বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এদিকে ঘটনার রাতেই লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে প্রত্যাহার করেছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

 

এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

 

একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করারও অভিযোগ রয়েছে।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এছাড়া ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আবারও জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল বারী কাজল, সাবেক সভাপতি হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান, আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা আজম আলী গাগান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান, পৌর যুবদলের সুমন ও ছাত্রদলের মাফি।

 

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


শিক্ষক-সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ-সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষক নিয়োগ কত দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

 

‎অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে স্কেলের কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

 

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

 

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্টবিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

 

চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।

 

পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

 

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

 

অর্থের অভাবে যখন তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণ হাজংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিবারণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিবারণ হাজং। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

নিবারণের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একদিকে শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

 

রোববার রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু চিকিৎসা করানোতেই নয়, নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা, গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

অগ্নিদগ্ধ নিবারণ হাজংয়ের পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না দাবি করে অটোরিকশা চালক দিদার ইসলামের।

 

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারা দিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? তারমধ্যে রয়েছে কিস্তি। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।

 

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের দায়িত্বে নিয়োজিত রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তিনি সাড়া দেননি।

মহাসড়কে রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ অবস্থায় যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

‘‘আজকে শপথ গ্রহণ করি, সকলে প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে জনগণের সকল শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। এখন দেশের মানুষ এখন দেশের শান্তি চায়, দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায় দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, দেশের মানুষ তার সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, দেশের মানুষ তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়… এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমাদেরকে তাহলে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা এবং সে কারণে আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি। যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি।

 

‘‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই তো নাকি? ঠিক। আপনাদেরকে বলতে চাই আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। “

রাজপথে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একইসঙ্গে সমস্যা সমাধানে চারটি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

 

প্রথম প্রস্তাবনায় কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার ছিল যে সমাধান ইতিমধ্যেই টেবিলে আছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬–১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে আমি ধাপে ধাপে দেখিয়েছি কোন সিদ্ধান্তটি কোথায় ভুল হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধানধর্মী বক্তব্য রেখেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যারা। মতামত এসেছে নাগরিক সমাজ ও গবেষনা প্রতিষ্ঠান থেকেও। এসব ছাপা হয়েছে জাতীয় দৈনিকে, আলোচিত হয়েছে সেমিনারে। প্রধানমন্ত্রীর ডাউস সাইজের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও এই তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায়নি, এটি লজ্জার কথা।’

 

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় হাসনাত বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ। এর একজনও নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি, গণতান্ত্রিক চর্চায় এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ কম আছে। প্রশ্নটা আর নীতির নয়, প্রশ্নটা এখন এই টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতার। এনসিপি’র দেওয়া ৩০ দিনের জন্য ৫টি, মধ্যমেয়াদি (৬-১৮ মাস) ৬টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ৪টি সুস্পষ্ট সমাধান প্রস্তাব পড়ে নিন প্লিজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আলোচনা করতে বিরোধীদল থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার অনুরোধেও সাড়া দিন। আমরা সরকারের এমন ইগ্নোরেন্সকে খুবই হতাশার চোখে দেখি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশালাকার টিমের সক্ষমতা যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।’

 

চতুর্থ প্রস্তাবনায় এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ছয় মাসে প্রশাসনে যে হারে দলীয় পদায়ন হয়েছে, তাতে ইনস্টিটিউশনাল মেমরি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। ফলে ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই, ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নেই। ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নতুন, অনভিজ্ঞ, এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন। মহেশখালী FSRU-তে আগুন লাগার পর রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, সেই স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনটি আজও প্রকাশিত হয়নি। নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না।’

 

হাসনাত বলেন, ‘আমরা একটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানাচ্ছি। সরকার বলছে ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ ভারী শিল্প বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ এখনো বাস্তবায়ন করছেন না কেন? এই কাঠামোয় বেসরকারি উৎপাদক সরাসরি বড় শিল্প ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে, দর দুই পক্ষ ঠিক করে, বিইআরসি কেবল অবহিত থাকে, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে যায়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক টাকাও লাগে না। বাকি কাজ কেবল SLA ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা ,যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, রকেট সায়েন্স নয়।’

