আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

হল দখলকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে রোববার রাতে দুই দলের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে দুপক্ষ। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হয় দুই ছাত্র সংগঠন।

 

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে। এই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

 

তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলোতে। এরইমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে ছাত্রদল নেতারা।

 

একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, প্রিন্সিপালরা আহতের বিষয়ে আমাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কিন্তু উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওখানে নিয়ে গেছে। আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, পেছনের সবকিছুর ইতি টেনে সামনের দিকে কিভাবে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি এ বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এজন্য আমাদের বড় ভাই আমাদের শাসন করে গেছে। ছাত্রশিবিরের লোকজনও তাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে থাকার কথা বলে গেছে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, সিট কে পাবে কে পাবে না – এটা কে শিবির করে, কে ছাত্রদল করে এই বেসিসে হবে না। সরাসরি মেরিট বেসিসে হলে যে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবার কথা সে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা যুবদল কিংবা সিনিয়র কেউ হলে উঠে যাবার যে প্রবণতা বা কালচার, এই ধরনের কোনো কালচার এখানে না থাকার ব্যাপারে স্ট্রংলি বলেছি।

 

সংঘাতের পর সমঝোতায় এলেও দুই সংগঠনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর সবার।


এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

 

ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই।

 

অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেওয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। সোমবার রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।

 

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাধা ঋতুর ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

 

দিনমজুর বাবাহারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চশিক্ষা সহজ হবে।

 

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক থাকলেও তিনজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে একজনকেও পাস করাতে পারেননি তারা।

 

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে তিনজনই ফেল করেছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’

 

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলেনি।

 

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’

 

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কেন এতগুলো শিক্ষক থাকার পারও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

১১ শিক্ষক মিলে পড়িয়েও ৩ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

 

পোস্টে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

 

ফেসবুক পোস্টে আরও বল হয়, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

 

যদিও তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছিল ওই সভায়।

 

সভার একটি কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কার্যবিবরণী থেকে আরও জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

 

কার্যবিবরণী সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সোমবার রাতে নাম প্রকাশ না করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নানান চাপে বাধ্য হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এমন বিবৃতি দিয়েছেন। বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবাদের মুখে হয়তো এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরেও আসতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত যে নেওয়া হয়েছিল তা সঠিক।’

মন্ত্রী বলছেন ‘শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি’, নথিপত্রে ভিন্নকথা

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় যতটুকু পরিশ্রম করেছে, ফলাফলও তেমনই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

এবারের পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পড়াশোনা যেমনটা করেছে, ফলাফল তেমনই হয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার গড় পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

 

ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নাম্বার দেওয়া যায় না।’

পড়াশোনা যেমন করেছে, এসএসসির ফলাফল তেমনই হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী । জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

 

কোন বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কত

 

বোর্ডভিত্তিক ফল অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন, যা সব বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।

 

যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।

 

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

 

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।

 

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।

 

এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

 

এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বরিশাল—কোন বোর্ডে কত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭৬ এবং ব্যাবসায় বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

 

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস জানিয়েছে, ২০০৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে। ২০২৫ সালে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

 

এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০২৩ সালে ২৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। শতভাগ পাসসহ ২০২২ সালে ২৬৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তার আগের বছর ২০১৭ সালে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

 

তাজরিয়ান হোসেন মুন নামে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, বাবা-মা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণেই আমার এ ফলাফল। এ ছাড়া আমি একটি ক্লাসও মিস করিনি। কোনো পরীক্ষা-মডেল টেস্ট বাদ দিইনি। তাই চর্চাটা খুব ভালো হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া।

 

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারাদেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব। মূলত নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হোক। যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।

 

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ। পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ- আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-অ্যাক্টিভিটি কারিকুলামেও দেশসেরা অর্জন করে আসছি।

স্কুলটির ৩৮২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮২ জনই জিপিএ ৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।

 

এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।

 

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

 

পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।

 

যেভাবে আবেদন করবেন

আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।

 

কোনো বিষয়ের দুটি পত্র থাকলে এবং উভয় পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চাইলে দুটি পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।

 

যেভাবে ফি পরিশোধ করবেন

বিষয় নির্বাচন করার পর পরবর্তী স্ক্রিনে মোট ফি-এর পরিমাণ দেখানো হবে। এরপর বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নির্দেশনা পুনর্নিরীক্ষণ পোর্টালেই পাওয়া যাবে।

 

ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

 

পরে নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ

একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী চাইলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বিষয় পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যুক্ত করতে পারবেন। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

 

অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।

 

তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি পরিশোধ হয়ে গেলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

 

আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এবার কোনো ধরনের ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই ফল মনমতো না এলে দেরি না করে নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতে খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী অসুস্থতার সুযোগে গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগে আদালত মামলা দায়ের। এমপি নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সৎভাই মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জের দিরাই জোন আদালতে মামলাটি করা হয়।

 

মামলার প্রধান আসামি সৎভাই ও বিএনপি নেতা মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, অন্য দুই সৎ ভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, কর্ণগাঁও গ্রামের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ারকাপনের তাজুল, দিরাইয়ের মোহরার মমতাজ বেগম।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, এমপি নাছির চৌধুরী দীর্ঘদিন শাররিক ও মানসিক রোগে ভোগছেন। তাকে ও তার স্ত্রী সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্টার অফিসের দুজন কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে গলায় রামদা ঠেকিয়ে প্রাণে মারা হুমকি দেয়।

