কক্সবাজারে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩০ যাত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কক্সবাজারে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩০ যাত্রী

কক্সবাজারে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩০ যাত্রী

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসের ভেতরে হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভেঙে একে একে যাত্রীদের বের করে আনেন।

 

যাত্রী মো. সোহেল রানা জানান, পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর বাসের ভেতর ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ওই সময় বাসে চালক ও সহকারীকে দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনে। পরে বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের মালামাল উদ্ধার করে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন—ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।

 

আহতরা হলেন— মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে পাটকেলঘাটা থানার শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আনন্দ দাস। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

 

পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও সহকারীকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সোহাগ পরিবহণের বাসটি সড়কের পাশে পড়ে আছে। নিহত ব্যক্তির লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ব্রিজের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ হোসেন দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

 

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা সোনালী পরিবহণের খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের ওপর উলটে যায়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক, হেলপার ও বাসের এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন নারীসহ নয়জনকে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনের হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়।

 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে দুজনের লাশ গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অপরজনের লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দুর্ঘটনার পর গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসের ধাক্কায় এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশু শিক্ষার্থী শেফা মনি (৯) ফুলবাড়ীর নর্থ পয়েন্ট আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে ফুলবাড়ী পৌরসভার উত্তর সুজাপুরের ইস্তামুলের দ্বিতীয় সন্তান।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলে যাওয়ার পথে সে তার মায়ের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় দিনাজপুর থেকে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তা অবরোধ করে। দুর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

 

ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাসটিকে চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্কুলে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীর

কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কয়েকজন সামান্য আহত হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।

 

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার নিশান মোড় থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সুহাইল’ নামের বাসটি বটতৈল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নিশান মোড় থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয়। বটতৈল এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। পরে বিভাজকে সজোরে ধাক্কা লাগে।

এ সময় বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর পেছনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও ডাবল ডেকার বাসের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। তারা নারী শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। পরে তাদের অন্য বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হলেও শিক্ষার্থী কম থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস চালানোর সময় চালকদের আরও সতর্কতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালানো উচিত। ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে সবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসের সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার খবর শুনেছি। এটি আমাদের ভাড়াকরা বাস। ওই বাসের পেছনেই আমাদের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাস ছিলো, তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেছে। কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে বলে জেনেছি তবে কেও গুরুতর আহত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে।

সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা ইবির বাসের, প্রাণে বাঁচলেন ২৫ শিক্ষার্থী

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের পর হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় হিরোন মটরস শোরুম সংলগ্ন ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সারডুবি এলাকার জহুরুল (৫০) এবং সিঙ্গিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৫৪৮২ নম্বরের ট্রাকটি হাতীবান্ধার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বড়খাতা হয়ে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে টেনেছেঁচড়ে বেশ কিছু দূর নিয়ে গিয়ে সড়কের পাশে থাকা ‘হিরোন মটরস’ মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে পড়ে।

এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। শো-রুমে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। অটোরিকশায় থাকা এক নারীসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে টেনেহিঁচড়ে শো-রুমে ঢুকে পড়লো ট্রাক, নিহত ২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নেপালের চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ। দেশটির রসুয়া জেলার ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। হাই এলার্টে গোটা বিহার। চলছে মাইকিং, মানুষজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভোতে কোশি নদী হয়ে, ত্রিসুলী ও গণ্ডক নদী ধরে বিহারে প্রবেশ করতে পারে তিব্বতের পানি।

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী হাই লেভেল টিম গঠন করে সব সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নদীর চারদিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নদীর বাঁধ এবং বাঁধের চারপাশ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে রাতে নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

গন্ডক নদীর পাশে থাকা পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারণ, মোজাফফরনগর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ, সারণ জেলা প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনকে হাই এলার্টে রাখা হয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

 

নেপাল থেকে গণ্ডক নদীতে হয়ে বিহারে প্রবেশ করবে পানি। প্রশাসনের আশঙ্কা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসবে।

নিহত বেড়ে ১৬০ পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল, বিহারে ঢুকে পড়ছে পানি

