
নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলাম
নীলফামারী বড় মাঠ দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার
(১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ তানজীর ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বড় মাঠের অবৈধ দোকানদারদের দোকান সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশের পর কিছু দোকানদার দোকান সরিয়ে চলে যান। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নীলফামারী বড় মাঠের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য মাঠের পরিসর কমে গেছে। খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ সুবিধা বাড়াতেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজীর ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করবো।’

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।
সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,
*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*
*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।
একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার।
বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।
জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।
এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।
সূত্রমতে, সর্বোচ্চ গ্রেডে অর্থাৎ অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। আর একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা আরও কম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানিয়েছে, মূলত এখন দুই প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা আছে, তা দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তা নিচ্ছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব দেশে বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বহু আগে থেকেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশগুলো আমদানীকৃত উদ্বৃত্ত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। এ দেশগুলোর বেসরকারি উদ্যোক্তারা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি পরিশোধনাগারে পরিশোধন করছে। পরে তা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন, শিল্পকারখানায় বিক্রি করছে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খুচরা জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক বাজারেও তারা এ জ্বালানি বিক্রি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রিলায়েন্স : ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। গুজরাটের বিশাল জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সে তা পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধনাগারে উৎপাদন হয় পেট্রোল ও ডিজেল। রিলায়েন্স তাদের নিজস্ব খুচরা জ্বালানি স্টেশনের নেটওয়ার্ক ও শিল্প গ্রাহকদের কাছে ভারতজুড়ে এ জ্বালানি বিক্রি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের এ বেসরকারি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে।
রিলায়েন্স বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতের জামনগরের নিকটবর্তী বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। সুপার ট্যাংকারগুলো উপকূলের অদূরে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর মাধ্যমে বিশাল সব স্টোরেজ ট্যাংকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে। এরপর অপরিশোধিত তেল জামনগর রিফাইনারিতে পাঠানো হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল তেল শোধন কেন্দ্র। এ রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি যেমন-পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকে রূপান্তর করে।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
আজানের ধ্বনিতে প্রতিদিন মুখর হয়ে ওঠে মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে সমবেত হন শতাধিক মুসল্লি। তাঁদের কাছে এটি ইবাদতের স্থান, এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। তবে এর আরেকটি পরিচয়ও আছে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে বদলে দিচ্ছে, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এমন বাস্তবতায় প্রচলিত পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক। পুরো স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক।
আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সেই হিসাবে মসজিদটিতে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলো ব্লক সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মসজিদটি স্থানীয় মানুষের সামনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।
নামাজ আদায় করতে আসা আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান,,মাদারগঞ্জ জামে মসজিদটি নির্মাণের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে এলাকার মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য নানা ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। এখন একটি সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী মসজিদে আমরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসেন। শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদটি আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করেছে।
তাঁরা আরও বলেন, মসজিদটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। আমরা আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখন মসজিদের দেয়াল ও নির্মাণকাজ দেখে বুঝতে পারছি, প্রচলিত পোড়া ইটের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ দিয়েও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। ইএসডিও শুধু আমাদের একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়নি, একই সঙ্গে আমাদের একটি নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
মসজিদটি নির্মাণ করে দেওয়ায় ইএসডিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশেষভাবে আনন্দিত যে মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া বড় একটি সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।
এ বিষয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মানুষ এর বাস্তব ব্যবহার দেখুক এবং উপলব্ধি করুক যে প্রচলিত পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও কার্যকর স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে
সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।


Leave a Reply