন।

 

চাঁদপুরের এসপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, মৌলভীবাজারের মনজুর রহমান নোয়াখালী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, সুনামগঞ্জের এমএন মোর্শেদ পিবিআইয়ে, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান সিদ্দিকী ঢাকার টেলিকমে, চুয়াডাঙ্গার আরএম ফয়জুর রহমান পিবিআইয়ে, কুষ্টিয়ার দুজনের মধ্যে এএইচএম আবদুর রকিব পিটিসি নোয়াখালীর অতিরিক্ত ডিআইজি আর মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন রংপুর রেঞ্জে, নড়াইলের মোহা. মেহেদী হাসান রেলওয়ে পুলিশে, মেহেরপুরের এসএম নাজমুল হক নৌ পুলিশে, পিরোজপুরের মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সিলেট রেঞ্জে, ভোলার মাহিদুজ্জামান হবিগঞ্জের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল রাজশাহী রেঞ্জে, বরগুনার মো. রাফিউল আলম এন্টিটেররিজম ইউনিটে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. ছাইদুল হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশে, পাবনার আকবর আলী মুনসী লালমনিরহাট ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, নওগাঁর মুহাম্মদ রাশিদুল হক সিআইডিতে, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ নূরে আলম আরআরএফ বরিশালে, রংপুরের ফেরদৌস আলী চৌধুরী সিএমপিতে, ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তম প্রসাদ পাঠক ট্যুরিস্ট পুলিশে, পঞ্চগড়ের এসএম সিরাজুল হুদা ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার গাজীপুরে, নীলফামারীর মোকবুল হোসেন ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কুষ্টিয়ায়, লালমনিরহাটের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিআইডিতে এবং কুড়িগ্রামের আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম পিবিআইতে কর্মরত।

 

৬ অতিরিক্ত ডিআইজি: ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের তিন অতিরিক্ত জিআইজির মধ্যে একজন সংযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমান বর্তমানে টাঙ্গাইলে পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং প্রবীর কুমার রায় নৌ পুলিশে কর্মরত। রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পুলিশ সদর দপ্তরে, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বর্তমানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। একইভাবে সিলেট রেঞ্জে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী লিটন কুমার সাহা খুলনায় পিটিসি (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) ও সিলেট রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হিসাবে কর্মরত।

 

সাময়িক বরখাস্ত ১১ এসপির মধ্যে কারাগারে তিনজন: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৬ এসপির মধ্যে মাত্র ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে তৎকালীন ঢাকা জেলার এসপি মো. আসাদুজ্জামানকে অভ্যুত্থানের পরই রাজশাহীতে সংযুক্ত করা হলেও পরে তাকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় আরও যারা রয়েছেন-নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেল, লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, যশোরের প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিরাজগঞ্জের আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়ার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রংপুরের মো. শাহজাহান। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন কারাগারে। এরা হলেন-নোয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও বাগেরহাটের আবুল হাসনাত খান।

জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাই কার্যক্রমেই ব্যয় হতে যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনেই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

সরকার যখন ব্যয় কমানোর কথা বলছে, সে সময় শুধু কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানেই বিপুল পরিমাণ বাজেটকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

 

তিনি বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা তো অনেক, এ টাকা দিয়ে বহু মানুষকে সহায়তা দেওয়া যেত। অনুষ্ঠান আয়োজনে যদি বিপুল খরচ করা হয়, তাহলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।’

 

অবশ্য প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ঠিকই। তবে এর মানে এই নয় যে পুরো টাকাই খরচ হবে।’

 

এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু করেছে সরকার। সেখানে শুরুতেই উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম সামনে এসেছে। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও বাড়ির মালিকসহ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে কয়েকটি খাতে ব্যয় কমিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এজন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব গত ১৮ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে থোক বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৫১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।

 

এর পরদিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেন পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫৫০ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাব এবং পাঁচটি সুপার কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২২১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

 

কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আট বিভাগে সেমিনারের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ডেটা সংগ্রহ, এন্ট্রি ও প্রসেসিং এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী প্রকৃত সুবিধাভোগীর শনাক্ত করা হবে। জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিংয়ের জন্য জনবলের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের এসএসপিআইআরআইটি প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালে ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়। তবে সরকার আলাদা কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হয়। পরে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অংশে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি।

 

