খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী বর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী বর

খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী বর

বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায়) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেলেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিয়ের দিনে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে প্রথমে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জুনায়েদকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

পরে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

 

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান বর জুনায়েদ।

 

এ বিষয়ে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো মা-বাবা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। তবে ছেলেটির কথাবার্তা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। খাসির বিষয়ে তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।

 

 


আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজেকে কুষ্টিয়া সদর আসনের ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি মো. আমির হামজা।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া (ভাইরাল) একটি ভিডিওতে নিজের সংসদীয় এলাকার (কুষ্টিয়া-৩) জনসাধারণের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে এই মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় জনগণের সামনে আমির হামজা নিজের সংসদীয় আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমিই প্রধানমন্ত্রী। বাজেটগুলো সরকার দেবে, ওটা দেবে আমির হামজার হাতে। এটা কি কোনো ফেরেশতার হাতে দেবে?’

 

উন্নয়ন কাজের কৃতিত্ব নিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফেরেশতারা কী বলে? আর মানুষ নাচে যে উন্নয়ন কাজ করে দিয়েছে। সে কি তার বাবার টাকা নিয়ে এসে করবে? এই পাগলামিগুলো আর বিশ্বাস করা যাবে না।’

আগামী ৫ বছর কুষ্টিয়া সদরের প্রধানমন্ত্রী আমি: আমির হামজা

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে।

 

গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে নুর অভিযোগ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘রগকাটা জামাত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে। কুষ্টিয়া গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি নিয়ে উপর্যুপরি হামলা করেছে।’

 

নুর আরও বলেন, ‘জামাত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে জামাত-শিবিরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে গুপ্ত ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা

হবে।’

 

জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘জনগণের গলার কাঁটা বিএনপি আজ জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা গভীরভাবে বিঁধে যাওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে; নইলে দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে

।’

অনেকে বিএনপিকে আরও সময় ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে, তাদের আরও সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মোটেই একমত নই। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

 

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ভারতনির্ভরতার পুরোনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।’

 

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন। তিনি লেখেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন বাড়ছে—শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ, অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দ্বিগুণ ব্যর্থতা, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত এস আলমের হিসাব-নিকাশে!’

 

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশে নতুন করে জঙ্গি নাটকের আশঙ্কা, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’

 

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপিও নয়। এটি ক্রমেই একটি মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে, এমন অভিযোগ ও আশঙ্কা এখন জনমনে গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।’

 

 

 

 

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি লেখেন, ‘ক্ষত ছোট থাকতেই চিকিৎসা জরুরি। ক্ষত গভীর হয়ে গেলে তার বোঝা শুধু একটি দল নয়, পুরো জাতিকেই দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।’

 

‘বাংলাদেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং জনগণের ভবিষ্যতের স্বার্থে, সময় থাকতে এই রাজনৈতিক গলার কাঁটা সরানো জরুরি’—বলে মন্তব্য শেষ করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

বিএনপি ক্রমেই মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর দলে পরিণত হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বরখাস্ত হতে যাওয়া অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস, কাজী আশরাফুল আজীম ও মো. ইকবাল হোসাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ছয় কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই মো. গোলাম রুহানী বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক।

 

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’- মন্তব্য করা মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কাজী আশরাফুল আজীম সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

ছিলেন।

 

চাকরি হারালেন গোলাম রুহানী-বিপ্লব কুমার, প্রজ্ঞাপন জারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভূমি ও উত্তরাধিকার তথ্যকে সহজ করতে ডিজিটাল উদ্যোগ— http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ ও BhumiBD

 

বাংলাদেশে জমি, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বের করা অনেকের জন্যই সময়সাপেক্ষ ও জটিল। খতিয়ান, দলিল, জমির পরিমাপ, মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় সঠিক তথ্য ও হিসাব। এসব বিষয়কে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ এবং http://Bhumibd.com

 

উত্তরাধিকার হিসাব এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

 

http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ মূলত ইসলামি উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ-সংক্রান্ত তথ্য ও হিসাবকে সহজভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ। পরিবারের সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার বণ্টনের হিসাব বুঝতে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করার জন্য প্ল্যাটফর্মটিতে সহজ বাংলা ইন্টারফেস রাখা হয়েছে।

