সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টার দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা দেন। তবে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামিয়ে দেয়।

 

এর আগে একই দাবিতে বেলা ১১টার পর রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও নেতাকর্মীরা রাজপথ ছেড়ে না গিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।

 

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচিতে এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

 

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

 

নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

 

পুলিশের বাধার পর নেতাকর্মীরা কিছু সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে কর্মসূচির পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেন।


এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন এ বাহিনীর একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। এসআরবির নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

 

তবে নতুন বাহিনী হিসেবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতীক (লোগো), পতাকা ও পোশাক কী হবে, কোন কোন দায়িত্ব পালন করবে, কার অধীনে থাকবে, সংস্থাটির দায়িত্বে কে থাকবেন, এসব বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

 

এসআরবির দায়িত্ব, কর্মপরিধি ও বিধিবিধান

 

খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা—এসবই এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

 

খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

 

এ ছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তও পরিচালনা করতে পারবে এসআরবি। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

 

সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ থাকবে। জব্দ করা মালামাল আদালতের আদেশ বা সরকারের প্রণীত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি

র‌্যাবের পরিবর্তে আসা এসআরবি কী দায়িত্ব পালন করতে পারবে

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নং কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির এক গ্রুপ বলছে এর পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

বুধবার বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

সমালোচকদের দাবি, অতীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে।

 

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

এজাজ হাসানের ভাষ্য, এটি ছিল বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতি ও ইউপি নির্বা

চনে পড়তে পারে।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

 

আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।

 

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

 

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে।

 

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন প্রবাসী রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে পড়েছেন এক ইতালি প্রবাসীর। খবর পেয়ে দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রফিউদ্দিন।

 

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার করে আবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনরা।

 

রোববার (২ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলির ছেলে রফিউদ্দিন একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত থানায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর কাছে থেকে যান।

 

এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন বাড়ি ফিরে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় রফিউদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে পুনরায় বিয়ে করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

 

এ ঘটনার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেন তারা।

 

এ বিষয়ে নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে অতিভদ্র ও অমায়িক একটা সভ্য মেয়ে। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের কারণে এভাবে বাড়ি না ভেঙে আইনি পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো।

 

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাঈল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ গেলেন স্বামী, ক্ষোভে যে কাণ্ড করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই নানা মাধ্যমে তদবির করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। বিচারের কাঠাগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উলটো তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপনে চলে যান অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন দমনে জড়িত রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাও হয়। আন্দোলন দমন ও হত্যা নির্যাতনে জড়িত কর্মকর্তারা এখন কে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে যুগান্তর।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলায় এসপি দায়িত্ব পালন করেন ১১৬ জন কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে ৪১ জনই বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), রেলওয়ে পুলিশ কিংবা পুলিশ একাডেমি সারদায় ‘সংযুক্ত’ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ট্রেনিং সেন্টার বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত ৩৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক মনে করছেন জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা ৪১ জন ডিআইজি-এডিশনাল ডিআইজি ও এসপি পুর্লিশের ‘বিষফোড়া’। এরাই ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন তারা।

 

এদিকে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় অবসরে পাঠানো হয়েছে মাত্র ১৭ জনকে। গড় হিসাবে এই সংখ্যার হার ১৪ শতাংশ। অন্য ৫৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে, কাউকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় যেসব জেলার এসপিদের সরাসরি নির্দেশ ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। কেউ কেউ বরখাস্ত হয়েছেন, আবার কেউ কারাবন্দি কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামি হিসাবে পলাতক। বিভিন্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও এপিবিএনের ব্যাটালিয়নগুলোতে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন অনেকে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, সিআইডি কিংবা পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত আছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লবিং চালিয়ে ভালো পোস্টিংও পেয়েছেন। কোনো কোনো অতিরিক্ত ডিআইজিও খোলস পালটে বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৭ এসপির মধ্যে ৩৫ জনই এখন বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, এসপি হিসাবে জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

 

শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপি। এই শাস্তির মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত কিংবা সংযুক্ত রাখা। এই পরিসংখ্যানে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

 

এদিকে গত দুই বছরে আট মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কমিশনার ও আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তিন ডিআইজি ও এক কমিশনারকে।

 

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের ২১ অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৩৫ এসপি: আন্দোলনের সময় টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হন। সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া ট্রেনিং সেন্টারে স্বাভাবিক পদায়ন করা হয়েছে। ফরিদপুরের এসপি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম রংপুর মেট্রোপলিটনের ডিসি, রাজবাড়ীর এসপি জিএম আবুল কালাম আজাদ এপিবিএনে, শরীয়তপুরের মাহবুবুল আলম ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে, মাদারীপুরের মোহাম্মদ শফিউর রহমান পিটিসি খুলনায়, নেত্রকোনার ফয়েজ আহমেদ খুলনার আরআরএফ-এ, শেরপুরের দুই এসপির মধ্যে মোনালিসা বেগম সিআইডিতে এবং আকরামুল হোসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে, কক্সবাজারের মাহফুজুল ইসলাম এপিবিএনে, বান্দরবানের সৈকত শাহীন শিল্পাঞ্চল পুলিশে, খাগড়াছড়ির মুক্তা ধর নৌ পুলিশে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন সিআইডিতে কর্মরত আছেন।