প্রকল্প সংশোধনের আওতায় অতিরিক্ত আটটি ডাটা এন্ট্রি সেবা এবং পাঁচটি কম্পিউটিং সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে দুটি জিপ ও আটটি মাইক্রোবাসসহ মোট ১০টি যানবাহন ভাড়ায় ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। গত অর্থবছরে দেশের ৬৫টি ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।

 

প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

 

স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণে ৫৫০ কোটি টাকা কতজনের জন্য ব্যয় করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম অর্থবছরে ৪১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কার্ড দেওয়া হবে।’

 

তিনি জানান, দ্রুত মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে ইতিমধ্যে জরিপের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই জরিপের কাজ শেষ করা হবে। জরিপ কাজে পরিসংখ্যান ব্যুরোর টেকনিক্যাল সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।

 

শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাইমস-এর অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার কড়াইল বস্তির একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল কিছু পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

 

কড়াইল বস্তি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অংশ, তার প্রথম নির্বাচনী জনসভাও এখানেই হয়েছিল। সেই জনসভায় ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

এই বস্তির অটোরিকশাচালক মো. শান্ত টাইমসকে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। তার অভিযোগ, ‘আমার বাড়িওয়ালা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু যাদের সত্যিই এই টাকার প্রয়োজন, তারা কার্ড পায়নি।’

 

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ আইনে একটা ওয়ার্ড সভার বিধান আছে। ২০০৭ সালে সেটি যুক্ত করা হয়। ওই বিধানের মূল কথা হলো সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি যত সেবা আছে, সেগুলোর জন্য উপকারভোগী চিহ্নিত করা হবে প্রকাশ্য বৈঠকে, যাতে নেতারা তাদের লোকজনের নাম ঢুকিয়ে দিতে না পারে। কিন্তু সরকারের কার্যক্রমে এসব উপেক্ষা করা হয়। অথচ এটা বাস্তবায়ন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।’

 

সরকারি নীতিমালায় ভূমিহীন, গৃহহীন, নারীপ্রধান ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার উপকারভোগী কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকার। তবে কড়াইলের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

ফ্যামিলি কার্ড: জরিপেই ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

 

এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।

 

আজ রোববার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় মামলা: জামিন পেলেন ১১ ছাত্রদল কর্মী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

 

এদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুকে লেখেন, ‘শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল প্রভোস্ট অফিসে হামলা করছে, সামলাতে না পেরে রিজাইন দিয়েছেন প্রভোস্ট। তিনিও বিএনপিপন্থি এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক। ক্যাম্পাসের নতুন ত্রাস, ছাত্রদলের সন্ত্রাস!’

 

এর প্রতিবাদে আজ বিকাল সাড়ে ৬টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছে দলটি।’

 

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি।

ঢাবিতে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

 

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

 

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

 

সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

 

ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।

 

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ (স্বাধীনতা) প্রকল্পের আওতায় একটি হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট, ২০২৬) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বার্গারগঞ্জ রেস্টুরেন্টে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

​ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ঢাকা বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’।

​অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের আইটি ও কমিউনিকেশন অফিসার এবং স্বাধীনতা প্রকল্পের ফোকাল মো. নুরে আলম। ফ্যাসিলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য জেসিকা শেখ জেবা ওলতিফা আক্তার পুতুল।

 

​অরিয়েন্টেশনে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভুল তথ্য (Misinformation), অপতথ্য (Disinformation) ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় করণীয়, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ফ্যাক্ট-চেকিং কৌশল, ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ​এতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৩০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান শিকদার জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রসারের লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

অংশগ্রহণকারী জহিরুল ইসলাম তুষার বলেন,”

অরিয়েন্টেশনে আমরা তরুণরা ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি এবং ভবিষ্যতেও প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি।”

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে হাতকড়া পড়ে মায়ের জানাজায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

০৪/আগস্ট/২৬ইং নীলফামারীতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহিদ মাহমুদ। মঙ্গলবার

(০৪/আগস্ট/২৬ ইং) দুপুর ১২ টার দিকে রংপুর জেলা কারাগার থেকে ৫ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। পরে পুলিশ নিরাপত্তায় দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউস ঈদগাহ মাঠে মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে আবার রংপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে তাকে পাঁচ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুটি হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলার আসামি শাহিদ মাহমুদ।২০২৫ খালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নীলফামারীতে হাতকড়া পড়ে মায়ের জানাজায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানিকগঞ্জে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে খেলাফত মজলিস।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় খেলাফত মজলিসের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম ফরায়জীর সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তাওহীদুল ইসলাম তুহিন এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান তানজিল আহমেদ।

বক্তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির দুটি নির্বাচনের মধ্যে একটির ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তবে তাদের দাবি, সরকার এখনো গণভোটে প্রদত্ত জনগণের রায় বাস্তবায়ন করেনি। তারা বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও পূর্ববর্তী সরকারের মতো হতে পারে।

 

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানিকগঞ্জে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে খেলাফত মজলিস

৮ মাস মেয়াদ বাকি থাকতেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভারের থানা রোডে অবস্থিত মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

 

 

একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের ওই আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

 

রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ওই কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

 

 

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সভাপতি পরিবর্তন করা হয়। নতুন সভাপতি হিসেবে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

 

এ ঘটনায় ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে নোটিশের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তিনি।

 

 

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

রিটে চলমান কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

 

 

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ওই ধারায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ উল্লেখ না করে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি করার প্রক্রিয়াকে অবৈধ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যার মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে, তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেয়াও আইনের লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

 

 

এ ছাড়া ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে কোনো কারণ ছাড়াই সভাপতি পদ থেকে বাদ দেয়ায় তার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও রিটে তুলে ধরা হয়।

 

 

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধির ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

 

 

ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।

৮ মাস মেয়াদ বাকি থাকতেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম) কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে সদ্য পরীক্ষা দেওয়া চার শিক্ষার্থীকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মোট ১০০টি উত্তরপত্রের কোড নম্বর তাঁরা পূরণ করেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর পূরণ করছেন। এই কাজ করিয়েছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইন, যিনি সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপনের কাছে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় তাঁর কাছে মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র জমা দিতে হবে।

 

অভিযোগ ছিল, তিনি নিজে মূল্যায়ন না করিয়ে এ কাজে ব্যবহার করেন চার শিক্ষার্থী— আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে। এদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান এ বছর ওই কলেজ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। আর তানভির ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কেজ্যুয়াল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী।

 

পরীক্ষার্থী সিফাত জানান, কলেজের শিক্ষক রিপন স্যার তাঁদের এসব খাতায় কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেছেন।

 

আরেক পরীক্ষার্থী আনিম বলেন, তাঁরা কলেজের কাছেই ছিলেন, স্যার ডেকে নিয়ে খাতার কোড পূরণ করতে বলেছেন এবং তাঁরা সেটাই করেছেন। তবে পরীক্ষার্থী হয়ে একই বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেওয়া নিয়মসম্মত কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু কোড ভরাট করেছেন, প্রকৃত মূল্যায়ন করেননি।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজের অফিস কক্ষে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাধি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়, সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে বলা সম্ভব হবে।

 

তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু তিনিই তা করতে পারবেন অন্য কোনো শিক্ষকও তা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ মূল্যায়ন করেছেন এমন প্রমাণ বা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।

সদ্য পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

 

আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।

 

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

 

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে।

 

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যম প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য কেবল আস্ফালন, বাস্তবে তা করার সক্ষমতা তার নেই। একই সঙ্গে সরকার যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে এবং এ বিষয়ে কোনো ভূরাজনৈতিক সমস্যায় নেই।

 

এ সময় খাদ্য ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে।

 

বিদ্যুৎতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল পেলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারেন।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ আয়োজন শুরু হবে।

 

বিএনপির মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে এক নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তির নাম অস্টিন (৩৯)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে ঢাকায় আসেন। পরে সেখান থেকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।

বিজিবি জানায়, আটক নাইজেরিয়ান নাগরিককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক

 

মোঃ আতিকুর রহমান আশিক মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। এতদিন হুমকির মুখে ঘটনাটি কাউকে জানাতে পারেনি শিশুটি।

 

আজ সোমবার মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও স্ত্রীর আগের ঘরের ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জুলহাস নামের এক মিলশ্রমিক।

 

অভিযোগ, গত রোববার সকালে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও পাঁচ থেকে ছয়বার একইভাবে তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে শিশুটি জানিয়েছে। অভিযুক্তের হুমকির কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল সে। সোমবার সকালে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে মা তার মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুর কাছে যান। চেয়ারম্যান বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘিওর থানায় জানান।

 

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা পরিষদে এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। শিশুটির মা বলেন, তাঁর স্বামী যে এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। ভয় দেখানোর কারণে মেয়েটি এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেনি। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

 

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত জুলহাসকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d