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি লাগে, সেটি আর নীতির প্রশ্ন থাকবে না, সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রীও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে না। এটা হচ্ছে আই হ্যাভ নো প্ল্যান এর টেস্টিং। একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেয়না বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা যে, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায়, আর দেশ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে কেন পড়লো! এই রাষ্ট্র কেনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো? সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত, দিলেন ৪ প্রস্তাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় ওই তরুণীর প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এ ঘটনায় মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রম অবহিত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম আইডিতে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেসব বিক্রির বিজ্ঞাপন দৃষ্টিগোচর হয়। মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যম বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি (যেমন- ৩ হাজার ৫০০ টাকায় লাইফটাইম প্যাকেজ) নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিক্রি করা হতো।

 

এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ আগস্ট রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সুমাইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্ল্যাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে সুমাইয়া চক্রটি পরিচালনা করতেন। আর চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এসব অপকর্ম জানার পরও তাতে কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে, বরং নিয়মিত এর অর্থ নিতেন।

 

এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটন এবং এ চক্রের পলাতক অন্যসব আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আদালতে গ্রেফতারকৃতদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

প/র্নো/গ্রা/ফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনটে সুমন মিয়া (৩৫) নামে সৌদি আরব প্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের কথা বলে প্রেমিকাকে বাড়িতে ডেকে এনে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর ওই প্রেমিকা তিন দিন ধরে সুমনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে সুমন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই নারী।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সুমন মিয়া ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। ওই প্রেমিকা সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ছালাভরা গ্রামের বাসিন্দা।

 

ওই নারী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে দুজনই সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে ফেরার পর তারা বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটান।

 

তিনি দাবি করেন, সুমন কৌশলে তাকে দেশে রেখে আবার সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। চলতি মাসে সুমন আবার ছুটিতে দেশে এলেও তাকে বিষয়টি জানাননি। পরে অন্যদের মাধ্যমে সুমনের দেশে ফেরার কথা জানতে পেরে তিনি তার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেন।

 

এদিকে, সুমন চাপের মুখে বিয়ের কথা বলে গত ১৬ আগস্ট তাকে বেড়েরবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে আসতে বলেন। তার কথামতো বাড়িতে যাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে সুমন কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে ওই নারী বিয়ের দাবিতে সুমনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

সুমনের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বাড়িতেও ফেরেননি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম জানান, বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন। তবে সুমন ও তার পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

 

এ ব্যাপারে ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া ওই নারীকে থানায় এসে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। তিনি আসেননি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব

স্থা নেওয়া হবে।

 

বিয়ের কথা বলে বাড়িতে ডেকে প্রেমিক পলাতক, ৩ দিন ধরে প্রেমিকার অনশন

ভূমি ও উত্তরাধিকার তথ্যকে সহজ করতে ডিজিটাল উদ্যোগ— http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ ও BhumiBD

 

বাংলাদেশে জমি, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বের করা অনেকের জন্যই সময়সাপেক্ষ ও জটিল। খতিয়ান, দলিল, জমির পরিমাপ, মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় সঠিক তথ্য ও হিসাব। এসব বিষয়কে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ এবং http://Bhumibd.com

 

উত্তরাধিকার হিসাব এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

 

http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ মূলত ইসলামি উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ-সংক্রান্ত তথ্য ও হিসাবকে সহজভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ। পরিবারের সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার বণ্টনের হিসাব বুঝতে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করার জন্য প্ল্যাটফর্মটিতে সহজ বাংলা ইন্টারফেস রাখা হয়েছে।

 

উত্তরাধিকার আইন ও ফারায়েজের হিসাব অনেকের কাছেই জটিল মনে হতে পারে। ডিজিটাল ক্যালকুলেটর ও তথ্যভিত্তিক নির্দেশনার মাধ্যমে সেই জটিলতাকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম।

 

মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে Uttoradhikar অ্যাপ, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন থেকেই উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত হিসাব ও তথ্য ব্যবহার করা যায়।

 

BhumiBD-তে খতিয়ান অনুসন্ধান ও ভূমি তথ্য

 

