পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে থমথমে জবি, পরিচয়পত্র চেক করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

ছাত্রদল, জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য কড়া নিরপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পাশাপাশি আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রচুর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও কড়া নিরাপত্তায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে।

 

একই স্থান ও প্রায় একই সময়ে তিনটি পৃথক সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থানে ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হলো।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আজ দুপুর ১২টায় শহীদ রফিক ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আহত ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেবেন নেতারা।

 

এরপর একই স্থান ও সময়ে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণাও চালানো হয়েছে।

আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল শহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, একই স্থানে ও কাছাকাছি সময়ে একাধিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাময়িকভাবে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এরইমধ্যে আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র থেকে ক্যাম্পাসে যেতে দিচ্ছে প্রশাসন।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) পুরান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তার নারী সহপাঠীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নূর মোহাম্মদকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

 

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদল।

 

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রসাশনকে বলব, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারাই আপনার ওপরও হামলা করবে।’

সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণে ‘মাইলস ফর ম্যাট্রিস’ স্লোগানে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘রান ফর ভিক্টোরি ২.০’ শীর্ষক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটক থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা কলেজের প্রধান ফটক থেকে গুলশান-১ পর্যন্ত দৌড়ে পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসেন।

 

ম্যারাথন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পুরো কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

আয়োজকরা জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক ও ইতিবাচক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 

ম্যারাথন শেষে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সোহেল রানা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিতীয় বিজয়ের আয়োজন। আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যুক্ত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও তিতুমীর ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহাবস্থান ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

 

কলেজ শাখার সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আমরা এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছি। জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উজ্জীবিত রাখাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই দিনটিকে আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণ করি, যেদিন শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিকে ধারণ করেই আজকের এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম) কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে সদ্য পরীক্ষা দেওয়া চার শিক্ষার্থীকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মোট ১০০টি উত্তরপত্রের কোড নম্বর তাঁরা পূরণ করেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর পূরণ করছেন। এই কাজ করিয়েছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইন, যিনি সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপনের কাছে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় তাঁর কাছে মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র জমা দিতে হবে।

 

অভিযোগ ছিল, তিনি নিজে মূল্যায়ন না করিয়ে এ কাজে ব্যবহার করেন চার শিক্ষার্থী— আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে। এদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান এ বছর ওই কলেজ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। আর তানভির ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কেজ্যুয়াল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী।

 

পরীক্ষার্থী সিফাত জানান, কলেজের শিক্ষক রিপন স্যার তাঁদের এসব খাতায় কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেছেন।

 

আরেক পরীক্ষার্থী আনিম বলেন, তাঁরা কলেজের কাছেই ছিলেন, স্যার ডেকে নিয়ে খাতার কোড পূরণ করতে বলেছেন এবং তাঁরা সেটাই করেছেন। তবে পরীক্ষার্থী হয়ে একই বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেওয়া নিয়মসম্মত কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু কোড ভরাট করেছেন, প্রকৃত মূল্যায়ন করেননি।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজের অফিস কক্ষে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাধি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়, সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে বলা সম্ভব হবে।

 

তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু তিনিই তা করতে পারবেন অন্য কোনো শিক্ষকও তা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ মূল্যায়ন করেছেন এমন প্রমাণ বা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।

সদ্য পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

 

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

 

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

 

সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

 

ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।

 

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

যশোরের চৌগাছায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরাফাত হোসেন রাব্বি নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেয়।

গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন রাব্বি স্থানীয় চৌগাছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সহযোগিতার জন্য প্রতিবেশী সম্পর্কের মামাতো ভাই রাব্বির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাব্বি ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে চৌগাছা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীকে ভুল বুঝিয়ে চৌগাছা পৌরসভার আওতাধীন এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে পুরো বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ করেন। ঘটনা জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল (রোববার) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার বিষয়ে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরু/ণীকে ধ/ র্ষ/ণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

দেশের বিপুল মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দেশের বিশাল জনশক্তিকে উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত করা সম্ভব নয়। তাই কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দেশে নতুন করে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও জানান, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে বলেন, দেশের জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদই দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।

কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুল ছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় এবার ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকার বাসিন্দা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে এলাকায় হাঁটছিল। এ সময় এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে পরপর লাথি মারে। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে লাথি মারার ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। কিন্তু স্কুলের সময় বাইরে যাওয়ার অভিযোগে শিক্ষকরা বিচার করে আমার মেয়েকেই টিসি দিয়ে দিয়েছে।’