 

উত্তরাধিকার আইন ও ফারায়েজের হিসাব অনেকের কাছেই জটিল মনে হতে পারে। ডিজিটাল ক্যালকুলেটর ও তথ্যভিত্তিক নির্দেশনার মাধ্যমে সেই জটিলতাকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম।

 

মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে Uttoradhikar অ্যাপ, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন থেকেই উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত হিসাব ও তথ্য ব্যবহার করা যায়।

 

BhumiBD-তে খতিয়ান অনুসন্ধান ও ভূমি তথ্য

 

অন্যদিকে http://Bhumibd.comভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যকে একটি সহজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এখানে খতিয়ান, দলিল, জমির পরিমাপ, ভূমি-সংক্রান্ত হিসাব এবং বিভিন্ন তথ্য ও গাইড ব্যবহারকারীদের জন্য সহজভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো খতিয়ান অনুসন্ধান। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে খতিয়ান-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে জমি-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য খোঁজার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়।

 

স্যাটেলাইট ম্যাপে জমি দেখার সুবিধা

 

ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যকে আরও ভিজ্যুয়াল ও সহজবোধ্য করতে স্যাটেলাইট ম্যাপ সুবিধার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জমির অবস্থান ও আশপাশের এলাকার ভৌগোলিক চিত্র স্যাটেলাইট ম্যাপের মাধ্যমে দেখার সুযোগ থাকায় ব্যবহারকারীরা শুধু লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মানচিত্রের মাধ্যমেও জায়গাটি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

 

জমি কেনাবেচা, জমির অবস্থান বোঝা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ম্যাপভিত্তিক সুবিধা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করতে পারে।

 

AI সহায়ক—জটিল তথ্য বুঝতে প্রযুক্তির ব্যবহার

 

BhumiBD-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো AI সহায়ক। ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর ও তথ্য খুঁজে পেতে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করার জন্য AI-ভিত্তিক সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অনেক ব্যবহারকারী খতিয়ান, দলিল, জমির হিসাব, ভূমি আইন কিংবা বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোথা থেকে তথ্য শুরু করবেন তা বুঝতে পারেন না। AI সহায়ক এ ক্ষেত্রে সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পথে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

তবে AI থেকে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত আইনগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

একই ইকোসিস্টেমে ভূমি ও উত্তরাধিকার

 

জমি ও উত্তরাধিকার অনেক ক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি পরিবারের সম্পত্তির মালিকানা, জমির খতিয়ান বা দলিলের তথ্যের পাশাপাশি সেই সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে—এ বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই বাস্তবতায় http://Bhumibd.com যেখানে ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য, খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপ ও AI সহায়ক সুবিধার মাধ্যমে ভূমি-তথ্যকে সহজ করার চেষ্টা করছে, সেখানে http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ উত্তরাধিকার ও ফারায়েজ-সংক্রান্ত হিসাবকে সহজ করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল তথ্যসেবার সম্ভাবনা

 

বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যও ধীরে ধীরে ডিজিটাল মাধ্যমে সহজলভ্য হচ্ছে। এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক তথ্য নিজেরাই খুঁজে দেখা, হিসাব বোঝা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 

http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ এবং http://Bhumibd.comএর মতো প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জটিল তথ্যকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজ, বোধগম্য ও ব্যবহারবান্ধব করে তোলা।

 

ভবিষ্যতে আরও উন্নত AI প্রযুক্তি, খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপিং এবং ভূমি ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় সমন্বিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা আরও সহজ হতে পারে।

 

http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত হিসাবকে সহজ করার উদ্যোগ, আর http://Bhumibd.com ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যকে ডিজিটালভাবে সহজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম—যেখানে খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপ ও AI সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভূমি-তথ্যসেবাকে আরও সহজ করতে তোহিদুল ইসলামের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন জান্নাতুল।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জান্নাতুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জান্নাতুল পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

 

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

 

বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন।

 

জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ার পর বলেন, এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।

 

মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি বাবা আফজল আলী। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো সামর্থ্য তার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় চিন্তামুক্ত হয়েছি। এখন মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করবে, এগিয়ে যাবে। তাই মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করি।

 

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যে কোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার প্রমাণ।

 

জান্নাতুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ, পেলেন ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্রদের উত্তেজনা, হামলা ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসা ছাত্ররাও পালটা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে রাতে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে জেলা পুলিশের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় মাদ্রাসা ছাত্ররা শব্দের মাত্রা কমাতে বলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

 

পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্ররাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পুলিশ ও মাদ্রাসা ছাত্রসহ ৩০ জন আহত হন।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ সানি (১১), সাখাওয়াত (২০), বিন ইয়ামিন (২০), আব্বাস (১৭), জাকারিয়া (২১), মেরাজ (১৮), আশরাফ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), সিয়াম (১৭), ফাইজুর রহমান (২১), আরাফাত (১৮), বাশার (১৯), মাহাদী (২০), তাওহীদ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), বাইজিদ (১৭), শেখ সাদী (১৬), ফাহিম (২০), আব্দুর রহিম (২০), মিরাজ (২৭), আশরাফ (১৭), সাদেক (১৯), মনি (২৭), রাফি (১৮), শামিম (১৭), তালহা (১৮), আতাউল্লাহ (১৯), নিয়ামত উল্লাহ (২২), ইমতিয়াজ (১৭), আশরাফ (১৭) ও তানভির (১৭)।

 

দারুল আরকাম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের মাদ্রাসায় পরীক্ষা রয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময়ের জন্য শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্রদের বাদানুবাদ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক যুবককে আটকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদারের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিন ও সহ-দপ্তর সম্পাদক ইমন হাওলাদার।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে টবগী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের মো. মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদারকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা শাখার জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ভুক্তভোগী যুবক মো. আল মামুন মিঠু বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় ছাত্রদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার পূর্বপরিচিত এবং একই উপজেলার বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে সামাজিক মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তদের ভাগ্নির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে মনিরাম বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান পলিন ও ইমন। সেখানে সমকামিতার অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়।

 

পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদকদ্রব্য সামনে রেখে ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মিঠু। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

 

পরে কৌশলে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন মিঠু। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বহিষ্কৃত টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় আল মামুন মিঠু বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

ভূল্লীতে ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

 

 

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও ভূল্লী উপজেলাধীন ৩ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কচুবাড়ী (তেলিপাড়া) এলাকায় এক নাবালিকা ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মোঃ সাহাজান আলী বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭/৮৩।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর নাবালিকা মেয়ে শারমিন আক্তার (১৬) স্থানীয় কচুবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোঃ ইসমাইল সহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মাধ্যমে তাকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে ওই কিশোরীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও নাবালিকার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হুমকিদামকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

 

বিষয়টি নিয়ে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাদীর দাবি, তার নাবালিকা মেয়েকে মিথ্যা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটির নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বাদী উল্লেখ করে যে অভিযুক্ত আসামী মোঃ ইসমাইল এর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আসামি স্বীকার করে আমার মেয়ে মোছাঃ শারমিন আক্তার (১৬) তার সাথেই আছে।

 

এ ঘটনায় দ্রুত নাবালিকাকে উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।

 

এ ঘটনায় বাদী মোঃ শাহজাহান আলী ভূল্লী থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করলে পুলিশ মামলা নং-৭/৮৩ হিসেবে মামলা গ্রহণ করে।

 

এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম (সিদ্দিকী) সাথে কথা বলে জানা যায় অভিযোগটি গ্রহন করা হয়ছে এবং তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভূল্লীতে ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই জাপানপ্রবাসী অবশেষে বিয়ে করেছেন। এবার বড় খাসির খদর দিয়েই বিয়ে করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিয়ের ছবি পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’

 

জানা গেছে, প্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার স্ত্রীর নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে। জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও একই গ্রামে। নতুন বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেছেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

 

বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

 

এ সময় কনে পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

নতুন বিয়ে করে যে বার্তা দিলেন খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসী

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের পর খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলের পাশের খাদ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

 