 

চাঁদপুরের এসপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, মৌলভীবাজারের মনজুর রহমান নোয়াখালী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, সুনামগঞ্জের এমএন মোর্শেদ পিবিআইয়ে, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান সিদ্দিকী ঢাকার টেলিকমে, চুয়াডাঙ্গার আরএম ফয়জুর রহমান পিবিআইয়ে, কুষ্টিয়ার দুজনের মধ্যে এএইচএম আবদুর রকিব পিটিসি নোয়াখালীর অতিরিক্ত ডিআইজি আর মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন রংপুর রেঞ্জে, নড়াইলের মোহা. মেহেদী হাসান রেলওয়ে পুলিশে, মেহেরপুরের এসএম নাজমুল হক নৌ পুলিশে, পিরোজপুরের মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সিলেট রেঞ্জে, ভোলার মাহিদুজ্জামান হবিগঞ্জের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল রাজশাহী রেঞ্জে, বরগুনার মো. রাফিউল আলম এন্টিটেররিজম ইউনিটে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. ছাইদুল হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশে, পাবনার আকবর আলী মুনসী লালমনিরহাট ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, নওগাঁর মুহাম্মদ রাশিদুল হক সিআইডিতে, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ নূরে আলম আরআরএফ বরিশালে, রংপুরের ফেরদৌস আলী চৌধুরী সিএমপিতে, ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তম প্রসাদ পাঠক ট্যুরিস্ট পুলিশে, পঞ্চগড়ের এসএম সিরাজুল হুদা ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার গাজীপুরে, নীলফামারীর মোকবুল হোসেন ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কুষ্টিয়ায়, লালমনিরহাটের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিআইডিতে এবং কুড়িগ্রামের আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম পিবিআইতে কর্মরত।

 

৬ অতিরিক্ত ডিআইজি: ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের তিন অতিরিক্ত জিআইজির মধ্যে একজন সংযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমান বর্তমানে টাঙ্গাইলে পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং প্রবীর কুমার রায় নৌ পুলিশে কর্মরত। রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পুলিশ সদর দপ্তরে, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বর্তমানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। একইভাবে সিলেট রেঞ্জে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী লিটন কুমার সাহা খুলনায় পিটিসি (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) ও সিলেট রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হিসাবে কর্মরত।

 

সাময়িক বরখাস্ত ১১ এসপির মধ্যে কারাগারে তিনজন: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৬ এসপির মধ্যে মাত্র ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে তৎকালীন ঢাকা জেলার এসপি মো. আসাদুজ্জামানকে অভ্যুত্থানের পরই রাজশাহীতে সংযুক্ত করা হলেও পরে তাকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় আরও যারা রয়েছেন-নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেল, লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, যশোরের প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিরাজগঞ্জের আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়ার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রংপুরের মো. শাহজাহান। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন কারাগারে। এরা হলেন-নোয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও বাগেরহাটের আবুল হাসনাত খান।

জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে কথিত শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোরশেদ আলী (৩০)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

বুধবার ৬আগষ্ট ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর একটি চৌকস দল সদর উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত খোরশেদ আলী মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও মোছা. মাজেদা বেগমের ছেলে।

 

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ৩৮টি অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাপ পাওয়া গেছে। তিনি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, “আমরা শুধু মাদক নির্মূলে নয়, অনলাইন ক্যাসিনোসহ সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে সর্বদা সোচ্চার। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদারভাবে চলমান থাকবে।”

 

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে

হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(০৬/আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বিতরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী। জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের রাজস্ব বরাদ্দের অর্থে তোমার ও ডিমলা উপজেলার মোট ২৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ৫ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া নীলফামারী জেলা পরিষদের ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পূর্ণ করা সাতজন প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দুই ব্যক্তির চলাচলের সুবিধার্থে তাদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের

কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন

নীলফামারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ 

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি

চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

০৬/আগস্ট/২৬ইং

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ সহকারী-কাম-টাইপিস্ট পদে নিয়োগ নিয়ে করা রিট মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নদী পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ডেপুটি আটর্নি জেনারেল মো.জে. আর.খান রবিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠি সূত্রের জানা গেছে, রিট পিটিশন নম্বর ২৪৮৪/২০২১ (মো. জাহিদ হোসেন বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য) মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর নীলফামারী জেলা পরিষদের নিম্ন বিভাগ

সহকারী -কাম-টাইপিস্ট পদে পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াই একজনকে অবৈধ ও গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভৃত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নথি আদালতে দাখিলের ও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা পরীক্ষার নথি ও ফলাফলও রয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে ভাকালতনামা,