গায়ক আসিফ আকবরকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

 

রাশেদ খাঁনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো–

 

মাথার সমস্যার কারণে মদ পান করতে হয় বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন গায়ক আসিফ আকবর! আমি জানি না, কখন তার মাথায় সমস্যা থাকে, আর কখন থাকে না। তবে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ সাকিব আল হাসানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কেক কাটতে তিনি লন্ডনে উপস্থিত হন! এই ঘটনায় আসিফ আকবর খুব সমালোচনা মুখোমুখি হয়েছিলেন। আমার ধারণা, মাথায় সমস্যা থাকার কারণে তিনি এই ভুল করেছেন। হয়তো পরবর্তীতে মাথা ঠিক হলে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন!

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি বিসিবির পরিচালক হন। কিন্তু পরবর্তীতে স্বপদে থাকতে না পেরে তিনি বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ (সালাহউদ্দিন আহমদ) সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘এই লোক গুম ছিল নাকি লুকিয়ে ছিল, আল্লাহ জানেন, স্যুট পরে এসে এখন সংবিধান শেখাচ্ছে!’ আমার প্রশ্ন হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এমন বিরূপ মন্তব্যের সময় আসিফ আকবরের মাথা কি ঠিক ছিল? প্রয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার আগে একটু খেয়ে, মাথা ঠিক করে নিয়ে তারপরে বক্তব্য দিতেন! মাথার অসুস্থতা নিয়ে কেউ এভাবে জনসম্মুখে বক্তব্য দেয়?

আসিফ আকবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুম নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছে, ঠিক শেখ হাসিনা গুম নিয়ে এমন হাসিঠাট্টা করতো। বিদেশে যেতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে মর্মে গুমের বৈধতা উৎপাদন করতো। আর সাকিব আল হাসানের সাথে সাক্ষাৎ করে আসার পরে আসিফ আকবরের কথার পরিবর্তন হয়েছে মনে হচ্ছে! তিনিও শেখ হাসিনার ভাষায় গুম নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন! হ্যা, তিনি যদি কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা করতেন, সেটি নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু গুম নিয়ে কটাক্ষ ও প্রশ্ন তুলেছেন। যে কারণে প্রিয় শিল্পী আসিফ আকবরের বক্তব্যের জবাব দিতে হলো!

 

ছোটবেলা থেকে আসিফ আকবরের গান ভাল লাগতো। পছন্দের শিল্পী তালিকায় তিনিও ছিলেন। বিএনপির লাখো মানুষ তাকে গায়ক হিসেবে পছন্দ করতো। শিল্পী বা তারকাদের কোনো দল না থাকাই শ্রেয়। আর থাকলে তিনি তো সাকিবের মতোই ঘৃণিত হবেন। আমি জানি না, হঠাৎ কেন গায়ক আসিফ আকবর ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান হতে চাইলেন? তাকে তো আমরা ভালোবাসি, এই ভালবাসার প্রতিদান এভাবে দেওয়া মোটেও উচিত হলো না, প্রিয় আসিফ আকবর ভাই!

মাথায় সমস্যা থাকায় ভুল করেছেন— গায়ক আসিফকে নিয়ে রাশেদ খাঁন

মাগুরার শ্রীপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ভুয়া পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, অপহরণে ব্যবহৃত একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোছা. আসমা খাতুন, মো. হাসানুজ্জামান হাছান, মো. ওসমান গনি, সালমান শাহ, মো. ছাব্বির হোসেন, মো. সাকিব ও মো. আল আমিন হোসেন। তাদের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলা, ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানতে পারেন, শ্রীপুর থানার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি নোয়া মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে।

 

বিষয়টি নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল মালেক পুলিশ সুপারকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

 

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। এ সময় এক নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের এই অভিযানের মাধ্যমে ওই নারীকে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি জ্যাকেটে সিআইডি লেখা ছিল। এছাড়া একটি খেলনা পিস্তল, একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাগুরায় সিআইডির ভুয়া পরিচয়ে নারী অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের এক সরকারি চিঠির সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

চিঠিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে।

 

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের BG-340 ফ্লাইটে আগামী ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলারই সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।