হাফিজুর রহমান কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সপ্তম সেমিস্টারের (ফাইনাল বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) পাইকহাটি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন।

 

পরদিন দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও তখন কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

তবে বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি যেখানে পড়ে ছিল, সেই খাদে পাট জাগ দিতে আসা এক কৃষক পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা এসে লাশটি হাফিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

 

নিহতের চাচা মোশারেফ মোল্যা বলেন, আমার ভাতিজা সোমবার সকালে বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিল। আজ খবর পাই, বাস দুর্ঘটনার ওই খাদে একটি লাশ ভেসে উঠেছে। এসে দেখি লাশটি আমার ভাতিজার।

 

বোয়ালমারী থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি খাদে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাফিজুর রহমান বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়েছিলেন। বুধবার তার লাশ ভেসে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসের নিচে চাপা পড়া শিক্ষার্থীর লাশ ৩ দিন পর উদ্ধার

নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এদিকে ঘটনার রাতেই লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে প্রত্যাহার করেছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

 

এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

 

একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করারও অভিযোগ রয়েছে।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এছাড়া ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আবারও জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল বারী কাজল, সাবেক সভাপতি হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান, আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা আজম আলী গাগান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান, পৌর যুবদলের সুমন ও ছাত্রদলের মাফি।

 

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

গানে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো হলেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তিগত চিহ্ন বহাল থাকবে।

 

গুগল নতুন একটি সেটিং চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জেমিনির ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইমেজ জেনারেশন মডেল দিয়ে তৈরি ছবির দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জেমিনি ও ‘ফ্লো’ প্ল্যাটফর্মে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই গুগলের ‘সার্চ এআই মোডেও’ এটি চালু হতে পারে।

 

শুধু ছবিই নয়, এআই দিয়ে তৈরি অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। জেমিনি ‘ওমনি’ দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং ‘লিরিয়া’ দিয়ে তৈরি গান থেকেও দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

 

স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করবে ওয়াটারমার্ক অপসারণ

 

গুগল জানিয়েছে, যেসব দেশ বা অঞ্চলে আইন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

 

তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরানো গেলেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে গোপন শনাক্তকারী সরাবে না গুগল। প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্টের উৎস ও পরিচয় শনাক্ত করতে ‘সিন্থআইডি’ নামের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটা ব্যবহার করবে।

ওয়াটারমার্ক সরালেও শনাক্ত করা যাবে এআই কনটেন্ট

 

দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেই কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে—এটি শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে যাবে না। গুগলের দাবি, ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনিকে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না।

 

জেমিনি ছবির গোপন উৎস-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ‘সিন্থআইডি’ শনাক্তকারী খুঁজে বের করতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানভাবে কনটেন্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও পেছনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি এআই-নির্মিত কি না, তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।

 

এআই কনটেন্ট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

 

এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, গানসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে।

 

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই-নির্মিত কনটেন্টের দৃশ্যমান উপস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই দাবিও রয়েছে। গুগলের নতুন সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান লেবেলিং ও গোপন শনাক্তকরণ—এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেমিনির এআই কনটেন্ট থেকে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

সাভারের কাউন্দিয়ায় আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকা বাসির।

 

 

 

 

সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার,সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।এতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপট ছিলো । বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ এবং অনুসারীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষকে নানা সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ কারীদের ভাষ্য,স্থানীয় বিরোধ,জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়,সামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন আতিক। তার মতের বিরোধিতা করলে কিংবা কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নানাভাবে চাপের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে পারেননি।তাদের দাবি,বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও আতিকুর রহমান এর প্রভাব এবং তার ঘনিষ্ঠদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ করেন,কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে সামাজিক ভাবে চাপ সৃষ্টি কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হতো।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘটনা,ভুক্তভোগী ও প্রমাণ যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এদিকে এলাকাবাসী বলছেন,রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন,একজন সাধারণ নাগরিকের নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে।কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা,স্থানীয়দের দাবি,আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে,সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।অভিযোগগুলোর বিষয়ে আতিকুর রহমান আতিকের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সাভারের কাউন্দিয়ায় আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকা বাসির।

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d