অনুমোদনপত্র, ঘটনার বিবরণ, অনুচ্ছেদভিত্তিক জবাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ্য নথিপত্র চেয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নথি সরবরাহ না করা হলে এর ফলে কোন বিরুপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বহন করবে না। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ নিজম্ব প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমেও মামলাটিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক সময়ের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.জে.আর.খান রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে রিট, এক সপ্তাহে নথি  চাইল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 

বাড়িতে বিয়ের আয়োজন। দিন কাটিয়ে রাত পোহালেই সেই বিয়েতে আসার কথা আমন্ত্রিত অতিথিদের। বিয়েকে কেন্দ্র করে চাচাদের সঙ্গে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার যুবক ছায়েদুল হক ফনির (৩২)। কিন্তু বোনের বিয়ের ঠিক আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তার। এতে বিয়ে বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফনির উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ছয়ঘরিয়া পাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন নয়ন জানান, আগামী শুক্রবার ফনিরের চাচাতো বোনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা শেষে বারৈয়ারহাট থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে সমিতি বাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে টমটমটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফনির মৃত্যু হয়। এ সময় তার চাচা আলম ও টমটমচালক গুরুতর আহত হন।

মুহুরীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নোমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

বাড়িতে বোনের বিয়ের আয়োজন, বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরল ভাই

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন এ বাহিনীর একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। এসআরবির নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

 

তবে নতুন বাহিনী হিসেবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতীক (লোগো), পতাকা ও পোশাক কী হবে, কোন কোন দায়িত্ব পালন করবে, কার অধীনে থাকবে, সংস্থাটির দায়িত্বে কে থাকবেন, এসব বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

 

এসআরবির দায়িত্ব, কর্মপরিধি ও বিধিবিধান

 

খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা—এসবই এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

 

খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

 

এ ছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তও পরিচালনা করতে পারবে এসআরবি। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

 

সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ থাকবে। জব্দ করা মালামাল আদালতের আদেশ বা সরকারের প্রণীত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি

র‌্যাবের পরিবর্তে আসা এসআরবি কী দায়িত্ব পালন করতে পারবে

সাতক্ষীরা সদরের মাধবকাটি এলাকায় থেকে নতুন মাদক কুশ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কেজি ওজনের এই মাদক জব্দ করা হয়। এসময় এক চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, সাতক্ষীরা শহর থেকে মোটর সাইকেলযোগে ল্যাগেজ ভর্তি মাদক নিয়ে ঝাউডাঙ্গা যাওয়ার সময় মাধবকাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায়, এই মাদকের নাম কুশ। নতুন এই মাদক দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, দেশের মধ্যে প্রথম এত বড় চালান জব্দ করা হয়েছে এই মাদকের। যার এক গ্রামের মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নতুন এই মাদক জব্দ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ১২ কেজি মাদক কুশসহ চোরাকারবারী আটক

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

 

এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

 

এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। জনগণের ১১ দফা দাবি মানুষের হাতে তুলে দিতে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জনভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন, সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের জনগণের দাবি শুনতে হবে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

 

এসময় তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নং কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির এক গ্রুপ বলছে এর পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

বুধবার বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

সমালোচকদের দাবি, অতীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে।

 

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

এজাজ হাসানের ভাষ্য, এটি ছিল বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতি ও ইউপি নির্বা

চনে পড়তে পারে।

 

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বেগুনবাড়ি ফাজিল( ডিগ্রী) মাদ্রাসায় আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

ফুটবল টুর্নামেন্ট মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী শ্রেণী ভেদে খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

 

আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ সভাপতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি।

 

বিশেষ অতিথি হিসে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আরিফুল্লাহ্, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা,ঠাকুরগাঁও ও জনাব আলহাজ্ব মোঃ আহসান হাবিন সভাপতি অত্র মাদ্রাসা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৪ নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি।

 

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন বর্তামান সময়ে মাঠ পর্যায়ের খেলা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে অনলাইন গেম মোবাইল আসক্তির মাধ্যমে এসব বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের দিকে প্রভাবিত করছে।

 

তাই এই খারাপ দিক থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে মাঠ পর্যায়ে খেলাধুলা বিকল্প নাই। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলায় মনযোগী করতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

 

আন্তঃ মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলায় দশম শ্রেণীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে দশম শ্রেণীকে হারিয়ে ফাইনালে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলেদেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম।

অত্র মাদ্রসারর অধ্যাক্ষের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানিকাতা সমাপ্তি করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তঃমাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টার দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা দেন। তবে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামিয়ে দেয়।

 

এর আগে একই দাবিতে বেলা ১১টার পর রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও নেতাকর্মীরা রাজপথ ছেড়ে না গিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।

 

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচিতে এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

 

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

 

নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

 

পুলিশের বাধার পর নেতাকর্মীরা কিছু সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে কর্মসূচির পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেন।

সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধার মুখে ১১ দল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d