 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে বাদী পারভীন আক্তার এমপি নাছির চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন।

 

দিরাই আদালতের বিচারক মো.জসিম মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।বাদী পক্ষের আইনজীবী কাওছার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ২০২২ সালের ঘটনা কেন এতো দিন পরে আদালতে গড়ালো এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি পত্নী ও মামলার বাদী পারভীন আক্তার জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে বলেছে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বসে এটির সমাধন করবে। লিখে নেয়া সম্পত্তি ফেরত দিবে। কিন্তু আর কত অপেক্ষা? অনেকটা নিরুপায় হয়েই আদালতের দারস্থ হয়েছি।

 

এবিষয়ে মামলার প্রধান আসামি মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এমপির গলায় রামদা ঠেকিয়ে দলিলে সই নেন সৎভাইয়েরা, স্ত্রীর অভিযোগে মামলা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

 

এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

 

দলীয় সূত্রে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

 

পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

 

ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে।

 

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও হয়েছে।

সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

হল দখলকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে রোববার রাতে দুই দলের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে দুপক্ষ। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হয় দুই ছাত্র সংগঠন।

 

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে। এই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

 

তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলোতে। এরইমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে ছাত্রদল নেতারা।

 

একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, প্রিন্সিপালরা আহতের বিষয়ে আমাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কিন্তু উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওখানে নিয়ে গেছে। আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, পেছনের সবকিছুর ইতি টেনে সামনের দিকে কিভাবে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি এ বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এজন্য আমাদের বড় ভাই আমাদের শাসন করে গেছে। ছাত্রশিবিরের লোকজনও তাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে থাকার কথা বলে গেছে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, সিট কে পাবে কে পাবে না – এটা কে শিবির করে, কে ছাত্রদল করে এই বেসিসে হবে না। সরাসরি মেরিট বেসিসে হলে যে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবার কথা সে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা যুবদল কিংবা সিনিয়র কেউ হলে উঠে যাবার যে প্রবণতা বা কালচার, এই ধরনের কোনো কালচার এখানে না থাকার ব্যাপারে স্ট্রংলি বলেছি।

 

সংঘাতের পর সমঝোতায় এলেও দুই সংগঠনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর সবার।

আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

 

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

 

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস ও হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ঢাকাগামী আল-আরাফাহ পরিবহণের বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কে ওভারটেক করার সময় বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাক দুটিই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। সংঘর্ষে বাসের কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছুসময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

 

এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকাজ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

ছেলের সঙ্গে একই বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মা ও ছেলে দুজনেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

 

রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা এলাকার সাদিয়া বেগম ও তার ছেলে তানভীর আহমেদের এমন সাফল্যে পরিবার ও এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, সাদিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছিল ১৯ বছর আগে। সংসারের দায়িত্বে প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি। পরে আবার বই হাতে তুলে নিয়ে সংসার ও দুই সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করেন।

 

প্রায় দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করেন। চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

অন্যদিকে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

সাদিয়া বলেন, ‘পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা করতে পারিনি। হাল ছাড়িনি। বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত নিলাম ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেব। পরিবারের সম্মতিতে প্রস্তুতি শুরু করি।’

 

ছেলে তানভীরও মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছে। সে বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছি। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের হয়!’

 

তানভীর জানায়, মা তার পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা করতেন। অনেক সময় রাত জেগে তার পাশে বসে থাকতেন। নিজের সাফল্য বাবা-মাকে উৎসর্গ করে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছে সে।

 

মা-ছেলের এই সাফল্যে খুশি তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি প্রায় চার বছর ধরে তানভীরকে ইংরেজি পড়ানোর পাশাপাশি সাদিয়ার পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করেছেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়ার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলেও দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাদিয়া। একই পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে অংশ নিয়ে দুজনের জিপিএ-৫ অর্জন সেই অধ্যবসায়েরই অনন্য উদাহরণ।

একসঙ্গে এসএসসি পাস করলেন মা-ছেলে, দুজনই জিপিএ-৫

নীলফামারীর এক স্কুলে এসএসসিতে সবাই অকৃতকার্য

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির পাশের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ চিত্র সামনে আসে। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রয়েছে ভবন, শ্রেণিকক্ষ,

শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে নির্মিত একাধিক অবকাঠামো। তবে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত উপস্থিতি নেই। নিয়মিত পাঠদানেও নেই

সন্তুষজনোক পরিবেশ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের খাতায়-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। অথচ প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এক একরেরও বেশি জমির উপর আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক শাখায় পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের দিয়েই মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ দান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে

ছয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষক জিকরুল হক বলেন,’শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয় না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। এর সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।’ তবে স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যালয় এর শিক্ষকদের গাফিলতি এবং সরকারি পর্যায়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ শফিউল ইসলাম বলেন, আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ফলাফলের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নীলফামারীর এক স্কুলে এসএসসিতে সবাই অকৃতকার্য 

এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

 

ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই।

 

অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেওয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। সোমবার রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।

 

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাধা ঋতুর ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

 

দিনমজুর বাবাহারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চশিক্ষা সহজ হবে।

 

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক থাকলেও তিনজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে একজনকেও পাস করাতে পারেননি তারা।

 

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে তিনজনই ফেল করেছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’

 

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলেনি।

 

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।’

 

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কেন এতগুলো শিক্ষক থাকার পারও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

১১ শিক্ষক মিলে পড়িয়েও ৩ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d