
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় যতটুকু পরিশ্রম করেছে, ফলাফলও তেমনই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এবারের পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পড়াশোনা যেমনটা করেছে, ফলাফল তেমনই হয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার গড় পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নাম্বার দেওয়া যায় না।’

হল দখলকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে রোববার রাতে দুই দলের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে দুপক্ষ। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হয় দুই ছাত্র সংগঠন।
লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে। এই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।
তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলোতে। এরইমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে ছাত্রদল নেতারা।
একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, প্রিন্সিপালরা আহতের বিষয়ে আমাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কিন্তু উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওখানে নিয়ে গেছে। আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, পেছনের সবকিছুর ইতি টেনে সামনের দিকে কিভাবে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি এ বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এজন্য আমাদের বড় ভাই আমাদের শাসন করে গেছে। ছাত্রশিবিরের লোকজনও তাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে থাকার কথা বলে গেছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, সিট কে পাবে কে পাবে না – এটা কে শিবির করে, কে ছাত্রদল করে এই বেসিসে হবে না। সরাসরি মেরিট বেসিসে হলে যে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবার কথা সে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা যুবদল কিংবা সিনিয়র কেউ হলে উঠে যাবার যে প্রবণতা বা কালচার, এই ধরনের কোনো কালচার এখানে না থাকার ব্যাপারে স্ট্রংলি বলেছি।
সংঘাতের পর সমঝোতায় এলেও দুই সংগঠনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর সবার।

এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।
ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই।
অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেওয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। সোমবার রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।
স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাধা ঋতুর ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।
দিনমজুর বাবাহারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চশিক্ষা সহজ হবে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক থাকলেও তিনজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে একজনকেও পাস করাতে পারেননি তারা।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে তিনজনই ফেল করেছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলেনি।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কেন এতগুলো শিক্ষক থাকার পারও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বল হয়, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
যদিও তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছিল ওই সভায়।
সভার একটি কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কার্যবিবরণী থেকে আরও জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।
কার্যবিবরণী সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সোমবার রাতে নাম প্রকাশ না করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নানান চাপে বাধ্য হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এমন বিবৃতি দিয়েছেন। বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবাদের মুখে হয়তো এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরেও আসতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত যে নেওয়া হয়েছিল তা সঠিক।’

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী । জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
কোন বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কত
বোর্ডভিত্তিক ফল অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন, যা সব বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭৬ এবং ব্যাবসায় বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস জানিয়েছে, ২০০৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে। ২০২৫ সালে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০২৩ সালে ২৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। শতভাগ পাসসহ ২০২২ সালে ২৬৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তার আগের বছর ২০১৭ সালে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
তাজরিয়ান হোসেন মুন নামে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, বাবা-মা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণেই আমার এ ফলাফল। এ ছাড়া আমি একটি ক্লাসও মিস করিনি। কোনো পরীক্ষা-মডেল টেস্ট বাদ দিইনি। তাই চর্চাটা খুব ভালো হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারাদেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব। মূলত নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হোক। যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ। পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ- আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-অ্যাক্টিভিটি কারিকুলামেও দেশসেরা অর্জন করে আসছি।


Leave a Reply