সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে পাটকেলঘাটা থানার শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আনন্দ দাস। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

 

পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও সহকারীকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সোহাগ পরিবহণের বাসটি সড়কের পাশে পড়ে আছে। নিহত ব্যক্তির লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসের ভেতরে হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভেঙে একে একে যাত্রীদের বের করে আনেন।

 

যাত্রী মো. সোহেল রানা জানান, পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর বাসের ভেতর ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ওই সময় বাসে চালক ও সহকারীকে দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনে। পরে বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের মালামাল উদ্ধার করে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

কক্সবাজারে চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩০ যাত্রী

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ব্রিজের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ হোসেন দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

 

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা সোনালী পরিবহণের খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের ওপর উলটে যায়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক, হেলপার ও বাসের এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন নারীসহ নয়জনকে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনের হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়।

 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে দুজনের লাশ গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অপরজনের লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দুর্ঘটনার পর গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসের ধাক্কায় এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশু শিক্ষার্থী শেফা মনি (৯) ফুলবাড়ীর নর্থ পয়েন্ট আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে ফুলবাড়ী পৌরসভার উত্তর সুজাপুরের ইস্তামুলের দ্বিতীয় সন্তান।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলে যাওয়ার পথে সে তার মায়ের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় দিনাজপুর থেকে আসা বগুড়াগামী মেইল বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তা অবরোধ করে। দুর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

 

ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাসটিকে চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্কুলে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশু শিক্ষার্থীর

কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় বাসে থাকা প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কয়েকজন সামান্য আহত হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি।

 

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার নিশান মোড় থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘সুহাইল’ নামের বাসটি বটতৈল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নিশান মোড় থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয়। বটতৈল এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। পরে বিভাজকে সজোরে ধাক্কা লাগে।

এ সময় বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর পেছনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও ডাবল ডেকার বাসের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। তারা নারী শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। পরে তাদের অন্য বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ বলেন, পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হলেও শিক্ষার্থী কম থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস চালানোর সময় চালকদের আরও সতর্কতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালানো উচিত। ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে সবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুর রউফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসের সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার খবর শুনেছি। এটি আমাদের ভাড়াকরা বাস। ওই বাসের পেছনেই আমাদের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাস ছিলো, তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেছে। কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে বলে জেনেছি তবে কেও গুরুতর আহত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে।

সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা ইবির বাসের, প্রাণে বাঁচলেন ২৫ শিক্ষার্থী

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের পর হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় হিরোন মটরস শোরুম সংলগ্ন ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সারডুবি এলাকার জহুরুল (৫০) এবং সিঙ্গিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৫৪৮২ নম্বরের ট্রাকটি হাতীবান্ধার সোনালী ব্যাংক সূচনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বড়খাতা হয়ে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে টেনেছেঁচড়ে বেশ কিছু দূর নিয়ে গিয়ে সড়কের পাশে থাকা ‘হিরোন মটরস’ মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে পড়ে।

এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। শো-রুমে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। অটোরিকশায় থাকা এক নারীসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে টেনেহিঁচড়ে শো-রুমে ঢুকে পড়লো ট্রাক, নিহত ২

যশোরের কেশবপুরে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের খাদ্য গুদামের সামনে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, নিহত ওই পরীক্ষার্থীর নাম ইয়াসিন আরাফাত (১৮)। তিনি উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাঁস্তা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

তিনি জানান, ইয়াসিন সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে কলেজে যাচ্ছিলেন। পথে কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে অন্য হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

তিনি আরও জানান, ইয়াসিন আরাফাত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশন থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন সমন্বয় ও এনজিও বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মিলন সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে—এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মতকে প্রাধান্য না দিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি বরাদ্দের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব কাজে কোনো ধরনের অন্যায় ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

 

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান, কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিক, সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু।

 

এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আখেরুজ্জামান পল্টু, হাজী তোফিল উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শফিউল্লাহ এবং কালিগঞ্জ বিজিবি খানজিয়া ক্যাম্পের সুবেদার সাদেক।

 

সভায় কালিগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ড, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের কারণে যুবসমাজের বিপথগামিতা এবং বিভিন্ন মোড়ে কেরাম বোর্ড খেলা বন্ধসহ আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