 

নওগাঁ (আত্রাই উপজেলা): মৃত ফরিদ, মৃত রুবেল প্রামাণিক, মৃত সোহেল রানা, মৃত কলিমউদ্দিন ইসলাম, মৃত মোহন আলী, মৃত সুমন আলী ও মৃত আব্দুল জলিল সরকার।

নাটোর (নলডাঙ্গা উপজেলার): মৃত রবিউল ইসলাম।

রাজশাহী (বাগমারা উপজেলার): মৃত শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

মরদেহ গ্রহণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ জনের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মরদেহ আনার বিষয়ে ওই চিঠিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসায় পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে এক উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অত্র মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম মুফতি ইদ্রিস বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও মুফতি আমিনুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মুল বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:), আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস, নাতে রাসুল (সা:), আসমাউল হুসনা এবং বিষয়ভিত্তিক কিরাতে কুরআন তেলাওয়াত।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মো: এ.টি.এম সাবুদ মিয়া।প্রতিযোগিতা পরিচালনায় প্রধান বিচারক ছিলেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাও: রাকিবুল ইসলাম এবং বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,মাওঃ আশরাফ আলী মুফতী সাইফুল ইসলাম সাইফী হাফেজ মেহেদী হাসান কারী হুসাইন কারি ফরিদুল হাফেজ মাসুদ কারী মাসুদ কারী গোলাম রববানী।

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাতে রাসূল (সা:)-এর মধুর সুর ও আসমাউল হুসনার পরিবেশনা পুরো মাদ্রাসার আবহকে এক রুহানি ও আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভরিয়ে তোলে।মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী (সা:)-এর গুরুত্ব এবং আখলাকুন্নবী (সা:) সম্পর্কিত হাদিস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মহানবী (সা:)-এর উত্তম আদর্শ ও জীবনচরিত সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ পেয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে মাদ্রাসার নূরানী একাডেমী বিভাগসহ সকল বিভাগে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধায় কাবিলের বাজার মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন—ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।

 

আহতরা হলেন— মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

 

এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে পিকআপ ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৪

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

এদিকে তদন্তে ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে একই রাতে সাময়িক বরখাস্ত করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম।

 

বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাসার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন (৩৬)।

 

পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, মৃত দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাদের তদন্তে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। নিহতরা হলো—চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ইসলাম এবং একই গ্রামের বাবুল ইসলামের ছেলে লাম ইসলাম। তারা দুজনই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে খাওয়ার পর দুই শিশু নদীর তীরের একটি আমবাগানে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা নদীর কিনারায় গোসল করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। নদীর স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

 

সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিব সেখানে যান।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা সামসুল হকের দাবি, সুরতহাল করার সময় পুলিশ সদস্যরা মরদেহ দুটি থানায় নেওয়ার কথা বলেন। এ সময় কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহ অনাবৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। এতে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

 

একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। তাদের কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

 

সামসুল হক বলেন, পুলিশের আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ দোকানটি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও তারা হামলার শিকার হন।

 

পরে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়।

 

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের এ সংঘর্ষের ঘটনায়ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে এক গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করেছে একটি চোর চক্র।

 

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১১টার দিকে এক গ্রাহক ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে আসেন। টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে পাশের একটি টেবিলে বসে জমা দেওয়ার ভাউচার পূরণ করছিলেন তিনি।

 

এ সময় সুযোগ বুঝে চক্রটির এক সদস্য ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান ওই গ্রাহক।

 

জানা গেছে, চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রাহকের বেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজন সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক বলেন, গ্রাহক টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় টাকার দিকে তার নজর না থাকায় চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি

রাজবাড়ীর পাংশায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের দুই সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শিমুল শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাংশা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডে ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’ দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন— কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী মোছা. হামিদা খাতুন (৪৭) এবং চর কুলটিয়া এলাকার কদর আলী মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)।

 

হামিদা খাতুন মাজবাড়ী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। অন্যদিকে সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

ডিবি পুলিশের ওসি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, তার পরিষদের দুই নারী সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d