
কালিগঞ্জে ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক
এস.এম নাসির উদ্দীন,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর খালপাড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আফজাল হোসেন এবং বাজারগ্রাম এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে আমিনুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কালিগঞ্জ থানার এসআই মতিন, এএসআই আনিছসহ পুলিশের একটি দল পিরোজপুর খালপাড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
আটকের পর তাদের কালিগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বিড়ালের মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মারধর করার ঘটনায় তালহাজুর রহমান প্রতীক নামে মহানগর ছাত্রদলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের পাশের ডক্টর’স পেট কেয়ার নামক ব্যক্তিগত চেম্বারে মারধরের শিকার হন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। এ সময় তাকে লাথি, কিল-ঘুসি মারার পাশাপামি জুতাপেটাও করা হয়। এ ছাড়া রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই চিকিৎসক।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) কোতোয়ালি মডেল থানায় এই অভিযোগ দেন ডা. আশিক। এতে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি এবং সাকিবুল হাসানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসা রয়েছেন আরও চার-পাঁচজন।
মারধরের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটেও নিজ চেম্বারে বসে সামনে থাকা কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন ডা. আশিক। এ সময় এক নারী (সেঁজুতি) তার পাশে গিয়ে অতর্কিতে তাকে জুতা দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। মারধরের সময় ওই নারী উত্তেজিত অবস্থায় চিকিৎসককে কিছু বলছিলেন। ঘটনার সময় ওই চিকিৎসক ছাড়া কক্ষে আরও ৭ জন ছিলেন।
ওই নারী চিকিৎসককে অন্তত ১৪ বার জুতা দিয়ে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আরেক যুবক (প্রতীক) গিয়ে চিকিৎসককে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। পরে ওই নারী পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন পুরুষ ও নারীকে মারধরের চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: বিড়াল মারা যাওয়ায় চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে লাথি-জুতাপেটা
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে আশিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার চেম্বারে এসে চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।
তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন আশিকুর। তার দাবি, হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে তিন লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ১৭ আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়ালের ‘স্নো’ পরীক্ষার জন্য সেঁজুতি কেওয়াটখালীর ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. আব্দুল হান্নানের কাছে রেখে যান। সেখানে বিড়ালটি মারা যায়। পরদিন ফোন করে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
সাকিবের দাবি, বিড়ালের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলে আশিকুর রহমান ভুয়া ফেইসবুকে আইডি থেকে সেঁজুতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ কারণেই আশিকুরকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় তারাও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান সাকিবুল। তবে সাকিবুলদের কোনো অভিযোগ থানায় পাওয়া যায়নি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
ওসি শিবিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর তালহাজুর রহমান প্রতীককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আর্তনাদ যেন বাইরে না পৌঁছায়, সেজন্য ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের সময় প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে মাছুদা বেগমের (২৭) দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার সাত দিন পর শুক্রবার রাতে মারা যান ওই গৃহবধূ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাছুদা বেগম জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে। তিনি কালাই উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদী হাসানের সঙ্গে মাছুদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এর মধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। তবে এক বছরের মাথায় তারা আবারও বিয়ে করেন।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে ছিল না। এ সময় যৌতুকের দাবিতে মেহেদী ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে দেন। এরপর মাছুদার হাত-পা বেঁধে তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে তার দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন মেহেদী। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।
প্রথমে মাছুদাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে মাছুদার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
ওসি (তদন্ত) দিপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মামলার পরপরই মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লু।
সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,
“দৈনিক আমাদের দেশ”।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার নাবালক ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত মা-ছেলে বর্তমানে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে গত *২১ আগস্ট ২০২৬, রাত আনুমানিক ৮টার পর*।
স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, রুদ্রপুর গ্রামের মোসাম্মৎ সকিনা খাতুন স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই গ্রামের মোঃ আফজাল, পিতা- রুহুল আমিন; মোঃ হাসান, পিতা- মোঃ হবি; মোঃ হবি, পিতা- রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আরাফাত, পিতা- আনিসুর রহমান সহ ৮/১০ জনের একটি দল দেশীয় লাঠি ও রড নিয়ে সকিনার বসতঘরে প্রবেশ করে।
এসময় নামাজরত অবস্থায় সকিনা খাতুনের চুলের মুঠি ধরে “আমাদের মেয়ে কই” বলে চিৎকার করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মাকে বাঁচাতে ১২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, সকিনার কানের দুল ও গলার চেন লুট করে নেয়। পরে মা ও ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে টেনে হিজড়ে তাদের বাড়িতে আটকে রেখে পুনরায় নির্যাতন করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সকিনা ও ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিল হোসেন জানান, “রোগী দুইজনই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা লাগতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত নায়েব মনসুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা দায়ের
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলায় এক নারী পোশাক শ্রমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
গত বুধবার ১৯/৮/২৬ ইং তারিখে ভুক্তভোগী নারী ভূ্ল্লী থানায় বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (২৬) ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বগুলাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে বাবার বাড়ীতে অবস্থান করেন। এ সময় প্রতিবেশী আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী (নাপিতপাড়া) গ্রামের বদিউজ্জামান এর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে রুমানাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
বিয়ে করবে মর্মে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাইতো। গত রমজান মাসে (১০ মার্চ, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শরিফুল ঘরে প্রবেশ করে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে প্রায় বাড়ী পাশে ভূট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তিনি বিষয়টি শরিফুলকে জানান এবং বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু শরিফুল বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে রুমানা ঢাকা চলে যান এবং একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন। পরবর্তীতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান।
গত জুন মাসে শারীরিক অসুস্থতা বাড়লে ঢাকার ‘সুফিয়া হাসপাতালে’ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভপাতের পরেও তার পেটে ইনফেকশন বা জটিলতা রয়ে গেছে। এই পর্যায়ে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু মাতব্বর ও আত্মীয়-স্বজনরা একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন।
ন্যায় বিচারের জন্য নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী ভূল্লী থানায় হাজির হয়ে শরিফুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ভিটেছাড়া করার হুমকি ও অবরুদ্ধ পরিবার
মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামি শরিফুল ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর চড়াও হন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা, গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, ভুক্তভোগী নারীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধান আসামি শরিফুলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবিপ্রবি) অফিশিয়াল প্যাডে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের এমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষ পদে থেকে এমন আচরণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে মনে করছেন অনেকে।
জানা গেছে, সোমবার উপাচার্যের স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি বার্তায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব), আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক সর্বোচ্চ পদ। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকে এভাবে অভিনন্দন জানানো বিতর্ক তৈরি করবে, এটাই স্বাভাবিক। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা হয়েছে। একজন শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন কিনা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলেও মত দেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত যুগান্তরকে বলেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় ‘কার্টেসি’ (সৌজন্য) হিসাবে অভিনন্দন জানিয়ে
ছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ও শপথ—নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ আইন ও সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই উপস্থিত সবার সামনে ভোট গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণের সময় গণমাধ্যমের সম্প্রচার প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ভোট শুরুর পাঁচ মিনিট আগে থেকে সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোট চলাকালে তিন ঘণ্টা লাইভ সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে। এরপর ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার সময় আবারও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, এবার প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন। তবে বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যপদ ও মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত ব্যক্তি শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সংসদ সদস্যপদ ও মন্ত্রিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এজন্য শপথের আগে আলাদাভাবে পদত্যাগ করার প্রয়োজন নেই।
কারা ভোট দিতে পারবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ জানান, অসুস্থতার কারণে মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না। তবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ভোট দেবেন।


Leave a Reply