 

সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মদ, জুয়া, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সভায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্য, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনব , বন্ধু অপারেশন থিয়েটার, জটিল রোগী যাচ্ছে জেলা সদর ও রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

২৫/আগস্ট/২৬ইংঃ নীলফামারী প্রান্তিক উপজেলার ডিমলায় প্রায়

সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রুগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিরতে পরছে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও

নিম্নআয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬০ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩ টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮ টি পদই শূন্য । দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোন চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসার কে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরী অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই অর্থ খরচ করে বাইরের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। এতে যাতায়ত , পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরেও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত চিকিৎসকসহ শুন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরী চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবায নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পথ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার মত বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পথ গুলো পূরণ হলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আরো কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে – ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মত পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্ন উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্য পদ পুরন, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনবল

নওগাঁয় ৩৮ কেজি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ সাজেদুল নামে একজন আটক

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁয় টাস্কফোর্সের অভিযানে ৩৮ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের তারা দেবী মূর্তিসহ মো. সাজেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা মূর্তিটির আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার বাইপাস এলাকার সাদিয়া মার্কেটে এ অভিযান চালানো হয়।

 

 

আটক সাজেদুল ইসলাম নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোবিন্দ গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। বিবিসি ভোটার মালিক।

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের নেতৃত্বে পুলিশসহ সমন্বিত টাস্কফোর্স সাদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি ফার্নিচারের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে সাজেদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

 

 

পরে তার কাছ থেকে ৩৮ দশমিক ১০০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি তারা দেবী মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মূর্তিটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।

 

আটক সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৫-৮-২০২৬

নওগাঁয় ৩৮ কেজি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ সাজেদুল নামে একজন আটক 

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, শ্রম সচিব, চেয়ারম্যান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, সভাপতি বিজিএমইএ, সভাপতি বিকেএমইএ কে স্মারকলিপি প্রদান করে ।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল।

 

বিবৃতিতে অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর যুগ্ন-আহবায়ক মরিয়ম আক্তান, যুগ্ন-সদস্য সচিব মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্যাম দুলাল, বিভিন্ন ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা সর্ব বনাব আখি, দুলাল, রোজিনা অক্তার, রুপালী আক্তার, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ১২,৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা জরুরি।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ বলছে, গত কয়েক বছরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে খাদ্য ও পুষ্টির ব্যয় বৃদ্ধি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক ব্যয় কমিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান বাসাভাড়াও শ্রমিক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার।” শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে শুধু প্রচলিত ‘Minimum Wage’ নয়, বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় Living Wage বা জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য, পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিশু পরিচর্যা, ইউটিলিটি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

নতুন মজুরি কাঠামোকে Living Wage-কেন্দ্রিক করতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে নতুন মজুরি কাঠামোর কার্যকর আওতায় আনতে হবে।

 

শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

তারা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, কার্যক্রম শুরু এবং জীবনধারণ উপযোগী নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তার জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।’

 

মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তার আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তার আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় পাওনা ফেরত ও সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবি, ডিসির কাছে বুশরা আমানত কারীদের আবেদন

 

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীর পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার মাধ্যমে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবেদনে বলা হয়, বুশরা গ্রুপের বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে রাখেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক আমানতকারী তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আমানতকারীদের মধ্যে মো. হাসানুজ্জামান, মো. আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগমসহ কয়েকশ গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আমানতকারীদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে যাতে সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

 

আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সি.এস. খতিয়ান ০৫, এস.এ. খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

 

আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ; সাব-রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রি অফিস, কালিগঞ্জ এবং দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

 

ডিসি সাতক্ষীরাকে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ৩ আসনের এমপি হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশারের কাছে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীরা অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখব, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

 

আবেদনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমানতকারীদের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তবে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পরবর্তীতে পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সাতক্ষীরায় পাওনা ফেরত ও সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবি, ডিসির কাছে বুশরা আমানত কারীদের আবেদন

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে পাটকেলঘাটা থানার শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আনন্দ দাস। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

 

পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও সহকারীকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সোহাগ পরিবহণের বাসটি সড়কের পাশে পড়ে আছে। নিহত ব্যক্তির লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদী ও বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডে’ ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ‍

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিমন্ত্রী মৌলভীবাজার জেলার কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরে চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের মান এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।

 

প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

 

পরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেন।

 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা মোতাবেক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসেছি। নদী ও বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় হুইপ জি কে গউছ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জরুরি মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন

খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পরই অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত সিট বরাদ্দের তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক সিটের প্রত্যাশায় থাকা অনেক অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।

 

মারুফ মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, এই রকম একটা অন্যায় করার আগে ডিপার্টমেন্টের প্রধানের বুক কেঁপে উঠলো না? আমার আর্থিক অবস্থা জানার পর ও কেন সিট দিলো না?

 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শাহিন আলম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ডিপার্টমেন্টে ভাইভা দিয়েছি এবং সেখানে উত্তীর্ণও হয়েছি। পরবর্তীতে আবাসিক হলে সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে আমার নামও ছিল। কিন্তু হঠাৎ আজ দেখলাম, সেই তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ আমার জায়গায় যাকে সিট দেয়া হয়েছে, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ভাইভাতেও অংশ নেয়নি। এমন আরেকজনকে সিট দেয়া হয়েছে, যে ক্লাসে অনিয়মিত হওয়ায় ইতোমধ্যে ডিসকলেজিয়েট। রাজনৈতিক পরিচয় থাকাতেই কেবল সিট পেয়েছে।

 

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, সিট না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, নিজেকে সেভাবে তৈরি কর যাতে করে রাতের আঁধারে সিট বরাদ্দের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে গোপনে বসে নিজেদের মতো করে হলে সিট নিতে পারো অথবা ভবিষ্যতে কারো জন্য দিতে পারো।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, নতুন করে সিট পাওয়া ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদল করেন না- এমন একজন শিক্ষার্থী কি সিট পেয়েছেন? কলেজ প্রশাসনের এই তামাশা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে রাখবে। যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতাও হারিয়েছে। মেরুদণ্ডহীন এই প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করাটা সবচেয়ে বড় ভুল।

 

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের দাসত্বের অধ্যায় শেষ হতে না হতেই, এই নির্লজ্জ ও অথর্ব প্রশাসন নতুন করে আরেকটি ছাত্রসংগঠনকে মনিব হিসেবে মেনে নিয়েছে। শুধু ক্ষমতার মুখ বদলেছে, কিন্তু প্রশাসনের চরিত্র বদলায়নি।

 

যাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়া হলো, যেসব অসহায় ও হকদার শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হলো- তাদের আর্তনাদ একদিন ফিরেও আসতে পারে। মনে রাখবেন, অন্যের সন্তানের ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে কেউ চিরদিন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। আপনাদেরও সন্তান আছে; একদিন নিজের সন্তানের বঞ্চনা দেখে যেন হা-হুতাশ করতে না হয়। হাজার হাজার অসহায়-মেধাবী ছাত্রের হক যারা নষ্ট করলো, আজ হোক, কাল হোক তাদের অথবা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেই।

 

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ঢাকা কলেজ প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে- শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুরুর দিকে বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে যাদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এখানে মেধার বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

প্রশাসনের কাছে আমার স্পষ্ট প্রশ্ন- কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায়, কিংবা কোন মন্ত্রীর ফোন কল ও রেফারেন্সে আপনারা তালিকা থেকে মেধাবীদের নাম কাটতে বাধ্য হলেন? এই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের জবাবদিহিতা কিন্তু আপনাদের রেডি রাখতে হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আমাদের ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এই সীমিত সিটের বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। ফলে সিট দিতে আমাদের সমস্যা হয়েছে।

 

আর নাম কেটে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এরকম যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সেই সিটের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

 

এদিকে হলে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী।

ঢাকা কলেজের হলে দলীয় পরিচয়ে সিট বরাদ্দের অভিযোগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’ এর পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৮ আগস্ট আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান আসামিকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রাখেন সোমবার।

 

এদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মামলাটি করেন।

 

মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। ওই সময় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাপেক্স ভবনের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, কাশেম এই মামলাত ৪৯ নম্বর আসামি। তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: শ্রমিকলীগ নেতা হাতকাটা কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d