
নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার রাতেই লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে প্রত্যাহার করেছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করারও অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আবারও জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল বারী কাজল, সাবেক সভাপতি হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান, আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা আজম আলী গাগান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান, পৌর যুবদলের সুমন ও ছাত্রদলের মাফি।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply