সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

 

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

 

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্টবিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

 

চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।

 

পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

 

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।


নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

 

অর্থের অভাবে যখন তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণ হাজংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিবারণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিবারণ হাজং। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

নিবারণের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। একদিকে শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

 

রোববার রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

 

এ বিষয়ে দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু চিকিৎসা করানোতেই নয়, নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা, গৃহহীনদের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

অগ্নিদগ্ধ নিবারণ হাজংয়ের পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট না থাকলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না দাবি করে অটোরিকশা চালক দিদার ইসলামের।

 

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারা দিনেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি না চালালে পরিবারের খরচ চলবে কীভাবে? তারমধ্যে রয়েছে কিস্তি। তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছি।

 

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা পরিবহনের সময় আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের দায়িত্বে নিয়োজিত রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তিনি সাড়া দেননি।

মহাসড়কে রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ অবস্থায় যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

‘‘আজকে শপথ গ্রহণ করি, সকলে প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে জনগণের সকল শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। এখন দেশের মানুষ এখন দেশের শান্তি চায়, দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায় দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, দেশের মানুষ তার সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, দেশের মানুষ তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়… এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমাদেরকে তাহলে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা এবং সে কারণে আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি। যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি।

 

‘‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই তো নাকি? ঠিক। আপনাদেরকে বলতে চাই আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। “

রাজপথে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একইসঙ্গে সমস্যা সমাধানে চারটি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

 

প্রথম প্রস্তাবনায় কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার ছিল যে সমাধান ইতিমধ্যেই টেবিলে আছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬–১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে আমি ধাপে ধাপে দেখিয়েছি কোন সিদ্ধান্তটি কোথায় ভুল হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধানধর্মী বক্তব্য রেখেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যারা। মতামত এসেছে নাগরিক সমাজ ও গবেষনা প্রতিষ্ঠান থেকেও। এসব ছাপা হয়েছে জাতীয় দৈনিকে, আলোচিত হয়েছে সেমিনারে। প্রধানমন্ত্রীর ডাউস সাইজের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও এই তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায়নি, এটি লজ্জার কথা।’

 

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় হাসনাত বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ। এর একজনও নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি, গণতান্ত্রিক চর্চায় এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ কম আছে। প্রশ্নটা আর নীতির নয়, প্রশ্নটা এখন এই টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতার। এনসিপি’র দেওয়া ৩০ দিনের জন্য ৫টি, মধ্যমেয়াদি (৬-১৮ মাস) ৬টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ৪টি সুস্পষ্ট সমাধান প্রস্তাব পড়ে নিন প্লিজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আলোচনা করতে বিরোধীদল থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার অনুরোধেও সাড়া দিন। আমরা সরকারের এমন ইগ্নোরেন্সকে খুবই হতাশার চোখে দেখি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশালাকার টিমের সক্ষমতা যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।’

 

চতুর্থ প্রস্তাবনায় এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ছয় মাসে প্রশাসনে যে হারে দলীয় পদায়ন হয়েছে, তাতে ইনস্টিটিউশনাল মেমরি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। ফলে ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই, ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নেই। ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নতুন, অনভিজ্ঞ, এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন। মহেশখালী FSRU-তে আগুন লাগার পর রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, সেই স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনটি আজও প্রকাশিত হয়নি। নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না।’

 

হাসনাত বলেন, ‘আমরা একটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানাচ্ছি। সরকার বলছে ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ ভারী শিল্প বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ এখনো বাস্তবায়ন করছেন না কেন? এই কাঠামোয় বেসরকারি উৎপাদক সরাসরি বড় শিল্প ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে, দর দুই পক্ষ ঠিক করে, বিইআরসি কেবল অবহিত থাকে, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে যায়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক টাকাও লাগে না। বাকি কাজ কেবল SLA ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা ,যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, রকেট সায়েন্স নয়।’

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি লাগে, সেটি আর নীতির প্রশ্ন থাকবে না, সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রীও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে না। এটা হচ্ছে আই হ্যাভ নো প্ল্যান এর টেস্টিং। একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেয়না বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা যে, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায়, আর দেশ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে কেন পড়লো! এই রাষ্ট্র কেনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো? সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত, দিলেন ৪ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় মৎস্য পক্ষ সামনে রেখে আজ রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন।

 

সকালে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি সড়কপথে যাবেন। সেখানে কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।’

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু জানান, প্রধানমন্ত্রী রোববার কিশোরগঞ্জ থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এবারে দিবসটি প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘রুপালি মৎসে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

 

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : সকাল সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান, সাড়ে ১২টায় কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ১টায় আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, আড়াইটায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন।

 

দুপুর তিনটা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজে মধ্যহ্ন ভোজ এবং ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পার্দীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের সন্মানি প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগদান।

 

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।

আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রয়েছে যেসব কর্মসূচি

বিএনপি সরকার যতদিন সরকারে আছে ততদিন শিক্ষকদের আর অবসর ভাতার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার বকেয়া ভাতার জট খুলেন। সরকারের এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদেরকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

 

শিক্ষকদের হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়। আজ আমরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের টাকা পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।তারেক রহমান বলেন, টাকা পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা অত সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বিমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, শিক্ষকদের এই তহবিল দুটিও তা থেকে রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি করে এবং দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে এই বিশাল অর্থের সংকুলান করেছে।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী দেন, শিক্ষকদের কল্যাণে বেগম জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী ‌কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিস্তারে, বিশেষ করে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার ভূমিকা আজ বিশ্বজুড়ে রোল মডেল।

 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রচলিত নিয়মে পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা ভূমিকা রাখবেন।

 

সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাভারে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে সৌজন্য সাক্ষা।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

মানবাধিকার সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন’ সাভার উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আসন্ন সাভার পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

 

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এলাকার সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। এ সময় ওবায়দুর রহমান অভি বলেন, “মানবাধিকার সুরক্ষায় সামাজিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।” তিনি সংস্থার এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সৎ ও সামাজিক কাজে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

 

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুমন মন্ডল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়াজ আকন্দ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন, শাহা জালাল রনি, মোঃ ফজলুল শেখ সহ

বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি, গাইবান্ধায় সম্মাননা পেলেন ডিবি ওস

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, মাদক উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ডিবি ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

 

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের গ্রেফতার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসব কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ডিবি ওসিকে এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি, গাইবান্ধায় সম্মাননা পেলেন ডিবি ওসি

মেয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে শহরে এসে হারিয়ে ফেলেছিলেন ৫০ হাজার টাকা। সেই টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম।

 

এদিকে সড়কে পড়ে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য।

 

রোববার বিকালে জেলা শহরের কাউতুলি এলাকায় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে তাজুল ইসলামের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য রসুলপুর গ্রাম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতুলি মোড়ে আসেন তাজুল ইসলাম। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধের সময় অসাবধানতাবশত তার সঙ্গে থাকা টাকাভর্তি একটি ব্যাগ সড়কে পড়ে যায়। ব্যাগে ছিল মেয়ের বিয়ের বাজারের জন্য রাখা ৫০ হাজার টাকা।

 

এ সময় দায়িত্ব পালনরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নুরুল আমিন সড়কে পড়ে থাকা ব্যাগটি দেখতে পান। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে নগদ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পাশাপাশি টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

 

এদিকে টাকা হারানোর পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাজুল ইসলাম। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনিই টাকার প্রকৃত মালিক। এরপর তার হাতে পুরো ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত তাজুল ইসলাম বলেন, মাইয়ার বিয়ার বাজার করার লাইজ্ঞা গেরাম থেইক্কা শহরে আইছিলাম। পরে দেহি আমার সব টেহা হাড়াই গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে জানতে পারলাম এক পুলিশ অফিসার আমার টাকাগুলো পেয়েছেন। প্রমাণ দেওয়ার পর তারা আমারে টেহা বুঝাইয়া দিছে। দুনিয়াতে এখনও সৎমানুষ আছে। যার কারণে আমি বড় বিপদ থেইক্কা উদ্ধার অইছি। নাইলে মাইয়ার বিয়া দিতে অনেক কষ্ট হইত।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমান বলেন, তাজুল ইসলাম টাকা হারানোর বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে নগদ ৫০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

হারালেন মেয়ের বিয়ের বাজারের ৫০ হাজার টাকা, ফিরিয়ে দিল ট্রাফিক পুলিশ

বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায়) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেলেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিয়ের দিনে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে প্রথমে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জুনায়েদকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

পরে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

 

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান বর জুনায়েদ।

 

এ বিষয়ে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো মা-বাবা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। তবে ছেলেটির কথাবার্তা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। খাসির বিষয়ে তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।

 

 

খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী বর

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসের ধাক্কায় এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশু শিক্ষার্থী শেফা মনি (৯) ফুলবাড়ীর নর্থ পয়েন্ট আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে ফুলবাড়ী পৌরসভার উত্তর সুজাপুরের ইস্তামুলের দ্বিতীয় সন্তান।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলে যাওয়ার পথে সে তার মায়ের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় দিনাজপুর থেকে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তা অবরোধ করে। দুর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

 

ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাসটিকে চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্কুলে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীর

 

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

 

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্টবিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

 

চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।

 

পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

 

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার: ‘টেমি’ হাফিজ ও মাছুরাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে জনজীবন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্য ও সংবাদকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় জনজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

 

আইজিপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিতুন, ডি-১ হাফিজুর রহমান, ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. নিজামুদ্দিন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ থানার এসআই কামাল হোসেন, এসআই সুদীপ, এসআই পিংকু, এএসআই রফিকসহ ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ডেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসআই কামাল হোসেন ও এসআই সুদীপ মহিলা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁর বৈধভাবে ক্রয়কৃত একটি OPPO মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাঁকে আটক করে মিথ্যা মামলায় চালান করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁকে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

 

জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং জেলার আলোচিত মাদক, অস্ত্র ও ডাকাত চক্রের সদস্য ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউ ও রফিকুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসাম ‘টেমি’ হাফিজুর রহমান (৪৮), পিতা: মৃত এলাইবাক্স গাজী, সাং: বাজারগ্রাম, থানা: কালিগঞ্জ অভিযোগ লিখে নিজে স্বাক্ষরে দাখিল করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত জেলার আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ব্ল্যাকমেইলার ‘লেডি ডাকাত’ মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫), স্বামী: ছুবাহান (কুখ্যাত চোর), পিতা: আবু বক্কার সিদ্দীক গাজী, সাং: চন্ডিপুর, থানা: শ্যামনগর, বর্তমান ঠিকানা: মঞ্জিতপুর, থানা ও জেলা: সাতক্ষীরা কে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

ওই অভিযোগে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী এস. এম. নাসির উদ্দীনকেও জড়ানো হয়েছে। অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন। সততা, সুনাম, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান, সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্যগত সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। এ কারণেই স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং নিজেদের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, পুলিশকে হয়রানি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

তাঁদের আরও দাবি, টেমি হাফিজ, মাছুরা খাতুন, ইয়াবা ব্যবসায়ী তানভীর এবং তাঁদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

 

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাতে সশস্ত্র ডাকাত দল মধুসূদন কর্মকারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার নং-০৪ (তারিখ: ০৬/০৭/২০২৫), পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, উক্ত ঘটনার তদন্তকালে পুলিশি কলাকৌশল প্রয়োগ এবং মোবাইল প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা যায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ওই আসামির কাছে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত স্থানে বিক্রি করা হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাতক্ষীরা শহর থেকে মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

স্থানীয়দের তথ্যমতে, শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকার বাসিন্দা, কুখ্যাত চোর ছুবানের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী মাছুরার এর আগে ডজনখানেক বিয়ে হয়েছে। ছুবান একসময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত হয়ে পঙ্গু হন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

 

এ ছাড়া মাছুরা ২০১৮ সালে শ্যামনগর বিআরটিসি কাউন্টার মালিক মতির সঙ্গে তাঁর দেবর, সুন্দরবন-ডাকাতদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ভেটখালী এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০২৩ সালে নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় দায়ের করা দুটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে—মামলা নং-৩১, তারিখ: ৩০/০১/২০২৩ এবং মামলা নং-০৬, তারিখ: ১০/১২/২০১৮।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাছুরা খাতুন ও টেমি হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে সক্রিয় থাকা, চুরি, ডাকাতি, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, ভুয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাঁরা বারবার আইনি সুবিধা পেয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পরও স্বল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

প্রতিবেদনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও সংযুক্ত করা যেতে পারে।

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার: ‘টেমি’ হাফিজ ও মাছুরাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে জনজীবন

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল পাটোয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচি*।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামনগর থানার ওসি *মো. শাফিউল পাটোয়ারী*।

 

সোমবার ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় জুলাই মাসের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

 

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখাসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওসি শাফিউল পাটোয়ারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার *আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম* আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

 

এছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় এসআই আনোয়ার, এসআই সুদীপ, এএসআই নবী ও এএসআই জাফরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সহ সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ায় শ্যামনগর থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

সম্মাননা পাওয়ার পর ওসি শাফিউল পাটোয়ারী বলেন, “এই অর্জন শ্যামনগর থানার সকল পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সেবায় আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবো।

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল পাটোয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিয়েছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কাইয়ার হাট এলাকার কৃতি সন্তান মোঃ শরিফুল ইসলাম।

 

কৃষক পরিবারের সন্তান শরিফুলের বাবা মোঃ আঃ মজিদ সরকার একজন কৃষক। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শরিফুল ২০০৭ সালে পিইসি, ২০১০ সালে জেএসসি এবং ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেন। তিনি গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন।

 

পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় মেধাক্রমে প্রথম ও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন বঙ্গবন্ধু মেরিট স্কলারশিপ।

 

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের সর্বশেষ অর্জন—সম্পূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কাইয়ার হাটের মাটি থেকে বেইজিংয়ের পথে শরিফুলের এই যাত্রা শুধু তাঁর পরিবারের নয়, পুরো গাইবান্ধার জন্য গর্বের। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন, মেধা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।

কৃষকের সন্তান শরিফুলের বেইজিংয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পছন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ফালানকে

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু

:

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থী বাছাই ও নানা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত এখন এলাকার ভোটাররা। তবে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল-মত নির্বিশেষে সকলের পছন্দ বর্তমানে অত্র ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ফালান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি সর্বস্তরের জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তার মেধা, দক্ষতা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বসাধারণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

 

আমিন বাজার ইউনিয়নের ভোটাররা মনে করছেন, আগামী দিনে ইউনিয়নের অব্যাহত উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হাজী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ফালানের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন ঘড়ির কাঁটা যত এগিয়ে আসছে, স্থানীয়দের মাঝে তাকে ঘিরে সমর্থন ও আগ্রহ তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন জানান। হাজী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ফালান সাধারণ মানুষের সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারেন, এবং সকলের বিপদে আপদে পাশে থাকেন, একজন নির অহংকারী মানুষ হিসেবে তার জুরি নেই, আর এই সমস্ত গুণের কারণেই মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে।

আসন্ন আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পছন্দ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ফালানকে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d