অন্যদিকে http://Bhumibd.comভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যকে একটি সহজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এখানে খতিয়ান, দলিল, জমির পরিমাপ, ভূমি-সংক্রান্ত হিসাব এবং বিভিন্ন তথ্য ও গাইড ব্যবহারকারীদের জন্য সহজভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো খতিয়ান অনুসন্ধান। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে খতিয়ান-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে জমি-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য খোঁজার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়।

 

স্যাটেলাইট ম্যাপে জমি দেখার সুবিধা

 

ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যকে আরও ভিজ্যুয়াল ও সহজবোধ্য করতে স্যাটেলাইট ম্যাপ সুবিধার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জমির অবস্থান ও আশপাশের এলাকার ভৌগোলিক চিত্র স্যাটেলাইট ম্যাপের মাধ্যমে দেখার সুযোগ থাকায় ব্যবহারকারীরা শুধু লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মানচিত্রের মাধ্যমেও জায়গাটি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

 

জমি কেনাবেচা, জমির অবস্থান বোঝা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ম্যাপভিত্তিক সুবিধা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করতে পারে।

 

AI সহায়ক—জটিল তথ্য বুঝতে প্রযুক্তির ব্যবহার

 

BhumiBD-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো AI সহায়ক। ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর ও তথ্য খুঁজে পেতে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করার জন্য AI-ভিত্তিক সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অনেক ব্যবহারকারী খতিয়ান, দলিল, জমির হিসাব, ভূমি আইন কিংবা বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোথা থেকে তথ্য শুরু করবেন তা বুঝতে পারেন না। AI সহায়ক এ ক্ষেত্রে সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পথে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

তবে AI থেকে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত আইনগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

একই ইকোসিস্টেমে ভূমি ও উত্তরাধিকার

 

জমি ও উত্তরাধিকার অনেক ক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি পরিবারের সম্পত্তির মালিকানা, জমির খতিয়ান বা দলিলের তথ্যের পাশাপাশি সেই সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে—এ বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই বাস্তবতায় http://Bhumibd.com যেখানে ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য, খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপ ও AI সহায়ক সুবিধার মাধ্যমে ভূমি-তথ্যকে সহজ করার চেষ্টা করছে, সেখানে http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ উত্তরাধিকার ও ফারায়েজ-সংক্রান্ত হিসাবকে সহজ করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল তথ্যসেবার সম্ভাবনা

 

বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যও ধীরে ধীরে ডিজিটাল মাধ্যমে সহজলভ্য হচ্ছে। এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক তথ্য নিজেরাই খুঁজে দেখা, হিসাব বোঝা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 

http://Uttoradhikar.org, Uttoradhikar অ্যাপ এবং http://Bhumibd.comএর মতো প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জটিল তথ্যকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজ, বোধগম্য ও ব্যবহারবান্ধব করে তোলা।

 

ভবিষ্যতে আরও উন্নত AI প্রযুক্তি, খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপিং এবং ভূমি ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় সমন্বিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা আরও সহজ হতে পারে।

 

http://Uttoradhikar.org ও Uttoradhikar অ্যাপ উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত হিসাবকে সহজ করার উদ্যোগ, আর http://Bhumibd.com ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্যকে ডিজিটালভাবে সহজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম—যেখানে খতিয়ান অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ম্যাপ ও AI সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভূমি-তথ্যসেবাকে আরও সহজ করতে তোহিদুল ইসলামের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন জান্নাতুল।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জান্নাতুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জান্নাতুল পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

 

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

 

বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন।

 

জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ার পর বলেন, এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।

 

মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি বাবা আফজল আলী। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো সামর্থ্য তার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় চিন্তামুক্ত হয়েছি। এখন মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করবে, এগিয়ে যাবে। তাই মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করি।

 

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যে কোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার প্রমাণ।

 

জান্নাতুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ, পেলেন ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্রদের উত্তেজনা, হামলা ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসা ছাত্ররাও পালটা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে রাতে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে জেলা পুলিশের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় মাদ্রাসা ছাত্ররা শব্দের মাত্রা কমাতে বলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।

 

পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্ররাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পুলিশ ও মাদ্রাসা ছাত্রসহ ৩০ জন আহত হন।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ সানি (১১), সাখাওয়াত (২০), বিন ইয়ামিন (২০), আব্বাস (১৭), জাকারিয়া (২১), মেরাজ (১৮), আশরাফ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), সিয়াম (১৭), ফাইজুর রহমান (২১), আরাফাত (১৮), বাশার (১৯), মাহাদী (২০), তাওহীদ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), বাইজিদ (১৭), শেখ সাদী (১৬), ফাহিম (২০), আব্দুর রহিম (২০), মিরাজ (২৭), আশরাফ (১৭), সাদেক (১৯), মনি (২৭), রাফি (১৮), শামিম (১৭), তালহা (১৮), আতাউল্লাহ (১৯), নিয়ামত উল্লাহ (২২), ইমতিয়াজ (১৭), আশরাফ (১৭) ও তানভির (১৭)।

 

দারুল আরকাম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের মাদ্রাসায় পরীক্ষা রয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময়ের জন্য শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্রদের বাদানুবাদ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক যুবককে আটকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদারের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিন ও সহ-দপ্তর সম্পাদক ইমন হাওলাদার।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে টবগী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের মো. মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদারকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা শাখার জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ভুক্তভোগী যুবক মো. আল মামুন মিঠু বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় ছাত্রদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার পূর্বপরিচিত এবং একই উপজেলার বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে সামাজিক মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তদের ভাগ্নির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে মনিরাম বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান পলিন ও ইমন। সেখানে সমকামিতার অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়।

 

পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদকদ্রব্য সামনে রেখে ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মিঠু। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

 

পরে কৌশলে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন মিঠু। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বহিষ্কৃত টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় আল মামুন মিঠু বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

ভূল্লীতে ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

 

 

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও ভূল্লী উপজেলাধীন ৩ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কচুবাড়ী (তেলিপাড়া) এলাকায় এক নাবালিকা ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মোঃ সাহাজান আলী বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭/৮৩।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর নাবালিকা মেয়ে শারমিন আক্তার (১৬) স্থানীয় কচুবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোঃ ইসমাইল সহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মাধ্যমে তাকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে ওই কিশোরীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও নাবালিকার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হুমকিদামকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

 

বিষয়টি নিয়ে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাদীর দাবি, তার নাবালিকা মেয়েকে মিথ্যা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটির নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বাদী উল্লেখ করে যে অভিযুক্ত আসামী মোঃ ইসমাইল এর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আসামি স্বীকার করে আমার মেয়ে মোছাঃ শারমিন আক্তার (১৬) তার সাথেই আছে।

 

এ ঘটনায় দ্রুত নাবালিকাকে উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।

 

এ ঘটনায় বাদী মোঃ শাহজাহান আলী ভূল্লী থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করলে পুলিশ মামলা নং-৭/৮৩ হিসেবে মামলা গ্রহণ করে।

 

এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম (সিদ্দিকী) সাথে কথা বলে জানা যায় অভিযোগটি গ্রহন করা হয়ছে এবং তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভূল্লীতে ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই জাপানপ্রবাসী অবশেষে বিয়ে করেছেন। এবার বড় খাসির খদর দিয়েই বিয়ে করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিয়ের ছবি পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’

 

জানা গেছে, প্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার স্ত্রীর নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে। জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও একই গ্রামে। নতুন বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেছেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

 

বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

 

এ সময় কনে পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

নতুন বিয়ে করে যে বার্তা দিলেন খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসী

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের পর খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলের পাশের খাদ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

 

হাফিজুর রহমান কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সপ্তম সেমিস্টারের (ফাইনাল বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) পাইকহাটি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন।

 

পরদিন দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও তখন কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

তবে বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি যেখানে পড়ে ছিল, সেই খাদে পাট জাগ দিতে আসা এক কৃষক পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা এসে লাশটি হাফিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

 

নিহতের চাচা মোশারেফ মোল্যা বলেন, আমার ভাতিজা সোমবার সকালে বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিল। আজ খবর পাই, বাস দুর্ঘটনার ওই খাদে একটি লাশ ভেসে উঠেছে। এসে দেখি লাশটি আমার ভাতিজার।

 

বোয়ালমারী থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি খাদে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাফিজুর রহমান বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়েছিলেন। বুধবার তার লাশ ভেসে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসের নিচে চাপা পড়া শিক্ষার্থীর লাশ ৩ দিন পর উদ্ধার

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d