স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীকেই টিসি

সাভার পৌর বিএনপির মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলাল

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব মাহমুদুল হাসান আলালকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করেছে সাভার পৌর বিএনপি।

 

 

 

১৩তম (ত্রয়োদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর সাভার পৌরসভার ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মরহুমের স্মৃতি ও রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাভার পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলালের পক্ষে ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর কাছ থেকে এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই সাভার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল ।

 

দলীয় সূত্র মতে, সাভারের রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা, তৃণমূল বিএনপিতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সর্বসাধারণের সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়।

 

সম্মাননা স্মারক গ্রহণকালে মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল সাভার পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি তার প্রয়াত ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন।

সাভার পৌর বিএনপির মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত সাভার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মাহমুদুল হাসান আলাল

সাভার উপজেলাধীন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছ।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভার উপজেলাধীন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নসহ সাভারের ৩টি ইউনিয়নকে সাভার উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জের সাথে সংযুক্ত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়, এতে অংশ নেয় হাজার হাজার সাধারণ জনগণ। এ সময় হাজার হাজার জনতার পদচারণায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নাম করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে একটি ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে সাভারের তিনটি ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে সংযুক্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। বক্তারা আরো বলেন, নাগরিক সুবিধার্থে তেতুলঝোড়া,আমিনবাজার,ভাকুর্তা এই তিনটি ইউনিয়ন সাভার উপজেলার সাথে সব সময় থাকতে চাই। তাই কোনোভাবেই কেরানীগঞ্জের সাথে সংযুক্ত করা যাবে না।

এ সময় উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সকলে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে সাভার উপজেলায় রাখার জোর দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন

তেঁতুলঝরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন সরকার,

ঢাকা জেলা যুবদল নেতা ও আসন্ন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এলাকাবাসী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

সাভার উপজেলাধীন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে

ভোরে ছেলেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন বাবা। কে জানত, সেটিই হবে ছেলের শেষ যাত্রা। কয়েক ঘণ্টা পর সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসতে হবে বাবাকে। দুপুরে সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বাবা-মা দুজনই।

 

নিহত আরমান হোসেন রাহিম (১৫) কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা রফিকুল ইসলাম সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। শাহপরান (রহ.) মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে দুই বছর আগে কোরআনের হাফিজ হন তিনি।

 

রাহিম সিলেটে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরে গত বছর তাকে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য শুক্রবার ভোরে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় আর পৌঁছানো হয়নি রাহিমের।

 

শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাহিমসহ অন্তত নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাহিমের বাবা সিলেট থেকে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান। তার মা কুমিল্লা থেকে সেখানে আসেন।

 

দুপুরে থানায় ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তারা। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

 

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে রাহিম বড়। সে শাহপরান মাদ্রাসা থেকে হাফিজি শেষ করে। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। ভোরে তাকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি।’

 

রাহিমের স্বজনেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাতেও তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভালো কিছু করবেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।

ভোরে ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিলাম, সেটাই শেষ যাত্রা হবে ভাবিনি’

সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি দুই বছর ধরে নিজ দেশ থেকে নির্বাসনে রয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজেও অংশ নিতে চান তিনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবই করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’

 

সাকিব বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে ফিরতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে খুব বেশি দেরি করতে চান না। সাকিব বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছি। কিন্তু বয়স তো আর আমার পক্ষে নেই। তাই অবসর নেওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে চাই না।’

 

সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তার ভাষ্য, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে দুবাইয়ে নেমে জানতে পারেন, বাংলাদেশে আর যেতে পারবেন না। সেখান থেকেই তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।

 

সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটা আজও জানি না। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।’

 

সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নতির কথাই বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।

 

শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।’

 

বর্তমানে নিজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর একটি মামলা। যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন আমি টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলাম।’

 

তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ জব্দ আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

 

সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি।

 

দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র-রয়টার্স

নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের জনপ্রিয় বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ৯ জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে খোজাইফা (৪), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। তারা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পেহেলী ভৈরবী সিলেটে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

 

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দয়ামীর বাজারসংলগ্ন কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

 

এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় বাউলশিল্পী ভৈরবী নিহত

 

বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে শেখ শাহরিয়ার সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট ফুলবাড়িয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শেখ শাহরিয়ার সৈকত বাগেরহাট সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট থেকে খুলনাগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সৈকত সড়কে ছিটকে পড়ে মাথা, মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাত পান।

 

খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই দল পাঠিয়া আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন উঠলেও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

 

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়। তবে ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

 

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের

সাভারে পুলিশি অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত মনোয়ারুল সাভারের বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টারের (বিপিএটিসি) গার্ড জাফরের ছেলে এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থান এলাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামের এক তরুণ মিম নামের এক কিশোরীকে নিয়ে সাভারে তার মামা মনোয়ারুলের বাসায় চলে আসে। এই ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে সাভার মডেল থানায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে রাত ১১টার দিকে বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ।

 

তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ভাগ্নে ও তার প্রেমিকা ওই বাসা থেকে কেটে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামা মনোয়ারুল দৌড়ে ছাদে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশও তাকে খুঁজতে ছাদে গেলে তিনি হঠাৎ পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবেশী রাসেল মনি ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার জানান, রাতে ভাগ্নেকে না পেয়ে পুলিশ জোরপূর্বক মনোয়ারুলকে ধাওয়া করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান। মনোয়ারুল নিচে পড়ে যাওয়ার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে তারা দাবি করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ মুঠোফোনে জানান, ভিকটিমের বাবাকে নিয়ে তারা সাভার মডেল থানার পুলিশসহ রাতে বিপিএটিসির ওই বাসায় যান। সেখানে ঢুকে কেবল মনোয়ারুলের বাবা-মাকে পান। বাসার ভেতরে আর কেউ ছিল না। তবে কয়েক মিনিট পরেই বাইরে একটি বিকট শব্দ শুনে নিচে গিয়ে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপরই তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।

 

অন্যদিকে, ঘটনার সময় উপস্থিত সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনার বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে সাভারে এলে স্থানীয় থানার একটি দল তাদের সহযোগিতা করতে যায়। পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভবনের ভেতরে ঢোকার পর এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। সাভার মডেল থানা পুলিশ সেই সময় ভবনের বাইরে ও নিচে অবস্থান করছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিহতের অভিযোগ

ভারতের হরিয়ানার সোনিপতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ বিদায়ে তিন মেয়ের কেউ উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখেছেন। পরে তাদের একজন অনলাইনে পাঁচ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত ব্যক্তির নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। মুম্বাইয়ের সাবেক এই ব্যবসায়ী প্রায় দুই বছর ধরে সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী মীনা গুপ্তও তার সঙ্গে সেখানে ছিলেন। তবে তিনি আগেই মারা যান।

 

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরণ গুপ্ত মারা যান। এরপর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তার তিন মেয়েকে বিষয়টি জানায়।

 

কর্তৃপক্ষের জানানোর পরও মেয়েরা কেউ সোনিপতে আসতে পারেননি। একজন ছিলেন নেপালে, একজন উত্তর প্রদেশে এবং আরেকজন মুম্বাইয়ে। তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন। পরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ গুপ্ত আশ্রমে থাকা একটি মোবাইল ফোন দিয়ে নিয়মিত মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে অসুস্থ হওয়ার পর মেয়েদের ফোন আসা অনেক কমে যায়। তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে মেয়েদেরকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা তাকে দেখতে আসেননি।

 

শিবচরণের মৃত্যুর পর আবারও মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয়, চাইলে তারা সোনিপতে এসে শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু তারা সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

নেপালে বসবাসকারী এবং পেশায় শিক্ষক বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠিয়ে বাবার শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

 

শেষকৃত্য শেষে মেয়েরা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও পাঠানোর অনুরোধও করেন। ভিডিও কলে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের খেতে হবে, তারপর গোসল করতে হবে।’

 

বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, শিবচরণ গুপ্ত তার তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। বড় মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে থাকেন এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করেন। তিনজনই বিবাহিত এবং নিজ নিজ পরিবার নিয়ে থাকেন।

বাবার শেষ বিদায়ে ভিডিও কল দিয়ে মেয়ে বললেন, ‘আর কতক্ষণ লাগবে, খেতে হবে’

গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজধানী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে।

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে কালিয়াকৈর স্টেশনে এলাকায় পৌঁছনোর পর সড়কের পাশে পার্কিং করা ছিল। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উড়তে শুরু করে। এসময় আশপাশের লোকজন ও অন্যান্য গাড়ির চালকরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এদিকে খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় বাসের ভেতর পুরোপুরি পুড়ে গেছে।

 

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- এটি বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে হয়েছে।

গাজীপুরে দিনে-দুপুরে বাসে আগুন

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d